Logo
শিরোনাম

টানা তিন দিন বৃষ্টির আশঙ্কা

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

আগামী তিন দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে টানা তিন দিন সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির খবর জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি জানায়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়াগায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে,পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

বর্ধিত ৫ (পাঁচ) দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।


আরও খবর



র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

বিডি টু ডে নিউজ:

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।


বৃহস্পতিবার (৩০ মে) এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন।


জানা গেছে, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক রুহুল হক মামলার প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে সংস্থাটির পক্ষে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন।


 পরে শুনানি শেষে আদালত উত্তম কুমার বিশ্বাসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।


উত্তম কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রীর নামে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে জানিয়ে আবেদনে বলা হয়, উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়, যা বর্তমানেও চলমান।



 দুদকের নোটিশ পাওয়ার পরপরই তিনি অসংখ্য হিসাব থেকে সব টাকা-পয়সা তুলে হিসাব বন্ধ করছেন, যা সন্দেহজনক। তিনি অনুসন্ধানের শুরু থেকে তেমন কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি, বরং বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে অনুসন্ধানকার্য ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং সময় নষ্ট করছেন।


এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুসন্ধানকালে উত্তম কুমার সব হিসাব বন্ধ করে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ জন্য তার বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞা একান্ত প্রয়োজন।


এদিন দুদকের পক্ষের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীরের কাছে আদালত জানতে উত্তম কুমার এখনো চাকরিরত কি-না। পরে আদালতকে জানানো হয় উত্তম কুমার এখনো কর্মরত। 


এরপর তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত।


আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমালে ২০ জেলায় ক্ষতি ৭ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

বিডি টু ডে  রিপোর্ট:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশের ২০ জেলায় ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


রোববার দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমালের সার্বিক বিষয় নিয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২৬ মে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানে। এর প্রভাবে উপকূলীয় বেশকিছু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। যার ফলে এসব এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়।



 এ ছাড়া ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। বেশকিছু রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মন্ত্রণালয়গুলো থেকে আগামী ৯ জুনের মধ্যে সব হিসাব পেয়ে জানানো হবে।


তিনি বলেন, আমরা গত কয়েকদিন থেকেই দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। সরকারের সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্যোগপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। 


এখন দুর্যোগ পরবর্তী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানার পরদিন আমি ব্যক্তিগতভাবে উপকূলীয় জেলার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে স্থানীয়দের খোঁজখবর নিয়েছি।

ঘূর্ণিঝড়ে পায়রা বন্দরের পাশে পায়রা নদীর চলমান ড্রেজিং কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আশপাশ থেকে পলি এসে নদীর ড্রেজিং কাজ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একইভাবে অনেক দিনের পুরোনো বেড়িবাঁধগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আধুনিক বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত ১৯ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে ত্রাণকার্যে নগদ পাঁচ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, পাঁচ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ৯ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন, গো-খাদ্যের জন্য দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং শিশু খাদ্য কেনার জন্য দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভাগ, দপ্তর-সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ আওয়ামী লীগের এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

 ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা খুলনার কয়রা, ভোলার চরফ্যাশন এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী পরিদর্শন করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও জরুরি সেবা পৌঁছানো নিশ্চিত করেছি।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় রেমাল এলাকা পরিদর্শনের জন্য পটুয়াখালীর কলাপাড়া পরিদর্শন করেন এবং ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।


তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের সাহায্যে সিলেট জেলায় ২০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৫০০ মে. টন চাল, ১০ লাখ টাকার গো-খাদ্য এবং ১০ লাখ টাকার শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।



 অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলায় ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য এবং ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। একইভাবে দিনাজপুর জেলায় ১৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ এবং ৩ লাখ টাকার শুকনো ও অন্যান্য খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে।


আরও খবর



বাড়তে পারে মেট্রোরেলের ভাড়া

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ |

Image

বিডি ডিজিটাল ডেস্ক:বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সেখানে ভ্যাট মওকুফের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

৩০ জুনের মধ্যে মেট্রোরেলের টিকিটে ভ্যাট মওকুফের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না জানালে ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত হবে। তাহলে মেট্রোরেলের ভাড়া বেড়ে যেতে পারে। 

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। গত বছর থেকে পুরোদমে মতিঝিল পর্যন্ত চলছে মেট্রোরেল। বর্তমানে প্রতিদিন কমবেশি আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহন করে এই নগর পরিবহনব্যবস্থা। 

২০২৩ সালের শুরু থেকেই মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ওই বছরের ২২ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শওকত আলী ভ্যাট আরোপের আহ্বান জানিয়ে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (মেট্রোরেল কোম্পানি) চিঠি দেন। 

পরে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এনবিআরের একাধিক বৈঠকও হয়। তবে ভ্যাট আরোপ থেকে এনবিআর শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসে। ২০২৩ সালের মে মাসে এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ভ্যাট মওকুফ থাকবে। 

মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর বর্তমানে ভ্যাট মওকুফ আছে, যার সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত। এরপর ভ্যাট আরোপ না করার জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করেছিল ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু এনবিআর এই মওকুফ সুবিধা আর অব্যাহত রাখতে আগ্রহী নয়। 

কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুসারে সব ধরনের করছাড় কমাতে হবে। ফলে এনবিআর ভ্যাট মওকুফে অপারগতা প্রকাশ করে। গত ৪ এপ্রিল এনবিআরের ভ্যাট বিভাগ আদেশ জারি করে জানায়, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মেট্রোরেলের টিকিটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসবে। 

ভ্যাট বিভাগের আদেশে বলা হয়, রূপকল্প-২০৪১ অনুযায়ী উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে দেশে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে। সে জন্য সরকারকে প্রতিনিয়ত অর্থের জোগান দিতে হচ্ছে, যা মূলত আহরণ করা হচ্ছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে।

 উন্নয়নের বিপুল কর্মযজ্ঞে অর্থের জোগান অব্যাহত রাখাসহ দেশের এলডিসি উত্তরণ এবং কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রদত্ত অব্যাহতি- সুবিধা ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।


আরও খবর



মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যাচ্ছে না তৃণমূল, মমতার স্পষ্ট বার্তা

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ |

Image



বিডি ডিজিটাল ডেস্ক:



ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।


লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে গতকাল শনিবার বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর তিনি বলেন, রোববার (৯ জুন) মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেবে না।



বৈঠকে মমতা বলেন, ‘আমরা এখনো আমন্ত্রণ পাইনি। আমন্ত্রণ পেলেও আমরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেব না।’


মমতা আরও বলেন, এই সরকার অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিকভাবে গঠিত হচ্ছে। তাই তারা এই সরকারকে শুভকামনা জানাতে পারেন না। তবে তারা দেশ ও দেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।



এদিকে টানা তৃতীয় বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে বসছেন নরেন্দ্র মোদি। আজ রবিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। এর মাধ্যমে কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহেরুর পর ভারতে টানা তৃতীয় বার প্রধানমন্ত্রী হবেন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি। একই দিন শপথ নেবেন তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও।


এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কার্যত সাজ সাজ রব দিল্লি জুড়ে। রাজধানীতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত দেশের রাষ্ট্র নেতারা।


 অন্যরা হলেন—শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংঘে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, সিসিলিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আফিফ, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবীন্দ কুমার জুগনাথ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচন্ড এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সেরিং তোবগে। এছাড়াও এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ৮ হাজারের বেশি বিশিষ্টজনকে।


টানা দুই মেয়াদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতায় ছিল মোদির দল বিজেপি। তবে এবারের নির্বাচনে তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। 


তাই জোট শরিকদের ওপর ভর করেই তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মোদি। গত শুক্রবার এনডিএ জোটের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেন। এরপরই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠনের জন্য মোদিকে আমন্ত্রণ জানান।


আরও খবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইইউ

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা: এবার তারিখটাও বদলে দিলো বিএনপি!

