কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদার কারণে চলতি বছর তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের আয় ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন খাতটির শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তাইওয়ান বিশ্বজুড়ে চিপ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি—বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত চিপের বড় অংশই সেখানে তৈরি হয়। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপগুলোর প্রায় সবই তাইওয়ানে উৎপাদিত হয়।
চিপ উৎপাদনে তাইওয়ানের এই আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ শিল্প ‘চুরি’ করার অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ানের কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আরও বেশি চিপ কারখানা স্থাপনের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
তাইপেতে সেমিকন প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট উ চি-ই বলেন, প্রযুক্তির দিক থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ‘একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে’। তার মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গতি বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চলতি বছর তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আরও ভালো করছে। আমাদের মোট আয় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এটি ৪০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শিল্পটির জন্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ জনবল এবং সাইবার নিরাপত্তা ‘আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো একক দেশের পক্ষে পুরো চিপ সরবরাহব্যবস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব নয়।
উ বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতির জন্য অনেক দেশের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর খাতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।’
বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এআইভিত্তিক চ্যাটবট, ছবি তৈরির সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে—এমন এআই প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।
এর ফলে তাইওয়ানের বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির মতো কোম্পানিগুলোর আয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর বৈশ্বিক শেয়ারবাজারও রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।
তবে এসব বিনিয়োগ থেকে কবে লাভ আসবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি, অনেক কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বাস্তব অবস্থার তুলনায় অতিরিক্ত বেড়ে গেছে কি না, তা নিয়েও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিপ ডিজাইন ও উৎপাদন সরবরাহব্যবস্থার বৈশ্বিক শিল্প সংগঠন সেমির প্রধান অজিত মানোচা বলেন, ‘এই দশক হবে এআইয়ের দশক।’
তবে তিনি মনে করেন, এআই প্রযুক্তির বিকাশ এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনে এ খাতে ‘আরও অনেক চ্যালেঞ্জ’ আসবে।
সেমিকনের অনুষ্ঠানে মানোচা বলেন, ‘এটি সবসময় একই গতিতে এগোবে না।’
তিনি বলেন, ‘নতুন সুযোগ ও নতুন প্রতিকূলতার সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে, তা আমাদের শিখতে হবে।’
এআইয়ের চাহিদায় ২০২৬ সালে তাইওয়ানের চিপ শিল্পের আয় ৪০ শতাংশ বাড়ার প্রত্যাশা
এআইয়ের চাহিদায় ২০২৬ সালে তাইওয়ানের চিপ শিল্পের আয় ৪০ শতাংশ বাড়ার প্রত্যাশা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদার কারণে চলতি বছর তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের আয় ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন খাতটির শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। তাইওয়ান বিশ্বজুড়ে চিপ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি—বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত চিপের বড় অংশই সেখানে তৈরি হয়। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপগুলোর প্রায় সবই তাইওয়ানে উৎপাদিত হয়। চিপ উৎপাদনে তাইওয়ানের এই আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ শিল্প ‘চুরি’ করার অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ানের কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আরও বেশি চিপ কারখানা স্থাপনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাইপেতে সেমিকন প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট উ চি-ই বলেন, প্রযুক্তির দিক থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ‘একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে’। তার মতে,
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গতি বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘চলতি বছর তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আরও ভালো করছে। আমাদের মোট আয় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এটি ৪০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শিল্পটির জন্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ জনবল এবং সাইবার নিরাপত্তা ‘আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো একক দেশের পক্ষে পুরো চিপ সরবরাহব্যবস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব নয়। উ বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতির জন্য অনেক দেশের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর খাতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।’ বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এআইভিত্তিক চ্যাটবট, ছবি তৈরির সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে—এমন এআই প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।
এর ফলে তাইওয়ানের বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির মতো কোম্পানিগুলোর আয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর বৈশ্বিক শেয়ারবাজারও রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। তবে এসব বিনিয়োগ থেকে কবে লাভ আসবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি, অনেক কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বাস্তব অবস্থার তুলনায় অতিরিক্ত বেড়ে গেছে কি না, তা নিয়েও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিপ ডিজাইন ও উৎপাদন সরবরাহব্যবস্থার বৈশ্বিক শিল্প সংগঠন সেমির প্রধান অজিত মানোচা বলেন, ‘এই দশক হবে এআইয়ের দশক।’ তবে তিনি মনে করেন, এআই প্রযুক্তির বিকাশ এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনে এ খাতে ‘আরও অনেক চ্যালেঞ্জ’ আসবে। সেমিকনের অনুষ্ঠানে মানোচা বলেন, ‘এটি সবসময় একই গতিতে এগোবে না।’ তিনি বলেন, ‘নতুন সুযোগ ও নতুন প্রতিকূলতার সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে, তা আমাদের শিখতে হবে।’
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত