শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
সুফিবাদ পবিত্র মিলাদুন্নবীর রাত্রি লায়লাতুল কদর থেকেও উত্তম

পবিত্র মিলাদুন্নবীর রাত্রি লায়লাতুল কদর থেকেও উত্তম

মাওয়াহিবে লাদুনিয়া কিতাবের বর্ণনা
**في "ٱلْمَوَاهِبِ ٱللَّدُنِّيَّةِ" ٱلْجُزْءِ ٱلْأَوَّلِ، ٱلصَّفْحَةِ ١٤٥، تَأْلِيفِ ٱلْعَلَّامَةِ ٱلْإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ ٱلْقَسْطَلَّانِيِّ رَحِمَهُ ٱللّٰهُ تَعَالَى،  
وَفِي "جَوَاهِرِ ٱلْبِحَارِ" ٱلصَّفْحَةِ ١١٥٠، تَأْلِيفِ ٱلْعَلَّامَةِ يُوسُفَ ٱلنَّبْهَانِيِّ رَحِمَهُ ٱللّٰهُ تَعَالَى.**

বোখারী শরীফের ভাষ্যকার আল্লামা ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ কস্তলানী তাঁর বিশ্ববিখ্যাত কিতাব আল মাওয়াহিবে লাদুনিয়ায় রহমাতুল্লিল আলামিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শুভাগমনের রাতটি তিনটি কারণে লায়লাতুল কদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিয়েছেন,,
اجدها أَنَّ لَيْلَةَ الْمَوْلِدِ لَيْلَةُ ظُهُورِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَيْلَةَ الْقَدْرِ مُعْطَاةٌ لَهُ، وَمَا شُرِّفَ بِظُهُورِ ذَاتِ الْمُشَرَّفِ مِنْ أَجْلِهِ أَشْرَفُ مِمَّا شُرِّفَ بِسَبَبِ مَا أُعْطِيَهُ، وَلَا نِزَاعَ فِي ذَلِكَ، فَكَانَتْ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ - بِهَذَا الِاعْتِبَارِ - أَفْضَلَ.*
অর্থাৎ মিলাদের রাত্রি নবীজির প্রকাশের রাত্রি আর লাইলাতুল ক্বদর নবীজিকে দেয়া হয়েছে উপহার স্বরুপ। উল্লেখ্য যে, নবীজিকে প্রদত্ত উপঢৌকন এর সম্মানের চাইতে তাঁর প্রকাশের রাত্রির মর্যাদা অধিকতর; এতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং এটার ভিত্তিতে মিলাদের রাত্রিই উত্তম।
*الثاني: أَنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ مُشَرَّفَةٌ بِنُزُولِ الْمَلَائِكَةِ فِيهَا، وَلَيْلَةَ الْمَوْلِدِ شَرُفَتْ بِظُهُورِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا، وَمَنْ شَرُفَتْ بِهِ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَفْضَلُ مِمَّنْ شَرُفَتْ بِهِمْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، عَلَى الْأَصَحِّ الْمُرْتَضَى، فَتَكُونُ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَفْضَلَ.*
দ্বিতীয়ত: লাইলাতুল ক্বদর সম্মানিত হয়েছে ফেরেশতা নাযিলের কারণে আর মিলাদের রাত্রি সম্মানিত হয়েছে নবীজির প্রকাশের কারণে। সুতরাং যে রাত্রি নবীজির সম্পর্কের কারণে সম্মানিত তা নি:সন্দেহে উত্তম ঐ রাত্রি থেকে যে রাত্রি ফেরেশতাদের সম্পর্কের কারণে সম্মানিত হয়েছে। সুতরাং মিলাদের রাত উত্তম।
*الثّالِثُ - أَنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ وَقَعَ التَّفَضُّلُ فِيهَا عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَيْلَةَ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ وَقَعَ التَّفَضُّلُ فِيهَا عَلَى سَائِرِ الْمَوْجُودَاتِ، فَهُوَ الَّذِي بَعَثَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، فَعَمَّتْ بِهِ النِّعْمَةُ عَلَى جَمِيعِ الْخَلَائِقِ، فَكَانَتْ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَعَمَّ نَفْعًا، فَكَانَتْ أَفْضَلَ بِهَذَا الِاعْتِبَارِ.*
তৃতীয়ত: লাইলাতুল ক্বদর উত্তম কেবল উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য কিন্তু মিলাদের রাত উত্তম সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য। নবীজি সেই মহান সত্ত্বা যাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত হিসাবেই প্রেরণ করেছেন। আর তার মাধ্যমে নেয়ামত সমগ্র সৃষ্টিতে বিকশিত। তাই মিলাদুন্নবীর রাতের উপকার ব্যাপক। সুতরাং এই হিসাবে মিলাদুন্নবীর রাত্রি উত্তম। (সুবহানাল্লাহ)
**في "ٱلْمَوَاهِبِ ٱللَّدُنِّيَّةِ" ٱلْجُزْءِ ٱلْأَوَّلِ، ٱلصَّفْحَةِ ١٤٥، تَأْلِيفِ ٱلْعَلَّامَةِ ٱلْإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ ٱلْقَسْطَلَّانِيِّ رَحِمَهُ ٱللّٰهُ تَعَالَى،  
وَفِي "جَوَاهِرِ ٱلْبِحَارِ" ٱلصَّفْحَةِ ١١٥٠، تَأْلِيفِ ٱلْعَلَّامَةِ يُوسُفَ ٱلنَّبْهَانِيِّ رَحِمَهُ ٱللّٰهُ تَعَالَى.**
[আল মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়া, প্রথম খন্ড, ১৪৫ পৃষ্ঠা কৃত আল্লামা ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ কুস্তলানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি;
 জাওয়াহিরুল বিহার পৃষ্ঠা ১১৫০ কৃত আল্লামা ইউসুফ নাবহানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি]
২।মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)র রজনী শবে কদরের রজনী থেকেও বেশি ফজিলতপূর্ণ  
==============
*أُسْتَاذُ الْمُحَدِّثِينَ العَلَّامَةُ الشَّيْخُ عَبْدُ الْحَقِّ الْمُحَدِّثُ الدِّهْلَوِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، فِي كِتَابِهِ "مَا ثَبَتَ مِنَ السُّنَّةِ"، الصَّفْحَةُ ٧٧-٧٨
উস্তাযুল মুহাদ্দিসিন আল্লামা শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রাঃ) তদীয় ‘মাসাবাতা মিনাসসুন্নাহ’ নামক কিতাবের ৭৭/৭৮ পৃষ্ঠা 
*إِذَا قُلْنَا إِنَّهُ وُلِدَ لَيْلًا، فَتِلْكَ اللَّيْلَةُ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ بِلَا شُبْهَةٍ، لِأَنَّ لَيْلَةَ الْمَوْلِدِ لَيْلَةُ ظُهُورِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَيْلَةَ الْقَدْرِ مُعْطَاةٌ لَهُ.*
অর্থাৎ মিলাদ শরীফের রাত্রি শবে কদর হতে যে উত্তম তাতে সন্দেহের অবকাশ মাত্র নেই। কেননা মিলাদ শরীফের রাত আল্লাহর হাবিবের
দুনিয়াতে আবির্ভূত হওয়ার রাত্রি এবং শবে কদর হুজুর সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা’য়ালা দান করেছেন।
৩।ইমাম ইবনু আবেদীন শামী রহ লিখেন-
تَنْبِيهٌ]
فِي الْمِعْرَاجِ: وَقَدْ صَحَّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَنَّهُ قَالَ «أَفْضَلُ الْأَيَّامِ يَوْمُ عَرَفَةَ إذَا وَافَقَ يَوْمَ جُمُعَةٍ وَهُوَ أَفْضَلُ مِنْ سَبْعِينَ حَجَّةٍ» ذَكَرَهُ فِي تَجْرِيدِ الصِّحَاحِ بِعَلَامَةِ الْمُوَطَّإِ. اهـ. وَسَيَأْتِي الْكَلَامُ عَلَيْهِ آخِرَ الْحَجِّ.
وَنَقَلَ ط عَنْ بَعْضِ الشَّافِعِيَّةِ: أَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ، ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ
নিশ্চয় সর্বোত্তম রাত হলো মিলাদুন্নবী (ﷺ)'র রাত, তারপর ক্বদরের রাত, তারপর শবে মিরাজ, তারপর আরাফা, তারপর শবে বরাত এবং তারপর ২ ঈদের রাত উত্তম। (রদ্দুল মুহতার (ফাতওয়ায়ে শামী), কিতাবুল হজ, ২/৫১১ পৃ.)
ليلة المولد أفضل من ليلة القدر
*"وَأَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ، هَذَا بِالنِّسْبَةِ لَنَا، وَأَمَّا بِالنِّسْبَةِ لَهُ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، فَلَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ أَفْضَلُ اللَّيَالِي؛ لِأَنَّهُ رَأَى فِيهَا رَبَّهُ بِعَيْنَيْ رَأْسِهِ عَلَى الصَّحِيحِ."*
المصدر: الشرواني على التحفة، ج ٢ / صـ ٤٠٥.
৪।*"সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হলো নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র মিলাদের রাত, তারপর লাইলাতুল কদর, তারপর জুমার রাত, তারপর মিরাজের রাত।*  
*এটি আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে।*  
*আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দৃষ্টিকোণ থেকে, মিরাজের রাতই সর্বশ্রেষ্ঠ রাত;*  
*কারণ, সঠিক মতানুসারে, তিনি ওই রাতে তাঁর প্রভুকে স্বচক্ষে দর্শন করেছিলেন।"*
*সূত্র:* আশ-শিরওয়ানী আলা তাহফা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪০৫.
৫।শবে মিলাদ ই সর্বোত্তম রাত 
ثُمَّ إِنَّ ظَاهِرَ كَلَامِ بَعْضِ الْحَنَفِيَّةِ كَصَاحِبِ «الْجَوْهَرَةِ»  
أَنَّ لَيْلَةَ النَّحْرِ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَسَائِرِ لَيَالِي السَّنَةِ،  
وَيَرُدُّ عَلَيْهِ ظَاهِرُ الْآيَةِ أَيْضًا،  
وَلَعَلَّهُ يُجِيبُ بِنَحْوِ مَا سَبَقَ آنِفًا،  
وَنَقَلَ الطَّحْطَاوِيُّ - عَلَيْهِ الرَّحْمَةُ - فِي «حَوَاشِي الدُّرِّ الْمُخْتَارِ»  
عَنْ بَعْضِ الشَّافِعِيَّةِ أَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ - عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ -  
ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ، ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ،  
ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ،  
وَأَنَا لَا أَرَى أَنَّ لَهُ مَا يُعَوَّلُ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ، وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ.
এরপর কিছু হানাফির (যেমন 'আল-জাওহারা'র লেখক) বক্তব্যের বাহ্যিক রূপে বোঝা যায় যে,  
*ঈদুল আজহার রাত (লাইলাতুন নাহর)* লাইলাতুল কদর ও বছরের অন্যান্য রাতের চেয়ে উত্তম।  
কিন্তু এ মতের ওপর কুরআনের আয়াতের প্রকাশ্য বক্তব্য বিরোধিতা করে।  
তবে হয়তো তিনি আগের উল্লিখিত ব্যাখার মতো করেই এর জবাব দেবেন।  
তাহতাওয়ী (রহ.) ‘হাওয়াশি আদ্ দুররুল মুখতার’ গ্রন্থে কিছু শাফেয়ির পক্ষ থেকে এ মত উল্লেখ করেন যে:  
*সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হল নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-এর জন্মরাত*,  
তারপর লাইলাতুল কদর, তারপর মি‘রাজ ও ইসরা’র রাত, তারপর আরাফার রাত,
 أعلم
তাফসিরে রুহুল মায়ানী খন্ড-২০, পৃষ্ঠা-১৯৪, ।.
৬।সর্বশ্রেষ্ঠ রাত কোনটি?
বিশ্ববিখ্যাত তাফসিরগ্রন্থ ‘তাফসিরে জালালাইন’-এর সফল টীকাকার, ‘হাশিয়াতুস সাভি আলা তাফসিরিল জালালাইন’ প্রণেতা, শায়খুল আজহার, খ্যাতিমান মুফাসসির আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সাভি আল মালিকি (রাহিমাহুল্লাহ) সূরা জুমু‘আর ৯ নম্বর আয়াতে পাকের “ইয়াওমুল জুমু‘আ” শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন :
*أَفْضَلُ اللَّيَالِي:* لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ، فَالْجُمُعَةُ، فَنِصْفُ شَعْبَانَ، فَالْعِيدُ.
*وَأَفْضَلُ الْأَيَّامِ:* يَوْمُ عَرَفَةَ، ثُمَّ يَوْمُ نِصْفِ شَعْبَانَ، ثُمَّ الْجُمُعَةُ، *وَاللَّيْلُ أَفْضَلُ مِنَ النَّهَارِ.*
★★★❝রাতগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হচ্ছে :
১. মিলাদুন্নবীর রাত;
২. অতঃপর কদরের রাত;
৩. অতঃপর মি‘রাজের রাত;
৪. তৎপর জুমু‘আর রাত;
৫. এরপর মধ্য শা‘বানের রাত (শবেবরাত);
৬. তারপর ঈদের রাত।❞
★★★❝আর দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে :
১. আরাফাহ দিবস;
২. অতঃপর মধ্য শা‘বানের দিন;
৩. তারপর জুমু‘আর দিন।❞
★★★ ❝দিনের চেয়ে রাত বেশি ফজিলতপূর্ণ।❞
অতএব সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ তথা সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হচ্ছে মিলাদুন্নবীর রাত—শবে কদরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ যে রজনী

লেখক: মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, গবেষক

খুঁজুন