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ |

Image


 

আসাদ জামান:


রাজনীতিতে মিথ্যার চর্চা একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। মিথ্যা না বললে রাজনীতি হয় না। কিন্তু যে মিথ্যা জাতির ইতিহাসকে বদলে দেয়, সে মিথ্যা যে পক্ষ থেকেই হোক, তার প্রতিবাদ হওয়া দরকার। 


এই প্রতিবাদ করার জন্য কোনো দল বা সংগঠনের সক্রিয়া সদস্য বা কর্মী হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল ইতিহাসারে প্রতি দায়বদ্ধতা, সত্যের সারথি হওয়া।



বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে দলটির মহাসচিবের নামে যে ‘বাণী’ পাঠানো হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে দেশের মানুষ যখন দিশেহারা ঠিক সেই মুহূর্তে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছে।’


এতদিন শুধু জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে আসছিল বিএনপি। কিন্তু তারা কোনোদিন বলেনি, জিয়া এই ঘোষণাটা ২৬ মার্চ দিয়েছিলেন। জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করলেও ঘোষণার তারিখটা সব সময় ২৭ মার্চ হিসেবেই উল্লেখ করেছে বিএনপি।


 কখনো কখনো কৌশলে এড়িয়ে গেছে। তবে তাদের নিজেদের লেখা বই-পুস্তক দলিল-দস্তাবেজে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার তারিখ ২৭ মার্চ-ই উল্লেখ আছে।


প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’ বইয়ের ২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে— ‘‘সম্প্রতি একাত্তর সালের ২৫ মার্চের ঘটনাবলি নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল সে ব্যাপারে শমসের মুবিন চৌধুরী বীর বিক্রম জানান: সত্যি বলতে কী, ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতরকেন্দ্র থেকে দেওয়া মেজর জিয়ার সেই বিখ্যাত স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে নিজের ভাষ্য দিতে গিয়ে প্রত্যেকেই আসল সত্য থেকে দূরে সরে গেছেন। 


এই সাহসী লোকটির অধীনে চট্টগ্রামে লড়াই করাকালে আমার স্বকর্ণে তা (স্বাধীনতার ঘোষণা) শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— মেজর জিয়ার নির্দেশে ২৮ মার্চ সারাদিন ধরে সেই কেন্দ্র থেকেই আমাকে তার ঐতিহাসিক ঘোষণাটি বার বার প্রচার করতে হয়েছিল। আমার সঙ্গে ছিলেন সুবেদ আলী ভূঁইয়া।


আওয়ামী লীগ নেতা হান্নানের সুনির্দিষ্ট অনুরোধে মেজর জিয়া তার ৩০ মার্চ দেওয়া দ্বিতীয় ভাষণে শেখ মুজিবের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।… মেজর জিয়ার ২৭ মার্চ ঘোষণাটা শেষ হয়েছিল এই কথাটি দিয়ে— ‘Under the circumstances I declare myself provisional head of the government of Bangladesh. Joy Bangla.’ (বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি নিজেকে বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রধান হিসেবে ঘোষণা করছি, জয়বাংলা।)’’



রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়ার যে সরকারি জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশিত হয়, সেখানে লেখা ছিল— ‘১৯৭০ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে জিয়াকে বদলি করা হয়। এই রেজিমেন্টে নিয়োজিত থাকাকালেই তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সাড়ে সাত কোটি স্বাধীনতাকামী বাঙালির পক্ষে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’ (সূত্র: দ্য বাংলাদেশ অবজার্ভার, ২২ এপ্রিল ১৯৭৭)


এ ছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থপতি বেলাল মোহাম্মদ ২০১০ সালের ২১ মার্চ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার প্রদীপ চৌধুরীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ হয় ২০১০ সালের ২৮ মার্চ।



ওই সাক্ষাৎকারে বেলাল মোহাম্মদ বলেন, “২৬ মার্চ এদিক-সেদিক টেলিফোন করছি। টেলিফোন দেওয়ার পর চন্দনপুরের তাহের সোবাহান নামে আমার এক বন্ধু ছিল, তিনি বললেন, ‘একজন উচ্চ পদের মেজরের সন্ধান আমি জানি, তবে নাম জানি না। তিনি পটিয়াতে আছেন। তিনি হেডকোয়ার্টারের বাইরে এসেছিলেন বাবর ও সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাসের জন্য। তিনি আজ রাতে, মানে ২৬ শে মার্চ দিবাগত রাতে সিচুয়েশন অবজার্ভ করার জন্য পটিয়াতে আছেন।”


‘আমাকে উনি অ্যাডভাইজ করলেন, ২৭ তারিখ যদি পটিয়াতে যেতে পারেন নিশ্চয়ই ওনাকে ওখানে পাবেন। বললেন, যেহেতু বাইরে আছেন, নিশ্চয়ই উনি বঙ্গবন্ধুর সাপোর্টার হবেন। আমার আরেক বন্ধুর সাহায্যে আমরা একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে পরদিন সকালে রওনা হয়েছি পটিয়ায়। আর আমার সহকর্মীদের বলে দিয়েছি, কালুরঘাটের দিকে আস্তে আস্তে যাবে। আমি পটিয়া থেকে আসার পর প্রোগ্রাম শুরু হবে।’


“পটিয়ায় পৌঁছেই দেখা গেল আর্মি গিজ গিজ করছে।… এখানে যে আর্মি অফিসার আছেন, তার নাম মেজর জিয়াউর রহমান। তার সঙ্গে দেখা হলো। তাকে বললাম, ‘আপনি তো এখানে ব্রডকাস্ট শুনেছেন।’ তিনি বললেন, ‘আপনারা যে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছেন, তা শুনেছি এবং খুশি হয়েছি।’”


‘আমি বললাম, আপনি যদি দয়া করে আপনার এই ছাউনিটা এখান থেকে সরিয়ে কালুরঘাটে নিয়ে যেতেন, তাহলে বাড়িটা প্রটেক্ট হবে। আমরাও ওখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারব। স্থায়ীভাবে না থাকতে পারলে কোনো কমিটমেন্ট করা যাবে না। ঠিক টাইমে রেডিওতে প্রোগ্রাম দেওয়া অ্যাডভেঞ্চার নয়। বেশ কিছু লোক লাগে। সব রকমের পয়েন্টে লোক বসে থাকা লাগে।’



“তারপর উনি আর দেরি করেন নাই। সৈন্যদের রওনা করিয়ে দিলেন। নিজেও একটা জিপে করে রওনা হলেন। আমাদের গাড়িটা ওনার গাড়ির পেছনে পেছনে চলল। পথে যেখানেই উনি বেশি মানুষের জটলা দেখলেন, যারা কর্মস্থল ছেড়ে পোটলা-পুটলি নিয়ে চলে যাচ্ছে, সেখানে তিনি দাঁড়িয়ে একটা বক্তৃতা দিলেন।


 ‘আপনারা যার যার কাজের জায়গায় চলে যান। ইনশাল্লাহ দুয়েক দিনের মধ্যে আমরা পাঞ্জাবিদের খতম করে দেবো। আর উর্দু ভাষায় যারা কথা বলে তারা সব আমাদের দুশমন। তাদেরকে শেষ করে দেন।’”


“এটাই ছিল ওনার বক্তব্য। এই দশ জায়গায় থেমে থেমে যাওয়ার কারণে আমাদের কালুরঘাটে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।… আমার সহকর্মী যারা উপস্থিত ছিল, তারা প্রোগ্রাম শুরু করল। একসময় জিয়াউর রহমান ও আমি একটা রুমে বসেছি। 


আমার এক সহকর্মী আমাকে কিছু কাগজপত্র দেখাচ্ছে। আমি কী মনে করে বললাম, ‘আচ্ছা মেজর সাহেব, এখানে তো আমরা সবাই মাইনর, আপনিই একমাত্র মেজর। আপনি কি নিজের কণ্ঠে কিছু বলবেন? উনি বললেন, ‘হ্যাঁ। সত্যিই তো, কী বলা যায়?’”


‘সঙ্গে সঙ্গে একটা কাগজ এগিয়ে দেওয়া হলো। তার প্রতিটি শব্দ তিনিও উচ্চারণ করেছেন এবং আমিও উচ্চারণ করেছি। এভাবে লেখা শুরু হলো— ‘আই, মেজর জিয়া অন বিহাফ অব আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ডু হেয়ার বাই ডিক্লেয়ার ইন্ডিপেনডেন্স অব বাংলাদেশ।… খোদা হাফেজ জয় বাংলা।’”


‘এই ঘোষণাটির খসড়াও তৈরি হলো আমার সঙ্গে আলাপ করে।… আর আমার সহকর্মীদের বলে দিলাম, কিছুক্ষণের মধ্যে মেজর জিয়া একটা জরুরি ভাষণ দেবেন। এভাবে দুই-তিনবার অ্যাডভান্স অ্যানাউন্সমেন্ট করা হলো। তারপর তিনি নিজের কণ্ঠে ইংরেজিটা পড়েছেন। বাংলাটা আমার সহকর্মী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের কণ্ঠস্বর ভালো, তাকে দিয়ে শুনিয়েছি। এভাবেই হলো। 


কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না, পরিকল্পনা ছিল না এবং এটা স্বাধীনতা ঘোষণা না। এটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে একই কথার পুনরুক্তি করা।’


‘রাষ্ট্রপতি জিয়া কোনোদিন নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি। ২৬ তারিখও বলেননি, উনি সবসময় ২৭ তারিখই (২৭ মার্চ) বলেছেন।… পরবর্তী সময় যে ঘোষক-টোষক বলা হয়েছে, এগুলো তৈরি করা। রাষ্ট্রপতি জিয়া এগুলো ক্লেইম করেননি।’


প্রকৃত অর্থে জিয়াউর রহমান জীবিত অবস্থায় কোনোদিন নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবিই করেননি। তার মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনীতি খালেদা জিয়ার হাতে পড়লে এ বিতর্ক প্রথম শুরু হয়। খালেদা জিয়ার হাত থেকে বিএনপির রাজনীতি যখন তারেক রহমানের হাতে পড়ে, তখন এটা ‘পূর্ণতা’ লাভ করে। তারপরও জিয়ার ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ সংক্রান্ত তারিখ বিএনপি এতদিন ২৭ মার্চ-ই বলে আসছিল। হঠাৎ কেন ২৬ মার্চে নিয়ে এলো?


এর পেছনে কারণটা হলো— জিয়ার ২৭ মার্চের ‘বেতার ঘোষণা’কে স্বাধীনতার ঘোষণা দাবি করলেও ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরে থেকে ২৬ মার্চকেই ‘মহান স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি। এ নিয়ে প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ তো বটেই সুধী এবং সাধারণ মহল থেকেও প্রশ্ন উঠছে— জিয়ার ঘোষণা যদি স্বাধীনতার ঘোষণা হয়, তাহলে স্বাধীনতা দিবস ২৭ মার্চ নয় কেন? 


যে ২৬ মার্চ বিএনপি স্বাধীনতা দিবস পালন করে, সেদিন তো জিয়া ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেননি। তার জীবদ্দশায় কোনো দিন দাবিও করেননি যে তিনি ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং এ ধরনের প্রশ্ন থেকে বাঁচতে বিএনপি হয়তো জিয়ার ঘোষণার তারিখটাই বদলে দিতে চাচ্ছে!


জিয়ার ‘স্বাধীনতার ঘোষণার’ তারিখটা ছাড়াও মির্জা ফখরুলের ওই ‘বাণী’-তে আরেকটি স্পর্শকাতর ভুল বা কৌশলে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস অস্বীকারের ইঙ্গিত রয়েছে। বাণীর চতুর্থ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষে জাতি বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে।’


১৯৭১ সালের বাঙালির যুদ্ধটা ছিল দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিজয়টাও ছিল পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে। কী এক অজানা কারণে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে ‘পাকিস্তান’ শব্দটার উল্লেখ না করে ‘বিদেশি’ শব্দটা ব্যবহার করল বিএনপি— সেটাও গভীর কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে বৈকি! এভাবে ইতিহাসকে অস্বীকার করে বা ভুল ইতিহাস লিখে বিএনপি কী অর্জন করতে চায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। 


অবশ্য বড় দলগুলোর চেয়ারম্যান-মহাসচিব বা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামে পাঠানো বিবৃতি/বাণীর খসড়া সাধারণত অফিস স্টাফরা লিখে থাকেন। দফতর সম্পাদক চোখ বুলিয়ে দেন এবং যার নামে পাঠানো হয়, তিনি সচারাচার এসব বিবৃতি/বাণী পড়ে দেখেন না। ফলে এসব বিবৃতি/বাণীতে থাকা ভুলগুলোকে খুব একটা বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবুও কথা থেকে যায়…।



আরও খবর