সংবিধানে পরিবর্তন আনার পর আজ নতুন এককক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ কাজাখস্তান। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
তবে সমালোচকদের দাবি, এর মাধ্যমে মূলত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাই আরও সুসংহত করা হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ কাজাখস্তান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং চীনের সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী কৌশলগত অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
কাজাখস্তানের মোট প্রায় ২ কোটি মানুষের মধ্যে ১ কোটি ২৬ লাখ ভোটার এবার ভোট দেওয়ার যোগ্য।
গত মার্চে কাজাখস্তানে নতুন সংবিধান গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট বিলুপ্ত করে এককক্ষবিশিষ্ট নতুন পার্লামেন্ট গঠন করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুরুলতাই’, যা মধ্য এশিয়াজুড়ে বসবাসকারী যাযাবর জনগোষ্ঠীর মধ্যযুগীয় পরিষদের নাম থেকে এই শব্দটি নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পার্লামেন্টের ভূমিকা ও গুরুত্ব বাড়বে। এর আগে প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় পার্লামেন্টের ভূমিকা অনেকটাই সীমিত ছিল।
২০১৯ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ ‘ন্যায্য কাজাখস্তান’ নামে একটি সংস্কার কর্মসূচির কথা বলে আসছেন।
২০২২ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস দাঙ্গায় রূপ নিলে ২৩৮ জন নিহত হয়। এরপর তোকায়েভ রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
৭৩ বছর বয়সী তোকায়েভ দাবি করেন, তিনি তার পূর্বসূরি নুরসুলতান নজরবায়েভের কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে দেশকে বের করে আনার চেষ্টা করছেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর নজরবায়েভ প্রায় তিন দশক কাজাখস্তান শাসন করেন।
প্রকৃত বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, বাস্তবে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সুযোগ খুবই সীমিত।
রোববারের নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে মাত্র সাতটি সরকার অনুমোদিত রাজনৈতিক দল। এসব দলের প্রায় সবাই তোকায়েভের প্রতি অনুগত।
অন্যদিকে, প্রকৃত বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি; অনেক বিরোধী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ।
ফলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তেমন কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তোকায়েভপন্থী আদিলেত পার্টি ১৪৫টি আসনের অধিকাংশই পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলটি কার্যত বর্তমান ক্ষমতাসীন আমানাত পার্টির নতুন রূপ। তোকায়েভের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সমর্থন করার লক্ষ্যেই দলটিকে গড়ে তোলা হয়েছে।
সংবিধানের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে প্রেসিডেন্ট তোকায়েভের মেয়াদসংক্রান্ত আগের সীমাবদ্ধতাও নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে। এর ফলে তিনি ২০২৯ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে তোকায়েভ বলেছেন, ২০২৯ সালের পর তিনি আর ক্ষমতায় থাকতে চান না।
কাজাখস্তানে জাতীয় নির্বাচন, গঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্টপন্থী পার্লামেন্ট
কাজাখস্তানে জাতীয় নির্বাচন, গঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্টপন্থী পার্লামেন্ট
সংবিধানে পরিবর্তন আনার পর আজ নতুন এককক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ কাজাখস্তান। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। তবে সমালোচকদের দাবি, এর মাধ্যমে মূলত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাই আরও সুসংহত করা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ কাজাখস্তান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং চীনের সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী কৌশলগত অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কাজাখস্তানের মোট প্রায় ২ কোটি মানুষের মধ্যে ১ কোটি ২৬ লাখ ভোটার এবার ভোট দেওয়ার যোগ্য। গত মার্চে কাজাখস্তানে নতুন সংবিধান গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট বিলুপ্ত করে এককক্ষবিশিষ্ট নতুন পার্লামেন্ট গঠন করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুরুলতাই’, যা মধ্য
এশিয়াজুড়ে বসবাসকারী যাযাবর জনগোষ্ঠীর মধ্যযুগীয় পরিষদের নাম থেকে এই শব্দটি নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পার্লামেন্টের ভূমিকা ও গুরুত্ব বাড়বে। এর আগে প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় পার্লামেন্টের ভূমিকা অনেকটাই সীমিত ছিল। ২০১৯ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ ‘ন্যায্য কাজাখস্তান’ নামে একটি সংস্কার কর্মসূচির কথা বলে আসছেন। ২০২২ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস দাঙ্গায় রূপ নিলে ২৩৮ জন নিহত হয়। এরপর তোকায়েভ রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। ৭৩ বছর বয়সী তোকায়েভ দাবি করেন, তিনি তার পূর্বসূরি নুরসুলতান নজরবায়েভের কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে দেশকে বের করে আনার চেষ্টা করছেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর নজরবায়েভ প্রায় তিন দশক কাজাখস্তান শাসন করেন। প্রকৃত বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বাস্তবে রাজনৈতিক
প্রতিযোগিতার সুযোগ খুবই সীমিত। রোববারের নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে মাত্র সাতটি সরকার অনুমোদিত রাজনৈতিক দল। এসব দলের প্রায় সবাই তোকায়েভের প্রতি অনুগত। অন্যদিকে, প্রকৃত বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি; অনেক বিরোধী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ। ফলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তেমন কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তোকায়েভপন্থী আদিলেত পার্টি ১৪৫টি আসনের অধিকাংশই পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটি কার্যত বর্তমান ক্ষমতাসীন আমানাত পার্টির নতুন রূপ। তোকায়েভের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সমর্থন করার লক্ষ্যেই দলটিকে গড়ে তোলা হয়েছে। সংবিধানের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে প্রেসিডেন্ট তোকায়েভের মেয়াদসংক্রান্ত আগের সীমাবদ্ধতাও নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে। এর ফলে তিনি ২০২৯ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে তোকায়েভ বলেছেন, ২০২৯ সালের পর তিনি আর ক্ষমতায় থাকতে চান না।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত