২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ টাকার উৎস নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারেন সে বিধানও রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ বিধান রেখে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এদিন বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আগামী ৩০ জুন পাস হবে এ বাজেট। অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার এই বিধান অপরিবর্তিত থাকলে আগামী জুলাই থেকে পরবর্তী জুন মাসের মধ্যে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে মিলবে এ সুযোগ।
এর আগে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখা হলেও সমালোচনার মুখে তা পরে বাদ দেওয়া হয়। তার আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ ছিল। তখনও এ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বিধান ছিল।
এর আগেও অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রেখে অর্থবিলে আয়কর আইন ২০২৩ এর প্রথম তফসিলে সংশোধন আনে সরকার। এতে বলা হয়, ‘এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বপ্রণোদিতভাবে প্রদর্শিত নিম্নবর্ণিত বিনিয়োগ বা ক্রয় অথবা প্রাপ্তি এর উৎস এবং ইহার বিপরীতে পরিশোধিত করের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।’
এ বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘ক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি হলে, তিনি ওই ‘অপ্রদর্শিত’ অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের ওপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ‘নিয়মিত করহারে’ আয়কর পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যেভাবে একটা ধাপ অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা থাকে, তারপর বিভিন্ন ধাপে আয় হলে তার ওপর করহার পরিবর্তন হয়, এক্ষেত্রেও তাইই হবে।
একইভাবে যিনি বিক্রি করে অপ্রদর্শিত অর্থের মালিক হবেন এবং বৈধ করতে চাইবেন তার জন্যও বিধান রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘বিক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা ‘অধিক’ হলে, তিনি ‘অপ্রদর্শিত’ ওই অতিরিক্ত অঙ্কের ওপর ‘মূলধনী মুনাফা’র জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিশোধ করবেন।
অর্থাৎ তিনি এই জমি যখন কিনেছেন তখন যে মূল্য ছিল এবং তিনি যে টাকায় বিক্রি করেছেন এর মধ্যে যে ব্যবধান থাকবে সেটিই তার মুনাফা। এবং এই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে তাকে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি তার অপ্রদর্শিত অর্থ ‘স্বপ্রণোদিত’ বৈধ করার আগেই আয়কর আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো অডিট বা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, তাহলে তখনও তিনি এ অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তার সেই অর্থের ওপর তখন যে কর ধার্য হওয়ার কথা, তার চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে তাকে।
অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার জন্য আয়কর বিবরণী বা রিটার্নের ‘জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী’তে ‘উৎসে কর্তিত’ বা ‘সংগৃহীত কর’ উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমেই কর্মকর্তারা বুঝতে পারবেন এবং তাকে এ নিয়ে আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না।
তবে এই ‘স্বপ্রণোদিত’ ঘোষণার আগেই যদি দেশের কোনো আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলে বা অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়- তাহলে এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন না তিনি।
ফিরল কালো টাকা সাদা করার সুযোগ
ফিরল কালো টাকা সাদা করার সুযোগ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ টাকার উৎস নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারেন সে বিধানও রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ বিধান রেখে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এদিন বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী ৩০ জুন পাস হবে এ বাজেট। অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার এই বিধান অপরিবর্তিত থাকলে আগামী জুলাই থেকে পরবর্তী জুন মাসের মধ্যে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে মিলবে এ সুযোগ। এর আগে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখা হলেও সমালোচনার মুখে তা পরে বাদ দেওয়া হয়। তার আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ ছিল। তখনও এ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বিধান ছিল। এর আগেও অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রেখে অর্থবিলে আয়কর আইন ২০২৩ এর প্রথম তফসিলে সংশোধন আনে সরকার। এতে বলা হয়, ‘এই
আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বপ্রণোদিতভাবে প্রদর্শিত নিম্নবর্ণিত বিনিয়োগ বা ক্রয় অথবা প্রাপ্তি এর উৎস এবং ইহার বিপরীতে পরিশোধিত করের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।’ এ বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘ক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি হলে, তিনি ওই ‘অপ্রদর্শিত’ অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের ওপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ‘নিয়মিত করহারে’ আয়কর পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যেভাবে একটা ধাপ অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা থাকে, তারপর বিভিন্ন ধাপে আয় হলে তার ওপর করহার পরিবর্তন হয়, এক্ষেত্রেও তাইই হবে। একইভাবে যিনি বিক্রি করে অপ্রদর্শিত অর্থের মালিক হবেন এবং বৈধ করতে চাইবেন তার জন্যও বিধান রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘বিক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা ‘অধিক’ হলে, তিনি ‘অপ্রদর্শিত’ ওই অতিরিক্ত অঙ্কের ওপর ‘মূলধনী মুনাফা’র জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ তিনি এই জমি যখন কিনেছেন তখন যে মূল্য ছিল এবং তিনি যে টাকায়
বিক্রি করেছেন এর মধ্যে যে ব্যবধান থাকবে সেটিই তার মুনাফা। এবং এই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে তাকে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি তার অপ্রদর্শিত অর্থ ‘স্বপ্রণোদিত’ বৈধ করার আগেই আয়কর আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো অডিট বা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, তাহলে তখনও তিনি এ অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তার সেই অর্থের ওপর তখন যে কর ধার্য হওয়ার কথা, তার চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে তাকে। অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার জন্য আয়কর বিবরণী বা রিটার্নের ‘জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী’তে ‘উৎসে কর্তিত’ বা ‘সংগৃহীত কর’ উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমেই কর্মকর্তারা বুঝতে পারবেন এবং তাকে এ নিয়ে আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না। তবে এই ‘স্বপ্রণোদিত’ ঘোষণার আগেই যদি দেশের কোনো আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলে বা অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়- তাহলে এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন না তিনি।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত