শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
সুফিবাদ সুফি জালালউদ্দিন রুমি ও তার প্রেম

সুফি জালালউদ্দিন রুমি ও তার প্রেম

মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি, যিনি রুমি নামেই সারাবিশ্বে পরিচিত, যিনি সুফিবাদ বা তাসাউফের বিশ্বস্ত নাম যে ধারা ইসলামের সকল ফরয আইন মেনে তার সাথে নিজেদের ধ্যান ধারণা নিয়ে এগিয়ে যায় তাই হলো সুফিবাদ বা তাসাউফ তাসাউফ সরাসরি মানুষের পরিশুদ্ধার সাথে জড়িত,আত্ম-সম্পর্কীয় আলোচনা যার মুখ্য বিষয় তাসাউফের মূল কাজ হচ্ছে আপন নফসের সঙ্গে, নিজ প্রাণের সাথে, নিজের জীবাত্মার সাথে, শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ করে তার থেকে মুক্ত হয়ে জড়জগত থেকে মুক্তি পাওয়া এর গভীরতা ব্যাপক

বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক আধ্যাত্মিক কবি মাওলানা রুমির নাম ছিল মুহাম্মদ, উপাধি হলো জালালউদ্দিন। বংশীয় সুত্রে তিনি পিতার দিক থেকে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা:) এর সহিত মিলিত হন এবং মাতার দিক থেকে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুর সাথে মিলিত হন। জালালউদ্দিন রুমি কর্মজীবনে তুরস্কের কোনিয়ায় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন তখন বিশ্বব্যাপী তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আধ্যাত্মিক চর্চা করতেন

হযরত শামস- তাবরিজি ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ, তিনি কোন স্থানে স্থায়ী হতেন না। মানুষ তাকেপাখিবলে ডাকত। মাওলানা রুমীর আধ্যাত্মিক চর্চার কথা শুনতে পেরে তিনি একজন পরম জ্ঞানী শিষ্য খুজে পাওয়ার আশা করেন। একদিন পথিমধ্যে তিনি মাওলানা রুমির সাক্ষাৎ পান এবং সে প্রশ্ন করেন: ইমানের সংজ্ঞা কি? মাওলানা রুমি নানাভাবে তাকে ইমানের সংজ্ঞা বোঝাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু শামস--তাবরিজি তাতে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না এবং বললেন: ইমানের সংজ্ঞা হলো- নিজের থেকে নিজেকে পৃথক করে ফেলা। তার এই উত্তর শুনে মাওলানা রুমি তার অনুগত হয়ে গেলেন। এবং তিনি তার সাথে গভীর ধ্যান সাধনায় লিপ্ত হতে শুরু করলেন। আর শামস--তাবরিজির এই ধ্যান সাধনাকে সমাজ গ্রহণ করতে পারিনি, যখন পরিস্থিতি খুব খারাপ পর্যায়ে যাচ্ছিল তখন মাওলান রুমি তার কন্যা কিমিয়াকে শামস তাবরিজির সাথে বিয়ে দেন। পরিস্থিতির শিকার হয়ে শিষ্যের কন্যাকে বিয়ের ঘটনা তার জীবনে এক স্বরণীয় মুহুর্ত ছিল। বিয়ের কয়েক মাস পরেই স্ত্রী কিমিয়া অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অত:পর তাবরিজি যেন আবারও সেই বনের পাখি হয়ে ওঠেন, এবং তিনি আবার হারিয়ে যান। এতে মাওলানা রুমি খুব ব্যথিত হন। তাকে হারিয়ে ফেলার শোকেদেওয়ান--শামস--তাবরিজিবইটি লিখেন। জালালউদ্দীন রুমী তার এই বিখ্যাত বইতে তার গুরুকে হারানোর যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করেন। এই পুস্তকের মাধ্যমে অন্যরকম রুমির আবির্ভার ঘটে। নতুনভাবে তিনি সবার কাছে আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকেন। তিনি পুস্তকে একে একে কবিতা, গজল লিখতে থাকেন যা আধ্যাত্মিকতার এক নতুন পাঠ হিসেবে সবার কাছে প্রকাশিত হয়

খুঁজুন