"আহলে বাইতে রাসুলের (দঃ)আত্মত্যাগের কারণেই যুগে যুগে মুসলিম উম্মাহ্ বিভিন্ন বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে"
রাজধানীতে খানকাহ্ শরীফের কেন্দ্রীয় ইফতার মাহফিলে শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ)
রমজান মাসে একজন মুমিনকে নিজের চরিত্র পরিশুদ্ধ করতে হয়। মিথ্যা বলা, গিবত করা, হারাম কাজ করা—এসব থেকে দূরে থাকার শিক্ষা রোজা দেয়। রোজা মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। ক্ষুধা ও পিপাসার মাধ্যমে মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা অনুভব করে এবং আল্লাহর আদেশ পালনে আরো মনোযোগী হয়। আমাদের প্রিয় নবিজী (দ) বলেছেন, 'সেই সফল, যার আত্না পরিশুদ্ধ।' পবিত্র রমজান মাস আত্নাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য আদর্শ সময়। শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকলেই আমাদের রোজা পরিপূর্ণ হবে না। সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, অন্তরকে সকল প্রকার কুপ্রবৃত্তি থেকে দূরে রাখতে হবে এবং এই অনুশীলনকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ দিনগুলিকে মহান আল্লাহ্ তা'য়ালা ও তার প্রিয় হাবীব (দ.) এর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করতে পারলেই পবিত্র রমজান মাসের সাধনা পরিপূর্ণতা লাভ করবে৷ বিশেষ করে ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে আমরা গরীব-অসহায়দের দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করতে পারি। তাই আমাদের সবসময় উচিত মানুষের সেবায় সাধ্যমত এগিয়ে আসা।
রাজধানীর মিরপুর-১, ৮২,শাহ্ আলীবাগ খানকা-এ রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া সংলগ্ন মসজিদ-এ গাউছুল আজম মিলনায়তনে ১৫ রমজান মহানবী (দ.)'র দৌহিত্র হযরত ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)'র খোশরোজ শরীফ ও মাইজভাণ্ডারীয়া তরীকার প্রবর্তক ইমামুল আউলিয়া হযরত গাউছুল আজম শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ কেবলা কাবার চেহলাম শরীফ এবং মাইজভাণ্ডারীয়া তরীকার বৈশ্বিক রূপদানকারী শায়খুল ইসলাম হযরত গাউছুল ওয়ারা শাহসুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ কেবলা কাবার আরবি চন্দ্র বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে আত্মশুদ্ধি অর্জনে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া এই মাহফিলে হাজারও ভক্ত জনতার অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপির চেয়ারম্যান হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেন, নবীকরিম (দ.) তাঁর ওফাতের পর যে ৩০ বছর সময়কে খেলাফতের যুগ বলেছেন, সে হিসেবে ইমাম হাসান (আ.) মুসলিম জাহামের ৫ম খলিফা। তিনি হযরত শেরে খোদা মওলা আলি (রাঃ) এর শাহাদাতের পর ৬ মাস খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রিয় নবিজী (দ.) এর মত মদীনা শরীফ থেকে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। অত্যন্ত সফলতার সাথে তিনি রাষ্ট্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অজস্র মানুষ তার হাতে বায়াত গ্রহণ করেছেন। তিনি ইচ্ছা করলে আজীবন রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারতেন। কিন্তু মুসলমানদের মাঝে রক্তপাত যাতে না হয়, ইসলামের একতা, ভাতৃত্ব রক্ষার্থে তিনি নিজ ক্ষমতা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। এ সম্পর্কে নবীকরিম (দ.) বলেছিলেন, "আমার এই ছেলে ইমাম হাসান (রাঃ) এর কারণে মুসলিম উম্মাহ্ অনেক বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে।" এ এক বিরল দৃষ্টান্ত, মহানুভবতা যা পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার দেখা যায় নি।
তিনি আরো বলেন, ইমাম হাসান (রাঃ) সত্য, ন্যায়, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের সমুজ্জ্বল আদর্শ। তার চেহারা মুবারকের মাঝে রাসুলে করিম (দ.) এর চেহারা মুবারক দৃশ্যমান ছিল। তিনি পাক পাঞ্জাতনের একজন। তিনি ও তার স্নেহধন্য ছোট ভাই ইমাম হোসাইন (রাঃ) জান্নাতে যুবকদের মহান নেতা। রক্তপাত, সংঘাত থেকে মুসলিম জাহানকে রক্ষা করতে তিনি স্বীয় ক্ষমতা ত্যাগ করার মত মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও, খারেজি মুনাফিক চক্র তাকে ৩ বার বিষপান করায় এবং তিনি শাহাদাত বরণ করেন। যারা তাকে নির্মমভাবে শহিদ করেছিলো, তাদেরকে তিনি চিনতেন। কিন্তু তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। কারণ এ বিষয় নিয়ে তিনি মুসলিম উম্মাহর মাঝে সংঘাত চাননি। তিনি মহান আল্লাহ্ ও রাসুলে করিম (দ.) এর নিকট এর বিচার জানিয়েছেন। বর্তমান সংঘাতময় বিশ্বে যদি ইমাম হাসান (আ.) এর আদর্শে উজ্জীবীত সুযোগ্য নেতৃত্ব থাকতো তবে পৃথিবী শান্তির নীড়ে পরিণত হত। যুগে যুগে আহলে বাইতে রাসুল (দ.) গণ প্রিয় নবিজী (দ.) এর মহান আদর্শকে ধারণ করেছেন। তাই তাদের স্মরণ ঘরে ঘরে জাগ্রত করতে হবে।
সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন,
১৯ শতকে হযরত গাউসুল আযম শাহ্সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) 'তরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া' এর প্রবর্তন করেন, যা বাংলার ভূখণ্ডে প্রবর্তিত একমাত্র তরিকা। আজ এ তরিকা পৃথিবীজুড়ে একটি সমাদৃত তরিকায় পরিণত হয়েছে, যার কোটি কোটি অনুসারী রয়েছেন। মানবপ্রেম, সাম্য, মানবতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বৈষম্যহীনতা এ তরিকার মূলমন্ত্র। এ তরিকা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলকে গ্রহণ করতে পারে। মানব অন্তরে স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা জাগ্রত করতে পারে। তিনি আরো বলেন, প্রিয় নবি (দ.)'র প্রকৃত আদর্শের অনুসরণে সুফিবাদের মূলধারা এ দরবার শরীফের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হচ্ছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি সংগ্রামে এ দেশের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, জুলুমের বিরুদ্ধে এ দরবার শরীফ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবদান রেখে আসছে।
বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিশ্বে দেশে দেশে যুদ্ধ-সংঘাত, ধর্মবিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য, ইসলামোফোবিয়া, দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার চরম আকার ধারণ করেছে। এ অশান্ত পরিস্থিতিতে হুযুর গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)'র মহৎ আদর্শ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা, মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধ, সমতা সৃষ্টির শিক্ষা মাইজভাণ্ডার শরীফ দিয়ে আসছে, তাই মাইজভান্ডারী দর্শনই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ার মূল প্রভাবক হতে পারে।
বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিশ্বে দেশে দেশে যুদ্ধ-সংঘাত, ধর্মবিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য, ইসলামোফোবিয়া, দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার চরম আকার ধারণ করেছে। এ অশান্ত পরিস্থিতিতে হুযুর গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)'র মহৎ আদর্শ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা, মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধ, সমতা সৃষ্টির শিক্ষা মাইজভাণ্ডার শরীফ দিয়ে আসছে, তাই মাইজভান্ডারী দর্শনই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ার মূল প্রভাবক হতে পারে।
হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর আরবি চন্দ্র বার্ষিক ওরশ শরীফে তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী বলেন, শত শত বা হাজার হাজার নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষ তার সাহচর্যে এসে দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন আর অগণিত মানুষ খুঁজে পেয়েছেন মুক্তির পথ। মানবপ্রেমের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্ধানই ছিল তার মৌলিক দর্শন। তিনি ছিলেন প্রিয় নবিজী (দ.) এর আদর্শের প্রতিচ্ছবি। তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, জ্ঞানের উৎকর্ষ ও আধ্যাত্নিক শক্তি জাতিসংঘ, ইউনেস্কোর মত আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মেও তাকে উচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন করেছে।
