বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেবিট ইমনের সহযোগী মোবারক অস্ত্রসহ গ্রেফতার দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেছেন যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলাম হালদায় অভিযান, ২০ হাজার ঘনফুট বালু ও সরঞ্জাম জব্দ বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআই’র রাঙ্গামাটিতে স্কাউটস’র জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প শুরু পিএফএ বর্ষসেরা ব্রুনো ফার্নান্দেস চারণভূমি সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর হাম আক্রান্ত সন্দেহে আরও ৭ জনের মৃত্যু সিটি থেকে নিউক্যাসলে যোগ দিচ্ছেন নিকো গঞ্জালেজ
সুফিবাদ দেহের গুরু হয় কেবা? ভক্ত হয়ে কে দেয় সেবা?

দেহের গুরু হয় কেবা? ভক্ত হয়ে কে দেয় সেবা?

এই মাটির দেহ কেবল এক আধার মাত্র, আসল মালিক তো ভেতরে বসে আছেন। নফস বা আমিত্বের বিনাশ ঘটিয়ে আত্মার আলোয় আলোকিত হোক আমাদের পথ। আত্মানুসন্ধানের এই যাত্রা অনন্তকাল চলুক। 🕯️

সুফি দর্শনের মরমী ভাবধারায় এই প্রশ্নগুলো কেবল জিজ্ঞাসাই নয়, বরং আত্মানুসন্ধানের এক গভীর পথ। লালন সাঁই বা সমসাময়িক মরমী সাধকদের গানেও আমরা এমন ভাবের প্রতিফলন দেখতে পাই। আপনার চরণের মাধ্যমে যে আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা উঠে এসেছে, সুফি তত্ত্ব অনুযায়ী তার একটি সহজ অথচ গভীর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

১ . দেহের গুরু হয় কেবা?
সুফি দর্শনে দেহের ‘গুরু’ বা চালিকাশক্তি হলো ‘রুহ’ (Soul) বা আত্মা। দেহ মাটির তৈরি একটি আধার মাত্র, আর রুহ হলো সেই স্বর্গীয় নূর বা পরমাত্মার অংশ যা এই মাটির খাঁচাকে সচল রাখে।
মুর্শিদ বা পীর: বাহ্যিক অর্থে যিনি সত্যের পথ দেখান, তিনি গুরু। কিন্তু সুফিদের মতে, প্রকৃত গুরু আপনার হৃদয়ের গভীরে বাস করেন। যখন কেউ নিজের নফস বা প্রবৃত্তি দমন করতে পারে, তখন তার ভেতরের ‘বিবেক’ বা ‘জাগরিত আত্মা’ গুরুর দায়িত্ব পালন করে।

২. ভক্ত হয়ে কে দেয় সেবা?
এখানে ‘ভক্ত’ বলতে আমাদের ‘পঞ্চেন্দ্রিয়’ এবং ‘নফস’ (Ego/Self)-কে বোঝানো হয়েছে।
আমাদের চোখ, কান, নাসিকা, জিহ্বা এবং ত্বক—এরা সবাই রুহ বা গুরুর সেবক হিসেবে কাজ করার কথা। কিন্তু মোহ বা মায়ার কারণে এরা সঠিক সেবা দিতে পারে না।
সুফি মতে, যখন কোনো সাধক নিজেকে চিনে ফেলে (আত্মজ্ঞান লাভ করে), তখন তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেবল স্রষ্টার ইবাদত এবং সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত হয়। অর্থাৎ, দেহ তখন আত্মার প্রকৃত অনুসারী বা ভক্ত হয়ে ওঠে।

৩. ভুলের ঘোর যাবে তখন
সুফি দর্শনে একে বলা হয় ‘কাশফ’ (Kashf) বা পর্দা উন্মোচন। মানুষ দুনিয়াবি মোহ, কাম, ক্রোধ এবং অহংকারে আচ্ছন্ন হয়ে ‘আমি’র ঘোরে বন্দি থাকে। এই ‘আমি’র বিনাশ বা ‘ফানা’ যখন ঘটে, তখনই ভুলের ঘোর কাটে।
সুফি পরিভাষায়— "মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু" অর্থাৎ, "যে নিজেকে চিনেছে, সে তার প্রভুকে চিনেছে।

সারমর্ম
 আত্মজ্ঞান। যেদিন মানুষ বুঝতে পারে যে তার দেহটা নশ্বর এবং এর ভেতরে থাকা রুহ-ই আসল অধিপতি, সেদিনই দুনিয়ার সব মায়া ও ভুলের পর্দা ছিঁড়ে যায়। দেহের গুরু হলো আপন আত্মা বা নূর, আর এই নশ্বর দেহটাই তার সেবক হওয়ার কথা।

খুঁজুন