রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি প্রতিরোধে ইসলামী ব্যাংকে কর্মশালা • নেতানিয়াহুকে হঠাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের দাবিতে ইসরায়েলিদের বিক্ষোভ • বাইনোকুলারে দেখলাম ওঁৎ পেতে আছে বাংলাদেশিরা, ফাঁক পেলে ঢুকে পড়বে: শুভেন্দু অধিকারী • ‘১৩ হাজার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন’ • হ‌ুমায়ূন পড়লে বাংলা আর ভাষার প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায়: অনুপম রায় • বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি: লটারিতে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নির্বাচিত • নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার • ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইমোশন নয়, আইনের পথেই এগোবে সরকার’ • যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী • ভিনগ্রহ থেকে বার্তা আসবে কখন? নতুন তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা
বিনোদন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুদিনের কান্ডারি প্রযোজক আরশাদ আদনান

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুদিনের কান্ডারি প্রযোজক আরশাদ আদনান

যখন সততা আর সৃষ্টির নেশা নিয়ে কোনো মানুষ নিরলসভাবে কাজ করে যান, তখন একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর আলোর পথকে আচ্ছন্ন করতে ছড়ায় অন্ধকারের কুৎসা। 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুদিনের কান্ডারি, ‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’-এর মতো মেগাহিট ছবির সফল প্রযোজক আরশাদ আদনান আজ ঠিক এমনই এক ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি। কিছু স্বার্থান্বেষী ও ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে যে তিনি বিএনপির সংস্কৃতি কমিটিতে যোগদান করেছেন!

অথচ সত্যের রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিএফডিসিতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯ সংগঠনের একটি মিটিং শেষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সাধারণ ও স্বাভাবিক একটি মুহূর্তকে বিকৃত করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। গত ৭ নভেম্বর দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, "এগুলোতে আমি একদমই কান দিই না। তবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর আগে আমার সঙ্গে কথা বলে নিলে তাদের জন্য ভালো হতো। আমি তাদের সঠিক তথ্যটি জানাতে পারতাম।"

বর্তমান ব্যস্ততা যার রক্তে-মাংসে মিশে আছে সিনেমা, সেই আরশাদ আদনান ‘নসীব’ ও ‘মহব্বত’ ছবির নির্মাণকাজে বিভোর। তিনি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি চলচ্চিত্রের মানুষ, সিনেমা নিয়েই বাঁচতে চান এবং দেশের সিনেমার উন্নয়নে সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাবেন।

কিন্তু প্রশ্ন জাগে—যিনি নিজের পুরোটা উজাড় করে দিয়েছেন শিল্পের টানে, তাঁকে নিয়ে কেন এই নোংরা খেলা?

বহুকাল ধরে যিনি এই অঙ্গনের মানুষের কাছে এক জীবন্ত আশির্বাদ, তাঁকে ছায়া দিতে গিয়েও যারা আজ আড়াল খুঁজছে, তাদের জানা উচিত—আরশাদ আদনান কেবল একজন সফল প্রযোজক নন, তিনি এই শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির বহু ছায়াহীন মানুষের মাথার ওপর ছাদ। তিনি সেই বিরল মনের মানুষ, যিনি দল-মত-ধর্মের সীমানা পেরিয়ে কেবল ‘মানুষ’ চেনেন। হিমালয়ের মতো দৃঢ় অথচ নদীর মতো স্নিগ্ধ এই মানুষটি সবসময় মাটি জড়িয়ে পথ চলেন। দামি হোটেলে বা বিদেশের মাটিতে বসে গোপনে আনন্দ উল্লাস করার সুযোগ থাকলেও, তাঁকে দেখা গেছে সাদামাটা পোশাকে মাটিতে বসে সবার সঙ্গে একাসনে খাবার ভাগ করে খেতে।

তাঁর ধমণীতে বইছে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার রক্ত; তিনি এক মহান স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির গর্বিত সন্তান। যিনি তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে সবসময় পরম মমতায় একটা কথাই বলেন—"ছোট ভাই, শিক্ষিত হয়ে লাভ নেই, যদি না তুমি সুশিক্ষিত হও।" সেই সুশিক্ষিত, নির্লোভ, পরোপকারী এবং আপাদমস্তক মানবিক মানুষটিকে আজ জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে নোংরা রাজনীতির ছলে।

যে মানুষটি আজকের এই বাংলা সিনেমাকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে আবার মানুষের মনে হলের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলেছেন, যার হাত ধরে অনেক মিডিয়াকর্মী এই ঢাকা শহরে মাথা উঁচু করে টিকে আছে—তাকে নিয়ে এই কুৎসিত অপপ্রচার কেবল একটি আঘাত নয়, এটি বাংলা সংস্কৃতি ও শিল্পের পিঠে এক নির্মম ছুরিকাঘাত।

তবুও সত্য কখনো ধুলোয় ঢাকা থাকে না। সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে এই মানুষটির মানবতা ও শিল্পের প্রতি ভালোবাসা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠুক। কুৎসিত মিথ্যাচারের এই মেঘ কেটে গিয়ে আবারও হাসিমুখে আলোর মিছিলে ফিরে আসুক আমাদের চেনা, আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, আমাদের শ্রদ্ধার আরশাদ আদনান—যাঁর ভালোবাসার ছোঁয়াধন্য প্রতিটি ফ্রেম এদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।।।

খুঁজুন