মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের দ্বিতীয় প্রাণপুরুষ হযরত গাউসুল আযম সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী (ক.)’র কারামতের স্মৃতিবিজড়িত স্থান খাগড়াছড়ির বিখ্যাত দেবতা পুকুর। হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা দীর্ঘ ১২ বছর মহান আল্লাহর একান্ত ধ্যানে নিমগ্ন থেকে বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও গুহায় অবস্থান করেছিলেন। সেই সময়ের কোনো একপর্যায়ে তিনি খাগড়াছড়ির একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বটবৃক্ষের নিচে অবস্থান গ্রহণ করেন। বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা ছিলেন অপরূপ সৌন্দর্য ও জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক মহাপুরুষ। তাঁকে একাকী ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে সেখানকার কয়েকজন পাহাড়ি অধিবাসী মনে করলেন, তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নন; বরং সাক্ষাৎ দেবতা।
হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা তাঁদের দেখতে পেয়ে ইশারায় অল্প কিছু পানি আনতে বললেন। অথচ সেই সময় পাহাড়ের এত উঁচু চূড়ায় পানির ছিল প্রচণ্ড সংকট। বলতে গেলে, সেখানে পানির কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। পাহাড়ি অধিবাসীরা পানির কষ্টে দিনাতিপাত করতেন। এমন পানিশূন্য স্থানে বহু দূরের নিচু অঞ্চল থেকে এক পাত্র পানি সংগ্রহ করে তাঁরা বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলায়ে আলমের সামনে উপস্থিত করলেন।
অতঃপর হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা তাঁর পবিত্র হস্ত মোবারক সামনে প্রসারিত করে ইশারায় সেই হাতে পানি ঢালতে বললেন। পাহাড়ি অধিবাসীরা তাঁর নির্দেশ অনুসারে পবিত্র হস্ত মোবারকে পানি ঢাললেন এবং অবশিষ্ট পানিটুকু তাঁর সামনে রেখে দিলেন। এরপর বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা সেই অবশিষ্ট পানি বটবৃক্ষের নিচে ঢেলে দিলেন। পানি মাটির ওপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে বটবৃক্ষের নিচের কিছুটা সমতল জায়গায় গিয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি ইশারায় পাহাড়ি অধিবাসীদের সেখান থেকে চলে যেতে বললেন।
প্রথমবার যাঁরা তাঁকে দেখেছিলেন, তাঁদের মুখে বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলার অপরূপ রূপ-মাধুর্য ও জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বের বর্ণনা শুনে পাহাড়ি অধিবাসীদের মধ্যে তাঁকে একনজর দেখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। তাঁকে দেখার জন্য তাঁরা ব্যাকুল হয়ে পড়েন।
পরবর্তী সময়ে সেই বটবৃক্ষের নিচে অল্প অল্প করে জলাশয়ের সৃষ্টি হয়, যা ক্রমে বিস্তৃত হয়ে এক বিশাল দিঘিতে রূপ নেয়। আর সেই দিঘিই আজকের বিখ্যাত দেবতা পুকুর।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে এই বিশাল জলাধার। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রায় আঠারোশো সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছাতে হয় দেবতা পুকুরে। পুকুরটির চারপাশে সুবিস্তৃত পর্বতশ্রেণী। সেই পর্বতমালার মাঝখানে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর লম্বালম্বিভাবে এর অবস্থান। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৬০০ ফুট। যেন কোনো রূপকথার দেবতার আশীর্বাদেই পাহাড়ের চূড়ায় জমে আছে এই বিশাল জলরাশি।
মূলত পাহাড়ি অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসন ও তাঁদের পানির কষ্ট লাঘব করতেই বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা আধ্যাত্মিক (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে) কারামতের মাধ্যমে অবারিত করুণাধারায় এই দেবতা পুকুরের সৃষ্টি হয়েছিল।
এই ঘটনার পর থেকে পাহাড়ি অধিবাসীরা বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলাকে ‘দেবতা’, ‘মাতায়া’, ‘জকি’ ও ‘সুন্দর বাবা’সহ বিভিন্ন নামে সম্বোধন করে আসছেন। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ আজও প্রতিবছর তাঁর ওরশ শরীফে পাহাড়ি অধিবাসীরা দলবদ্ধভাবে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে জিয়ারতে আসেন। তাঁরা সঙ্গে নিয়ে আসেন পাহাড়ি মুরগি, হরিণসহ নানা ধরনের হাদিয়া। তাঁদের অনেকে মাইজভাণ্ডার শরীফের অলি-আল্লাহদের হাতে হাত রেখে ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করেছেন এবং করছেন।
দেবতা পুকুর খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নুনছড়ি মৌজায় অবস্থিত। জেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের মাইসছড়ি, সেখান থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার ভেতরে নুনছড়ি ত্রিপুরা পাড়া। পাড়া থেকে একটি রাস্তা গভীর বনের ভেতরে চলে গেছে। সেই পথ ধরে প্রায় আঠারোশো সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই দেখা মেলে সেই ঐতিহাসিক বটবৃক্ষের। আর তার নিচেই অবস্থিত বিখ্যাত দেবতা পুকুর। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে।
প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট দিনে পাহাড়ি অধিবাসী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ দলবেঁধে এই পুকুরে গোসল করতে আসেন। হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে পাহাড়ি অধিবাসীরা আজও প্রতিদিন এই দিঘির পাড়ে ফুল ও ফুলের মালা রেখে যান।
এভাবেই একসময়ের পানিশূন্য পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে ওঠা এই বিশাল জলাধার আজও বহন করে চলেছে হযরত গাউসুল আযম সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবা ভাণ্ডারী (ক.)’র কারামতের স্মৃতি।
স্বর্গীয় কবি ফকির রমেশ (রহ.) বলেন,
“ভাণ্ডারী রহিম রহমান, কে বুঝিতে পারে তোমার কুদরতী গুলশান…”
দেবতা পুকুর: গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী (ক.)’র কারামতের এক অনন্য নিদর্শন
দেবতা পুকুর: গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী (ক.)’র কারামতের এক অনন্য নিদর্শন
মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের দ্বিতীয় প্রাণপুরুষ হযরত গাউসুল আযম সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী (ক.)’র কারামতের স্মৃতিবিজড়িত স্থান খাগড়াছড়ির বিখ্যাত দেবতা পুকুর। হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা দীর্ঘ ১২ বছর মহান আল্লাহর একান্ত ধ্যানে নিমগ্ন থেকে বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও গুহায় অবস্থান করেছিলেন। সেই সময়ের কোনো একপর্যায়ে তিনি খাগড়াছড়ির একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বটবৃক্ষের নিচে অবস্থান গ্রহণ করেন। বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা ছিলেন অপরূপ সৌন্দর্য ও জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক মহাপুরুষ। তাঁকে একাকী ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে সেখানকার কয়েকজন পাহাড়ি অধিবাসী মনে করলেন, তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নন; বরং সাক্ষাৎ দেবতা। হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা তাঁদের দেখতে পেয়ে ইশারায় অল্প কিছু পানি আনতে বললেন। অথচ সেই সময় পাহাড়ের এত উঁচু চূড়ায় পানির ছিল প্রচণ্ড সংকট। বলতে গেলে, সেখানে পানির কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। পাহাড়ি অধিবাসীরা পানির কষ্টে দিনাতিপাত করতেন। এমন পানিশূন্য স্থানে বহু দূরের নিচু অঞ্চল থেকে এক পাত্র পানি সংগ্রহ করে তাঁরা বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলায়ে আলমের সামনে উপস্থিত করলেন। অতঃপর হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা তাঁর পবিত্র হস্ত মোবারক সামনে প্রসারিত করে ইশারায় সেই হাতে পানি ঢালতে বললেন। পাহাড়ি অধিবাসীরা তাঁর নির্দেশ অনুসারে পবিত্র হস্ত মোবারকে পানি ঢাললেন এবং অবশিষ্ট পানিটুকু তাঁর সামনে রেখে দিলেন। এরপর বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা সেই অবশিষ্ট পানি বটবৃক্ষের নিচে ঢেলে
দিলেন। পানি মাটির ওপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে বটবৃক্ষের নিচের কিছুটা সমতল জায়গায় গিয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি ইশারায় পাহাড়ি অধিবাসীদের সেখান থেকে চলে যেতে বললেন। প্রথমবার যাঁরা তাঁকে দেখেছিলেন, তাঁদের মুখে বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলার অপরূপ রূপ-মাধুর্য ও জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বের বর্ণনা শুনে পাহাড়ি অধিবাসীদের মধ্যে তাঁকে একনজর দেখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। তাঁকে দেখার জন্য তাঁরা ব্যাকুল হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে সেই বটবৃক্ষের নিচে অল্প অল্প করে জলাশয়ের সৃষ্টি হয়, যা ক্রমে বিস্তৃত হয়ে এক বিশাল দিঘিতে রূপ নেয়। আর সেই দিঘিই আজকের বিখ্যাত দেবতা পুকুর। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে এই বিশাল জলাধার। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রায় আঠারোশো সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছাতে হয় দেবতা পুকুরে। পুকুরটির চারপাশে সুবিস্তৃত পর্বতশ্রেণী। সেই পর্বতমালার মাঝখানে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর লম্বালম্বিভাবে এর অবস্থান। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৬০০ ফুট। যেন কোনো রূপকথার দেবতার আশীর্বাদেই পাহাড়ের চূড়ায় জমে আছে এই বিশাল জলরাশি। মূলত পাহাড়ি অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসন ও তাঁদের পানির কষ্ট লাঘব করতেই বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলা আধ্যাত্মিক (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে) কারামতের মাধ্যমে অবারিত করুণাধারায় এই দেবতা পুকুরের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে পাহাড়ি অধিবাসীরা বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলাকে ‘দেবতা’, ‘মাতায়া’, ‘জকি’ ও ‘সুন্দর বাবা’সহ বিভিন্ন নামে সম্বোধন করে
আসছেন। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ আজও প্রতিবছর তাঁর ওরশ শরীফে পাহাড়ি অধিবাসীরা দলবদ্ধভাবে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে জিয়ারতে আসেন। তাঁরা সঙ্গে নিয়ে আসেন পাহাড়ি মুরগি, হরিণসহ নানা ধরনের হাদিয়া। তাঁদের অনেকে মাইজভাণ্ডার শরীফের অলি-আল্লাহদের হাতে হাত রেখে ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করেছেন এবং করছেন। দেবতা পুকুর খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নুনছড়ি মৌজায় অবস্থিত। জেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের মাইসছড়ি, সেখান থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার ভেতরে নুনছড়ি ত্রিপুরা পাড়া। পাড়া থেকে একটি রাস্তা গভীর বনের ভেতরে চলে গেছে। সেই পথ ধরে প্রায় আঠারোশো সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই দেখা মেলে সেই ঐতিহাসিক বটবৃক্ষের। আর তার নিচেই অবস্থিত বিখ্যাত দেবতা পুকুর। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট দিনে পাহাড়ি অধিবাসী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ দলবেঁধে এই পুকুরে গোসল করতে আসেন। হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) কেবলার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে পাহাড়ি অধিবাসীরা আজও প্রতিদিন এই দিঘির পাড়ে ফুল ও ফুলের মালা রেখে যান। এভাবেই একসময়ের পানিশূন্য পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে ওঠা এই বিশাল জলাধার আজও বহন করে চলেছে হযরত গাউসুল আযম সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবা ভাণ্ডারী (ক.)’র কারামতের স্মৃতি। স্বর্গীয় কবি ফকির রমেশ (রহ.) বলেন, “ভাণ্ডারী রহিম রহমান, কে বুঝিতে পারে তোমার কুদরতী গুলশান…”
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত