বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন খামারে দক্ষ জনবলের ঘাটতি ইরানের হামলার জবাবে ৫টি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের নেপালে ভয়াবহ বন্যার দুই সপ্তাহ পরও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান হাটহাজারীতে অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত, ১ কর্মকর্তা আহত কেরানীগঞ্জে অবৈধ সার কারখানা সিলগালা; ১ লক্ষ টাকা জরিমানা সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন প্রকল্পে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের সত্যতা তারেক রহমান বাংলাদেশে তৃণমূলের রাজনীতির সূচনা করেছেন বগুড়ায় সাজাপ্রাপ্ত মাদক কারবারি ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বিএনপি কাজ করছে: রিজভী
দেশের খবর দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন খামারে দক্ষ জনবলের ঘাটতি

দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন খামারে দক্ষ জনবলের ঘাটতি

মিটলে দুধ মাংসের চাহিদা পূরণ হবে

দেশীয় এবং উন্নত জাতের মহিষের উৎপাদন ও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি। পাশাপাশি উন্নত জাতের মহিষের বাছুর উৎপাদন ও খামারিদের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে দেশের মহিষ পালন সম্প্রসারণেও অবদান রাখছে এ প্রতিষ্ঠানটি।

৯৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকারি এ খামারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৮০টি মহিষ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে।

তবে সম্ভাবনাময় এ খামারে অনুমোদিত ৫২টি পদের মধ্যে ৪২টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। রাজস্ব খাতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে ভেটেরিনারি চিকিৎসাসেবা। প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও খামারে ভেটেরিনারি সার্জনের কোনো পদ সৃষ্টি হয়নি।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪-৮৫ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ এলাকায় মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে দু’জন কর্মকর্তা ও ৪৮ জন কর্মচারীসহ মোট ৫০ জন জনবল নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় খামারে মহিষের সংখ্যা ছিল ১১১টি। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৮০টিতে দাঁড়ালেও জনবল সে অনুপাতে বাড়েনি।

আরও জানা যায়, বর্তমানে অনুমোদিত ৫২টি রাজস্ব পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১০জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বদলি ও অবসরসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২২ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের সহায়তায় কোনোভাবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

খামারের ২৮০টি মহিষের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, প্রজনন কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু স্থায়ী ভেটেরিনারি সার্জনের পদ না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরের চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে হয়। 
খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থায়ী ভেটেরিনারি চিকিৎসক থাকলে মহিষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, প্রজনন ব্যবস্থাপনা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে খামারের উৎপাদনশীলতা ও প্রজনন কার্যক্রমও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে খামারে থাকা ৪৪টি মহিষ নিয়মিত দুধ দিচ্ছে। এসব মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত দুধের স্থানীয়ভাবে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খামার থেকেই সরাসরি ভোক্তাদের কাছে দুধ বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি দুধের মূল্য ৭০ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন ভোক্তা খামারে এসে দুধ সংগ্রহ করেন।

মহিষের সংখ্যা, বয়স ও শারীরিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রতিদিন দানাদার খাবারের মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। ২৮০টি মহিষের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭শ’ কেজি দানাদার খাবারের মিক্সার তৈরি করতে হয়। মহিষের সংখ্যা ও বয়সের পরিবর্তনের সঙ্গে খাবারের পরিমাণও কমবেশি হয়।

খামারটির মূল লক্ষ্য শুধু দুধ উৎপাদন নয়; উন্নত জাতের মহিষের প্রজনন, বংশবিস্তার এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর সম্প্রসারণ। এ লক্ষ্যে খামারে উৎপাদিত বাছুর খামারিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

খামার সূত্র আরও জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০১ জন খামারির মধ্যে ১৪১টি মহিষের বাছুর বিতরণ করা হয়েছে। উন্নত জাতের মহিষের বিস্তার ঘটিয়ে দেশে মহিষ পালন বৃদ্ধি এবং খামারিদের এ খাতে আরও উৎসাহিত করাই এ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।

জনবল ও ভেটেরিনারি চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি খামারটিতে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত কিছু সমস্যাও রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ সবসময় স্বাভাবিক না থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সার্বক্ষণিক কার্যক্রম সচল রাখতে একটি জেনারেটর প্রয়োজন বলে জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।

বাগেরহাটের ব্যাবসায়ী, রাজনীতিক ইঞ্জিনিয়ার এটি এম আকরাম হোসেন তালিম বাসস’কে বলেন, দেশীয় মহিষের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ প্রতিষ্ঠানের আরও বড় পরিসরে কাজ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে খামারটির সক্ষমতা আরও বাড়বে।

এতে দুধ উৎপাদনের পাশাপাশি উন্নত জাতের মহিষের প্রজনন, বাছুর উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে দেশের মহিষ পালন খাতের উন্নয়ন, খামারিদের আয় বৃদ্ধি এবং প্রাণিসম্পদ অর্থনীতিতে এ সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবদান আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শেখ আল মামুন বাসস’কে বলেন, খামারের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একজন ভেটেরিনারি সার্জন প্রয়োজন। অনুমোদিত ৫২টি পদের মধ্যে ৪২টি শূন্য রয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২২ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হলেও সীমিত জনবল দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭শ’ কেজি দানাদার খাবার প্রস্তুত করা হয়। খামারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, ভেটেরিনারি চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

খুঁজুন