রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো মুনাফিকদের তালিকা প্রকাশ করে যাননি। তাহলে সাহাবী সেজে যে মুনাফিকরা হাদিস বর্ণনা করেনি এটা আমি নিশ্চিত হবো কি করে?— প্রশ্নটা করেছেন এক ভাই।
এসম্পর্কে আমার তেইশ সালের একটা লেখা আছে। এপ্রসঙ্গ আমি আবারও তা পোস্ট করছি।
নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যুগে এমন কোনো মোনাফেক ছিল না যে, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখত না। অর্থাৎ নেফাকি মানেই আহলে বাইত বিদ্বেষ। কারো মাঝে নেফাকি ছিল আর সে আহলে বাইত বিদ্বেষী ছিলনা—এমনটা একদমই ভাবা যেত না।
সাহাবী বেশী কিছু মুনাফিক ততকালীন সময়ে দু’পায়ে হাঁটাচলা করত দেদারসে। মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তাদের চিনতেন। এবং উনার সাহাবী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুম উনারাও চিনতেন। (কিন্তু তাদের সাথে ফাসাদে জড়াতেন না। কারণ হলো, অমুসলিমরা মনে করবে, মুসলমানরা পরস্পর ফাসাদ করছে, ঝগড়াঝাটি করছে। এবং অমুসলিমরা এতে ফায়দা ও সুযোগ নিবে।)
আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ একখানা হাদীস শরীফ উসূলুশ শাশী কেতাবের সুন্নাহ অংশে আছে। যা থেকে আন্দাজ করা যায় সাহাবী বেশী কতিপয় মোনাফেক ছিল। তারা এমন সব হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছে যা তারা নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার থেকে শুনেনি। বিশেষকরে ইমাম সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার তাফসীর থেকে পরিস্কার হয় যে, তারা সবাই হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখত। ( উসুলুশ শাশীর বর্ণনা)
وَتَحْقِيق ذَلِك فِيمَا رُوِيَ عَن عَليّ بن أبي طَالب أَنه قَالَ كَانَت الروَاة على ثَلَاثَة أَقسَام
١ - مُؤمن مخلص صحب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَعرف معنى كَلَامه
٢ - وأعرابي جَاءَ من قَبيلَة فَسمع بعض مَا سمع وَلم يعرف حَقِيقَة كَلَام رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَرجع إِلَى قبيلته فروى بِغَيْر لفظ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَتغير الْمَعْنى وَهُوَ يظنّ أَن الْمَعْنى لَا يتَفَاوَت
٣ - ومنافق لم يعرف نفَاقه فروى ما لم يسمع وافترى فَسمع مِنْهُ أنَاس فظنوه مُؤمنا مخلصا فرووا ذَلِك واشتهر بَين النَّاس
فَلهَذَا الْمَعْنى وَجب عرض الْخَبَر على الْكتاب وَالسّنة الْمَشْهُورَة
অর্থ: রাবীর হালতের বিভিন্ন বিশ্লেষণ ঐ রেওয়ায়াতে আছে, যা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন— রাবীগণ তিন প্রকার:
এক. খালেস মুমিন, যাঁরা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সহবত লাভ করেছেন এবং উনার কথার সঠিক মর্ম উপলব্ধি করেছেন।
দুই. বেদুইন, যিনি কোনো গোত্র হতে উনার দরবারে এসে উপস্থিত হয়েছেন এবং উনার অনেক হাদীস শরীফ শুনেছেন; কিন্তু তার মূল ভাব অনুধাবন করতে পারেননি। অতঃপর নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে উনার শব্দ ত্যাগ করে,অন্য শব্দে হাদীস রেওয়ায়াত করেছেন, যাতে অর্থ পরিবর্তন হয়ে গেছে। অথচ তিনি মনে করেছেন যে, অর্থের মধ্যে কোন পরিবর্তন ঘটেনি।
তিন. মোনাফেক, যার মোনাফেকী জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়ে যায়নি; আর সে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শুনেনি তা রেওয়ায়াত করেছে এবং উনার প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। লোকেরা সেই মোনাফেক হতে তা শোনে নেয় এবং মোনাফেককে খালেস মুমিন মনে করে তার থেকে শোনা হাদীস রেওযায়াত করে এবং এ সব হাদীস সাধারণ্যে মাশহুর হয়ে যায়। (মানুষের কাছে ছড়িয়ে যায়।)
রাবীদের এ ভিন্নতার কারণেই খবরে ওয়াহেদকে কুরআন শরীফ ও হাদীসে মাশহুরের উপর পেশ করা ওয়াজিব।
— উসুলুশ শাশী, ২৮০ পৃ. দারুল কেতাবিল আরাবি বৈরুত লেবানন। প্রথম মুদ্রণ: ১৪০২ হিজরী
ব্যাপারটা খুবই সহজ হলেও অনেকেই হয়তো অবাক হচ্ছেন। বাস্তবতা এটাই যে, নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জামানাতেও মোনাফিক ছিল— যারা মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করত। কিন্তু তাদের পরিচয় যেহেতু জনসাধারণের কাছে উন্মোচিত হয়নি সেহেতু তা অনেকেই তাদের থেকে শুনে বর্ণনা করেছে এবং তা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তবে তাদের একটা প্রধান লক্ষন ছিল, তারা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখত। মোনাফেক চিনার এটাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।
সুরা মুহাম্মদের তিরিশ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তিনি তাদের ব্যাপারে বলেছেন। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাফসীরে দুররে মানসূরে এই বিষয়টা আলোচনা করেছেন।
সুরা মুহাম্মদের তিরিশ নম্বর আয়াত শরীফখানা হলো— ৪৭: মুহাম্মাদ:আয়াত শরীফ: ৩০
وَ لَوْ نَشَآءُ لَاَرَیْنٰكَهُمْ فَلَعَرَفْتَهُمْ بِسِیْمٰىهُمْ١ؕ وَ لَتَعْرِفَنَّهُمْ فِیْ لَحْنِ الْقَوْلِ١ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ اَعْمَالَكُمْ
অর্থ: (মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন) আমি চাইলে তাদেরকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দিতাম আর আপনি তাদের নাকনকশা দেখেই চিনতে পারতেন। তবে তাদের বাচনভঙ্গি থেকে আপনি অবশ্যই তাদের চিনে ফেলবেন। আল্লাহ তোমাদের সব আমল ভালো করেই জানেন।
এই আয়াতের তাফসীরে ইমাম সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেন—
عن أبي سعيد الخدري رضي الله تعالى عنه في قوله تعالي:( وَ لَتَعْرِفَنَّهُمْ فِیْ لَحْنِ الْقَوْلِ) قال: ببغضهم علي بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه.
অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা উনার ঐশী বাণী: তবে তাদের বাচনভঙ্গি থেকে আপনি অবশ্যই তাদের চিনে ফেলবেন। তিনি বলেন— তা হলো হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে তাদের বিদ্বেষ।
অনুরূপ তিনি আরো উল্লেখ করেন। লেখেন—
عن ابن مسعود رضي الله تعالى عنه قال : ما كنا نعرف المنافقين على عهد الرسول صلى الله عليه وسلم إلا ببغضهم علي بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন— রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জামানায় আমাদের দেখা এমন কোনো মুনাফিক ছিল যে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখত না।
—তাফসীরে দুররে মানসূর ফীত্-তাফসীরিল মাছূর, ৬/৬৬ পৃ.
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যাঁরা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিদ্বেষী তাদের মোনাফেক বলেই উল্লেখ করেছেন। এবং বলেছেন, মোনাফেক ছাড়া কেউ আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখে না।
বর্তমানেও যে বা যারা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি এলোমেলো কথা বলে, শানেমানে কটুবাক্য ব্যবহার করে, ধরে নিবেন এরা ততকালীন মোনাফোকদের উম্মত। আর তাদের কাজই সমাজে আহলে বাইত বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া। তারা মোনাফেক। যেখানে উনাদের ভালোবাসা মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তিনি নিজেই ওয়াজিব করে দিয়েছেন। সেখানে এসব মোনাফোকের কথার কী গুরুত্ব আছে?
— আছেমী নামদার
২৫/১২/২০২৩
মোনাফেকদের চিনার সহজ পদ্ধতি:
তার কথা বর্ণনা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিপক্ষে যাবে। কারণ মোনাফেক মাত্রই আহলে বাইত বিশেষ করে হযরত আলী ইবনে আবি তলিব আলাইহিস সালাম উনার প্রতি বিদ্বেষ রাখে।
এসম্পর্কে আমার তেইশ সালের একটা লেখা আছে। এপ্রসঙ্গ আমি আবারও তা পোস্ট করছি।
নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যুগে এমন কোনো মোনাফেক ছিল না যে, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখত না। অর্থাৎ নেফাকি মানেই আহলে বাইত বিদ্বেষ। কারো মাঝে নেফাকি ছিল আর সে আহলে বাইত বিদ্বেষী ছিলনা—এমনটা একদমই ভাবা যেত না।
সাহাবী বেশী কিছু মুনাফিক ততকালীন সময়ে দু’পায়ে হাঁটাচলা করত দেদারসে। মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তাদের চিনতেন। এবং উনার সাহাবী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুম উনারাও চিনতেন। (কিন্তু তাদের সাথে ফাসাদে জড়াতেন না। কারণ হলো, অমুসলিমরা মনে করবে, মুসলমানরা পরস্পর ফাসাদ করছে, ঝগড়াঝাটি করছে। এবং অমুসলিমরা এতে ফায়দা ও সুযোগ নিবে।)
আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ একখানা হাদীস শরীফ উসূলুশ শাশী কেতাবের সুন্নাহ অংশে আছে। যা থেকে আন্দাজ করা যায় সাহাবী বেশী কতিপয় মোনাফেক ছিল। তারা এমন সব হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছে যা তারা নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার থেকে শুনেনি। বিশেষকরে ইমাম সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার তাফসীর থেকে পরিস্কার হয় যে, তারা সবাই হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখত। ( উসুলুশ শাশীর বর্ণনা)
وَتَحْقِيق ذَلِك فِيمَا رُوِيَ عَن عَليّ بن أبي طَالب أَنه قَالَ كَانَت الروَاة على ثَلَاثَة أَقسَام
١ - مُؤمن مخلص صحب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَعرف معنى كَلَامه
٢ - وأعرابي جَاءَ من قَبيلَة فَسمع بعض مَا سمع وَلم يعرف حَقِيقَة كَلَام رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَرجع إِلَى قبيلته فروى بِغَيْر لفظ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَتغير الْمَعْنى وَهُوَ يظنّ أَن الْمَعْنى لَا يتَفَاوَت
٣ - ومنافق لم يعرف نفَاقه فروى ما لم يسمع وافترى فَسمع مِنْهُ أنَاس فظنوه مُؤمنا مخلصا فرووا ذَلِك واشتهر بَين النَّاس
فَلهَذَا الْمَعْنى وَجب عرض الْخَبَر على الْكتاب وَالسّنة الْمَشْهُورَة
অর্থ: রাবীর হালতের বিভিন্ন বিশ্লেষণ ঐ রেওয়ায়াতে আছে, যা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন— রাবীগণ তিন প্রকার:
এক. খালেস মুমিন, যাঁরা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সহবত লাভ করেছেন এবং উনার কথার সঠিক মর্ম উপলব্ধি করেছেন।
দুই. বেদুইন, যিনি কোনো গোত্র হতে উনার দরবারে এসে উপস্থিত হয়েছেন এবং উনার অনেক হাদীস শরীফ শুনেছেন; কিন্তু তার মূল ভাব অনুধাবন করতে পারেননি। অতঃপর নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে উনার শব্দ ত্যাগ করে,অন্য শব্দে হাদীস রেওয়ায়াত করেছেন, যাতে অর্থ পরিবর্তন হয়ে গেছে। অথচ তিনি মনে করেছেন যে, অর্থের মধ্যে কোন পরিবর্তন ঘটেনি।
তিন. মোনাফেক, যার মোনাফেকী জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়ে যায়নি; আর সে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শুনেনি তা রেওয়ায়াত করেছে এবং উনার প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। লোকেরা সেই মোনাফেক হতে তা শোনে নেয় এবং মোনাফেককে খালেস মুমিন মনে করে তার থেকে শোনা হাদীস রেওযায়াত করে এবং এ সব হাদীস সাধারণ্যে মাশহুর হয়ে যায়। (মানুষের কাছে ছড়িয়ে যায়।)
রাবীদের এ ভিন্নতার কারণেই খবরে ওয়াহেদকে কুরআন শরীফ ও হাদীসে মাশহুরের উপর পেশ করা ওয়াজিব।
— উসুলুশ শাশী, ২৮০ পৃ. দারুল কেতাবিল আরাবি বৈরুত লেবানন। প্রথম মুদ্রণ: ১৪০২ হিজরী
ব্যাপারটা খুবই সহজ হলেও অনেকেই হয়তো অবাক হচ্ছেন। বাস্তবতা এটাই যে, নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জামানাতেও মোনাফিক ছিল— যারা মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করত। কিন্তু তাদের পরিচয় যেহেতু জনসাধারণের কাছে উন্মোচিত হয়নি সেহেতু তা অনেকেই তাদের থেকে শুনে বর্ণনা করেছে এবং তা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তবে তাদের একটা প্রধান লক্ষন ছিল, তারা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখত। মোনাফেক চিনার এটাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।
সুরা মুহাম্মদের তিরিশ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তিনি তাদের ব্যাপারে বলেছেন। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাফসীরে দুররে মানসূরে এই বিষয়টা আলোচনা করেছেন।
সুরা মুহাম্মদের তিরিশ নম্বর আয়াত শরীফখানা হলো— ৪৭: মুহাম্মাদ:আয়াত শরীফ: ৩০
وَ لَوْ نَشَآءُ لَاَرَیْنٰكَهُمْ فَلَعَرَفْتَهُمْ بِسِیْمٰىهُمْ١ؕ وَ لَتَعْرِفَنَّهُمْ فِیْ لَحْنِ الْقَوْلِ١ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ اَعْمَالَكُمْ
অর্থ: (মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন) আমি চাইলে তাদেরকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দিতাম আর আপনি তাদের নাকনকশা দেখেই চিনতে পারতেন। তবে তাদের বাচনভঙ্গি থেকে আপনি অবশ্যই তাদের চিনে ফেলবেন। আল্লাহ তোমাদের সব আমল ভালো করেই জানেন।
এই আয়াতের তাফসীরে ইমাম সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেন—
عن أبي سعيد الخدري رضي الله تعالى عنه في قوله تعالي:( وَ لَتَعْرِفَنَّهُمْ فِیْ لَحْنِ الْقَوْلِ) قال: ببغضهم علي بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه.
অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা উনার ঐশী বাণী: তবে তাদের বাচনভঙ্গি থেকে আপনি অবশ্যই তাদের চিনে ফেলবেন। তিনি বলেন— তা হলো হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে তাদের বিদ্বেষ।
অনুরূপ তিনি আরো উল্লেখ করেন। লেখেন—
عن ابن مسعود رضي الله تعالى عنه قال : ما كنا نعرف المنافقين على عهد الرسول صلى الله عليه وسلم إلا ببغضهم علي بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন— রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জামানায় আমাদের দেখা এমন কোনো মুনাফিক ছিল যে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখত না।
—তাফসীরে দুররে মানসূর ফীত্-তাফসীরিল মাছূর, ৬/৬৬ পৃ.
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যাঁরা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিদ্বেষী তাদের মোনাফেক বলেই উল্লেখ করেছেন। এবং বলেছেন, মোনাফেক ছাড়া কেউ আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখে না।
বর্তমানেও যে বা যারা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি এলোমেলো কথা বলে, শানেমানে কটুবাক্য ব্যবহার করে, ধরে নিবেন এরা ততকালীন মোনাফোকদের উম্মত। আর তাদের কাজই সমাজে আহলে বাইত বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া। তারা মোনাফেক। যেখানে উনাদের ভালোবাসা মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তিনি নিজেই ওয়াজিব করে দিয়েছেন। সেখানে এসব মোনাফোকের কথার কী গুরুত্ব আছে?
— আছেমী নামদার
২৫/১২/২০২৩
মোনাফেকদের চিনার সহজ পদ্ধতি:
তার কথা বর্ণনা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিপক্ষে যাবে। কারণ মোনাফেক মাত্রই আহলে বাইত বিশেষ করে হযরত আলী ইবনে আবি তলিব আলাইহিস সালাম উনার প্রতি বিদ্বেষ রাখে।