Logo
শিরোনাম
নওগাঁয় চোরাই অটোভ্যান উদ্ধার সহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ জন আটক দ্বিতীয় বার আইজিপি পদক পেলেন রাঙ্গাবালী থানার ওসি হেলাল উদ্দিন অপহরণের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই কিশোরী উদ্ধার সহ অভিযুক্ত যুবক আটক বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত

নওগাঁর সাপাহারে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ 


"উদ্ভাবনী জয়োল্লাসে স্মার্ট বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে নওগাঁর সাপাহারে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার ১৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা এবং উদ্ভাবনী অলিম্পিয়াড উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্তর হতে একটি র‍্যালি বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন ঘোষনা করা হয়। মেলা উদ্বোধনের পর মেলার মাঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্যাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উক্ত মেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের ২০ টি স্টল তাদের ডিজিটাল উদ্ভাবনী বিষয়গুলো প্রদর্শন করেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিন ব্যাপী মেলার 

সমাপ্তি করা হয়। এসময়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন মন্ডল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ রুহুল আমিন,মৎস্য কর্মকর্তা রোজিনা পারভীন,কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান টকি, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ান কবীর, এলজিইডি প্রকৌশলী তাহাজ্জদ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গোলাম রাব্বানী,সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী মোল্লা সহ সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪ |

Image

অনুমতি ছাড়া হজ পালন করাকে বেআইনি ঘোষণা করে কঠোর শাস্তির বিধান করেছে সৌদি আরব। নিরবিচ্ছিন্ন ও সুন্দরভাবে হজ মৌসুম শেষ করতেই এ বিধান জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আর যারা এ আইন ভঙ্গ করবেন তাদেরকে ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার সমান।

সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া হজ পালন করা বেআইনি। আর যারা এ আইন ভঙ্গ করবেন তাদের ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। এমনকি যে বা যারা অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের মক্কায় পরিবহন করে ধরা পড়বেন তাদেরকেও ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী হজ মৌসুমের এই আইন ভঙ্গ করবেন, তাদেরকে প্রথমে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হবে। কারাভোগের পরে নিজ দেশে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি পরবর্তী ১০ বছরে সৌদিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হবে। এছাড়া এই আইন ভঙ্গকারীদের পরিচয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। যেন তাদের আশপাশের সবাই চিনে রাখতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ইসলামের অন্যতম স্তম্ব হজ। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ মুসলিম নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হলেও হজ করা ফরজ। প্রতি বছরই হজ পালন করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হন লাখ লাখ মানুষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক মানুষ হজ করতে যান। পাশাপাশি সৌদির স্থানীয় মানুষও পবিত্র হজ পালন করে থাকেন।


আরও খবর



শুল্ক কমে, দাম কমে না, লাভ ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 |

Image

এক সপ্তাহ আগে চার ধরনের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো হলেও তার প্রভাব নেই বাজারে। আর সহসা প্রভাব পড়বে বলেও মনে হয় না। রোজার মাসকে সামনে রেখে শুল্ক কমানো হয়েছে।

অবশ্য আগামী সপ্তাহে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। আর বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন ১ মার্চ থেকে ওই চারটি পণ্য কম দামে বিক্রি না করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আমদানিকারকেরা বলছেন, ডলার সংকট এবং এলসি খোলা থেকে আমাদানি পর্যন্ত সময় বিবেচনায় নিতে হবে। তারা যা আগেই আমদানি করেছেন তার শুল্ক তো দিয়ে দিয়েছেন। ওই চার ধরনের পণ্য আমদানিতে ১৫ দিন থেকে দেড় মাস সময় লাগে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর খেজুর আমদানিকারকেরা অভিযোগ করেছেন শুল্কায়নের সময় দাম বাড়িয়ে দেখানোয় বাস্তবে খেজুরের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আমদানিকারকেরা এই শুল্ক কমানোর সুবিধা সর্বোচ্চ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাবেন। চাল আমদানিতে ১৫ মে পর্যন্ত সুবিধা দেয়া হলেও চলতি অর্থ বছওে চাল আমদানি হচ্ছে না।

শুল্ক কমায় দাম কত কমার কথা :


৮ ফেব্রুয়ারি চার ধরনের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর প্রজ্ঞাপণ জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। পণ্যগুলো হলো : চাল, ভোজ্য তেল, চিনি ও খেজুর।

সিদ্ধ ও আতপ চালের আমদানি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসাথে সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ সুবিধা চাল আমদানিকারকেরা পাবেন আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। দেশে পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন ও ব্যবসা পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর বা মূসক বা ভ্যাট পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। এ সুবিধা তারা পাবেন আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। বিদেশ থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং পাম তেল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। আমদানিকারকেরা এ সুবিধা পাবেন ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

খেজুরের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। আগে আমদানি শুল্ক ছিলো ২৫ শতাংশ। আমদানিকারকেরা এ সুবিধা পাবেন আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত।

পরিশোধিত ও অপরিশোধিত উভয় ধরনের চিনির আমদানি আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে প্রতি টনে আমদানি শুল্ক কমিয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে। আগে যা ছিল দেড় হাজার টাকা। আর পরিশোধিত চিনি আমদানিতে টনপ্রতি আমদানি শুল্ক কমিয়ে করা হয়েছে দুই হাজার টাকা, আগে যা ছিল তিন হাজার টাকা। এ শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

শুল্ক কমানোর এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার বাজারে দেখা গেছে ওই চার ধরনের ভোগ্য পণ্যের দাম এক পয়সাও কমেনি।
প্রতি কেজি সাধারণ মানের খেজুর ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। এক মাস ধরে এ দরেই এসব খেজুর বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। গত বছরের চেয়ে অবশ্য কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি।

আগের মতোই প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ থেকে ১৭৩ এবং খোলা তেল ১৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পাম তেলের লিটার ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা । এক মাসের বেশি সময় ধরে এ দরেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল।
দুই মাস ধরে খোলা চিনির কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ এবং প্যাকেটজাত চিনি ১৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এখনও সেই দরে কিনতে হচ্ছে চিনি।

বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭৫, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬৫ ও মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুল্ক কমানোর পর চালের দাম কমেনি। তবে চলতি অর্থবছরে কোনো ধরনের চাল আমদানি হয়নি। গত বছর ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিলেও আমদানি হয়েছে চার লাখ ২১ হাজার টন।


কলাবাগানের মুদি দোকানদার আব্দুর রহিম জানান, 'আমদানি শুল্ক কমানোর পর ওইসব পণ্যের দাম এখনো কমেনি। আমরা আগের দামেই বিক্রি করছি। কমবে কিনা জানি না। তবে চালের দাম অভিযানের ফলে কয়েকদিন আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আর চিনি, সয়াবিন ও পাম তেল এবং খেজুরের দাম গত ১৫ দিন থেকে এক মাস আমরা একই দামে বিক্রি করছি। চিনির দাম কিছুটা কমেছে তবে তা এখন নয়, আগেই কমেছে।

তার কথা, 'কবে কমবে আমরা জানি না। পাইকারি যাদের কাছ থেকে আনি তারা কমালে আমরাও কমাবো। তার আগে তো পারব না।

আমদানিকারকেরা যা বলছেন :


বাংলাদেশের ভোজ্য তেল এবং চিনি আমদানির যে পাঁচটি বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আছে তার মধ্যে মেঘনা গ্রুপ একটি। ওই গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার মজিবুর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশে চিনি আসে প্রধানত ব্রাজিল থেকে। আর সয়াবিন ও পাম তেল আনা হয় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে। ব্রাজিল থেকে চিনি আনতে সব মিলিয়ে কমপক্ষে এক মাস লাগে। আর ভোজ্য তেল আনতে ১৫ দিন থেকে এক মাস লাগে। ফলে আমরা নতুন আমদানি করলে শুল্ক কমানোর সুবিধা পাবো। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি আগেই আমদানি করা তেল ও চিনির দাম কমাতে। কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা তেলের দাম কিছুটা কমাবো। চার-পাঁচ টাকা ডিসকাউন্ট দেব লিটারে।

তার কথা, 'অনেকেই রোজার মাসের চাহিদা হিসাব করে তেল-চিনি নিয়ে এসেছেন। হয়তো ওই মাসের জন্য নতুন অল্প কিছু আমদানি হবে। পাইপলাইনে যা আছে তা শুল্ক সুবিধা পাবে। যার এলসি আগেই খোলা হয়েছে, পাইন লাইনে আছে সেগুলো নির্ধারিত সময়ের আগে খালাস হলে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে।
তার বিবেচনায় সরকার যে নির্ধারিত সময়ের জন্য শুল্ক সুবিধা দিয়েছে তাতে অল্প অল্প পরিমাণ তেল চিনি এই সুবিধায় আনা যাবে।

তবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, 'তাতে খুচরা দামের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ডলারের দাম বেশি হওয়ায় তা সমন্বয় করতে গিয়ে দাম তেমন কমানো যাবে না।

এদিকে ফ্রুটস ইমপোর্টারর্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, 'আমদানি শুল্ক কমানো হলেও খেজুরের দাম কমবে না। কারণ শুল্কায়নের সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা খেজুরের দাম অনেক বেশি ধরে তার ওপর ডিউটি নির্ধারণ করছে। এটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমদানি শুল্ক কমাতে তারা কমিয়েছেন। কিন্তু দাম বেশি দেখিয়ে দুইগুণ-তিনগুণ শুল্ক নিচ্ছেন।

তিনি দাবি করেন, 'আমরা ইরাক থেকে সাধারণ মানের খেজুর কার্টনে করে আমদানি করেছি ৯০০-১০০০ ডলারে। এখন শুল্কায়নের সময় দাম ধরা হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ ডলার। আর বস্তায় ভরে প্রতি টন আনি ৫০০-৬০০ ডলারে, কিন্তু শুল্কায়নের সময় দাম ধরা হয় এক হাজার ডলার। তাহলে একদিকে শুল্ক কমানোর কথা বলছে অন্যদিকে দুই-তিনগুণ শুল্ক বেশি আদায় করছে।' তার কথা, এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কেউ খেজুর আমদানি করবে না।

অজুহাত থাকবেই :


কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের(ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, 'শুল্ক কমানোর ঘোষণা আরেকটু আগে দিলে ভালো হতো। তবে এখনো এর সুবিধা ভোক্তাদের পাওয়া উচিত। আসলে ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে কম শুল্কে পণ্য আমদানি করে পরে বেশি দামে বিক্রি করবে। এটা তাদের একটা পলিসি। এজন্যই তারা নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। এরইমধ্যে বাজারে ওই চারটি পণ্যের দাম কিছুটা হলেও কমা উচিত ছিল। কিন্তু একটুও কমেনি।

তার কথা, 'এর আগে আমরা দেখেছি আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তারা আগে আমদানি করা পণ্যের দামও সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু শুল্ক কমালে তারা আমদানির সময় ও ডলারের অজুহাত দেয়।

তিনি জানান, 'বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ও ভোক্তা অধিদপ্তরের ডিজি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে আমিও ছিলাম। ব্যবসায়ীরা সেখানে দাম কমানোর কোনো প্রতিশ্রতি দেয়নি। উল্টো তাদের কেউ কেউ বলেছেন. চার পণ্যে শুল্ক কমানোর কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সামনের সপ্তাহে চিনি ও তেলের দাম কমবে :


ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, 'আমদানি শুল্ক কমানোর পর বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে একটু সময় লাগবে। আরো আগে শুল্ক কমালে আরো আগে প্রভাব পড়ত। আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে ট্যারিফ নির্ধারণ করে দেব। কাগজপত্র দেখে এটা করব। তাতে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম কমবে। তবে চিনির দাম সামান্য কমবে। কারণ চিনির আমদানি শুল্ক সবচেয়ে কম কমানো হয়েছে।

আর বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, 'আমরা সামনের সপ্তাহের মধ্যে দাম ফিক্সড করে দেয়ার চেষ্টা করছি। ১ মার্চ থেকে এই চারটি পণ্য কম দামে বিক্রি করতে হবে। আমরা এরমধ্যে আমদানিকারকদের আগে আনা পণ্য ক্লিয়ার করতে বলেছি। এক তারিখ থেকে আমরা আমদানিকারকদের গুদামে ইন্টরভেন করব।

তিনি বলেন, 'আসলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। তারা ইচ্ছা করে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এবার যাতে সেটা করতে না পারে সেজন্য আমরা নানা ব্যবস্থার কথা ভাবছি।

আর খেজুর আমদানিকারকদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, 'সব মানের খেজুর একইসঙ্গে আমদানি করে একই দাম ধরা হত। তারপর ইচ্ছে মতো বাজারে দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করা হতো। এই কারণে এনবিআর একটি অ্যাসেসমেন্ট দাম নির্ধারণ করে দেয়। তারপরও তাদের অভিযোগ আমরা দেখব।

'আমরা আজকে(বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামে আমদানিকারকদের মূল হাব খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এরপর ঢাকায় মৌলভীবাজারের ব্যবসায়িদের সঙ্গে বৈঠক করব,' জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে পবিত্র রোজার মাস শুরু হবে।


সূত্র : ডয়চে ভেলে

 


আরও খবর



শীঘ্রই কাটছে না গ্যাস সংকট

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 |

Image

জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের যোগান কম থাকায় রেশনিং করে খাতভিত্তিক গ্যাসের সরবরাহ করছে জ্বালানি বিভাগ। সে ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে শিল্প ও বিদ্যুৎখাত। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, এখনো চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে না বেশিরভাগ শিল্প। অন্যদিকে চলতিমাসেই বিদ্যুতের চাহিদা আরও ২-৩ হাজার মেগাওয়াট বাড়তে পারে। আর এই বর্ধিত চাহিদা পূরণে বাড়ানো হতে পারে গ্যাসের সরবরাহ। এতে শিল্পখাতে তৈরি হয়েছে নতুন শংকা।

শিল্পসহ দেশের বিদ্যুৎখাতের গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের। গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মলূত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন সংস্কারের কারণে সারাদেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। যদিও পাইপলাইন বন্ধের কারণে দিনে মাত্র ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যেখানে দিনে চাহিদা ৪শ মিলিয়ন ঘনফুট। দেখা গেছে স্থানীয় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাহিদার থেকে যোগান ক্রমেই কমছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎসহ সবধরনের শিল্প ও উৎপাদনমুখী খাতে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এর বাইরেও সিএনজি ও আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়াবে কয়েকগুণ। এদিকে সংকট নিরসনে শিল্প উদ্যোক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই জোড় দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলেও শিল্প ও বিদ্যুৎখাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।এদিকে মার্চের শুরুতেই বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা। এই মুহূর্তে ৪-৫ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলেও তখন এ খাতে গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে শিল্পে বিদ্যমান গ্যাসের সরবরাহ নতুন শংকা তৈরি হয়েছে। যদিও বিকল্প জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। কিন্তু অন্য যে কোনো জ্বালানিকে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি কিংবা আমদানি করা বাড়বে ব্যয়, যা এখাতে ভতুর্কি আরও বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে দেশে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে অন্তত ২ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সম্প্রতি সংসদে এক বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে বর্তমান সংকট নিরসনে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন নিম্নমুখী। আমদানির মাধ্যমে এই ঘাটতি মেটানো হলেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। মূলত আমদানি গ্যাস পরিবহণ ও মজুদের বিদ্যমান অবকাঠামোগত সক্ষমতার চেয়ে ঘাটতি বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় একমাত্র নিজস্ব গ্যাসের উত্তোলন বৃদ্ধি ছাড়া গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দেখা গেছে দেশের প্রধান গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরেই এর উত্তোলন কমতির দিকে। অন্যদিকে নতুন গ্যাস কূপগুলোর সঙ্গে পাইপলাইন সংযোগ নেই। ফলে তা জাতীয় গ্রিডে আসছে না। তাই গ্যাস পরিবহণে অবকাঠোগত সক্ষমতা তৈরিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে শিল্প উদ্যোক্তারা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই জ্বালানি বিভাগকে বাড়তি দামে হলে আমদানি করে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বলে আসছে। কিন্তু এখন আমদানি বাড়ানো হলেও তা সরবরাহে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকয়ে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে শিল্পখাতে নেতীবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করেন উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফাকচার্স এন্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও শিল্প উদ্যোক্তা শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি গত দুবছর ধরেই খারাপ। এখন যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অগ্রাধিকার দেওয়ার পরেও ৪০-৪৫ শতাংশ গ্যাসের সরবরাহ মিলছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় ২ থেকে আড়াই গুণপর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ৩ শিফটের পরিবর্তে মাত্র ১টি শিফট ফ্যাক্টরি চালাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিল্পসহ সামগ্রিক রপ্তানিখাত দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি রপ্তানি বাজার হারানোর শংকাও রয়েছে।

এমনিতেই স্বাভাবিক অবস্থায় শিল্পখাতে বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের এলাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকে। এছাড়াও গ্যাসে চাপ এত কম থাকে। ফলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি বিকল্প জ্বালানিতে মেটাতে হয়। এতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এ অবস্থায় যদি দীর্ঘ মেয়াদে রেশনিং করে সরবরাহ করা হয় তাহলেও গড় ঘাটতি ৪০ শতাংশ থেকেই যাবে। আর এই ঘাটতি বিকল্প জ্বালানিতে মেটানোর সক্ষমতা অনেকেরই নেই। এতে বিদ্যমান ব্যাংক ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে।

সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি : সম্প্রতি ২০২৪ সালের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বৈশ্বিক গ্যাস বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সেখানে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা তেমন বাড়েনি বলে উল্লেখ করা হয়ছে। বরং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৩ সালের প্রথম ১০ মাসে গ্যাসের চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে। এছাড়াও একই সময়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু স্থানীয় গ্যাসের যোগান ধারাবাহিকভাবে কমতির দিকে থাকায় ২০ শতাংশ আমদানি বাড়িয়েও বিভিন্ন খাতে গ্যাসের রেশনিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ফলে ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

এদিকে দেশে গ্যাসের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। অন্য যে কোনো জ্বালানির থেকে এর উৎপাদন ব্যয় অর্ধেকেরও কম। তবে দেশি গ্যাসের যোগান কমতে থাকা এবং আমদানি বাড়তে থাকায় গ্যাসের গড় দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। দেখা গেছে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত গ্যাসের ৭০ শতাংশই নিজস্ব। তবে ২০২৬ সালের মধ্যেই এই সরবরাহ ৫০ শতাংশে নামতে পারে। ফলে এই বিশাল ঘাটতি পূরণে আমদানি ব্যয় ছাড়াবে ৫ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটে অর্ধেক কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে অর্থাৎ ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য বছরে ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।

সিএনজি গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রেশনিংয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিএনজি খাত। সার ও আবাসিক খাতেও তা চলছে এক প্রকার অঘোষিতভাবে। অর্থাৎ এসব খাতেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না পেট্র্রোবাংলা। দেশে গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা আসলে কত সেটির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সরকারি সংস্থাগুলো থেকে তথ্য জানা যায়নি। তবে পেট্রোবাংলার ভাষ্যমতে, দেশে দৈনিক প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। আর তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ থাকলে বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসিক, সার ও শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, চাহিদা ও সরবরাহে এখন গ্যাসের ঘাটতি দৈনিক এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এ পরিমাণ ঘাটতি গ্যাস স্থানীয়ভাবে যেমন জোগান দেওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি নেই আমদানি করার মতো অর্থ।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় পরিসরে গ্যাসের জোগান বাড়াতে হলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। কারণ ওই সময়ে নতুন চুক্তির আওতায় দেশে এলএনজি আসবে এবং সেই সময়ে টার্মিনালগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে। তখন গ্যাস সরবরাহ সংকট কমে আসবে।

 


আরও খবর



অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তে অনেক রোহিঙ্গা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 |

Image

মিয়ানমারে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে যাতে রোহিঙ্গারা ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে নাফ নদীতে সর্বোচ্চ সতর্ক পাহারায় রয়েছে বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। টেকনাফের দমদমিয়ায় নাফ নদী ও শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তে উন্নতমানের স্পিডবোট দিয়ে জালিয়ার দ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের-২ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, নাফ নদী অতিক্রম করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কোনো লোকজন যাতে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। টেকনাফের সীমান্ত পয়েন্টে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বাহিনীর সাথে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের কারণে দেশটির রোহিঙ্গারা নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করছে। তবে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের মাঝি আবু বক্কর বলেন, মিয়ানমারের সাগরের তীরে হাজার হাজার রোহিঙ্গার অবস্থান দেখা গেছে। কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা দেখা যায়। সেসব নৌকায় করে এই পারে ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। কিন্তু বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের ভয়ে তারা অনুপ্রবেশ করতে পারছে না।

স্থানীয় জেলে কবির আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের এলাকায় আরাকান আর্মি ঢুকে পড়েছে। এতে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তাদের অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। তাই কয়েক হাজার রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বিলে, সাগরের তীরে আশ্রয় নিয়েছে। তারা যেকোনো মুহূর্তে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করবে কি না জানি না। রাতের বেলায় তারা শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে পারে। তবে তাদের ঠেকিয়ে রাখছে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।

এদিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে টেকনাফ সীমান্তের হ্নীলা, সাবরাং ও সেন্টমার্টিনের নাফ নদীর বিপরীতে মিয়ানমার সীমান্তে। প্রতিদিনই এসব এলাকায় গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

মিয়ানমারের মংডুর সিকদার পাড়ার রোহিঙ্গা সেলিম বলেন, আমাদের তিনটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাণে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে চরে আশ্রয় নিয়েছি। সাগরে বাংলাদেশের বাহিনী বেশি থাকায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করব সেখানে ঢোকার। না হলে বাঁচতে পারব না।

তিনি বলেন, হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারছে। আমাদের কয়েকটি গ্রাম থেকে গোলাগুলি হচ্ছে। গ্রামগুলো হচ্ছে মংডু কাদিরবিল, নুরুল্যাহ পাড়া, বাগগুনা, নর বাইন্যা, থানাশো। এসব এলাকা থেকে রোহিঙ্গা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জলসীমাজুড়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক স্পিড বোট দিয়ে টহল দেয়া হয়। কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ঢুকতে দেয়া হবে না।


আরও খবর



বেচি দই কিনি বই, অতঃপর একুশে পদক

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪ |

Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক পাচ্ছেন একুশে পদক। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফুল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন তার বাড়িতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুভেচ্ছা-ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছে তিনি। পেশায় দই বিক্রেতা জিয়াউল হক, দই বিক্রির টাকা পরিবারের খরচ মেটানোর পর যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে তিনি বই কেনেন। সেই বই তুলে দেন অসহায়-দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে। এভাবেই তিনি হয়ে উঠলেন সাদা মনের মানুষ, পরোপকারী ও একজন সমাজসেবক। এসব কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি পাচ্ছে একুশে পদক। গত মঙ্গলবার সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আইরীন ফারজানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ১৫ নম্বরে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জিয়াউল হক। তিনি সমাজসেবায় অবদান রাখায় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

জিয়াউল হক (৯১) ১৯৩৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার চামামুশরীভূজা গ্রামের এক অতিদরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একুশে পদক পাওয়ার জন্য মনোনীত হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

সৎ মানুষ ও ভালো দই বিক্রেতা হিসেবে তার নাম জেলা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। তিনি প্রথমত অভাবগ্রস্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করেন। বছর শেষে সেই বই ফেরত নিয়ে আসতেন। পরে তিনি স্থানীয় হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় পাঠ্যবই, পবিত্র কোরআন মাজিদ ও এতিমদের পোশাক দেয়া শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে আসছেন। জেলা ছাড়া রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরও বই দেন তিনি। যেসব ছাত্রছাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বই নিতে আসেন তাদের যাতায়াত খরচও দিয়ে থাকেন জিয়াউল হক। ঈদে গরিব দুঃখীর মধ্যে কাপড় বিতরণ এবং প্রচ- শীতে দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

জিয়াউল হক বলেন, তার বাবা ছিলেন গ্রামের গোয়াল। ষষ্ট শ্রেণিতে পড়ার সময় টাকার অভাবে বই কিনে দিতে পারেননি। এ কারণে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে শুরু করেন দই বিক্রি।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে মাথায় করে দই বিক্রি করি। বেচি দই কিনি বই স্লোগানে ১৯৬৯ সালে ভোলাহাট উপজেলার মুশরিভূজা গ্রামে নিজের নামে জিয়াউল হক সাধারণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করি। তিনি বলেন, এরপর থেকেই শুরু হয় আমার সমাজসেবা। এলাকার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই প্রদান, গ্রামের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, গরীব-দুঃখীদের বাড়ি নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, দুস্থদের খাদ্য সহায়তা, গরীব শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে বেতন পরিশোধসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কাজে আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমার মাধ্যমে শত শত মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, আমি কোনোদিন ভাবতে পারিনি, একুশে পদক পাবো। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। জিয়াউলের ছেলে মহব্বত আলী বলেন, বাবা একুশে পদকের জন্য মনোনীত করায় আমি খুব খুশি। আমি আমার বাবার অবর্তমানে এই পাঠাগারের হাল ধরব এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজ্জামেল হক চুটু বলেন, জিয়াউলকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করায় আমরা গর্বিত।

উল্লেখ্য, রহনপুর স্কাউট দল, ভোলাহাট প্রেস ক্লাব, খুলনা পিপি কলেজ, জেলা প্রশাসন (১৯৯৩ সালে), চ্যানেল আই (২০০৫), নবাবগঞ্জ নয়াগোলা পাঠাগার, ২০০১ সালে ইটিভি ও ২০০৮ সালে ফ্রিডম ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সর্বশেষ ইউনিলিভার বাংলাদেশ ২০০৬ সালে তাকে সাদা মনের মানুষ পদকে ভূষিত করে।


আরও খবর