রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
দেশের খবর ধরলা পারের শ্রমিক পুত্র মিথুন'র ডুয়েটে পড়া কি অনিশ্চিত?

ধরলা পারের শ্রমিক পুত্র মিথুন'র ডুয়েটে পড়া কি অনিশ্চিত?

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) বিএসসি কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে লালমনিরহাটের মোগলহাট ইউনিয়নের ধরলা নদী পারের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মিথুন রায়। কিন্তু দারিদ্র্যতার কারণে নিজের স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়েও অর্থাভবে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি। স্বপ্নের ডুয়েট এ পড়া হবে কি তার? একদম পল্লীগ্রামে কৃষি দিন মজুরের আদরের ছেলে মিথুন  লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কুরুল গ্রামের কৃষি শ্রমিক মিলন চন্দ্র রায়ের পুত্র ।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, অন্যের কৃষিজমিতে দিনমজুরের কাজ করে পাঁচজনের সংসার চালান মিলন চন্দ্র রায়।  অভাব-অনটনেও এক ছেলে ও দুই মেয়ের পড়ালেখা চালাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন তিনি। পরিবারের বড় ছেলে মিথুনও চায় ভালো লেখা পড়া করে পিতৃদেবের সংসারের হাল ধরতে। তাই খেয়ে না খেয়েও পড়ালেখা চালিয়ে আসছে । ২০২০ সালে এসএসসিতে কৃতিত্বের সাথে ফলাফল লাভ করে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয় । বিভিন্ন সময় মুদিদোকানের কর্মচারী ও টিউশনি করে চালিয়ে গেছে পড়ালেখা। টানা চার বছর কঠোর পরিশ্রম করে ২০২৪ সালে ৩.৮৭ পেয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছে। 
 
এবার ডুয়েটে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মিথুন রায়। কিন্তু এবারও তার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য এবং অর্থাভাব। ডুয়েটে ভর্তি হতে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা, বই-খাতা, থাকা-খাওয়া ও আনুষাঙ্গিক খরচ মিলিয়ে তার প্রয়োজন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু তার হত দরিদ্র অসহায় বাবা-মায়ের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই ডুয়েটে সুযোগ পেয়েও ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

মিথুনের বাবা মিলন বলেন, খেয়ে না খেয়ে টাকা পয়সা দিয়েছি,ছেলে পড়ালেখার জন্য। তার স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু গরিব মানুষ তাকে এত টাকা কোনটে থাকি দিমো । কোথায় পাই এতগুলা টাকা। কায়ও সাহায্য সহযোগিতা করলে হামার বেটা মিথুনের  ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পুরোন হইল হয়।
মিথুন রায় বলেন, স্কুলজীবন থেকে স্বপ্ন দেখে আসছি।  প্রকৌশলী হয়ে দেশের জন্য সততার সাথে কাজ করতে চাই।  বাবা মায়ের অভাবের সংসারে লড়াই করে এত দিন পড়ালেখা চালিয়েছি । এবার ডুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু এখন একসঙ্গে এত টাকা দেওয়া আমার পরিবারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। মাঝপথে আমার স্বপ্নের অপমৃত্যুও মেনে নিতে পারছি না। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করছি। লেখা পড়া শেষ করে বাবা মায়ের চলমান কষ্টের লাঘব করে তাদের মুখো উজ্জল করতে সংসারের হাল ধরতে চাই।  অপরদিকে জানাগেছে
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার, মেধাবী শিক্ষার্থী মিথুন রায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

খুঁজুন