সোলেমান শাহ্ (রহঃ) (ল্যাংটা বাবা) মাজার শরীফ
বদরপুর (বেলতলি), দাউদকান্দি, মতলব উত্তর, চাঁদপুর
সোলেমান লেংটার মাজার শরীফ সম্পর্কে যতটুকু জানাযায়। সোলেমান লেংটা উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান আউলিয়ার দাবিদার। বাংলা ১২৩০ সালে কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার গোবিনাদপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটা জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আলা বক্স ভূঁইয়া। তিনি জীবনের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছেন মতলবের বিভিন্ন অঞ্চলে। সোলেমান লেংটা কখনো পোশাক পরিধান করতেন না। তাই তার মাজারটি লেংটার মাজার হিসাবেই পরিচিত। লেংটা ১৮ বছর বয়সে প্রেম করে বিয়ে করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলির রাধানগরে এক নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এখন সেখানে তার আওলাদরা আছে বলে দাবি উঠেছে এবং তারা প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময় ওরসের ডাক দিচ্ছে।
শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটার ফকিরি লাভ সম্পর্কে জানা যায়, ইমাম উদ্দিন মিয়ারা ছিল তিন ভাই। তিন ভাই নৌকা করে ভাদ্র মাসের এক অমাবস্যা রাতে সোনারগাঁয়ে তাদের পীরের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। নৌকার মাঝি ছিলেন সোলেমান শাহ। পথিমধ্যে বৃষ্টি হয়, তিন ভাই আরাম করে নৌকার ভেতর। সোলেমান শাহ ভিজে ভিজে নৌকা চালায় এবং গন্তব্যে হাজির হয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে পীর আসে এবং এ দৃশ্য দেখে তার রাগ হয়। পীর তখন তিন ভাইকে উলঙ্গ হয়ে আসতে বলে। তিন ভাই চিন্তায় পড়ে যায়। আপন মায়ের পেটের তিন ভাই কীভাবে উলঙ্গ হয়ে একে অপরের সামনে আসবে। পীর সাহেব মাঝি সোলেমানকে উদ্দেশ্য করে কাছে আসতে বলে। সোলেমান কাছে যায়। পীর তাকে হা করতে বলেন এবং মুখে ফুঁক দেয়। সেখান থেকেই সোলেমান লেংটা হয়ে বাড়ি ফিরে। লেংটা খুবই মৌলিক একটি মানবিক চিত্র। এর চেয়ে মৌলিক আর প্রাকৃতিক আর হতে পারে না। জন্মদিনের কথা আর মৃত্যুদিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। জীবনের প্রধান সুখও লেংটার মধ্যেই, এটি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় আদিমতম চাহিদার কথা। শুধু লেংটা কথার মধ্যেই অনেক দর্শন, অনে জ্ঞান রয়েছে।
সোলেমান লেংটার বোনের বাড়ি বদরপুরে মাজারটি অবস্থিত। ১৩২৫ বাংলা সনের ১৭ চৈত্র শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটা তার বোনের বাড়ি বদরপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করলে সেখানে কবর দিয়ে মাজার স্থাপন করা হয়। প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং মেলা বসে। ওরস শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে ও পর পর্যন্ত মেলা স্থায়ী হয়। এছাড়া প্রতিবছর ভাদ্র মাসে ও প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মাজারে ভক্তদের আগমন ঘটে। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক ভক্ত, আশেকান ও সাধারণ জনগণ আসা যাওয়া করেন। ওরসকে কেন্দ্র করে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে মেলায় বসে রকমারি দোকান ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তদের আস্তানা। মেলায় চলে বিভিন্ন প্রকার পণ্য ক্রয়-বিক্রয়। মাজারে মানত মানেন গরু, ছাগল, নগদ অর্থ, আগরবাতি ও মোমবাতি।
পরনে কাপড় বলতে থাকতো কোমরে একটি লাল গামছা। যা তাঁর অনুসারীরা আজো পরিধান করে থাকেন। এ কারণে লোকমুখে তাঁর নাম লেংটা ফকির হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের কাছে তিনি লেংটা বাবা। বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু কারামাত দেখান তিনি। ফলে তাঁর অলিত্ব এবং গাউসিয়ত প্রকাশ হয়ে পড়ে। সেসব কারামাতগুলো লোকমুখে ঘুরতে থাকে। বদরপুর গ্রামের পেশকার বাড়ির প্রতিটি মানুষই কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগে। তাদের পূর্বপুরুষের একজন লেংটা ফকিরের সাথে থাকতেন। লেংটা বাবার একটা অদ্ভুত স্বভাব ছিল মিষ্টি ও দই বানিয়ে ঘরের ছাদে/কারে লুকিয়ে রাখা। তাঁর ভক্তদের নিষেধ করতেন সে মিষ্টি ও দই চুরি করে খেতে। তিনি বলতেন, ‘এগুলো বিশেষ কাজের জন্য রেখেছি। যে এখান থেকে মিষ্টি বা দই চুরি করে খাবে তাঁর বংশে কিয়ামত পর্যন্ত সবাই পাগল হবে।’ ভক্তদের একজন মনে করলেন, এটা লেংটা ফকিরের কথার কথা। আমাদের ভয় দেখানোর জন্য একথা বলা। আসলে কি আর এরকম হবে। এরকম ভেবে তিনি কিছু দই নামিয়ে খেয়ে ফেলেন। এরপর থেকে তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তাঁর বংশে যত সন্তান জন্ম হয়, সবাই ছোটবেলা থেকে পুরো সুস্থ থাকলেও বয়সের একটা পর্যায়ে গিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। খাঁটি বাংলায় যাকে আমরা বলি মাথার ছিট মানে অর্ধ পাগল। তার বংশধরদের এমন অনেককে দেখা যায় উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রথম শ্রেণীর সরকারী চাকুরীজীবী। কিন্তু একটা পর্যায়ে ঠিকই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পথে পথে ঘুরেন।
সোলায়মান শাহ মজ্জুব অবস্থায় এ বাড়ি ও বাড়ি হাঁটতেন। গ্রামের মহিলারা ধান শুকানোর জন্য গোবর দিয়ে উঠোন লেপেন। একবার তাঁর পা লেগে এক মহিলার পানির কলস কাত হয়ে পানি পড়ে যায়। মহিলা বলে উঠলেন, ‘আরে লেংটা, এতো কষ্ট করে পুকুর থেকে পানি আনলাম, আর তুই পানিটা ফেলে দিলি?’ একথা শুনে তিনি মহিলাকে বললেন চোখ বন্ধ করতে। মহিলা চোখ বন্ধ করলে তিনি পেশাব করে পুরো উঠোন ভাসিয়ে দেন। এবং বলেন, ‘নে তোর পানি, কত লাগবে?’ মজ্জুব অবস্থায় কারো ফসলী জমি মাড়িয়ে গেলে সে জমিতে অধিক ফসল ফলত। এ কারণে পাগল হলেও সোলায়মান শাহকে সবাই খুব পছন্দ করতো। এমন অনেক অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর তাঁর জীবন। সোলায়মান শাহ রহঃ মজ্জুব অবস্থায় মানুষের অনেক উপকার করতেন। ফলে তিনি অত্র অঞ্চলের মানুষের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেন। তিনি ছিলেন পাকপাঞ্জাতনের একনিষ্ঠ আশেক।
তাঁর লেংটা থাকা নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছেঃ আগেকার দিনে ভারতের জৌনপুর থেকে পীর সাহেবেরা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আসতেন। শুকনো মৌসুমে আসতেন তাঁরা। নদী বা খালে পানশি রেখে পালকি দিয়ে এ-গ্রাম থেকে ও-গ্রামে যেতেন, মানুষকে মুরিদ করাতেন। একবার মাওলানা আব্দুর রব জৌনপুরী সিদ্দিকী রহঃ এসেছিলেন বেলতলি এলাকায়। বেলতলির কাছে নদীতে পানশি রেখে তিনি বিভিন্ন গ্রামে যেতেন। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একবার মাওলানা আব্দুর রব সাহেবের কাছে নালিশ করলেন সোলায়মান শাহের ব্যাপারে। বললেন, ‘হুজুর আমাদের অঞ্চলে এক লোক আছে, সে কাপড় পরে না। আপনি একটু তাকে দেখুন।’ তিনি বললেন, ‘তাকে আমার কাছে নিয়ে আসুন’। লোকে এসে তাকে মাওলানা আব্দুর রব সাহেবের সাথে দেখা করতে বললে তিনি খুব সুন্দর করে পায়জামা আর পাঞ্জাবী পরিধান করে সুগন্ধি লাগিয়ে পানশিতে দেখা করতে গেলেন। অন্য সবাইকে বের করে দিয়ে দু’জনে সেদিন অনেকক্ষণ আলাপ করেছিলেন। লোকজন পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘তোমরা তো কেউ মানুষ না। তোমাদের সামনে কিসের কাপড় পরবো? উনি মানুষ, তাই উনার সামনে কাপড় পরে গিয়েছি।’
অলৌকিক কারামাতঃ-
সোলেমান লেংটার অনেক অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। তার মধ্যে সোলেমান লেংটা কালিপুর রমিজ উদ্দিন প্রধানীয়ার বাড়িতে যান। সেখানে দেখেন নারীরা নদী থেকে ঘট পুড়িয়ে ঘর, উঠান লেপছে। তিনি তাদের পানি আনার কষ্ট দেখে তাদের চোখ বন্ধ করতে বলেন। তারা চোখ বন্ধ করলে লেংটা তার নফস টেনে প্রায় ২/৩ হাত লম্বা করে পুরো উঠান পানিতে ভিজিয়ে দেয়। এ ঘটনা তিনি বিভিন্ন গ্রামে করেছেন। এক সময় মানুষ হজ্বে যেত জাহাজে কিংবা পায়ে হেঁটে। অনেক দিন লাগতো, হজ্বে যাওয়ার সময় অনেকেই লেংটাকে বদরপুর দেখে গেছে, কিন্তু হজ্ব পালন করার সময় অনেকেই তাকে কাবা শরীফে দেখেছেন নামাজ আদায় করতে। এমন অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা লোকমুখে প্রচলিত।
১। আঙ্গুলের ইশারায় চলন্ত ট্রেন থামানঃ- একদিন গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ট্রেনে উঠলে ট্রেন এর টিকেট মাষ্টার গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর কাছে টিকেট চাইলে টিকেট নাই জানালে টিকেট মাষ্টার গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)কে গলা ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেন। গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এতে অসন্তুষ্ট হয়ে ট্রেন এর দিকে নিজের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেই চলন্ত ট্রেন হঠাৎ স্থির হয়ে যায়।
২। কাবা ঘরে যেয়ে প্রতিদিন নামাজ আদায়ঃ- লোকে গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) কে প্রায় প্রশ্ন করতো আপনি নামাজ পড়েন না কেন? গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) খালি মুচকি হাসতেন। একদিন গ্রামের মোল্লারা গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)কে নামাযের কথা খুব জ্বালাতন করলে গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) তাদেরকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে বললেন "এই দেখ নামাজ পড়ি কিনা"। এই কথা বলার সাথে সাথেই মোল্লারা তাকিয়ে দেখল যে গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর বগলের তলে কাবা ঘর, গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) জমজমের পানি দিয়ে অজু করছে। উক্ত ঘটনার পর মোল্লারা আর গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)কে নামাজের কথা ভুলেও কোনদিন জিজ্ঞাস করেনি।
৩। পানির ওপর খড়ম পায় দিয়ে হাঁটাঃ-
একবার গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) নদীর এক মাঝি নদী পারাপারের জন্য অনুরোধ করলে মাঝি গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)কে খুব অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করে নৌকা ছেড়ে দেয়। এতে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) মনে কিছু নিলেন। কিছুক্ষণ পরদেখা গেল বাবা পানির ওপর দিয়ে হেঁটেই নৌকার আগে ঘাঁটে গিয়ে ফল খাচ্ছেন।
৪। চোখের পলকে শত মাইলের ভ্রমনঃ-
হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ল্যাংটা বাবা মাহফুজ নামক তার এক ভক্তকে মিষ্টি আনার জন্য বললে মাহফুজ বাজারে সেই দিন সব মিষ্টি বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারনে খালি হাতে ফিরে আসে। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) তখন মাহফুজ নিয়ে নদীর ঘাঁটে যেয়ে বললেন "এবার তুই চোখ বন্ধ কর"। একটু পরে চোখ খুললে মাহফুজ দেখলো যে সে কুমিল্লা থেকে চোখের পলকে সদরঘাট পৌঁছে গেছেন। তখন সে সদরঘাট থেকে মিষ্টি কিনে আবার হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) সাথে চোখ বন্ধ করে কুমিল্লায় চলে আসেন।
৫। মসজিদের ইমামকে জব্দঃ-
লোকেরা একদিন হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) কে নামাজ পড়ার জন্য খুব অনুরোধ করলে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ইমামের পিছনে নামাজ পড়তে দাঁড়ান, হঠাৎ তিনি চিৎকার করে ইমামের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন "আহা নামাজে বইসা বার বার গাভী বাচ্চা দিছে কিনা চিন্তা করলে তোর নামাজ পইড়া কি লাভ হইবো?" যা যা ভণ্ডামির নামাজ ছাইড়া বাড়ি গিয়া দেখ তোর গাভি বাচ্চা দিছে। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) মনের কথা হু বু হু বলে দেয়ায় ইমাম সাহেব রীতি মত হতবাক হয়ে যান। বাড়ি গিয়ে ইমাম সাহেব দেখলেন ঠিকই তার গাভীর বাচ্চা হয়েছে।
৬। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর চরণের স্পর্শে ফসলের ক্ষেতে দিগুন ফসল ফলতঃ-
কথিত আছে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) যেই ক্ষেতের ফসল পা দিয়ে মাড়িয়ে যেতেন সেই ক্ষেতে কৃষকরা এক মনের পরিবর্তে ৩ মন ফসল পেত। এজন্য কৃষকেরা তাদের জমির ফসল পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করার জন্য হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) কে প্রায়ই অনুরোধ করতো ।
৭।পরশ পাথর হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)
হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ছিলেন নির্ঘাত পরশ পাথর যে ব্যাক্তি তার মন দিয়ে বাবার সেবা করতো, সেই আল্লাহ্ পাকের আউলিয়দের মধ্যে অন্তরভুক্ত হয়ে যেত। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর চরণ দাসী রউফজান বিবি সারা জীবন
হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর সাথে থেকে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর টুকরী বহন করতো, যার মধ্যে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর তার সাধনার জগতের নিত্য প্রয়োজনীয়ও জিনিস রাখতেন। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) যেখানেই যেতেন সেখানেই তিনি মাথায় করে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর টুকরী বহন করতো। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর সহচর্যে থেকে রউফজান বিবি একজন বড় আউলিয়া হয়ে যান। তাহার মাজার হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর রওজার কাছেই অবস্থিত। প্রতি বছর ১৫ই ভাদ্র সেখানে রউফজান বিবির বিশাল ওরস মোবারক পালিত হয়। শুধু তাই নয় হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) প্রায়ই বাদ্যযন্ত্র শুনতেন, ঢুলি আব্দুল নামক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর এক ঢোল বাদকও হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর দরবারে শুধু মাত্র দিন রাত্র ঢোল বাজিয়েই আল্লাহর বিশেষ আউলিয়া হয়ে যান। বর্তমানে তার মাজার শরিফ কুমিল্লার মতলব থানার রায়ের কান্দি গ্রামে অবস্থিত।
৮। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর পরলোক গমনঃ-
হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর ভক্তরা একদিন জিজ্ঞাস করলো যে "বাবা তুমি তো কোথাও বেশি দিন স্থির হয়ে থাকো না, তাহলে তুমি মারা গেলে আমরা কি ভাবে বুঝবো যে তুমি আর দুনিয়ায় নেই" হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) তখন বললেন"যেদিন আমি মারা যাবো সেদিন বাংলাদেশের সমগ্র নদ, নদী,সাগরের জোয়ার ভাঁটা এক টানা ৩ দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে,নদীর পানি স্থির হয়ে থাকবে, পানিতে কোন প্রবাহ থাকবে না। সেদিন গাভীর দুধের বানে এক ফোটাও দুধ থাকবে না। যেদিন এই লক্ষণ গুলা দেখবি সেদিন ভাববি আমি আর এই দুনিয়ায় নেই। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) পরলোক গমনের পর সমগ্র বাংলাদেশে উক্ত ঘটনার লক্ষণ গুলা প্রকাশ পায়।
৯।পরলোক গমনের পরও কারামত প্রকাশঃ-
হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ১৭ চৈত্র পরলোক গমন করেন, সেসময় সারা দেশে প্রবল খরার প্রাদুর ভাব ছিল। বাবা সুলাইমানের মৃত্যুর পরই টানা দুই দিন প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়, কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল এই যে এত বৃষ্টি হওয়ার পরও হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর মৃত শরীর ঘামতে ছিল, দেখে মনে হইতেছিল যে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এখনও জীবিত। তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর ১৭ই চৈত্র হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর ওরস মোবারকের দিন বৃষ্টি প্রবল বৃষ্টির বর্ষণ হতে দেখা যায়। বাংলাদেশে সব অলি-আউলিয়দের বার্ষিক ওরসে দাওয়াত জানাতে লিফলেট, পোষ্টার ছাপাতে দেখা গেলও একমাত্র ল্যাংটা বাবার ওরস মোবারকের সময় কোন প্রচরনা পত্র ছাপাতে হয় না। কোন প্রচরনা ছাড়াই তার ওরস মোবারকের যে মানুষের আগমন হয়,তা ঢোল বাজিয়েও আনা যাবে কিনা সন্দেহ, কখন ও ৪ লক্ষ ,কখনও ৫ লক্ষের বেশি মানুষের সমাগম ঘটে তার ওরসের দিন।
গাউস সুলাইমান শাহ্ সম্পর্কে বলে বাবাকে ছোট করবো না। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর কথা না হয় বাদ ই দিলাম যদি তার মুরিদের কথাই বলি তাহলে তার মুরিদের মাঝে এক ডাকে আকাশের বৃষ্টি নামানোর পর্যন্ত ক্ষমতা ছিল। তার মুরিদের যদি এই পর্যায়ের ক্ষমতা থাকে তাহলে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) লেংটা বাবা কোন পর্যায়ের আউলিয়া তা আশা করি জ্ঞানী জনের আর বুঝা বাকি থাকে না। তাই তো তার আশেক ভক্ত বাবার প্রশংসায় গেয়ে উঠে
কিভাবে যাবেনঃ দাউদ কান্দি ব্রিজ থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে নদীর পাড়েই বেলতলী শাহ সুফি সোলেমান লেংটা মাজার শরীফ
নারায়নগঞ্জ থেকে লঞ্চে যাওয়া যায় আবার দাউদকান্দি থেকেও ট্রলারে যাওয়া যায়।
সোলেমান লেংটার মাজার শরীফ সম্পর্কে যতটুকু জানাযায়
সোলেমান লেংটার মাজার শরীফ সম্পর্কে যতটুকু জানাযায়
সোলেমান শাহ্ (রহঃ) (ল্যাংটা বাবা) মাজার শরীফবদরপুর (বেলতলি), দাউদকান্দি, মতলব উত্তর, চাঁদপুর সোলেমান লেংটার মাজার শরীফ সম্পর্কে যতটুকু জানাযায়। সোলেমান লেংটা উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান আউলিয়ার দাবিদার। বাংলা ১২৩০ সালে কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার গোবিনাদপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটা জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আলা বক্স ভূঁইয়া। তিনি জীবনের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছেন মতলবের বিভিন্ন অঞ্চলে। সোলেমান লেংটা কখনো পোশাক পরিধান করতেন না। তাই তার মাজারটি লেংটার মাজার হিসাবেই পরিচিত। লেংটা ১৮ বছর বয়সে প্রেম করে বিয়ে করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলির রাধানগরে এক নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এখন সেখানে তার আওলাদরা আছে বলে দাবি উঠেছে এবং তারা প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময় ওরসের ডাক দিচ্ছে। শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটার ফকিরি লাভ সম্পর্কে জানা যায়, ইমাম উদ্দিন মিয়ারা ছিল তিন ভাই। তিন ভাই নৌকা করে ভাদ্র মাসের এক অমাবস্যা রাতে সোনারগাঁয়ে তাদের পীরের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। নৌকার মাঝি ছিলেন সোলেমান শাহ। পথিমধ্যে বৃষ্টি হয়, তিন ভাই আরাম করে নৌকার ভেতর। সোলেমান শাহ ভিজে ভিজে নৌকা চালায় এবং গন্তব্যে হাজির হয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে পীর আসে এবং এ দৃশ্য দেখে তার রাগ হয়। পীর তখন তিন ভাইকে উলঙ্গ হয়ে আসতে বলে। তিন ভাই চিন্তায় পড়ে যায়। আপন মায়ের পেটের তিন ভাই কীভাবে উলঙ্গ হয়ে একে অপরের সামনে আসবে। পীর সাহেব মাঝি সোলেমানকে উদ্দেশ্য করে কাছে আসতে বলে। সোলেমান কাছে যায়। পীর তাকে হা করতে বলেন এবং মুখে ফুঁক দেয়। সেখান থেকেই সোলেমান লেংটা হয়ে বাড়ি ফিরে। লেংটা খুবই মৌলিক একটি মানবিক চিত্র। এর চেয়ে মৌলিক আর প্রাকৃতিক আর হতে পারে না। জন্মদিনের কথা আর মৃত্যুদিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। জীবনের প্রধান সুখও লেংটার মধ্যেই, এটি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় আদিমতম চাহিদার কথা। শুধু লেংটা কথার মধ্যেই অনেক দর্শন, অনে জ্ঞান রয়েছে। সোলেমান লেংটার বোনের বাড়ি বদরপুরে মাজারটি অবস্থিত। ১৩২৫ বাংলা সনের ১৭ চৈত্র শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটা তার বোনের বাড়ি বদরপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করলে সেখানে কবর দিয়ে মাজার স্থাপন করা হয়। প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং মেলা বসে। ওরস শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে ও পর পর্যন্ত মেলা স্থায়ী হয়। এছাড়া প্রতিবছর ভাদ্র মাসে ও প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মাজারে ভক্তদের আগমন ঘটে। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক ভক্ত, আশেকান ও সাধারণ জনগণ আসা যাওয়া করেন। ওরসকে কেন্দ্র করে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে মেলায় বসে রকমারি দোকান ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তদের আস্তানা। মেলায় চলে বিভিন্ন প্রকার পণ্য ক্রয়-বিক্রয়। মাজারে মানত মানেন গরু, ছাগল, নগদ অর্থ, আগরবাতি ও মোমবাতি। পরনে কাপড় বলতে থাকতো কোমরে একটি লাল গামছা। যা তাঁর অনুসারীরা আজো পরিধান করে থাকেন। এ কারণে লোকমুখে তাঁর নাম লেংটা ফকির হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের কাছে তিনি লেংটা বাবা। বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু কারামাত দেখান তিনি। ফলে তাঁর অলিত্ব এবং গাউসিয়ত প্রকাশ হয়ে পড়ে। সেসব কারামাতগুলো লোকমুখে ঘুরতে থাকে। বদরপুর গ্রামের পেশকার বাড়ির প্রতিটি মানুষই কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগে। তাদের পূর্বপুরুষের একজন লেংটা ফকিরের সাথে থাকতেন। লেংটা বাবার একটা অদ্ভুত স্বভাব ছিল মিষ্টি ও দই বানিয়ে ঘরের ছাদে/কারে লুকিয়ে রাখা। তাঁর ভক্তদের নিষেধ করতেন সে মিষ্টি ও দই চুরি করে খেতে। তিনি বলতেন, ‘এগুলো বিশেষ কাজের জন্য রেখেছি। যে এখান থেকে মিষ্টি বা দই চুরি করে খাবে তাঁর বংশে কিয়ামত পর্যন্ত সবাই পাগল হবে।’ ভক্তদের একজন মনে করলেন, এটা লেংটা ফকিরের কথার কথা। আমাদের ভয় দেখানোর জন্য একথা বলা। আসলে কি আর এরকম হবে। এরকম ভেবে তিনি কিছু দই নামিয়ে খেয়ে ফেলেন। এরপর থেকে তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তাঁর বংশে যত সন্তান জন্ম হয়, সবাই ছোটবেলা থেকে পুরো সুস্থ থাকলেও বয়সের একটা পর্যায়ে গিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। খাঁটি বাংলায় যাকে আমরা বলি মাথার ছিট মানে অর্ধ পাগল। তার বংশধরদের এমন অনেককে দেখা যায় উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রথম শ্রেণীর সরকারী চাকুরীজীবী। কিন্তু একটা পর্যায়ে ঠিকই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পথে পথে ঘুরেন। সোলায়মান শাহ মজ্জুব অবস্থায় এ বাড়ি ও বাড়ি হাঁটতেন। গ্রামের মহিলারা ধান শুকানোর জন্য গোবর দিয়ে উঠোন লেপেন। একবার তাঁর পা লেগে এক মহিলার পানির কলস কাত হয়ে পানি পড়ে যায়। মহিলা বলে উঠলেন, ‘আরে লেংটা, এতো কষ্ট করে পুকুর থেকে পানি আনলাম, আর তুই পানিটা ফেলে দিলি?’ একথা শুনে তিনি মহিলাকে বললেন চোখ বন্ধ করতে। মহিলা চোখ বন্ধ করলে তিনি পেশাব করে পুরো উঠোন ভাসিয়ে দেন। এবং বলেন,
‘নে তোর পানি, কত লাগবে?’ মজ্জুব অবস্থায় কারো ফসলী জমি মাড়িয়ে গেলে সে জমিতে অধিক ফসল ফলত। এ কারণে পাগল হলেও সোলায়মান শাহকে সবাই খুব পছন্দ করতো। এমন অনেক অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর তাঁর জীবন। সোলায়মান শাহ রহঃ মজ্জুব অবস্থায় মানুষের অনেক উপকার করতেন। ফলে তিনি অত্র অঞ্চলের মানুষের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেন। তিনি ছিলেন পাকপাঞ্জাতনের একনিষ্ঠ আশেক। তাঁর লেংটা থাকা নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছেঃ আগেকার দিনে ভারতের জৌনপুর থেকে পীর সাহেবেরা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আসতেন। শুকনো মৌসুমে আসতেন তাঁরা। নদী বা খালে পানশি রেখে পালকি দিয়ে এ-গ্রাম থেকে ও-গ্রামে যেতেন, মানুষকে মুরিদ করাতেন। একবার মাওলানা আব্দুর রব জৌনপুরী সিদ্দিকী রহঃ এসেছিলেন বেলতলি এলাকায়। বেলতলির কাছে নদীতে পানশি রেখে তিনি বিভিন্ন গ্রামে যেতেন। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একবার মাওলানা আব্দুর রব সাহেবের কাছে নালিশ করলেন সোলায়মান শাহের ব্যাপারে। বললেন, ‘হুজুর আমাদের অঞ্চলে এক লোক আছে, সে কাপড় পরে না। আপনি একটু তাকে দেখুন।’ তিনি বললেন, ‘তাকে আমার কাছে নিয়ে আসুন’। লোকে এসে তাকে মাওলানা আব্দুর রব সাহেবের সাথে দেখা করতে বললে তিনি খুব সুন্দর করে পায়জামা আর পাঞ্জাবী পরিধান করে সুগন্ধি লাগিয়ে পানশিতে দেখা করতে গেলেন। অন্য সবাইকে বের করে দিয়ে দু’জনে সেদিন অনেকক্ষণ আলাপ করেছিলেন। লোকজন পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘তোমরা তো কেউ মানুষ না। তোমাদের সামনে কিসের কাপড় পরবো? উনি মানুষ, তাই উনার সামনে কাপড় পরে গিয়েছি।’ অলৌকিক কারামাতঃ- সোলেমান লেংটার অনেক অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। তার মধ্যে সোলেমান লেংটা কালিপুর রমিজ উদ্দিন প্রধানীয়ার বাড়িতে যান। সেখানে দেখেন নারীরা নদী থেকে ঘট পুড়িয়ে ঘর, উঠান লেপছে। তিনি তাদের পানি আনার কষ্ট দেখে তাদের চোখ বন্ধ করতে বলেন। তারা চোখ বন্ধ করলে লেংটা তার নফস টেনে প্রায় ২/৩ হাত লম্বা করে পুরো উঠান পানিতে ভিজিয়ে দেয়। এ ঘটনা তিনি বিভিন্ন গ্রামে করেছেন। এক সময় মানুষ হজ্বে যেত জাহাজে কিংবা পায়ে হেঁটে। অনেক দিন লাগতো, হজ্বে যাওয়ার সময় অনেকেই লেংটাকে বদরপুর দেখে গেছে, কিন্তু হজ্ব পালন করার সময় অনেকেই তাকে কাবা শরীফে দেখেছেন নামাজ আদায় করতে। এমন অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা লোকমুখে প্রচলিত। ১। আঙ্গুলের ইশারায় চলন্ত ট্রেন থামানঃ- একদিন গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ট্রেনে উঠলে ট্রেন এর টিকেট মাষ্টার গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর কাছে টিকেট চাইলে টিকেট নাই জানালে টিকেট মাষ্টার গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)কে গলা ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেন। গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এতে অসন্তুষ্ট হয়ে ট্রেন এর দিকে নিজের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেই চলন্ত ট্রেন হঠাৎ স্থির হয়ে যায়। ২। কাবা ঘরে যেয়ে প্রতিদিন নামাজ আদায়ঃ- লোকে গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) কে প্রায় প্রশ্ন করতো আপনি নামাজ পড়েন না কেন? গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) খালি মুচকি হাসতেন। একদিন গ্রামের মোল্লারা গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)কে নামাযের কথা খুব জ্বালাতন করলে গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) তাদেরকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে বললেন "এই দেখ নামাজ পড়ি কিনা"। এই কথা বলার সাথে সাথেই মোল্লারা তাকিয়ে দেখল যে গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর বগলের তলে কাবা ঘর, গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) জমজমের পানি দিয়ে অজু করছে। উক্ত ঘটনার পর মোল্লারা আর গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)কে নামাজের কথা ভুলেও কোনদিন জিজ্ঞাস করেনি। ৩। পানির ওপর খড়ম পায় দিয়ে হাঁটাঃ-একবার গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) নদীর এক মাঝি নদী পারাপারের জন্য অনুরোধ করলে মাঝি গউস পাক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)কে খুব অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করে নৌকা ছেড়ে দেয়। এতে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) মনে কিছু নিলেন। কিছুক্ষণ পরদেখা গেল বাবা পানির ওপর দিয়ে হেঁটেই নৌকার আগে ঘাঁটে গিয়ে ফল খাচ্ছেন। ৪। চোখের পলকে শত মাইলের ভ্রমনঃ-হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ল্যাংটা বাবা মাহফুজ নামক তার এক ভক্তকে মিষ্টি আনার জন্য বললে মাহফুজ বাজারে সেই দিন সব মিষ্টি বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারনে খালি হাতে ফিরে আসে। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) তখন মাহফুজ নিয়ে নদীর ঘাঁটে যেয়ে বললেন "এবার তুই চোখ বন্ধ কর"। একটু পরে চোখ খুললে মাহফুজ দেখলো যে সে কুমিল্লা থেকে চোখের পলকে সদরঘাট পৌঁছে গেছেন। তখন সে সদরঘাট থেকে মিষ্টি কিনে আবার হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) সাথে চোখ বন্ধ করে কুমিল্লায় চলে আসেন। ৫। মসজিদের ইমামকে জব্দঃ-লোকেরা একদিন হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) কে নামাজ পড়ার জন্য খুব অনুরোধ করলে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ইমামের পিছনে নামাজ পড়তে দাঁড়ান, হঠাৎ তিনি চিৎকার করে ইমামের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন
"আহা নামাজে বইসা বার বার গাভী বাচ্চা দিছে কিনা চিন্তা করলে তোর নামাজ পইড়া কি লাভ হইবো?" যা যা ভণ্ডামির নামাজ ছাইড়া বাড়ি গিয়া দেখ তোর গাভি বাচ্চা দিছে। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) মনের কথা হু বু হু বলে দেয়ায় ইমাম সাহেব রীতি মত হতবাক হয়ে যান। বাড়ি গিয়ে ইমাম সাহেব দেখলেন ঠিকই তার গাভীর বাচ্চা হয়েছে। ৬। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর চরণের স্পর্শে ফসলের ক্ষেতে দিগুন ফসল ফলতঃ-কথিত আছে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) যেই ক্ষেতের ফসল পা দিয়ে মাড়িয়ে যেতেন সেই ক্ষেতে কৃষকরা এক মনের পরিবর্তে ৩ মন ফসল পেত। এজন্য কৃষকেরা তাদের জমির ফসল পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করার জন্য হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) কে প্রায়ই অনুরোধ করতো । ৭।পরশ পাথর হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ)হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ছিলেন নির্ঘাত পরশ পাথর যে ব্যাক্তি তার মন দিয়ে বাবার সেবা করতো, সেই আল্লাহ্ পাকের আউলিয়দের মধ্যে অন্তরভুক্ত হয়ে যেত। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর চরণ দাসী রউফজান বিবি সারা জীবন হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর সাথে থেকে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর টুকরী বহন করতো, যার মধ্যে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর তার সাধনার জগতের নিত্য প্রয়োজনীয়ও জিনিস রাখতেন। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) যেখানেই যেতেন সেখানেই তিনি মাথায় করে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর টুকরী বহন করতো। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর সহচর্যে থেকে রউফজান বিবি একজন বড় আউলিয়া হয়ে যান। তাহার মাজার হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর রওজার কাছেই অবস্থিত। প্রতি বছর ১৫ই ভাদ্র সেখানে রউফজান বিবির বিশাল ওরস মোবারক পালিত হয়। শুধু তাই নয় হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) প্রায়ই বাদ্যযন্ত্র শুনতেন, ঢুলি আব্দুল নামক হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর এক ঢোল বাদকও হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর দরবারে শুধু মাত্র দিন রাত্র ঢোল বাজিয়েই আল্লাহর বিশেষ আউলিয়া হয়ে যান। বর্তমানে তার মাজার শরিফ কুমিল্লার মতলব থানার রায়ের কান্দি গ্রামে অবস্থিত। ৮। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর পরলোক গমনঃ-হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর ভক্তরা একদিন জিজ্ঞাস করলো যে "বাবা তুমি তো কোথাও বেশি দিন স্থির হয়ে থাকো না, তাহলে তুমি মারা গেলে আমরা কি ভাবে বুঝবো যে তুমি আর দুনিয়ায় নেই" হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) তখন বললেন"যেদিন আমি মারা যাবো সেদিন বাংলাদেশের সমগ্র নদ, নদী,সাগরের জোয়ার ভাঁটা এক টানা ৩ দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে,নদীর পানি স্থির হয়ে থাকবে, পানিতে কোন প্রবাহ থাকবে না। সেদিন গাভীর দুধের বানে এক ফোটাও দুধ থাকবে না। যেদিন এই লক্ষণ গুলা দেখবি সেদিন ভাববি আমি আর এই দুনিয়ায় নেই। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) পরলোক গমনের পর সমগ্র বাংলাদেশে উক্ত ঘটনার লক্ষণ গুলা প্রকাশ পায়। ৯।পরলোক গমনের পরও কারামত প্রকাশঃ-হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) ১৭ চৈত্র পরলোক গমন করেন, সেসময় সারা দেশে প্রবল খরার প্রাদুর ভাব ছিল। বাবা সুলাইমানের মৃত্যুর পরই টানা দুই দিন প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়, কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল এই যে এত বৃষ্টি হওয়ার পরও হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর মৃত শরীর ঘামতে ছিল, দেখে মনে হইতেছিল যে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এখনও জীবিত। তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর ১৭ই চৈত্র হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর ওরস মোবারকের দিন বৃষ্টি প্রবল বৃষ্টির বর্ষণ হতে দেখা যায়। বাংলাদেশে সব অলি-আউলিয়দের বার্ষিক ওরসে দাওয়াত জানাতে লিফলেট, পোষ্টার ছাপাতে দেখা গেলও একমাত্র ল্যাংটা বাবার ওরস মোবারকের সময় কোন প্রচরনা পত্র ছাপাতে হয় না। কোন প্রচরনা ছাড়াই তার ওরস মোবারকের যে মানুষের আগমন হয়,তা ঢোল বাজিয়েও আনা যাবে কিনা সন্দেহ, কখন ও ৪ লক্ষ ,কখনও ৫ লক্ষের বেশি মানুষের সমাগম ঘটে তার ওরসের দিন। গাউস সুলাইমান শাহ্ সম্পর্কে বলে বাবাকে ছোট করবো না। হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) এর কথা না হয় বাদ ই দিলাম যদি তার মুরিদের কথাই বলি তাহলে তার মুরিদের মাঝে এক ডাকে আকাশের বৃষ্টি নামানোর পর্যন্ত ক্ষমতা ছিল। তার মুরিদের যদি এই পর্যায়ের ক্ষমতা থাকে তাহলে হযরত সোলাইমান শাহ্ (রহঃ) লেংটা বাবা কোন পর্যায়ের আউলিয়া তা আশা করি জ্ঞানী জনের আর বুঝা বাকি থাকে না। তাই তো তার আশেক ভক্ত বাবার প্রশংসায় গেয়ে উঠে কিভাবে যাবেনঃ দাউদ কান্দি ব্রিজ থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে নদীর পাড়েই বেলতলী শাহ সুফি সোলেমান লেংটা মাজার শরীফনারায়নগঞ্জ থেকে লঞ্চে যাওয়া যায় আবার দাউদকান্দি থেকেও ট্রলারে যাওয়া যায়।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত