শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ঋতুরাজ বসন্তের বাতাসে অ্যালার্জি বাড়ায় PM2.5; বিজ্ঞান কী বলছে

ঋতুরাজ বসন্তের বাতাসে অ্যালার্জি বাড়ায় PM2.5; বিজ্ঞান কী বলছে

 ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ১লা ফাল্গুন। শীতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। প্রকৃতিতে লেগেছে রঙের ছোঁয়া, বাতাসে নতুন ঋতুর মিষ্টি বার্তা। তবে, বসন্তকালে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসেও ঘটে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন। এই সময় অনেক মানুষ হাঁচি, নাক চুলকানো, চোখ জ্বালা, কাশি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় ভোগেন। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বসন্তকালে এসব অ্যালার্জি ও শ্বাসজনিত সমস্যার পেছনে বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম দূষণকণা বিশেষ করে PM2.5-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

PM2.5-এর পূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম হলো Particulate Matter with an aerodynamic diameter less than or equal to 2.5 micrometers। অর্থাৎ, এটি এমন অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা যার ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের সমান বা তার চেয়েও কম। মানুষের চুলের ব্যাসের তুলনায় এই কণা প্রায় ৩০ গুণ ছোট হওয়ায় এগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। শ্বাস নেওয়ার সময় এই কণাগুলো সহজেই নাক ও গলার প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করে ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রক্তপ্রবাহেও মিশে যায়।

বসন্তকালে PM2.5 এর মাত্রা বাড়ার পেছনে একাধিক বৈজ্ঞানিক কারণ কাজ করে। শীতের শেষে বাতাস তুলনামূলক শুষ্ক হয়ে ওঠে, ফলে মাটি ও রাস্তার ধুলিকণা সহজেই বাতাসে উড়ে বেড়ায়। একই সময়ে গাছপালা ফুলে ভরে ওঠে এবং পরাগরেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই পরাগকণা ধুলিকণার সঙ্গে মিশে বাতাসে সূক্ষ্ম কণার ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি শহরাঞ্চলে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন বসন্তকালে PM2.5 পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, PM2.5 মানবদেহের শ্বাসতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। এই কণাগুলো ফুসফুসের বায়ুথলিতে জমে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে অ্যালার্জি, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে PM2.5-এর সংস্পর্শে থাকলে হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। শিশু, বয়স্ক মানুষ ও আগে থেকেই শ্বাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সচেতন ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বসন্তকালে PM2.5-এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। বাসাবাড়িতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী HEPA (High Efficiency Particulate Air) ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা কার্যকর। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার, অতিরিক্ত ধুলাবালি ও যানবাহনের ধোঁয়া এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বসন্তকাল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের নয়, বরং বাতাসের গুণগত পরিবর্তনেরও সময়। বিজ্ঞান বলছে, PM2.5 সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই ঋতুকে সুস্থ ও নিরাপদভাবে উপভোগ করা সম্ভব।

প্রকৌ. রিফাত শিকদার
ইন্সট্রাক্টর, (ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি) 
গজারিয়া ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (জিস্ট)

খুঁজুন