Logo
শিরোনাম

সুফি কাদের বুঝায় ?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুলাই ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম,সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, ও গবষেক :


সুফিবাদকে আরবিতে তাসাউফ বলা হয়। সুফি বলতে কাদের বুঝায় তথ্য উৎঘাটন করতে গিয়ে উইকিপিডিয়ায় পাওয়া যায়, সুফিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সেটা এক ভিন্ন ধরনের সন্ন্যাসবাদ। বিশেষত জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা ঐকান্তিক চর্চার মাধ্যমেই ধর্মপালন। যা তারা নামাজের পরে করে থাকে। উমাইয়া খিলাফতের (৬৬১-৭৫০) জাগতিক দুর্বলতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ, মুসলিমের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য হারে এই মতবাদের অনুসারী লাভ করে।

 

দুনিয়ার সকল দেশেই সুফিবাদের প্রসার হয়েছে ব্যাপক ভাবে। আজো তার সমৃদ্ধি চলছে। কিন্তু তাৎপর্যের ব্যাপার হল সুফিবাদের সুফি শব্দের মূল ভাবার্থ কি? তা নিয়ে কথা হয়েছে বিস্তর কিন্তু মনের মত সমাধান পাওয়া যায়নি।

বুঝায়

সুফি শব্দের চলমান ব্যাখ্যা

শব্দটির আভিধানিক উৎপত্তি নেওয়া হয়েছে সাফা থেকে। যার আরবি অর্থ বিশুদ্ধতা বা পবিত্রতা বা শুদ্ধতা বা পাপশূন্যতা। হৃদয়কে পাপশূন্য করার জন্য তাজকিয়া তথা আত্মশুদ্ধির দরকার হয়। আত্মশুদ্ধির জন্য জিকির অপরিহার্য। এই ব্যাখ্যাটি আধুনিক যুগে বিশ্লেষণ করে বানানো এবং এটাকেই সঠিক মনে করে সুফিবাদ এগুচ্ছে। ফলে উইকিপিডিয়াতেও এটাকেই মূল কথা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

সুফি শব্দের প্রকৃত ব্যাখ্যা
সুফি শব্দটি খাঁটি আরবি। যার অর্থ হল পশম কিন্তু সুফি শব্দ সাধারণ পশমের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না। একেবারেয় খাটি বিশুদ্ধ পশমকে বুঝিয়ে থাকে। তাই অনেকে এই শব্দ দিয়ে সুফিবাদকে মূল্যায়িত করে থাকে। তারা এই শব্দটির মর্মার্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলে থাকেন, সুফি শব্দটি দিয়ে পশমের গুন বুঝিয়ে থাকে এবং সুফিরাও গুনের কারণে পরিচিত। তাই সুফি মানে বিশুদ্ধ সাধক আর সুফি সাধনা মানে বিশুদ্ধতার সাধনা।

 

ধারণাগত ব্যাখ্যা
আবার কেউ কেউ সুফি শব্দটিকে আরবি সফা শব্দের সঙ্গে জুড়ে দেন। রাসুল (সা) এর সাথীদের মধ্যে কেউ কাছাকাছি থাকতেন। এমন সাহাবীদের আহল-উসসুফফা বলা হত। অনেকেই ব্যাখ্যা দেন রাসুল (সা) এর সাথীদের মত চরিত্র-জীবন যাদের প্রকৃতপক্ষে তারাই সুফি বলে মতামত দিয়ে থাকেন। সুফি বলতে কা

দের বুঝায়

দার্শনিক আল-বেরুনীর ব্যাখ্যা
সুফিবাদ সুফি সম্পর্কে পরিষ্কার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাটি দিয়েছেন, জগৎবিখ্যাত গণিতজ্ঞ ইসলামী দার্শনিক আবু রায়হান আর বিরুনী (৯৭৩-১০৫০) তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ আল কিতাবুল হিন্দ গ্রন্থে। সুফিবাদের প্রচার প্রসার যখন মধ্যগগনে ইসলামের সেই সোনালী যুগে জগৎবিখ্যাত দার্শনিক আল বেরুনীর জন্ম। চলুন সরাসরি তাঁর কিতাব থেকেই বিষয়টি দেখি।

 

আল বেরুনীর ভাষায়, সুফি শব্দটি এসেছে ইউনানি (গ্রীক) ভাষা হতে। কেননা গ্রীক ভাষায় সুফ শব্দের অর্থ প্রজ্ঞা (সুফিয়া) আর গ্রীক ভাষায় ফিলোসফার philosopher (দার্শনিক) কে পিলোসোপা (philosophos-ফিলোসোপস) তথা প্রজ্ঞাবান বলা হয়। দর্শন, দার্শনিক শব্দগুলো গ্রীকে দেশে খুবই সম্মানিত ব্যবহৃত শব্দ। তাই মুসলিম শাসনামলেও লোকেরা গ্রীক দার্শনিকদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিতভাবে নিজেরাও সুফি তথা প্রজ্ঞাবান তথা দার্শনিক শব্দটিকে গ্রহণ করেছেন।

আর বেরুনীর মতে সুফি শব্দকে বিশুদ্ধ পশমের সাথে মিলিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটা আবু ফাতহ আল কুস্তানির ব্যাখ্যা। সুফি শব্দটি যে গ্রীক থেকে এসেছে ব্যাপারে তিনি শক্ত অবস্থান নিয়েছেন এবং অন্য কোন ব্যাখ্যা তিনি মানতে রাজী নন। তথ্য সূত্র ভারততত্ত্ব-৩৭

 

উল্লেখ্য, উমাইয়া শাসন পরবর্তী আব্বাসীয় শাসনামলে প্রচুর গ্রীক সাহিত্য আরবিতে অনুবাদ হয়। সে থেকে দর্শন, গণিত সহ বহু-ধরনের বিষয়ের সাথে আরবিদের পরিচয় ঘটে। অধিকন্তু সে সময়ের মুসলমানেরা কোরআন-হাদিস-ফিকাহের বাহিরেও জ্ঞান অর্জনের নিমিত্তে পাগল পারা ছিল। তাদের অনেকেই গ্রীকের বৈষয়িক জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। অন্যদিকে এই সময়টাই ছিল সুফিবাদের সূচনা যুগ। তার প্রায় আড়াই বছর পরেই আল বেরুনীর জন্ম। ফলে তিনি সুফিবাদের জন্ম, উত্থান সম্পর্কে বর্তমানের অনেকের চেয়ে বেশী জানতেন। তাই সুফি অর্থ প্রজ্ঞাবান কিংবা দার্শনিক আল বেরুনীর এই কথাটিই বেশী যুক্তিযুক্ত।


আরও খবর



সিলেট-সুনামগঞ্জে ফের বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বৃষ্টিপাত কমায় গত কিছুদিন ধরে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি ক্রমাগতভাবে কমে বন্যা পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। কিন্তু আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ জায়গায় ভারী বর্ষণে সিলেট-সুনামগঞ্জে ফের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির সমতল বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী এবং আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে এ সময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী সমূহের পানিসমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ ছাড়া আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন-সুরমা, সারিগোয়াইন নদীর পানিসমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কতিপয় নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে, শনিবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপ বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বিহার, কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

এ অবস্থায় রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।

পাউবোর এক বার্তায় বলা হয়েছে- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সামগ্রিকভাবে কমছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী সাতদিন মাঝারি থেকে ভারী এবং কখনো কখনো ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে, এসময়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীর পানি বাড়তে পারে। চলতি মাসের শেষভাগ থেকে আগামী মাসের প্রথমভাগ নাগাদ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলোর (সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন-সুরমা, সারিগোয়াইন ইত্যাদি) পানি দ্রুত বেড়ে নিম্নাঞ্চলে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি কমছে ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। আগামী তিনদিন পর্যন্ত পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। পরবর্তীতে আগামী জুলাই মাসের শুরু থেকে পানি বাড়তে পারে এবং জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ ভাগ নাগাদ সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এ সময় দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে এ অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীর পানি সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে।

গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে। আগামী সাতদিন, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকা অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, আগামী সাতদিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে এসময়ে এ অঞ্চলের নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে।

 


আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান মারা গেছেন

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস রিপোর্ট:


মানবতাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাসহ ৬০ জনকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। 



আজ সোমবার (২৪ জুন) ভোরে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।



জল্লাদ শাহজাহানের বোন ফিরোজা বেগম সাংবাদিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাভারে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। 


ফিরোজা বলেন, আমরা খবর পেয়ে মরদেহ গ্রহণ করতে দুপুরে হাসপাতালে পৌঁছেছি। হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নরসিংদী পলাশের ইছাখালীতে নিয়ে আসা হবে। পরে সেখানে তার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।


নিহতের স্বজনরা জানান, সাভারের হেমায়েতপুরের কাশেম আলীর একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন শাহজাহান। সেখানে আজ ভোরে তার বুকে ব্যথা ওঠে। পরে বাড়ির মালিক রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে এলে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজীব দে জানান, ভোর ৫টার দিকে জল্লাদ শাহজাহানকে হেমায়েতপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার বাড়ির মালিক। 



বুকে ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় শাহজাহানকে। হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।



বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয়জন ঘাতক, ছয়জন যুদ্ধাপরাধী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, জঙ্গি নেতা বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানী, শারমীন রীমা হত্যার আসামি খুকু মনির, ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসানসহ আলোচিত ২৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছেন শাহজাহান। ২০০১ সাল থেকে তিনি ফাঁসি কার্যকর শুরু করেন।


শাহজাহান ভূঁইয়া নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের বাসিন্দা। নানা অপরাধে গ্রেপ্তারের পর শাহজাহান ১৯৯১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে যান। ২০২৩ সালের ১৮ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। 


৭৪ বছর বয়সী শাহজাহান কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়ার পর এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস সংসারের পর তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।



আরও খবর



২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পাস হচ্ছে আজ

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:



‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ স্লোগান নিয়ে এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। 


দেশের ৫৩তম এই বাজেটের আকার বাড়ছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আজ পাস হচ্ছে প্রস্তাবিত এই বাজেট।



রোববার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। পরে তা সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হবে।


৬ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে এটি।


 শনিবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থবিল-২০২৪ পাস হয়েছে। বিলটি পাসের আগে বিলের উপর সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ বহাল রাখা হয়।


 এছাড়া ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। এতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭৫ ভাগ এবং মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিলের উপর জনমত বাছাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় সংসদে। সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকসুদের হার বাজারভিত্তিক ও নীতি সুদহার প্রবর্তন করা হয়েছে। 



ডলারের দাম স্বাভাবিক রাখতে ক্রলিংপেগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা হবে।


তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সব সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ১১টি পদক্ষেপ পূরণে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।



 তিনি আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হলে ২০৪১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ ডলার। দারিদ্র্য শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। খাদ্য নিরাপত্তায় টিসিবির মাধ্যমে কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা, ওএমস কার্যক্রম চালু রাখা ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।


সংসদে পাস হওয়া বিলে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থ বছরের জন্য আর্থিক বিধান, বিদ্যমান আইন সংশোধনীসহ কর প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করা হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক সংসদ সদস্য (এমপি) নতুন নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। 



তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমপিদের গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া সম্পদশালীদের কোম্পানির কাজে ব্যবহৃত গাড়ির পরিবেশ সারচার্জ মওকুফ করা হয়েছে। 



এছাড়া রিটার্নে আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি আয় দেখানো হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ট্যাক্স ফাইল অডিটে ফেলবে না।


আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




বিশ্বের ইতিহাসে উষ্ণতম বছর ২০২৪

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিশ্বে চলতি বছরের জুন ছিল সবচেয়ে উত্তপ্ত মাস। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু বিষয়ক পর্যবেক্ষক এ কথা বলেছেন। বিশ্বে ২০২৩ সালের জুনে যে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত মাসে তা ভেঙে গেছে।

কিছু বিজ্ঞানী বলছেন, প্রায় প্রতি মাসে অস্বাভাবিক মাত্রায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ২০২৪ হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর।
কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস) বলেছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে গত ১৩ মাসের প্রত্যেকটিতে তাপমাত্রা পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের পরিচালক কার্লো বুনটেম্পো বলেছেন, এটি আমাদের জলবায়ুর ব্যাপক ও অব্যাহত পরিবর্তনকেই তুলে ধরে।

তিনি আরো বলেছেন, বিশ্ব উষ্ণাতার জন্যে দায়ি গ্যাস পরিবেশে যতদিন মানুষ সংযুক্ত করতে থাকবে ততদিন এটিই অনিবার্য।

সিথ্রিএসের একজন সিনিয়র বিজ্ঞানী জুলিয়েন নিকোলাস বলেছেন, রেকর্ড ভাঙা এ তাপমাত্রার সাথে যুক্ত হয়েছে জলবায়ুর এল নিনো প্রভাব যা বিশ্ব উষ্ণতাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, নিকোলাস বলেছেন, বিশ্বে লা নিনোর প্রভাবও শুরু হতে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আবহাওয়া ঠাণ্ডা হয়।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি আগামী কয়েকমাসে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে।

তবে বার্কেলি আর্থের গবেষক বিজ্ঞানী জেক হসফাদার বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে ২০২৪। আমি এখন অনুমান করছি যে উষ্ণতম বছর হওয়ার দিক থেকে ২০২৪ সাল ২০২৩-কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৫ শতাংশ।


আরও খবর



হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লড়াই চলবে : নেতানিয়াহু

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:


সরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, হামাসের সঙ্গে ‘আংশিক’ যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য তার দেশ প্রস্তুত। 



হামাস সব পণবন্দিকে মুক্তি না দিলেও কিছুসংখ্যক পণবন্দির মুক্তির বিনিময়ে হলেও তিনি গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি করতে আগ্রহী। গতকাল রোববার (২৩ জুন) ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এই কথা জানান।



নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো পণবন্দিদের হামাসের কবল থেকে ফিরিয়ে আনা এবং গাজায় হামাসকে শাসন ব্যবস্থা থেকে উৎখাত করা।’ তিনি আরও জানান, হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজী নন। 



যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের পণবন্দি প্রত্যাবর্তন চুক্তি হলে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের পথ তৈরি হবে।



এদিকে, গত শনিবার (২ জুন) থেকে চরম মাত্রায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে ইসরায়েলের সাধারণ জনগণ।  দফায় দফায় ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে হাজার হাজার ইসরায়েলি নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করছে। তাদের দাবি দ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এবং বন্দিদের ফেরত আনার জন্য কার্যকর চুক্তির বাস্তবায়ন করা।


গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ঘোষণা করেছিলেন।  সেখানে উল্লেখ্য করা হয়, ছয় সপ্তাহের জন্য গাজায় যুদ্ধ বিরতির পাশাপাশি হামাসের কাছে থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের ‍মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হবে। এই চুক্তি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার পথ সুগম করবে।


যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা হামাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।



ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু চ্যানেল-১৪ কে আরও বলেন, ‘রাফায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান প্রায় শেষ। হামাসের বিরুদ্ধেও যুদ্ধের তীব্র পর্যায় শেষের পথে। এর অর্থ এই নয় যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে, আমরা রাফায় ভয়াবহ সামরিক অভিযানের সমাপ্তি টানছি। 



 গাজা থেকে হামাসকে উৎখাত করে আমরা স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের নিয়ে একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠন করতে চাই যাতে গাজায় মানবিক সাহায্যপণ্য সরবরাহ বজায় থাকে এবং পরে বেসামরিক জনগণের জন্য সুষ্ঠু ও সুন্দর বাসস্থান তৈরি করা যায়।’



আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধে ৩৭ হাজার ৫৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ প্রতিদিনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। ভেঙে পেড়েছে খাদ্য সরবরাহ ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের কাজ।



আরও খবর