রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা কার্যত একটি হাসপাতালে

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা কার্যত একটি হাসপাতালে

১৭ কোটি মানুষের দেশের জন্য ক্যান্সার চিকিৎসার কেন্দ্র কার্যত একটিমাত্র হাসপাতাল, এমন অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসা, স্ক্রিনিং ও পরবর্তী যত্ন সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভয়াবহ ঘাটতির মধ্যে আছে। রোগীরা ভর্তি হতে না পেরে লাইনে দাঁড়ায়, কেউ কেউ রাস্তায় শুয়ে থাকে

দেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন। এর অন্যতম কারণ হলো দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া। আমাদের দেশে অধিকাংশ রোগী এমন সময়ে চিকিৎসা নিতে আসে, যখন কিছু করার থাকে না। ফলে অনিবার্য মৃত্যুই শেষ পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়, বলেন সচিব।

‘হাসপাতালভিত্তিক কাঠামোই মূল সংকট’

স্বাস্থ্যসচিব আরও বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার পুরো কাঠামোটিই হাসপাতালভিত্তিক হয়ে গেছে। ফলে দেশের যেখানেই কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন না কেন, সবাই মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটেই ছুটে আসেন। “সমন্বয়ের অভাবের কারণেই অনেক রোগী ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়,” তিনি বলেন।

গ্রাম থেকে আসা রোগীদের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন সচিব। “অনেকেই কষ্ট করে রাজধানীতে আসে, কিন্তু ভর্তি হতে না পেরে রাস্তায় শুয়ে থাকে। কখনো কখনো তাদের জন্য তদবির করতে হয়, তিনি জানান।

‘আমার পরিবারেও ক্যান্সারের আঘাত’

নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সচিব বলেন, এই ব্যাধিটি আমার পরিবারেও আঘাত হেনেছে। আমার বড় বোন ক্যান্সারে মারা গেছেন, আমার শাশুড়িও ক্যান্সারের রোগী। সম্প্রতি এক আত্মীয়ও মারা গেছেন।

পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে তবেই বোঝা যায় ক্যান্সারের যন্ত্রণা ও বাস্তবতা কত গভীর। কিন্তু বাস্তবে যে কোনো সুস্থ মানুষ যে কোনো সময় ক্যান্সারের তালিকায় যোগ হতে পারে, যোগ করেন তিনি।

স্ক্রিনিং ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ঘাটতি

সাইদুর রহমান জানান, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্ক্রিনিং সুবিধা বাড়ানো জরুরি। আমরা সচেতন হচ্ছি, কিন্তু স্ক্রিনিং করার কোনো জায়গা নেই। তাই সেই সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।

চিকিৎসার মান নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে সচিব বলেন, ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক দুর্বলতা আছে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে রাতারাতি এই দীনতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

তিনি মৃত্যুকালীন যত্নের অভাবের কথাও তুলে ধরেন। বলেন, রোগীরা যেন জীবনের শেষ সময়টুকু একটু কম যন্ত্রণায় কাটাতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও আমাদের দেশে প্রায় নেই, বলেন তিনি।

মানবিকতা ও প্রস্তুতির পরীক্ষা

স্বাস্থ্যসচিবের মতে, ক্যান্সার কেবল চিকিৎসার বিষয় নয় এটি একটি মানবিক ও সামাজিক সংকট। এই কষ্ট থেকে কীভাবে বের হব, জানি না। তবে এই ব্যাধি মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে চেষ্টা করতে হবেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

খুঁজুন