রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আমৃত্যু ভোগের অধিকার রেখে সম্পত্তি দানের বিধান আনছে সরকার চীনের ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ মডেল অনুসরণ করতে চায় সরকার : শিক্ষামন্ত্রী ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি : সংসদীয় কমিটি বাদপড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করায় যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড গাংনীতে সাংবাদিককে মারধর, দুই শিক্ষক গ্রেফতার দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি : আমির খসরু ডিএসইতে সূচকের পতন, লেনদেন ৫১৮ কোটি টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১২০৮ কোটি টাকা : ভূমিমন্ত্রী
জাতীয় আমৃত্যু ভোগের অধিকার রেখে সম্পত্তি দানের বিধান আনছে সরকার

আমৃত্যু ভোগের অধিকার রেখে সম্পত্তি দানের বিধান আনছে সরকার

পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, সন্তান-নাতি-নাতনী এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আমৃত্যু ভোগাধিকার সংরক্ষণের বিধান যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার।

এ লক্ষ্যে শতবর্ষী ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ সংশোধন করে নতুন দুটি ধারা-সেকশন ১২২এ ও সেকশন ১২২বি-সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। বিলটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য আনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তি তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিকটাত্মীয়কে দান করলেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার আইনগতভাবে সংরক্ষণ করা।

গেজেটে প্রকাশিত বিল অনুযায়ী, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২-তে নতুন সেকশন ১২২এ সংযোজন করা হচ্ছে। এর শিরোনাম হবে ‘গিফট উইথ রিজার্ভেশন অব রাইট অব ইউসুফ্রাক্ট’, যার অর্থ জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান।

নতুন বিধান অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদী তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনীকে এবং সন্তান বা নাতি-নাতনী তাদের পিতা-মাতা বা দাদা-দাদীকে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। একইভাবে স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে এ ধরনের দান করতে পারবেন।

স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের দান কার্যকর করতে হলে রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে দানের ঘোষণা দিতে হবে।

প্রস্তাবিত বিধানে আরও বলা হয়েছে, দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতা মারা গেলে দানকৃত সম্পত্তি গ্রহীতার আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যাবে। তবে এ অবস্থাতেও দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে।

সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এ ধরনের দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই বিধান প্রচলিত অন্য কোনো দান বা মুসলিম আইনের অধীন হেবাসহ বৈধ সম্পত্তি হস্তান্তরের অন্য পদ্ধতির বৈধতাকে সীমিত বা ক্ষুণ্ন করবে না।

আইনে নতুন সেকশন ১২২বি সংযোজনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধারার শিরোনাম ‘রিভোকেশন অর ভেরিয়েশন অব গিফট উইথ রিজার্ভেশন অব রাইট অব ইউসুফ্রাক্ট’। এর মাধ্যমে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান বাতিল বা পরিবর্তনের বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, সেকশন ১২২এ-এর অধীন রেজিস্ট্রিকৃত দান সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় থাকবে। তবে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দান বাতিল বা পরিবর্তন করা যাবে।

আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক কিংবা অন্যান্য প্রকৃত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মতিতে এ ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

কোনো পক্ষের সম্মতি পাওয়া সম্ভব না হলে, যেমন নাবালকত্ব, নিখোঁজ থাকা, মানসিক অসুস্থতা, আইনগত অক্ষমতা অথবা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে জেলা জজের কাছে আবেদন করা যাবে। আবেদন বিবেচনা করে জেলা জজ দান বাতিল বা পরিবর্তনের আদেশ দিতে পারবেন।

তবে এ ধরনের আদেশ দেওয়ার আগে জেলা জজকে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে, প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান পরিচালনা করতে হবে এবং আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২-এ সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না।

রক্তসম্পর্কীয় নিকটাত্মীয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার স্বার্থ সীমিতভাবে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজন থেকেই নতুন এই বিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সকল ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে সরকার বলছে, নতুন বিধান কার্যকর হলেও প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

আইনটি পাস হলে পিতা-মাতা, দাদা-দাদী কিংবা স্বামী-স্ত্রী তাদের নিকটাত্মীয়কে সম্পত্তি দান করার পরও আমৃত্যু সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের একটি সুনির্দিষ্ট আইনগত অধিকার পাবেন বলে প্রস্তাবিত বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

খুঁজুন