মকসুদ অনুযায়ী সফরের হুকুম র্বতায়।অর্থাৎ হারাম কাজের জন্য সফর করা হারাম।জায়েজ কাজের জন্য জায়েজ,সুন্নাত কাজের জন্য সুন্নাত এবং ফরজ কাজের জন্য ফরজ।যেমন ফরজ হজ্বের জন্য সফর করাও ফরজ।মাঝে মধ্যে জিহাদ ও বাণ্যিজের জন্য সফর করা সুন্নাত কেননা এ কাজ সুন্নাত।
হুযূর আলাইহিস সালামের রওযা পাক যিয়ারতের উদ্দ্যেশ সফর করা ওয়াজিব কেননা এ যিয়ারত ওয়াজিব।বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা সাক্ষাত আত্নীয়-স্বজনের বিবাহ শাদী খতনা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের যোগদান এবং চিকিৎসার জন্য সফর করা জায়েয।কেননা এগুলো জায়েয কাজ। চুরি-ডাকাতির জন্য সফর করা হারাম।মোট কথা হলো, সফরের হুকুমটা জানতে হলে,প্রথমে এর মকসুদটা জেনে নিতে হবে।মুলত:কবর যিয়ারত হচ্ছে সুন্নাত।সুতরাং কবর যিয়ারতে জন্য সফর করাটাও সুন্নাত বলে বিবেচ্য হবে। কুরআনুল কারীমে অনেক ধরনের সফর প্রমানিত আছে-
হুযূর আলাইহিস সালামের রওযা পাক যিয়ারতের উদ্দ্যেশ সফর করা ওয়াজিব কেননা এ যিয়ারত ওয়াজিব।বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা সাক্ষাত আত্নীয়-স্বজনের বিবাহ শাদী খতনা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের যোগদান এবং চিকিৎসার জন্য সফর করা জায়েয।কেননা এগুলো জায়েয কাজ। চুরি-ডাকাতির জন্য সফর করা হারাম।মোট কথা হলো, সফরের হুকুমটা জানতে হলে,প্রথমে এর মকসুদটা জেনে নিতে হবে।মুলত:কবর যিয়ারত হচ্ছে সুন্নাত।সুতরাং কবর যিয়ারতে জন্য সফর করাটাও সুন্নাত বলে বিবেচ্য হবে। কুরআনুল কারীমে অনেক ধরনের সফর প্রমানিত আছে-
ﻭَﻣَﻦْ ﻳُّﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦْ ﺑَﻴْﺘِﻪِ ﻣُﻬَﺎﺟًﺮﺍ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮْﻟِﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳُﺪْﺭِﻛْﻬُﺎﻟْﻤَﻮْﺕُ ﻓَﻘَﺪْ
ﻭَﻗَﻊَ ﺍَﺟْﺮُﻩ ‘ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রসূলের উদ্দেশ্য নিজ গৃহ থেকে মুহাজির হয়ে বের হলো এবং (পথে) তার মৃত্যু ঘটলো, তার পুরষ্কার আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে গেল।হিজরত উপলক্ষে সফর প্রমানিত হলো।
ﻟِﺎِﻳْﻠَﻒِ ﻗُﺮَﻳْﺶٍ ﺍِﻟَﻔِﻬِﻤْﺮِ ﺣْﻠَﺔَ ﺍﻟﺸِّﺘَﺎﺀِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻴْﻒِ .
যেহেতু কুরাইশের আসক্তি আছে । আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মে সফরের।এ আয়াতে বাণ্যিজের উদ্দেশের সফর প্রমাণিত হলো।
ﺍِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻣُﻮْﺳَﻰ ﻟِﻔَﺘَﺎﻩُ ﻟَﺎﺍَﺑْﺮَﺡُ ﺣَﺘَّﻰ ﺍَﺑْﻠُﻎَ ﻣَﺠْﻤَﻊَ ﺍﻟْﺒَﺤْﺮَﻳْﻦِ ﺍَﻭْ ﺍَﻣْﻀِﻰَ
ﺣُﻘُﺒَﺎ.
স্বরন করুন যখন মুসা (আ:) নিজের খাদিমকে বললেন-আমি ততক্ষন র্পযন্ত বিরত হবো না, যতক্ষন না সেখানে পৌছাব যেথায় দু’টি সমুদ্র মিলিত হয়েছে।হযরত মুসা (আ:) হযরত খিযির (আ:) এর সাথে সাক্ষাত করার জন্য তথায় গিয়েছিলেন।এতে মাশায়েখের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্য সফর প্রমানিত হলো।
ﻳَﺎ ﺑُﻨَﻰَّ ﺍِﺫَﻫَﺒُﻮْﺍ ﻓَﺘَﺤَﺴَّﺴُﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﻳُّﻮْﺳَﻒَ ﻭَﺍَﺧِﻴْﻪِ ﻭَﻟَﺎﺗَﻴْﺌَﺴُﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﺭُّﻭْﺡِ
ﺍﻟﻠﻪِ
হে আমার পুত্রগন, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হইও না হযরত ইয়াকুব (আ:) তাঁর অন্যান্য সন্তানদেরকে হযরত ইউসুফ (আ:) এর সন্ধানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।অতএব প্রিয়জনদের সন্ধানে সফর করা প্রমাণিত হলো।হযরত ইউসুফ (আ:) বলেছেন –
ﺍِﺫْﻫَﺒُﻮْﺍ ﺑِﻘَﻤِﻴْﺼِﻰْ ﻫَﺬَﺍ ﻓَﺎَﻟْﻘُﻮْﻩُ ﻋَﻠَﻰ ﻭَﺟْﻪِ ﺍَﺑِﻰْ ﻳَﺎﺕِ ﺑَﺼِﻴْﺮًﺍ .
আমার এ কোর্তাটা নিয়ে যাও;আমার আব্বার মুখের উপর রাখিও তার চোখ খুলে যাবে। চিকিৎসার জন্য সফর প্রমাণিত হলো
অতঃপর যখন তারা সবাই হযরত ইউসুফ (আ:) এর কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি স্বীয় মা-বাবাকে নিজের পাশে বৈঠক দিলেন।ছেলে মেয়েদের সাথে দেখা করার জন্য সফর প্রমানিত হলো।হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ছেলেরা বাপের কাছে আরয করলেন-
ﻓَﺎَﺭْﺳِﻞْ ﻣَﻌْﻦَ ﺍَﺧَﺎﻧَﺎ ﻧَﻜْﺘَﻞُ ﻭَﺍِﻧَّﺎﻟَﻪُ ﻟَﺤَﻔِﻈَﻮْﻥَ .
আমাদের ভাইকে আমাদের সাথে দিন। আমরা খাদ্যশস্য নিয়ে আসবো এবং তাকে নিশ্চয় হিফাজত
করবো।
উর্পাজনের জন্য সফর প্রমানিত হলো
হযরত মুসা (আ:) কে নির্দেশ দেয়া হলো।
ﺍِﺫْﻫَﺐْ ﺍِﻟَﻰ ﻓِﺮْ ﻋَﻮْﻥَ ﺍِﻧَّﻪُ ﻃَﻐَﻰ .
ফিরাওনের কাছে যাও,কারন সে বিদ্রোহী হয়ে গেছে।
তবলীগের জন্য সফর প্রমাণীত হলো। মিসকাত শরীফের কিতাবুল ইলমে বর্নিত আছে।
ﻣَﻦْ ﺧَﺮَﺝَ ﻓِﻰْ ﻃَﻠَﺐِ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻓَﻬُﻮَ ﻓِﻰْ ﺳَﺒِﻴْﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ
যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য বের হলো সে আল্লাহর পথে আছে।
আর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে –
ﺍُﻃْﻠُﺒُﻮﺍ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢَ ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﺎﻟﺼِّﻴْﻦِ
জ্ঞান অর্জন কর,যদি চীনেও যেতে হয়।
প্রসিদ্ধ ফার্সী পুস্তিকা করীমাতে আছে –
ﻃﻠﺐ ﻛﺮﺩﻥ ﻋﻠﻢ ﺷﺪ ﺑﺮﺗﻮﻓﺮﺽ
ﺩﮔﺮﻭﺍﺟﺒﺎﺳﺖ ﺍﺯ ﺏ ﭘﻴﺶ ﻓﻄﻊ ﺍﺭﺽ .
জ্ঞান অনুসন্ধান করা তোমার জন্য ফরয এর জন্য সফরের প্রয়োজন আছে ।
জ্ঞানানুসন্ধান জন্য সফর প্রমাণিত হলো।
প্রখ্যাত ফার্সী কাব্যগ্রস্থ গুলিস্তায় উল্লেখিত আছে-
ﺑﺮﻭﺍﻧﺪﺭ ﺟﻬﺎﻥ ﺗﻔﺮﺝ ﻛﻦ – ﭘﻴﺶ ﺍﺯﺍﻥ ﺭﻭﺯ ﻛﺰﺟﻬﺎﻥ ﺑﺮﻭﻯ .
মৃতুর আগে পৃথিবীটা একবার পরিভ্রমন করে দেখ।
ভ্রমনের জন্য সফর প্রমাণিত হলো । কুরআন কারীমে বর্ণিত আছে-
ﻗُﻞْ ﺳِﻴْﺮُﻭْﺍ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺎَﺭْﺽِ ﻓَﺎﻧْﻈُﺮُﻭْﺍ ﻛَﻴْﻒَ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﺎﻗِﺒَﺔُ ﺍَﻟْﻤُﻜَﺬِّﺑِﻴْﻦَ .
তাঁদেরকে বলুন,পৃথিবীটা ভ্রমন কর এবং কাফিরদের কি পরিণাম হয়েছে, তা দেখ যেসব দেশে খোদায়ী গজব নাযিল হয়েছে,
ওগুলো দেখে সতর্ক হওয়ার জন্য সফর প্রমাণিত হলো। যখন এত রকম সফর প্রমাণিত হলো তাহলে আওলিয়া কিরামের মাজার যিয়ারত উপলক্ষে সফর এমনিই প্রমাণিত বলে ধরে নেয়া যায়। আওলিয়া কিরাম হলেন,রূহানী ডাক্তার এবং ওনাদের ফয়েযও ভিন্ন ভিন্ন।ওনাদের মাজারে গেলে খোদার শান চোখের সামনে ভেসে উঠে। খোদা প্রাপ্তগন মৃত্যুর পরও দুনিয়াতে বিরাজ করেন,এ দ্বারা ইবাদাতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আর ওনাদের মাযারসমূহে দুআ সহসা কবুল হয়। ফতওয়ায়ে শামী প্রথম খন্ড যিয়ারতে কুবুর’ শীর্ষক আলোচনায় উল্লেখিত আছে –
ﻭَﻫَﻞْ ﺗَﻨْﺪَﺏُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻠَﺔُ ﻟَﻬَﺎ ﻛَﻤَﺎ ﺍﻋْﺘِﻴْﺪَ ﻣِﻨْﺎﻟﺮَّﺣْﻠَﺔِ ﺍِﻟَﻰ ﺯِﻳَﺎﺭَﺓِ ﺧَﻠِﻴْﻞُ ﺍﻟﺮَّ ﺣْﻤَﻦِ
ﻭَﺯِﻳَﺎﺭَﺓِ ﺍﻟﺴَّﻴَّﺪِ ﻟْﺒَﺪْﻭِﻯْ ﻟَﻢْ ﺍَﺭَﻣَﻦْ ﺻَﺮَّﺡَ ﺑِﻪِ ﻣِﻦْ ﺍَﺋِﻤَّﺘِﻨْﺎ ﻭَﻣَﻨَﻊَ ﻣِﻨْﻪُ ﺑَﻌْﺾُ
ﺍﻟْﺎَﺋِﻤَّﺔِ ﺍﻟﺸَّﺎَﻓِﻌِﻴَّﺔِ ﻗِﻴَﺎﺳًﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻨْﻊِ ﺍﻟﺮِّﺣْﻠَﺔِ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻤُﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟﺜَّﻠَﺚِ ﻭَﺭَﺩَّﻩُ
ﺍﻟْﻐَﺰَ ﺍﻟِﻰُّ ﺑِﻮُﺻُﻮْﺡِ ﺍﻟﻔَﺮْﻕِ
কবর যিয়ারত উপলক্ষে সফর করা মুস্তাহাব।যেমন:আজকাল হযরত খলিলুর রহমান ও হযরত ছৈয়দ বদ্দবী (রহ:) এর মাযার যিয়ারতের জন্য সফর করা হয় আমি এ ক্ষেত্রে আমাদের ইমাদের কারো ব্যাখ্যা দেখিনি।তবে শাফেই মাযহাবের কয়েকজন আলেম তিন মসজিদ ভিন্ন সফর নিষেদ -এ হাদিছের উপর অনুমান করে নিষেধ বলেছেন।কিন্তু ইমাম গাযযালী (রহ) এ নিষেধাজ্ঞাকে খন্টন করেছেন এবং পার্থক্যটা বিশ্লেষন করে দিয়েছেন একই জায়গায় শামীতে আরও উল্লেখিত আছে-
ﻭَﺍَﻣَّﺎ ﺍﻟْﺎَﻭْﻟِﻴَﺎﺀُ ﻓَﺎِﻧَّﻬُﻢْ ﻣُﺘَﻔﺎﻭِﺗُﻮْﻥَ ﻓِﻰ ﺍﻟﻘُﺮْﺏِ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﻧَﻔَﻊِ ﺍﻟﺰﺋﺮﻳْﻦَ
ﺑِﺤَﺴْﺐِ ﻣَﻌَﺎﺭِﻓِﻬِﻢْ ﻭَﺍَﺳْﺮَﺍﺭِﻫِﻢْ .
কিন্তু আল্লাহর ওলীগন আল্লাহর নৈকট্য লাভে ও যিয়ারতকারীদের ফায়দা পৌছানোর বেলায় নিজেদের প্রসিদ্ধি ও আধ্যাত্নিক শক্তি অনুসারে ভিন্নতর।ফতুওয়ায়ে শামীর ভূমিকায় ইমাম আবু হানিফা (রহ:) এর ফজিলত বর্ণনা প্রসংগে ইমাম শাফেঈ (রহ:) এর উক্তিটি উল্লেখ করা হয়েছে।
ﺍِﻧِّﻰْ ﻟَﺎ ﺗَﺒَﺮَّﻙُ ﺑِﺎَﺑِﻰْ ﺣَﻨِﻴْﻔَﺔَ ﻭَﺍَﺟِﺊُ ﺍِﻟَﻰ ﻗَﺒْﺮِﻩِ ﻓَﺎﺫَﺍ ﻋَﺮَﺿَﺖْ ﻟِﻰْ ﺣَﺎﺟَّﺔٌ
ﺻَﻠَّﻴْﺖُ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﻭَﺳَﺎﻟْﺖَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋِﻨْﺪَ ﻗَﺒْﺮِﻩِ ﻓَﺘُﻘْﻀَﻰ ﺳَﺮِﻳْﻌًﺎ .
আমি ইমাম আবু হানিফা থেকে বরকত হাসিল করি এবং তাঁর মাযারে আসি। আমার কোন সমস্যা দেখা দিলে,প্রথমে দু’রাকাত নামায পড়ি। অতঃপর তাঁর মাযারে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তখন সহসা আমার সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।উপরোক্ত বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় জানা গেল-কবর যিয়ারতের জন্য সফর কেননা ইমাম শাফেঈ (রহঃ) নিজের জন্ম ভূমি ফিলিস্তিন থেকে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এ মাযার যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সুদূর বাগদাদ শরীফ আসতেন, কবরবাসীদের থেকে বরকত গ্রহণ ওনাদের মাযারের কাছে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এবং কবরবাসীদের অভাব পূর্ণ করার মাধ্যম মনে করা।অধিকন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের রওযা পাক যিয়ারতের জন্য সফর করা আবশ্যক ফতওয়ায়ে রাশিদীয়া প্রথম খণ্ড আরবী ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺨﻄﺮ ﻭﺍﻻﺑﺎﺣﺖ এর ৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে বুযুর্গানে কিরামের যিয়ারতের জন্য সফর করা প্রসংগে উলামায়ে আহলে সুন্নাতের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ জায়েয বলেন এবং কেউ কেউ নাজায়েয বলেন। কিন্তু উভয় পক্ষের আলিমগণ হচ্ছে আহলে সুন্নাতের অনুসারী।বিতর্কিত মাসআলা নিয়ে বাড়াবাড়ি ঠিক নয়। আর আমাদের মত ইমামের অনুসারীদের পক্ষ থেকে সমাধান দেওয়াও অসম্ভব— রশীদ আহমদ
এখন আর উরস উপলক্ষে সফর করতে কাউকে নিষেধ করার কোন অধিকার দেওবন্দীদের নেই।কেননা মৌলভী রশীদ বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন এবং এর কোন সিদ্ধান্তও দেননি।বিবেকও বলে যে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর জায়েয হওয়া চাই। কেননা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে সফর হালাল বা হারাম হওয়াটা এর মকসুদ থেকেই বোঝা যায়।এ সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে কবর যিয়ারত যা নিষেধ নয় ,কেননা যিয়ারতে কবর সাধারণভাবেই অনুমোদিত ﺍﻟَﺎﻓَﺰُﻭْﺭَﻭْﻫَﺎ তাহলে সফর কেন হারাম হবে ? অধিকন্তু দ্বীনি ও দুনিয়াবী কাজ কারবারের জন্য সফর করা হয়।এটাও একটি দ্বীনি কাজের জন্য সফর হেতু হারাম কেন হবে ?
[তথ্যসূত্র:জা’আল হক ২য় খন্ড]
আল্লাহ তাআলার বাণী-
ﺗﻘﻮﺍﻱ ﺍﻟﻘﻠﻮﺏ ﻭﻣﻦ ﻳﻌﻈﻢ ﺷﻌﺎﺋﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺎﻧﻬﺎ ﻣﻦ
যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শন সমূহকে তাজিম বা সম্মান করল তার নিশ্চয়ই উহা অন্তরের তাকওয়া বা খোদাভীতির অন্তর্ভুক্ত।
[আল কোরআন]
আর যেহেতু আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ তার নিদর্শনের অন্তর্ভূক্ত সেহেতু তাদের প্রতি সম্মান করা মূলত খোদা ভীতির অন্তর্ভূক্ত।এখন এ ব্যপারে ওহাবী গুরু আশরাফ আলী থানবী কি বলে দেখুন
ﺩﺎﻘﺘﻋﺎﺑ ﺩﺍﺪﻤﺘﻧﺍ ﻭ ﺖﻧﺎﻌﺘﺳﺍ ﻮﺟ ﮦﻭ ﻮﮬ ﻞﻘﺘﺴﻣ ﺕﺭﺪﻗ ﻭ ﻢﻠﻋ ﻢﻠﻋ ﺩﺎﻘﺘﻋﺎﺑ ﻮﺟ ﺭﻭﺍ ﮯﮨ ﮎﺮﺷ ﮦﻭ ﺭﻭﺍ ﻮﮨ ﻞﻘﺘﺴﻣ ﺮﯿﻏ ﺕﺭﺪﻗﻭ ﻮﺗ ﮰﺎﺟ ﻮﮨ ﺖﺑﺎﺛ ﮯﺳ ﻞﯿﻟﺩ ﯽﺴﮐ ﮦﺪﻧﺯ ﮧﻨﻣ ﺪﻤﺘﺴﻣ ﮦﺍﻮﺧ ﮯﮨ ﺰﺋﺎﺟ ﺕﻮﻣﺎﯾ ﻮﮨ ..
অর্থঃ “অলীগণের জ্ঞান ও ক্ষমতাকে
স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে তাদের নিকট যে সাহায্য প্রার্থনা করা হয় তা শিরক। কিন্তু অলীগণের জ্ঞান ও ক্ষমতাকে স্বয়ং সম্পূর্ণ মনে না করে বরং আল্লাহ প্রদত্ত মনে করে যদি তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং যেকোন প্রমাণ ও উদাহরণ দ্বারা তাদের উক্ত খোদা প্রদত্ত জ্ঞান ও ক্ষমতা প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা জায়েয। চাই তিনি জীবিত হোন অথবা মৃত”
[ইমদাদুল ফতোয়া,৩য় খণ্ড, আকায়েদ ও কালাম অধ্যায়]
আশরাফ আলী থানবীর ‘তালমুদ্দীন’ নামক গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন তার খলিফা শামছুল হক ফরিদপুরী।উক্ত গ্রন্থের দশম পরিচ্ছেদে ‘অছিয়াতের বয়ান’ নামে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। সেখানে অনেক বুজুর্গদের অছিয়াত নকল করেছেন।তন্মধ্যে ফরিদপুরীর দাদাপীর এবং থানবীর পীর ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কীর ৪৪ টি অছিয়াত উল্লেখ করেছেন।তার ৪১নং অছিয়াতে লিখেছেন:‘অলী-আল্লাহর মাজার হইতে ফয়েয হসিল করিতে থাকিবে’।
[আশরাফ আলী থানভী,তালিমুদ্দীন, ২য় খণ্ড,পৃষ্ঠা ১৯৫]
আরও বলা হয়েছে তবে “কবর যিয়ারত করা, ইসালে সওয়াব করা এবং ‘সাহেবে নিসবত’ হলে তাদের (কবরস্থ লোক) থেকে ফয়েয নেওয়া” এগুলো ভাল কাজ।
[ইসলাহী নিসাব,তালিমুদ্দীন,পৃষ্ঠা ৪৯৪]
মাওলানা আশ্রাফ আলী থানভী আরও বলেন “পুরুষদের জন্য কবর জিয়ারত করা মোস্তাহাব। জিয়ারত করার অর্থ দেখাশুনা। সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন কবর জিয়ারত করা উচিৎ। সেই দিন শুক্রবার হওয়াই সবচেয়ে ভাল। বুজুর্গানে দ্বীনের কবর জিয়ারত করার জন্য সফরে যাওয়াও জায়েজ আছে”।
[ইমদাদুল ফতওয়া]
দেওবন্দী সকল গুরুদের পীর হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী (রহ:) উনার “যিয়াউল ক্বুলুব” কিতাবের শেষে তার অনুসারীদের জন্য “কতিপয় বিশেষ উপদেশ” অনুচ্ছেদে লিখেন-” মাশায়েখ ও পীর আওলিয়াগনের মাজার যিয়ারত করবেন। অবসর সময় তাদের মাজারের পার্শ্বে এসে রূহানিয়াতসহ মুতাওয়াজ্জুহ হবে এবং স্বীয় পীর মুর্শিদের সরতে তাদের ধ্যান করবে ও ফয়েজ হাসিল করতে সচেষ্ট হবে। কারন তারা আল্লাহ ও রসূলেরকে লাভ করেছে। আর এসবই বরকতময় কর্ম।