মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণের ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে অভিযোগ: চসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষা শিখে বিনা খরচে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম-অযোগ্য ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ক্রিমার মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ শুরু মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ : ডি ভিলিয়ার্স রদ্রিকে না পেলেও স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট মরিনহো
রাজনীতি জিয়াউর রহমানের পারিবারিক পটভূমি

জিয়াউর রহমানের পারিবারিক পটভূমি

জিয়াউর রহমানের পারিবারিক পটভূমি ও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ​বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের অন্যতম একটি দিক হলো তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের পরিবারের ভূমিকা। ​বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬-র ছয় দফা কিংবা ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান—বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার কোনো আন্দোলনেই তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা ছিল না। ​

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও তাঁর পরিবারের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। ​১. ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের অবস্থান ও পাকিস্তান সংযোগ ​১৯৭১ সালে যখন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন মেজর জিয়ার পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে। ​রেজাউর রহমান (বড় ভাই): যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে (Pakistan Navy) কর্মরত ছিলেন এবং তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানেই অবস্থান করছিলেন।

 শত্রু রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অংশ হিসেবেই তিনি পুরো যুদ্ধকাল অতিবাহিত করেন। ​অন্যান্য ভাই ও বোন: তাঁর অপর তিন ভাই—খলিলুর রহমান, মিজানুর রহমান এবং আহমেদ কামাল—সবাই বোনসহ যুদ্ধের পুরোটা সময় পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থান করছিলেন। বাঙালিদের ওপর নির্মম গণহত্যা চলাকালীন পাকিস্তানের মাটিতে তাদের এই অবস্থান নিয়ে ঐতিহাসিক মহলে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। ​২. যুদ্ধ-পরবর্তী অবস্থান ও নাগরিকত্ব ​দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জিয়ার পরিবার বাংলাদেশে এলেও পরবর্তীতে তারা পুনরায় পাকিস্তানে ফিরে যান এবং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। ​

পাকিস্তানের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব: জিয়ার তিন ভাই—রেজা, খলিল ও মিজান—পরবর্তী জীবনেও পাকিস্তানের নাগরিকত্ব ধরে রাখেন এবং পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী হিসেবেই জীবন অতিবাহিত করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি তাদের কোনো আনুগত্য বা নাগরিক দায়বদ্ধতা ছিল না। ​পিতা-মাতার শেষ ঠিকানা: জিয়াউর রহমানের বাবা মনসুর রহমান এবং মা জাহানারা খাতুন (রাণী)—উভয়ের কবরই পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত। পারিবারিক এই গভীর ভৌগোলিক টান সবসময়ই তাদের পাকিস্তানের কাছাকাছি রেখেছিল। ​৩. আহমেদ কামাল ও বঙ্গবন্ধু সরকারের মানবিকতা ​জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল অবশ্য বাংলাদেশে থেকে গিয়েছিলেন।

 ​তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে এবং উদারতা দেখিয়ে আহমেদ কামালকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ​ঐতিহাসিক মূল্যায়ন: বাংলাদেশের জন্মলগ্নে যেখানে লাখো পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে, সেখানে একটি পরিবারের সকল সদস্যের পাকিস্তানপন্থী অবস্থান এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করে পাকিস্তানি পাসপোর্ট গ্রহণ করা—তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ একটি অধ্যায়।

খুঁজুন