তিনি আরোও বলেন, যতবারই প্রতিকূলতা এসেছে, বীরদর্পে অবতীর্ণ হয়েছেন সম্মুখ সমরে। মহান আল্লাহর প্রতি অটল আস্থা ও ধৈর্যের সাথে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েছেন। ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়ে, নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন দ্বীনের জন্য। বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পদক্ষেপে, বাংলাদেশে প্রিয় নবিজী (দরুদ) এর প্রেমকে সুদৃঢ় ভিত্তিতে দাড় করিয়েছেন। পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম তিনি ইসলামের অমীয় বাণী, মূল ধারা প্রচার প্রসারে যেমন কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তেমনি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তার বিচরণ ছিল। তাই তিনি একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রাণস্পন্দন। মানুষের মনকে তিনি জয় করতে পেরেছেন। তাই তার স্বর্গীয় সুষমায় পরিপূর্ণ সেই চেহারা মুবারক ও হাসি, মানবের অন্তরে চিরস্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে।
স্বীয় পিতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী আরো বলেন, অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তিনি শরিয়তের খেদমত করেছেন। সর্বসম্মতিক্রমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে সুন্নীয়তের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। আবার তরিক্বতের সময়োপযোগী সংস্কারও করেছেন। তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়াকে বৈশ্বিক রূপদান করেছেন।
বিশ্বদরবারে এ তরিক্বার মহৎ দর্শনকে পরিচিত করেছেন। এ ব্যাপক দায়িত্বের মাঝেও তিনি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের পতাকাকে গৌরবের সাথে বিশ্বসভায় তুলে ধরেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের যে কোন প্রয়োজনে, দূর্যোগে-সংকটে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। মানবতার জন্য তিনি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। রিকশা, অটোরিকশা, সেলাই মেশিন বিতরণ করে তাদের ভাগ্যোন্নয়নের চেষ্টা করেন।
বিশ্বদরবারে এ তরিক্বার মহৎ দর্শনকে পরিচিত করেছেন। এ ব্যাপক দায়িত্বের মাঝেও তিনি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের পতাকাকে গৌরবের সাথে বিশ্বসভায় তুলে ধরেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের যে কোন প্রয়োজনে, দূর্যোগে-সংকটে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। মানবতার জন্য তিনি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। রিকশা, অটোরিকশা, সেলাই মেশিন বিতরণ করে তাদের ভাগ্যোন্নয়নের চেষ্টা করেন।
বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন,তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই 'হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট' প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বর্তমানে সংস্থাটি শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ত্রাণ বিতরণ, আত্নকর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ৫০টিরও বেশি মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইসলাম ও সুফিবাদের প্রচার প্রসারে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচরণের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে, International Association of Sufism আয়োজিত "International Sufi Symposium"এ বিশ্বের শীর্ষ সুফি সাধক, ইসলামি স্কলার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষকগণ তাকে " Sheikhul Islam" উপাধিতে ভূষিত করেন। উল্লেখ্য, তিনি আজীবন সুফিজম বিষয়ক এ বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থার 'Honorable Advisor' বা সম্মানিত উপদেষ্টা ছিলেন। ২০০০ সালের ২৮-৩১শে আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে United Nations বা জাতিসংঘের সদরদপ্তরে বিশ্বের শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের নিয়ে আয়োজিত "The Millennium World Peace Summit"এ বিশেষ অতিথি হিসেবে তার অংশগ্রহণ, বক্তব্যে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় " The Charter of Madinah" বা "মদীনা সনদ" এর তাৎপর্য তুলে ধরা, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উপস্থিত সকলকে নিয়ে প্রিয় নবিজী (দ) এর প্রতি সালাতু সালাম পাঠের মত তার বিরল অর্জনই প্রমাণ করে, তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি নেতা ও যুগশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্নিক সাধক।
একই বছরের সেপ্টেম্বরে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের তাসখন্দে বিশ্বের শিক্ষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বিষয়ক শীর্ষ সংস্থা UNESCO আয়োজিত "International Workshop on Sufism"এ তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, যা একজন জগদ্বিখ্যাত সুফি হিসেবে তার মর্যাদাকে আবারো প্রমাণ করেছে। ঐতিহাসিক এ সফরে "Tashkent Islamic University" তাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করে। ২০০৫ সালে "Gold Coast" খ্যাত আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ঘানার রাজধানীতে ঘানা জাতীয় কাউন্সিল ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থা, "Universal Islamic Centre" তাকে "The Grand Ambassador for Islam and Universal Peace" অর্থাৎ "ইসলাম ও বিশ্বশান্তির দূত" হিসেবে ভূষিত করে।
একই বছরের সেপ্টেম্বরে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের তাসখন্দে বিশ্বের শিক্ষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বিষয়ক শীর্ষ সংস্থা UNESCO আয়োজিত "International Workshop on Sufism"এ তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, যা একজন জগদ্বিখ্যাত সুফি হিসেবে তার মর্যাদাকে আবারো প্রমাণ করেছে। ঐতিহাসিক এ সফরে "Tashkent Islamic University" তাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করে। ২০০৫ সালে "Gold Coast" খ্যাত আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ঘানার রাজধানীতে ঘানা জাতীয় কাউন্সিল ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থা, "Universal Islamic Centre" তাকে "The Grand Ambassador for Islam and Universal Peace" অর্থাৎ "ইসলাম ও বিশ্বশান্তির দূত" হিসেবে ভূষিত করে।
সৈয়দ সাইফুদ্দীন মাইজভাণ্ডারী জানান, একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায়, স্বাভাবিকভাবেই দেশের শীর্ষ পর্যায় ও রাজনৈতিক মহলে শাহসুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তবে তিনি কোন স্বার্থে জড়িত না হয়ে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবছর মহান ১২ই রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) এর সমাবেশে তিনি দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অতিথি হিসেবে দাওয়াত দিতেন। এভাবে ভিন্নমতের মাঝে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি যোগসূত্র স্থাপন করতেন। বিশ্বের সকল শীর্ষ সুফি দার্শনিকদের সাথে তার সুসম্পর্ক ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আবার বাংলাদেশের পীর মাশায়েখ, আলেম ওলামাদেরও তিনি ছিলেন মধ্যমণি। ১৯৮৮ সালে উপমহাদেশের বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে ১১০০০ এরও বেশি শীর্ষস্থানীয় সুন্নী পীর মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম তাকে "আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশ"র প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেন।
বিএসপি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, মহাকালের কাছে পৃথিবীর সবকিছু অসহায় আত্নসমর্পণে বাধ্য হয়। সেই অজেয় মহাকালকেও জয় করেছেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (কঃ)। মহাকাল পরাজয় বরণ করে মহাপুরুষদের কাছে। কারণ তাদের মহৎ কর্ম অবিনশ্বর। তাদের স্মরণকে, পৃথিবীর চিরায়ত বিধানও বিস্মৃত করতে পারে নি। তাই তারা চিরঞ্জীব সত্তা হয়ে বেঁচে থাকবেন কোটি মানুষের হৃদয়ে, ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম লেখা থাকবে সোনালি হরফে।
ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ মইনুদ্দীন আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী, বিশেষ অতিথি ছিলেন, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া কেন্দ্রীয় পরিষদের মহাসচিব আলহাজ্ব শাহ্ মোহাম্মদ আলমগীর খান মাইজভাণ্ডারীসহ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের খলিফাবৃন্দ, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের সদস্যবৃন্দ, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মাহফিলে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক খলিফা মাওলানা শাহ্ রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ-সভাপতি হাফেজ ক্বারী মাওলানা মুফতি মাকসুদুর রহমান মাইজভাণ্ডারী, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ কেরামত আলী মাইজভাণ্ডারী, সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ ক্বারী মাওলানা খাজা বাহাউদ্দীন মাইজভাণ্ডারীসহ প্রমুখ উলামায়ে কেরাম।
মিলাদ কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী।