শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
সুফিবাদ ভালো ভালো পদবি নামের আবরণে থাকে পাতা 'ফাঁদ'

ভালো ভালো পদবি নামের আবরণে থাকে পাতা 'ফাঁদ'

আপনি দেখবেন অনেক পথ পরিস্কার ও সমতল হয় কিন্তু এর নীচে বহু রকম ফাঁদ পাতা থাকে। অনুরূপ অনেকের সুন্দর সুন্দর নাম থাকে কিন্তু সে নামে অর্থের অভাব থাকে। এধরণের লেবাসধারী সুন্দর নাম, পদবী ও আখ্যা সমূহ এক প্রকার 'ফাঁদ'। মানুষকে ধোকা দেবার সাজানো গোছানো গোপন ফাঁদ! এসব নামের মধ্যে বর্তমান বাজারে এগিয়ে আছে পীর, মুর্শিদ, রাহবার, শায়খ, মাওলানা, মৌলভী ইত্যাদি ভালো ভালো শ্রদ্ধাশীল নাম ও লকবগুলো।

এসব সুন্দর ভালো নাম সমূহ প্রকাশ্যে পরিস্কার সমতল রাস্তার মত। যেসব নামগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের দুর্বলতা থাকে, ভক্তি শ্রদ্ধা থাকে, সেসব ভালো চরিত্র ও শ্রদ্ধাশীল উপাধিগুলো এরা ধারণ করে যাতে সহজে মানুষ আকৃষ্ট করা যায়। একটু খতিয়ে দেখলে দেখবেন এদের আচরণে লুক্কায়িত রয়েছে দুনিয়ার লিপ্সা, সুখ্যাতির মোহ সহ অসংখ্য কুৎসিত অভ্যাস যেগুলো মানুষকে ধ্বংসকারী গোপন ফাঁদ। এদের ধারণ করা ভালো নাম সমূহে অর্থের অভাব রয়েছে! মুখের বলা কথার সাথে বাস্তবতার লেশমাত্র মিল নেই। ন্যায়-নীতি, উসূল, আদর্শ সব কথার কথা ভেল্কিবাজি। এদের সাহচর্যে যাওয়া মানে নিজের ক্ষতি ঢেকে আনা।

উত্তম উপাধি, পরিপাটি পোশাক-আশাক, প্রচার প্রসারের আধিক্য, ভালো ভালো কথার ফেরেবে পড়ে, অভ্যন্তর না দেখে, পরিণাম চিন্তা না করে এদের পাল্লায় পড়লে জীবন শেষ। মানুষের আভ্যন্তরীণ চরিত্র খারাপ হলে তার জীবনও খারাপ হবে। জীবনকে সুন্দর করতে হলে আভ্যন্তরীণ চরিত্র সুন্দর করতে হবে। যে চরিত্র প্রকৃত খাঁটি পীর-মুর্শিদের শিক্ষা ও সাহচর্যে অর্জন হয়।

খাঁটি পীরের শিক্ষা সাহচর্যে একজন শিক্ষানবিশ এত উন্নতি অর্জন করতে পারে যে সাধারণ শিক্ষাঙ্গন, সাধারণ শিক্ষক এবং বই পুস্তক ইত্যাদি শিক্ষা কোর্স এবং শিক্ষার মালমসলা ব্যতিরেকেই তার সত্য জ্ঞান অর্জন হয় এমনকি সে নিজেই জ্ঞানের আকর হয়ে যায়। যাদের ভালো নাম ও পদবী আছে কিন্তু ভালো স্বভাব এবং নামে অর্থের অভাব রয়েছে তারা 'ভণ্ড'। ভণ্ড পীর মাশায়েখ শুস্ক বালুরাশিতুল্য, যে জীবনের আয়ু নিঃশেষ করে দেবে।

হযরত ছাহেব কেবলায়ে কাবা (ক.)'র তিরোধানের পর মাইজভাণ্ডার শরীফের অধ্যাত্ম শরাফতের মর্যাদা হানিকারক নৈতিকতাবর্জিত কিছু কিছু কার্যকলাপ মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে অনুপ্রবেশ করতে থাকে। যেমন:-
✔️ মাইজভাণ্ডারী দর্শনের সাথে মনগড়া ও ভূয়া আচার পদ্ধতি সংযোজন পূর্বক ভূয়া পীরি-মুরীদি ও ফকিরীর কুসংস্কার প্রবর্তন করে চলছে। 
✔️ গ্রামে-গঞ্জে তথাকথিত স্বপ্নপ্রাপ্ত ভূয়া মাজার ও পীর দরবেশ উদয় হওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
✔️ জমিদারী প্রথার ন্যায় বংশানুক্রমিক সংক্রামক ব্যাধির রূপ পরিগ্রহ করছে এরই ফলশ্রুতিতে মাইজভাণ্ডার শরীফের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

মাইজভাণ্ডার শরীফের মূল শরাফতের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চলছে। যার-তার আবেগতাড়িত মতামত আর মনোভাব যথেচ্ছভাবে ছড়িয়ে দিয়ে শরাফতের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শরাফতের গুরুত্বের স্থলে স্থান দখল করে নিচ্ছে আবেগ আর ব্যক্তিগত বিশ্বাস কারণ, ব্যক্তিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এসব ব্যক্তি বিশেষজ্ঞরা শরাফতের মূল সত্যের চেয়ে ‘ফলাফলের যৌক্তিকতা’কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। যেখানে প্রতিষ্ঠান শরাফতের মূল সত্যগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন সেখানে প্রতিষ্ঠানই সত্য বিমুখ।

একদিন কথাচ্ছলে একজন তরিকার ভাই বললেন, "আসুন আমরা হযরত গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)- এর পবিত্র রওজা শরীফে গিয়ে প্রার্থনায় আর্জি পেশ করি তিঁনি যেন আমাদের পক্ষে থাকেন।"
প্রতুত্তরে বললাম, "হযরত ছাহেব কেবলায়ে কাবা (ক.) মোটেও আমার চিন্তার বিষয় নই। আমি জানি, তিঁনি সব সময় ন্যায় আর সত্যের পক্ষে থাকেন। বরং আসুন, আমরা সবাই প্রার্থনায় আর্জি পেশ করি, এ তরিকার সকল পীর, মাশায়েখ, অনুসারী, অনুগামী, ভক্ত, জায়েরীন, মুরীদান যেন সবসময় হযরত গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)'র পক্ষে থাকে।" হযরত গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)'র পক্ষে থাকা মানে সত্যের পক্ষে থাকা, সত্যের পক্ষে থাকা মানে মহান আল্লাহ ও রাসূল (দ.)'র পক্ষে থাকা।

যে পথে যাত্রার শুরুতে সর্বপ্রথম অকপট ও পবিত্র থাকতে হয়, সে পথে কপটতা ও জালিয়াতি দ্বারা সাধারণ মানুষদের ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে সচেতনভাবে। অলীয়ে কামেলের স্বীকৃত নীতি ও নৈতিকতা, উসূল আদর্শ প্রচারের পরিবর্তে জাগতিক স্বার্থে কতিপয় 'বেনিয়া মানসিকতা' সম্পন্ন প্রবঞ্চক পীর ও কথিত আওলাদের পরিচয়ে মাঠে ময়দানে গন পীরি মুরীদি কার্যকলাপের ফলশ্রুতিতে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের অধ্যাত্ম কেন্দ্রের পরিচিতির অপব্যবহার চলছে।

আদর্শের শিক্ষাবঞ্চিত কপট-সুবিধা ভোগীদের কারণে মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মৌলিক ধারার পরিবর্তে তাদের সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত ও অবাঞ্ছিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ মাইজভাণ্ডারী শরাফত ও তরিকার দর্শন সম্পর্কে বিভ্রান্তীতে পড়ছে। এতে মাইজভাণ্ডারী তরিকার সুস্পষ্ট সরল মর্ম দুর্বেধ্য হয়ে পড়ছে।

হুজুর গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)'র একক উত্তরাধিকারী পৌত্র, মাইজভাণ্ডারী তরিকার স্বরূপ উন্মোচক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষক, অছিয়ে গাউছুলআজম, খাদেমুল ফোকরা মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)'র সতর্কতা মূলক বাণী-

"খোদা পেয়ারা বুজুর্গদের আস্তানা, খানকাহগুলোর প্রতি জনগণের ভক্তি, শ্রদ্ধা, বিশ্বাসের সুযোগে বহু কর্মবিমুখ, সহজরুজি তল্লাশি চতুর ব্যাক্তিরা 'পীরি' ব্যবসাতে প্রচুর রুজি যথেষ্ট আদর সম্মান এবং সহজে মুখরোচক খানা পিনা মিলে বলিয়া সেদিকে ঝুঁকিয়া পড়ে। দুর্ভাগ্য ইহারাই ধর্ম বেচা ব্যবসা করে।"

খুঁজুন