সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে বদলে যাবে • অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায়
আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতে নতুন মেরুকরণ, তেলের বাজারে চীন

জ্বালানি খাতে নতুন মেরুকরণ, তেলের বাজারে চীন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা ছিল চীনের।

অথচ দীর্ঘ পাঁচ মাসের ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থায় তৈরি হয়েছে ঠিক তার বিপরীত এক সমীকরণ। কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে কৌশলগত বিশাল তেলের মজুত, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং হঠাৎ চাহিদা কমিয়ে আনার নীতিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব তেলের বাজারে ক্ষমতা প্রদর্শনের নতুন এক কৌশল দেখিয়েছে বেইজিং—যা মূলত তেল উৎপাদনের নয়, বরং ‘তেল না কেনার’ ক্ষমতা।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে স্থবিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এপ্রিলের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলে ১২৬.৪১ ডলার পর্যন্ত উঠলেও দীর্ঘমেয়াদি দরবিস্ফোরণ থেকে রেহাই পেয়েছে বিশ্ব। জরুরি মজুত উন্মুক্ত করা ও বিকল্প পথে উপসাগরীয় তেল পরিবহনের পাশাপাশি চীনের আমদানি কমানোর সিদ্ধান্তই এখানে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

আমদানি হ্রাস: যুদ্ধের আগে দৈনিক ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করলেও জুন-জুলাইয়ে চীনের দৈনিক গড় আমদানি নেমে আসে ৭৮ লাখ ব্যারেলে। জুনে তা এক দশকের সর্বনিম্নের কাছাকাছি (দৈনিক ৭১ লাখ ব্যারেল) পৌঁছায়, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহের ওপর থেকে বড় ধরনের চাপ কমায়।

বিশাল কৌশলগত মজুত: চীনের হাতে বর্তমানে ১২০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। বেইজিং এর সঠিক পরিমাণ প্রকাশ না করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে যে চীন কত দিন কম আমদানিতে চলতে পারবে।

রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ: এপ্রিলে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি এক দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনে চীন নিজের দেশের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রেখেছে। দশকজুড়ে দর ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ওপেক এবং ওপেক প্লাসের প্রধান হাতিয়ার ছিল উৎপাদন বাড়ানো বা কমানো। তবে চীনের এই উল্টো কৌশল এবং সংগঠনের ভেতরের নতুন ফাটল ওপেকের একক প্রভাবকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রস্থান: মে মাসের ১ তারিখ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ওপেকের প্রায় ছয় দশকের সদস্যপদ ত্যাগ করেছে। নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ইউএই কোটামুক্ত হওয়ায় জোটটির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

উপসাগরীয় গুরুত্ব: মে মাসে ওপেকের উৎপাদন ২০০০ সালের পর সর্বনিম্নে নামলেও জুলাইয়ে দিনে ১১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ বেড়েছে, যা প্রমাণ করে বিশ্ব সরবরাহে তাদের গুরুত্ব এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), উচ্চগতির রেল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত বিস্তারে চীনে জ্বালানি তেলের প্রথাগত ব্যবহার থমকে দাঁড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) তথ্যমতে:

২০২৫ সালেই বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারের কারণে চীনে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

২০৩০ সাল নাগাদ এই সঞ্চয় দৈনিক ২৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।

ভবিষ্যতে চীনে তেলের ব্যবহার কমে এলে বিশাল মজুত গড়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে, যা সংকটকালীন বাজারে আমদানিতে হঠাৎ পরিবর্তন আনার এই নতুন ক্ষমতাকেও কিছুটা পুনর্বিন্যস্ত করবে।

ইরান যুদ্ধ বিশ্ব তেলের বাজারকে স্পষ্ট এক বার্তা দিয়েছে—আমদানিকারক দেশ হলেও বিশাল ক্রয়ক্ষমতা আর অভ্যন্তরীণ কৌশল দিয়ে যে বৈশ্বিক দর নিয়ন্ত্রণে বড় প্রভাব ফেলা সম্ভব, চীন তা প্রমাণ করে দেখাল।

খুঁজুন