সকালের রোদের তেজ তখনও পুরোপুরি বাড়েনি, কিন্তু গোদাগাড়ীর গোলাই গ্রামের কৃষকরা তখন থেকেই মাঠে পুরোদমে কাজে ব্যস্ত।
কেউ চারা রোপণ করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ বেড়ে ওঠা সবজি গাছের পরিচর্যায় সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, ফলে মাঠগুলো ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে।
তারা ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, শিম, ঝিঙা, করলা, পটল, বেগুন ও কাঁচা মরিচসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করছেন। গোলাই গ্রামের কৃষক আলী আসগর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরির পরিবর্তে কৃষিকাজকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজের ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাড়া করা শ্রমিকদের সাথে নিজেও মাঠে কাজ করেন এবং একই সাথে উৎপাদন ও ফসলের অবস্থার ওপর নজর রাখেন।
আলী আসগর জানান, ১০ বিঘা জমিতে সবজি চাষে এ পর্যন্ত তার প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে সব খরচ মিটিয়ে ৪-৫ লাখ টাকা লাভ করতে পারব বলে আশা করছি।’
দেওপাড়া ইউনিয়নের কদমশহর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আমিনও আগাম সবজি চাষ থেকে ভালো লাভের আশা করছেন। এ মৌসুমে তিনি ১ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে চার বিঘা জমিতে লাউ, বেগুন, ঝিঙা ও শিম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই জমি থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।’
আমিন জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের পরামর্শ কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে ফসলে রোগবালাইয়ের আক্রমণ হলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া এবং গাছগুলোকে রক্ষা করা সহজ হয়। তিনি আরও জানান, এ মৌসুমে কৃষকদের সার নিয়ে বড় কোনো সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে না।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন কর্মচাঞ্চল্যের এমন দৃশ্যই চোখে পড়ছে। কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, কোথাও চারা রোপণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও কৃষকরা বেড়ে ওঠা সবজি গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আগাম জাতের কিছু সবজি ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কোনো কোনো এলাকায় চারা গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে, আবার কোথাও পোকামাকড়ের আক্রমণে গাছের পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া কৃষকরা বিভিন্ন ফসলি রোগের ঝুঁকিরও সম্মুখীন হচ্ছেন।
এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, আগাম সবজি চাষ করে লাভের ব্যাপারে কৃষকরা আশাবাদী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের এই প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে সহায়তা প্রদান করছে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮৪১ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাম সবজি চাষ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং আগাম জাতের টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে।’
কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন, ফসলের রোগবালাই শনাক্ত করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন।
বরেন্দ্র অঞ্চলে এ মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৫,০০০ হেক্টর। কৃষকরা ইতিমধ্যে ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন করেছেন, বাকি জমিতে জমি প্রস্তুত ও ফসল পরিচর্যার কাজ চলছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিষয়ক যথাযথ সহায়তা পাওয়ায় কৃষকরা আশা করছেন যে আসন্ন শীতকালীন সবজি মৌসুমে তাদের এই সবুজ ফসলের মাঠ ভালো আয়ের উৎস হয়ে উঠবে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে আগাম সবজি চাষ
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে আগাম সবজি চাষ
সকালের রোদের তেজ তখনও পুরোপুরি বাড়েনি, কিন্তু গোদাগাড়ীর গোলাই গ্রামের কৃষকরা তখন থেকেই মাঠে পুরোদমে কাজে ব্যস্ত। কেউ চারা রোপণ করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ বেড়ে ওঠা সবজি গাছের পরিচর্যায় সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, ফলে মাঠগুলো ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে। তারা ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, শিম, ঝিঙা, করলা, পটল, বেগুন ও কাঁচা মরিচসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করছেন। গোলাই গ্রামের কৃষক আলী আসগর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরির পরিবর্তে কৃষিকাজকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজের ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাড়া করা শ্রমিকদের সাথে নিজেও মাঠে কাজ করেন এবং একই সাথে উৎপাদন ও ফসলের অবস্থার ওপর নজর রাখেন। আলী আসগর জানান, ১০ বিঘা জমিতে সবজি চাষে এ পর্যন্ত তার প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে সব খরচ মিটিয়ে ৪-৫ লাখ টাকা লাভ করতে পারব বলে
আশা করছি।’ দেওপাড়া ইউনিয়নের কদমশহর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আমিনও আগাম সবজি চাষ থেকে ভালো লাভের আশা করছেন। এ মৌসুমে তিনি ১ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে চার বিঘা জমিতে লাউ, বেগুন, ঝিঙা ও শিম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই জমি থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।’ আমিন জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের পরামর্শ কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে ফসলে রোগবালাইয়ের আক্রমণ হলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া এবং গাছগুলোকে রক্ষা করা সহজ হয়। তিনি আরও জানান, এ মৌসুমে কৃষকদের সার নিয়ে বড় কোনো সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন কর্মচাঞ্চল্যের এমন দৃশ্যই চোখে পড়ছে। কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, কোথাও চারা রোপণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও কৃষকরা বেড়ে ওঠা সবজি গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগাম জাতের কিছু সবজি ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কোনো কোনো এলাকায় চারা গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে, আবার কোথাও পোকামাকড়ের আক্রমণে গাছের
পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া কৃষকরা বিভিন্ন ফসলি রোগের ঝুঁকিরও সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, আগাম সবজি চাষ করে লাভের ব্যাপারে কৃষকরা আশাবাদী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের এই প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে সহায়তা প্রদান করছে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮৪১ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাম সবজি চাষ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং আগাম জাতের টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে।’ কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন, ফসলের রোগবালাই শনাক্ত করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন। বরেন্দ্র অঞ্চলে এ মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৫,০০০ হেক্টর। কৃষকরা ইতিমধ্যে ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন করেছেন, বাকি জমিতে জমি প্রস্তুত ও ফসল পরিচর্যার কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিষয়ক যথাযথ সহায়তা পাওয়ায় কৃষকরা আশা করছেন যে আসন্ন শীতকালীন সবজি মৌসুমে তাদের এই সবুজ ফসলের মাঠ ভালো আয়ের উৎস হয়ে উঠবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত