রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
মতামত অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"!

অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"!

ধানমন্ডির বিখ্যাত অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (OIS)-এর পুরান ঢাকা ক্যাম্পাসের ক্লাস টু-র ছোট্ট মেয়ে জাদোয়া আয়াত কায়নাতের সাথে যা ঘটেছে, তা শুনলে যেকোনো বাবা-মায়ের কলিজা কেপে উঠবে। শিক্ষাদানের নামে ক্লাসরুমকে কীভাবে "ট-র্চা-র সেল" বানানো হয়েছিলো, শুনুন তাহলে পুরো ঘটনাটা।

গত ৩০ আগস্ট লিটারেচার ক্লাস চলাকালীন আয়াত বোর্ডের লেখা নিজের খাতায় তুলছিলো। ক্লাস টিচার তাসনিম আজাদ সুপ্তি হঠাৎ অজানা কারনে হিং-* স্র হয়ে ওঠেন। খাতা কেড়ে নিয়ে আয়াতকে একটানা ৪৭ মিনিট ক্লাসে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর বাকি সব ছাত্র-ছাত্রীকে বাইরে বের করে দিয়ে রুমের গেট লক করে লাইট-ফ্যান বন্ধ করে দেওয়া হয়। আয়াত কান্না জড়িত কণ্ঠে আকুতি করেছিল, "মিস, আমার আম্মু দুইবার স্ট্রোক করেছে, রাতে আমার পড়া দেখতে চাইবেন। প্লিজ আমাকে লিখতে দিন।" কিন্তু শিক্ষিকা সুপ্তি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আয়াতের ডান পায়ে নিজের পা দিয়ে সজোরে চেপে ধরেন এবং হু*মকি দেন তার হাত ম*-কিয়ে দেবেন যেন সে আর কোনোদিন লিখতে না পারে।

আয়াত যখন কাঁদতে কাঁদতে খাতার একটা ছেঁড়া পাতায় গোপনে কিছু লেখার চেষ্টা করছিলো, তখন শিক্ষিকা আরও হিং*- স্র হয়ে ওঠেন। তিনি একটি সুচালো পেন্সিল দিয়ে আয়াতের ডান চোখে আ*ঘাত করেন, এতে বাচ্চাটির চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতোই ভয় পায় আয়াত যে ক্লাসরুমেই সে প্র*সাব করে দেয়। দীর্ঘ ৪৭ মিনিট পর ক্লাস ছুটি হলে আয়াত কোনোমতে নিচে নেমে স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য অভিভাবকদের কাছে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানায়। 

প্রথমে ক্যাম্পাসের ভাইস প্রিন্সিপাল রুহুল আমিনসহ স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ও আয়াতের এই  জখমকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করে।
আয়াতের মা আফরিণা হাসনাত হাল ছাড়েননি। তিনি স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য চাপ দেন। ফুটেজে টর্চারের অকাট্য প্রমাণ মেলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ভুক্তভোগী মায়ের কাছে ক্ষমা চায়। তীব্র সমালোচনার মুখে ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাসনিম আজাদ সুপ্তিকে চাকরি থেকে টার্মিনেট করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

আয়াতের মা বাদী হয়ে ঢাকার গ্যান্ডারিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ছোট্ট আয়াত নিজেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার ওপর হওয়া এই নি**তনের জবানবন্দি দিয়ে এসেছে। এমনকি সে এটাও জানিয়েছে যে এটা শুধু এক দিনের ঘটনা না। সেই শিক্ষক প্রায়-ই আয়াতকে টার্গেট করে বিভিন্ন ধরনের বকাঝকা করতো। তবে দুঃখের বিষয়, মূল অভিযুক্ত শিক্ষিকা সুপ্তি ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে এবং পুলিশ এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এখন আয়াতকে 'অত্যন্ত মেধাবী' আখ্যা দিয়ে তাকে স্কুলে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মায়ের সাথে যোগাযোগ করছে। কিন্তু যে স্কুল একটা বাচ্চাকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, যেখানে শিক্ষকের রূপ ধরে দানব বসে থাকে, সেখানে কোন ভরসায় মা তার সন্তানকে পাঠাবে? ছোট্ট আয়াত এখনো ট্রমা থেকে বের হতে পারেনি। ঘুমের ঘোরে সে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে, "কেউ এসে আমার চো-* তুলে নেবে!" সে আর স্কুলেই যেতে চাচ্ছে না।

আমরা কোন সমাজে বাস করছি? যে শিক্ষকের হাত শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল, সেই হাতই আজ শিশুর সাথে অন্যায় করছে। শিশুর ভয়ের কারন হচ্ছে। 

খুঁজুন