শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
সুফিবাদ অলি আওলিয়াগনের মাজার শরীফ জিয়ারত করার দলিল

অলি আওলিয়াগনের মাজার শরীফ জিয়ারত করার দলিল

★১.সাধারণত মহামান্য নবীগণের (’আলাইহিমুস সলাতু ওয়াস সালাম) সমাধিকে “রওজা শরীফ”, সম্মানিত ওলী আল্লাহগণের (রাদ্বিআল্লাহুতা’লা ’আনহুম) সমাধিকে “মাজার শরীফ” এবং সাধারণ মুসলমানের সমাধিকে আরবিতে “কবর” (قبر) বলা হয়।
ফার্সী “রওজা” শব্দটি আরবি “রাওদ্বাহ” (روضة) থেকে এসেছে – যার অর্থ বাগান, তৃণভূমি, উদ্যান ইত্যাদি। আর আরবি “মাজার” (مزار) শব্দটির অর্থ জিয়ারত বা পরিদর্শনের জায়গা।মাজার একটি আরবী শব্দ,যা এখন শুধু বাংলাতেই ব্যবহৃত হয়। শব্দটি ফারসী দরগাহ শব্দের প্রতিশব্দ।এর ধাতুগত অর্থ ‘যিয়ারতের স্থান’। মাজার বলতে সাধারণত আওলিয়া-দরবেশগণের সমাধিস্থলকে বুঝায়।
এখন মনে একটি প্রশ্ন হতে পারে যে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এঁর দাফনস্থল বা কবরকে রওজা বলা হয় কেন?? ভুল বুঝবেন না; বর্তমানে কিছু জালিম, মালাউন, মুনাফিক,আহলে শয়তান নবিজীর রওজামোবারক কে কবর বলতে বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছে কেননা তারা রওজা মানতে রাজি না।
সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ,, ,,,,,,,, 
চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন রওজা বলা হয়?
মূলত রওজা শব্দের অর্থ বাগান। এখানে রওজা বা বাগান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ‘জান্নাতের একটি বাগান।’ যেহেতু তাঁর কবরটি জান্নাতের নেয়ামতে ভরপুর একটি পবিত্র বাগান। তাই এ অর্থে তাঁর কবরকে ‘রওজায়ে আতহার’ (পবিত্র বাগান), রওজা শরিফ ইত্যাদি বলা হয়।
দলিল
[সহীহ বুখারী ১/১৮৬,সহীহ মুসলিম ১/২০১,মুসনাদে আহমদ ২/২৪৬,৩৬৭; কবরকে রওযা বলা : জামে তিরমিযী ২/৭৩; (কবরে নিষিদ্ধ কার্যাবলি  সহীহ বুখারী ১/১৮৬; সহীহ মুসলিম ১/২০১; জামে তিরমিযী ১/৭৩; সুনানে নাসাঈ ১/২২২; সুনানে আবু দাউদ ২/৪৬১; সহীহ ইবনে হিব্বান ৭/৪৫২-৪৫৪; রূহুল মাআনী ৮/২৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; হাশিয়া তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আননাহরুল ফায়েক ২/৪২; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৩৭২; মাদখাল ইবনুল হাজ ৩/২৭৩-২৭৪; ইগাছাতুল লাহফান ১/২২২ (কবর যিয়ারতের সঠিক পদ্ধতি  সহীহ মুসলিম ১/৩১৩; শরহু মুসলিম নববী ৭/৪৩; হিলইয়াতুল আওলিয়া ১/১৬৯; শরহুস সুদূর পৃ. ৩১১; রদ্দুল মুহতার ২/২৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫-১৯৬; ইলাউস সুনান ৮/৩৩০-৩৪৩]
এখন আলোচনা করবো নেক বান্দার কবরকে রওজা বলা যাবে কি না!!
★১. হযরত আবু সাইদ (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুলে করীম (ﷺ) বলেন, কবর হয়ত জান্নাতের বাগানের একটি ‘রওজা’বা বাগান হবে অথবা জাহান্নামের আগুনের মধ্যে একটি আগুন হবে।
*****দলিল*****
*১. সহীহ তিরমিজি-২৪৬০
*২. তাফসীরে কবীর,৪র্থ জিঃ ১৮৮পৃ:
*৩. মাকাসিদুল হাছানা: ৩০২পৃঃ
এই হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে মানুষের কবরের দুটি অবস্থা হবে। হয় ‘রওজা’ হবে নতুবা আগুন হবে।আল্লাহর বন্ধু যারা তথা নেকবান্দা যারা তাদের কবরকে আল্লাহ্‌ অবশ্যই রওজা করে দেন। আর আল্লাহ্‌ যা রওজা করে দেন তাকে রওজা বলতে কোন অসুবিধা কোথায়? কারন আল্লাহ্‌ পাক স্বয়ং রওজা বানিয়েছেন।
★২. রাসুল (ﷺ) বলেন: যে ব্যাক্তি এলেম অর্জন করতে গিয়ে মারা যাবে সে শহিদী দরজা লাভ করবে এবং তার কবরকে একটি জান্নাতের বাগান সমূহের একটি ‘রওজা’ বা বাগান করে দেওয়া হবে এবং তাঁর কবরকে প্রশস্থ করে দেওয়া হবে যতটুকু তাঁর দৃষ্টি শক্তি যায়।
[তাফসিরে কবির,২য় খন্ড, ১৮৯পৃঃ]
এই হাদিস দ্বারাও বুঝা যায়, একজন তালেবে ইলিমের কবরকে যদি আল্লাহ্‌ খুশি হয়ে ‘রওজা’ বানিয়ে দেন তাহলে আল্লাহর ওলীগনের কবরকে কেন রওজা বানিয়ে দিবেন না।যেনে রাখা আবশ্যক যে রওজা শব্দের অর্থ বাগান তথা জান্নাতের বাগান। আল্লাহ্‌ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কবরকে জান্নাতের বাগানের পরিণত করেন।
★৩. হযরত আনাছ (রাঃ)বর্ণনা করেন, রাসুল (ﷺ) বলেনঃ ফেরেস্তেরা কবরে নেককার মৃত ব্যাক্তিকে বলবেনঃ অবশ্যই আল্লাহ্‌ তোমার কবরকে জান্নাতের বাগানের পরিণত করেছেন।
******দলিল******
[সহীহ বুখারি, হা:১৩৩৮।মুসলিম শরীফ,নাসাঈ,হা;২০৫১।আবু দাউদ,৪৭৫২।মেশকাত,২৫পৃঃ।মেরকাত,১ম খন্ড,৩১৪পৃঃ]
এই হাদিসে বলা হয়েছে, ফেরেস্তার প্রশ্নের জবাব দিতে পারলে তাঁর কবরকে বাগান বা রওজা বানিয়ে দিবে। বাগানকে আরবিতে জান্নাত/রওজা বলা হয়।একজন সাধারণ মানুষের কবর যদি বাগান তথা রওজা হয় তাহলে আল্লাহর বন্ধুর কি বাগান বা রওজা হবেনা??
সবচেয়ে উত্তম রওজা হল রাসুল (ﷺ)-এঁর কবর মোবারক যেমন বলাহয়েছেঃ নিশ্চয় নবী (ﷺ) এঁর কবর শরীফ আল্লাহর বাগান সমূহের একটি উত্তম রওজা,বরং এর চেয়েও আরো উত্তম।
[মাওয়াহেবুল্লাদুনিয়া,৪র্থ খন্ড,৫৯১ পৃ:]
জিয়ারত করা সুন্নত ও নেক-আমল।এতে তাঁদের সাথে মুসলমান দুনিয়াবাসীর আত্মিক সুসম্পর্ক হয়। এতে বাধা দেওয়া বিদয়াত, একে কবর-পূজা বা মাজার-পূজা বলে এনকার (অবজ্ঞা) করা কুফরি এবং এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা চরম অজ্ঞতা, গোমরাহী ও বাতিলপন্থীদের কারসাজি ও বৈশিষ্ট্য।
তেমনি,এসব জিয়ারতের নামে কোনো বেশরা কাজ বা আচরণও কোনোভাবেই সমর্থিত নয়, বরং নিন্দিত ও ধিকৃত। কেননা, এর ফলে, এ সুন্নত বা নেক-আমলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে ফেতনার সৃষ্টি হয় এবং বাতিলপন্থীরা এর সুযোগে ফায়দা হাসিল করতে সচেষ্ট হয়।

খুঁজুন