এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
এর ফলে বুধবার দেশজুড়ে ১৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, বুধবারের জন্য নির্ধারিত ১৭৭টি ফ্লাইট এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফ্লাইট বাতিল হয়।
ফ্লাইটরাডার২৪ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, বুধবার বাতিল হওয়া প্রায় সব ফ্লাইটই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর লন্ডনের হিথরো থেকে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।
যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (এনএটিএস) মঙ্গলবার রাতে জানায়, একটি ‘সিস্টেম বা কারিগরি ত্রুটির’ কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা এখনও কাজ করছে।
ন্যাটস এক্সে লিখেছে, ‘কারিগরি সমস্যা কাটিয়ে বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলোকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে সহায়তা করার কাজ চলছে।’
সংস্থাটি আরও বলেছে, এটি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি। এর ফলে পুরো বিমান চলাচল ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার দক্ষিণ ইতালির নেপলস শহরে নাপোলির বিপক্ষে খেলার কথা ছিল আর্সেনালের। কিন্তু দলের ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় ম্যাচের আগে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করতে বাধ্য হয় ক্লাবটি।
মঙ্গলবার রাতে হিথরো বিমানবন্দর জানায়, কারিগরি সমস্যার কারণে মঙ্গলবার বিমান অবতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর আবার ফ্লাইট ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে।’ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ন্যাটস জানিয়েছিল, যে কারিগরি ত্রুটির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা ‘সমাধান করা হয়েছে’ এবং বাতিল ও আটকে থাকা ফ্লাইটের জট কমাতে তারা ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করছে।
পশ্চিম লন্ডনের হিথরো এবং রাজধানীর দক্ষিণে অবস্থিত গ্যাটউইক বিমানবন্দর— দুটিই এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মী জোসি ডোনাহু বলেন, ‘ওখানে পরিস্থিতি একেবারে চরম দুঃস্বপ্নের মতো।’
আয়ারল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে তিন ঘণ্টা রানওয়েতে আটকে থাকার পর তাকে বিমান থেকে নামতে হয়।
ব্রিটেনের সংবাদ সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে তিনি বলেন, ‘ওই বিমানবন্দর থেকে বের হওয়াটা যেন আলকাট্রাজ কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার মতো ছিল।’
লিভারপুল, বার্মিংহাম ও এডিনবরার বিমানবন্দরও এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দর জানিয়েছে, সেখান থেকেও কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন এবং ৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ব্রিটিশ পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এক্সে বলেন, এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে এবং বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে সহায়তা করা সিস্টেমগুলো যথাযথভাবে কাজ করছে— এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাইছেন।
তবে রায়ান এয়ারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) নিল ম্যাকমাহন আবারও এনএটিএস-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রলফ আবারও যুক্তরাজ্যের বিমানযাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছেন।
ম্যাকমাহন বলেন, এবার যথেষ্ট হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের এখন হস্তক্ষেপ করার সময় এসেছে এবং এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে, যিনি কাজটি ঠিকভাবে করতে পারবেন।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ত্রুটিতে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে ফের ভোগান্তি
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ত্রুটিতে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে ফের ভোগান্তি
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বুধবার দেশজুড়ে ১৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, বুধবারের জন্য নির্ধারিত ১৭৭টি ফ্লাইট এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফ্লাইট বাতিল হয়। ফ্লাইটরাডার২৪ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, বুধবার বাতিল হওয়া প্রায় সব ফ্লাইটই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর লন্ডনের হিথরো থেকে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (এনএটিএস) মঙ্গলবার রাতে জানায়, একটি ‘সিস্টেম বা কারিগরি ত্রুটির’ কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা এখনও কাজ করছে। ন্যাটস এক্সে লিখেছে, ‘কারিগরি সমস্যা কাটিয়ে বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলোকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে সহায়তা করার কাজ চলছে।’ সংস্থাটি আরও বলেছে, এটি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি। এর ফলে পুরো বিমান চলাচল ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময়
লাগবে।চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার দক্ষিণ ইতালির নেপলস শহরে নাপোলির বিপক্ষে খেলার কথা ছিল আর্সেনালের। কিন্তু দলের ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় ম্যাচের আগে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করতে বাধ্য হয় ক্লাবটি। মঙ্গলবার রাতে হিথরো বিমানবন্দর জানায়, কারিগরি সমস্যার কারণে মঙ্গলবার বিমান অবতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর আবার ফ্লাইট ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে।’ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এর আগে ন্যাটস জানিয়েছিল, যে কারিগরি ত্রুটির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা ‘সমাধান করা হয়েছে’ এবং বাতিল ও আটকে থাকা ফ্লাইটের জট কমাতে তারা ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করছে। পশ্চিম লন্ডনের হিথরো এবং রাজধানীর দক্ষিণে অবস্থিত গ্যাটউইক বিমানবন্দর— দুটিই এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মী জোসি ডোনাহু বলেন, ‘ওখানে পরিস্থিতি একেবারে চরম দুঃস্বপ্নের মতো।’ আয়ারল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে তিন ঘণ্টা রানওয়েতে আটকে থাকার পর তাকে বিমান থেকে নামতে হয়। ব্রিটেনের সংবাদ সংস্থা
প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে তিনি বলেন, ‘ওই বিমানবন্দর থেকে বের হওয়াটা যেন আলকাট্রাজ কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার মতো ছিল।’ লিভারপুল, বার্মিংহাম ও এডিনবরার বিমানবন্দরও এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে।আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দর জানিয়েছে, সেখান থেকেও কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন এবং ৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ব্রিটিশ পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এক্সে বলেন, এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে এবং বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে সহায়তা করা সিস্টেমগুলো যথাযথভাবে কাজ করছে— এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাইছেন। তবে রায়ান এয়ারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) নিল ম্যাকমাহন আবারও এনএটিএস-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।তিনি অভিযোগ করেন, রলফ আবারও যুক্তরাজ্যের বিমানযাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছেন। ম্যাকমাহন বলেন, এবার যথেষ্ট হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের এখন হস্তক্ষেপ করার সময় এসেছে এবং এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে, যিনি কাজটি ঠিকভাবে করতে পারবেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত