মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :
২০১১ ঈসাব্দের ১০ মাঘ ইমামুত্ ত্বরীকৃত হুযুর গাউছুল আ'যম মাইজভাণ্ডারী শাহ্সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ কেবলা কাবা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর বার্ষিক ওরশ শরীফের পর হতে বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্- হাসানী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর আন্তরাত্মার মধ্যে আপন মনিবের প্রতি আসক্তি বশতঃ মাঝে মাঝে তন্ময়ভাব পরিলক্ষিত হতে থাকে। হযরত কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ ও হযরত বাবাভাণ্ডারী কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর প্রতি তাঁর প্রেমাসক্তি চরম আকার ধারণ করে। তিনি কখনো সঙ্গীসহকারে আবার কখনো একা একা হযরত কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এবং বাবাজান কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর রওজা শরীফে হাজিরা দিতে থাকেন। উভয় গাউছুল আ'যমের সাথে চলে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজের রহস্যময় মন দেয়া-নেয়ার খেলা।
এ সময় থেকে তিনি তাঁর বড় শাহ্জাদা হযরতুল্হাজ্ব মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ক্বেবলা মাদ্দাজিল্লুহুল আলীকে বলতেন- 'দেখ! আমার হযরত কেবলা, আমার বাবাভাণ্ডারী কেবলা আমাকে ডাকতেছেন। তাঁরা আমাকে অনেক বেশি মুহাব্বত করতেছেন, আমাকে জড়িয়ে ধরে আলিংন করতেছেন, আমি উনাদের কাছ থেকে অনেক বেশি বেশি ফয়েজ লাভ করতেছি। তাঁরা আমাকে খুব বেশি দয়া করতেছেন।আমাকে তাঁদের ডাকে সাড়া দিতে হবে। আমাকে হযরতের নিকট যেতে হবে, আমি আমার বড় শাহজাদাকে দরবার, মাদ্রাসা, ত্বরীক্বতের জিম্মাদারী ও আশেকানদের দায়-দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি।' এসব মনের আকুতির কথা তিনি তাঁর অনেক খলিফা, আলেম-ওলামা, খাদেম, আশেক-ভক্তদের নিকটও অকাতরে প্রকাশ করে গেছেন। এতে তিনি যে সহসাই পরকালীন জীবনে পদার্পণ করবেন তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।আউলিয়া কেরামগণ পৃথিবীতে জীবিত থাকাকালে আখেরাতে তাঁদের জান্নাতী বাসস্থান ও অন্যান্য গোপন অদৃশ্য ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করে থাকেন। এর স্বপক্ষে স্বয়ং আল্লাহ্ পাক কুরআন-কারীমে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন: 'লাহুমুল বুশরা ফিল হায়াতিদ্দুনিয়া ওয়াফিল আখিরাহ।' অর্থাৎ- 'তাঁদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সুসংবাদ।' এসব সুসংবাদের মধ্যে নিজের পরকালীন জীবনের সম্যক বিষয়াবলীও তাঁদেরকে প্রত্যক্ষ করানো হয়। এগুলো তাঁদের জন্য চরম প্রাপ্তি ও মহা সফলতা। বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজেরও এ ধরণের পবিত্র নেয়ামত প্রাপ্তি ঘটে।
অন্তিম ইচ্ছে...
তাঁর বড় পুত্র বর্তমান সাজ্জাদানশীন হুজুর কেবলা মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেন: 'সিঙ্গাপুরে বাবাজানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি- অবনতির টানা-পোড়ন চলছিল। বাবাজান বলতেন: 'আমাকে এখানে কেন এনেছ! আমি এখানে থাকব না। আমাকে মাইজভাণ্ডার শরীফ নিয়ে যাও। হযরত কেবলা, বাবাজান কেবলা আমাকে ডাকতেছেন। বাবাভাণ্ডারী এসব ঔষধ খায় না। এগুলো তাঁর প্রয়োজন নেই।' মুর্শিদ কেবলা বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর জীবন সায়াহ্নে এমন নিদর্শন প্রতিভাত হয়েছিল যেমনটি হযরত গাউছুল আযম, পীরানে পীর দস্তগীর কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর কাছ থেকে প্রকাশ পেয়েছিল। ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায় হযরত পীরানে পীর দস্তগীর হুযুর সৈয়দুনা গাউছুল আ'যম শেখ সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ যখন জীবন সায়াহ্নে উপনীত হন তখনও তাঁর শাহজাদা হযরত সৈয়দ আবদুল ওহাব রহমতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি চিকিৎসার্থে ডাক্তার নিয়ে আসার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। গাউছে পাক কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ উত্তর করেছিলেন- 'আমার ডাক্তারের প্রয়োজন নাই, আমার যে রোগ হয়েছে; তা দুনিয়ার কোনো ডাক্তার-চিকিৎসক সারাতে পারবে না। আমার বিমারের দাওয়াই হল আমার মহামনিব আল্লাহ্ তা'য়ালার দিদার ও দর্শন লাভ। তাই আমি তাঁর কাছেই যাব। আমি এখানে আর থাকব না। তুমি আল্লাহর ওয়াহদানিয়্যাত বা আল্লাহর একত্বের উপর অটল থাকবে।'
স্নেহাস্পদ নাতিদেরকে দরূদ শরীফের তা'লিম
বাবা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এর সাথে তাঁর সাহেবজাদাগণ সৈয়দ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন, সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীনও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। তথায় বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ ফজর ও মাগরিব নামাজের পর বড় শাহজাদাকে মিলাদ শরীফ পাঠ ও জিকির করতে নির্দেশ দেন। বাবা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ সেখানে তাঁর তনয়দের নিয়ে উচ্চরবে মিলাদ-জিকির আদায় করতেন। মাঝে মাঝে বাবা মইনুদ্দীনও তাঁদের সাথে পাঠ করতেন। শিখিয়ে দিতেন মিলাদ পাঠের সুর-অনুকরণ ও নিয়ম-কানুন। নাতিরাও দাদাজানের ওই পাঠ ও সুর আত্মস্থ করে পারদর্শী হয়ে উঠেন। এর আগেও তাঁদেরকে বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ একান্তে নিবিড়ভাবে সান্নিধ্যে রেখে মিলাদ-কিয়াম-জিকির, দরূদ পাঠ সবকিছুর শিক্ষা দিয়ে যান এবং নিয়মিত চর্চা ও জারি রাখার নির্দেশ দেন। বংশানুক্রমে যাতে এ সিলসিলা জারি থাকে এজন্য তিনি তাঁর পরম স্নেহভাজন নাতিদেরকেও ওইসব কর্মগুলোর তালিম দিয়ে গেছেন। তাঁদের কন্ঠে ওইসব শ্রবণ করে খাস দোয়া করেছেন এবং তাঁদেরকে দ্বীনি শিক্ষার সাথে দুনিয়াবী সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লামার গোলামী করার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
বেছাল শরীফ
বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এ নশ্বর পৃথিবীতে তাঁর মনিবের প্রবর্তিত ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়াকে প্রচার-প্রসার করার মানসে যে মিশন নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন তা বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে তাঁর পূর্ণতা সাধন করেন। আধ্যাত্মিকতার যে বীজ তিনি বিশ্বব্যাপী বপন করে গেছেন, তা বিশাল মহিরূহ আকার ধারণ করে এক সময়ে ফুলে- ফলে সুশোভিত হতে থাকে। তাঁর মিশনের কর্মকান্ডও সমাপ্তির পথে। পরজগত 'বরজখ' ও অপেক্ষা করছে মাইজভাণ্ডারীয়ার এ নয়নতারার সাথে মিলনের জন্য। তাই পার্থিব জীবনের চিরাচরিত নিয়ামনুযায়ী তিনি মহাপ্রভুর সাথে মিলনের জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেন। সিঙ্গাপুর হাসপাতালে বাবাজান মুরশিদ কেবলার খোদী-বেখোদী
পরপারের ইঙ্গিত সৈয়দ মঈনুদ্দিন আহমদ আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী
পরপারের ইঙ্গিত সৈয়দ মঈনুদ্দিন আহমদ আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী
মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :২০১১ ঈসাব্দের ১০ মাঘ ইমামুত্ ত্বরীকৃত হুযুর গাউছুল আ'যম মাইজভাণ্ডারী শাহ্সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ কেবলা কাবা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর বার্ষিক ওরশ শরীফের পর হতে বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্- হাসানী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর আন্তরাত্মার মধ্যে আপন মনিবের প্রতি আসক্তি বশতঃ মাঝে মাঝে তন্ময়ভাব পরিলক্ষিত হতে থাকে। হযরত কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ ও হযরত বাবাভাণ্ডারী কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর প্রতি তাঁর প্রেমাসক্তি চরম আকার ধারণ করে। তিনি কখনো সঙ্গীসহকারে আবার কখনো একা একা হযরত কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এবং বাবাজান কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর রওজা শরীফে হাজিরা দিতে থাকেন। উভয় গাউছুল আ'যমের সাথে চলে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজের রহস্যময় মন দেয়া-নেয়ার খেলা।এ সময় থেকে তিনি তাঁর বড় শাহ্জাদা হযরতুল্হাজ্ব মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ক্বেবলা মাদ্দাজিল্লুহুল আলীকে বলতেন- 'দেখ! আমার হযরত কেবলা, আমার বাবাভাণ্ডারী কেবলা আমাকে ডাকতেছেন। তাঁরা আমাকে অনেক বেশি মুহাব্বত করতেছেন, আমাকে জড়িয়ে ধরে আলিংন করতেছেন, আমি উনাদের কাছ থেকে অনেক বেশি বেশি ফয়েজ লাভ করতেছি। তাঁরা আমাকে খুব বেশি দয়া করতেছেন।আমাকে তাঁদের ডাকে সাড়া দিতে হবে। আমাকে হযরতের নিকট যেতে হবে, আমি আমার বড় শাহজাদাকে দরবার, মাদ্রাসা, ত্বরীক্বতের জিম্মাদারী ও আশেকানদের দায়-দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি।' এসব মনের আকুতির কথা তিনি তাঁর অনেক খলিফা, আলেম-ওলামা, খাদেম, আশেক-ভক্তদের নিকটও অকাতরে প্রকাশ করে গেছেন। এতে তিনি যে সহসাই পরকালীন জীবনে পদার্পণ করবেন তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।আউলিয়া কেরামগণ পৃথিবীতে জীবিত থাকাকালে আখেরাতে তাঁদের জান্নাতী বাসস্থান ও অন্যান্য গোপন অদৃশ্য ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করে থাকেন। এর স্বপক্ষে স্বয়ং আল্লাহ্ পাক কুরআন-কারীমে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন: 'লাহুমুল
বুশরা ফিল হায়াতিদ্দুনিয়া ওয়াফিল আখিরাহ।' অর্থাৎ- 'তাঁদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সুসংবাদ।' এসব সুসংবাদের মধ্যে নিজের পরকালীন জীবনের সম্যক বিষয়াবলীও তাঁদেরকে প্রত্যক্ষ করানো হয়। এগুলো তাঁদের জন্য চরম প্রাপ্তি ও মহা সফলতা। বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজেরও এ ধরণের পবিত্র নেয়ামত প্রাপ্তি ঘটে।অন্তিম ইচ্ছে...