বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে আজ

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে আজ

 ‘আত্মহত্যা সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন’ এ প্রতিপাদ্য তুলে ধরার মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আত্মহত্যা সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন’। এর সঙ্গে যুক্ত স্লোগান বা আহ্বান হলো- ‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ও কলঙ্ক ভেঙে কথোপকথন শুরু করা।’

দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য হলেও বিশ্বে প্রতিবছর ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। এসব মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।

দিবসটি সামনে রেখে গতকাল রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ : তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা হয়। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করাকে আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার যে বিধান রাখা আছে, সেটি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক স্টিগমা (কলঙ্ক বা নেতিবাচক ধারণা) আরও বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে না দেখে মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে। এ সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে টেলি-কাউন্সেলিং ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ‘ইটস গুড টু টক’ নামে একটি প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্মহত্যা মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার পাবনা মানসিক হাসপাতালগুলো শক্তিশালীকরণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো তৈরি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনোভাবেই তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সংকটের সময়ে তাকে একা না রেখে পাশে থাকা জরুরি।

ডব্লিউএইচও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, ঝুঁকি কমানো, সামাজিক সহায়তা জোরদার এবং সংকটে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাত ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেন কেউ বাধার মুখে না পড়েন, সে জন্য বর্তমান আইন পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে।

প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশে ২০০৩ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হয়।

দিবসটি পালন করতে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য ফেডারেশন একসঙ্গে কাজ করে।

তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা, সমাজে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করা এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার প্রচলিত আইন পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।

খুঁজুন