তাঁর বড় পুত্র বর্তমান সাজ্জাদানশীন হুজুর কেবলা মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেন: 'সিঙ্গাপুরে বাবাজানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি- অবনতির টানা-পোড়ন চলছিল। বাবাজান বলতেন: 'আমাকে এখানে কেন এনেছ! আমি এখানে থাকব না। আমাকে মাইজভাণ্ডার শরীফ নিয়ে যাও। হযরত কেবলা, বাবাজান কেবলা আমাকে ডাকতেছেন। বাবাভাণ্ডারী এসব ঔষধ খায় না। এগুলো তাঁর প্রয়োজন নেই।' মুর্শিদ কেবলা বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর জীবন সায়াহ্নে এমন নিদর্শন প্রতিভাত হয়েছিল যেমনটি হযরত গাউছুল আযম, পীরানে পীর দস্তগীর কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর কাছ থেকে প্রকাশ পেয়েছিল। ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায় হযরত পীরানে পীর দস্তগীর হুযুর সৈয়দুনা গাউছুল আ'যম শেখ সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ যখন জীবন সায়াহ্নে উপনীত হন তখনও তাঁর শাহজাদা হযরত সৈয়দ আবদুল ওহাব রহমতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি চিকিৎসার্থে ডাক্তার নিয়ে আসার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। গাউছে পাক কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ উত্তর করেছিলেন- 'আমার ডাক্তারের প্রয়োজন নাই, আমার যে রোগ হয়েছে; তা দুনিয়ার কোনো ডাক্তার-চিকিৎসক সারাতে পারবে না। আমার বিমারের দাওয়াই হল আমার মহামনিব আল্লাহ্ তা'য়ালার দিদার ও দর্শন লাভ। তাই আমি তাঁর কাছেই যাব। আমি এখানে আর থাকব না। তুমি আল্লাহর ওয়াহদানিয়্যাত বা আল্লাহর একত্বের উপর অটল থাকবে।'স্নেহাস্পদ নাতিদেরকে দরূদ শরীফের তা'লিমবাবা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এর সাথে তাঁর সাহেবজাদাগণ
সৈয়দ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন, সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীনও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। তথায় বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ ফজর ও মাগরিব নামাজের পর বড় শাহজাদাকে মিলাদ শরীফ পাঠ ও জিকির করতে নির্দেশ দেন। বাবা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ সেখানে তাঁর তনয়দের নিয়ে উচ্চরবে মিলাদ-জিকির আদায় করতেন। মাঝে মাঝে বাবা মইনুদ্দীনও তাঁদের সাথে পাঠ করতেন। শিখিয়ে দিতেন মিলাদ পাঠের সুর-অনুকরণ ও নিয়ম-কানুন। নাতিরাও দাদাজানের ওই পাঠ ও সুর আত্মস্থ করে পারদর্শী হয়ে উঠেন। এর আগেও তাঁদেরকে বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ একান্তে নিবিড়ভাবে সান্নিধ্যে রেখে মিলাদ-কিয়াম-জিকির, দরূদ পাঠ সবকিছুর শিক্ষা দিয়ে যান এবং নিয়মিত চর্চা ও জারি রাখার নির্দেশ দেন। বংশানুক্রমে যাতে এ সিলসিলা জারি থাকে এজন্য তিনি তাঁর পরম স্নেহভাজন নাতিদেরকেও ওইসব কর্মগুলোর তালিম দিয়ে গেছেন। তাঁদের কন্ঠে ওইসব শ্রবণ করে খাস দোয়া করেছেন এবং তাঁদেরকে দ্বীনি শিক্ষার সাথে দুনিয়াবী সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লামার গোলামী করার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।বেছাল শরীফবাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এ নশ্বর পৃথিবীতে তাঁর মনিবের প্রবর্তিত ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়াকে প্রচার-প্রসার করার মানসে যে মিশন নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন তা বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে তাঁর পূর্ণতা সাধন করেন। আধ্যাত্মিকতার যে বীজ তিনি বিশ্বব্যাপী বপন করে গেছেন, তা বিশাল মহিরূহ আকার ধারণ করে এক সময়ে ফুলে- ফলে সুশোভিত হতে থাকে। তাঁর মিশনের কর্মকান্ডও সমাপ্তির পথে। পরজগত 'বরজখ' ও অপেক্ষা করছে মাইজভাণ্ডারীয়ার এ নয়নতারার সাথে মিলনের জন্য। তাই পার্থিব জীবনের চিরাচরিত নিয়ামনুযায়ী তিনি মহাপ্রভুর সাথে মিলনের জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেন। সিঙ্গাপুর হাসপাতালে বাবাজান মুরশিদ কেবলার খোদী-বেখোদী
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত