বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দিনাজপুরে অধিক ফলনে আউস ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় অর্কেস্ট্রা গঠনে খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আহ্বান ভূমি অফিসে কর্মকর্তাদের প্রকৃত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জিও ফেন্সিং চালু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান গুলশান ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ ভারতে পলাতক আসামিরা যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সি-কে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প, তবে প্রত্যাশা কম বেসিক ব্যাংকের ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
দেশের খবর কংক্রিটের শহরে শরৎ—কাশফুলের মায়ায় মজেছে চট্টগ্রামবাসী

কংক্রিটের শহরে শরৎ—কাশফুলের মায়ায় মজেছে চট্টগ্রামবাসী

বর্ষার শেষভাগ পেরিয়ে প্রকৃতি যখন আপন রং বদলাতে শুরু করে, তখনই নদীরপাড়, খাল-বিলে, পুকুরধারে, চর কিংবা পতিত জমিতে কাশের সাদা মঞ্জরি ফুটে ওঠে। বিস্তৃত নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল— এ দেশে শরৎকাল চেনার সবচেয়ে দৃশ্যমান চিহ্ন।

‘কংক্রিটের শহর চট্টগ্রামে’ চারদিকে উঁচু ভবনের সারি, ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের শব্দ আর মানুষের আপন গন্তব্যে ছুটে চলার মাঝে শরতের আগমন জানিয়ে দেয় ধবধবে সাদা কাশের নির্মল এক ক্যানভাস। 

শহরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের একপাশে সিডিএর ‘অনন্যা আবাসিক’ এলাকার খালি প্লটে শরতের কাশবন নীরবে-অযত্নে জেগে উঠে প্রতি বছর। 

বরাবরের মতো এ বছরও শুভ্র ঘাসফুলের রূপের মায়ায় মজে উঠেছে শহরের প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপসু তরুণ-তরুণী কিংবা শৌখিন মানুষজন।

প্রকৃতিতে শরৎ এলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ের কোথাও কোথাও কাশের মঞ্জরি ফুটে উঠে। 

সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণাধীন চাক্তাই-কালুরঘাট সড়কের পাশে ও নগরীর প্রান্তিক এলাকা পতেঙ্গা, আকবরশাহ ও কালুরঘাটের কিছু কিছু এলাকায়ও বাতাসে সাদা ঢেউ দোল খেতে দেখা যায়। তবে বিস্তৃত পরিধিতে মানুষজনকে মায়ার হাতছানি দেয় অনন্যা আবাসিকের ‘বড় কাশবন’।

সরেজমিনে দেখা যায়, এটি কোনো পরিকল্পিত উদ্যান নয়, নেই সাজানো ফুলের বাগানও। সিডিএ’র এই আবাসিক এলাকার যে প্লটগুলোতে এখনও ভবন নির্মাণ হয়নি, সেখানে আপনমনে দুলছে কাশফুল। বাতাস একটু জোরে এলেই হাজারো সাদা মঞ্জরি একসঙ্গে দুলে উঠছে। দূর থেকে মনে হয়, শহরের বুকের ভেতর কেউ যেন সাদা মেঘের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। 

সকাল থেকে বিকেল— কাশবনের পাশে থামছে রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি। কেউ আসছেন পরিবার পরিজন নিয়ে, কেউ আসছেন বন্ধ-ুবান্ধব একত্রিত হয়ে, কেউ আসছেন শিশুদের সঙ্গে নিয়ে। কেউ দাঁড়িয়ে দেখছে, শিশুরা অবাক হচ্ছে আর কেউ কাশবনে নিজেকে রেখে স্মৃতি ক্যামেরাবন্দী করছেন। 

তরুণ-তরুণীদের কেউ কেউ করছেন ফটোশুট বা ভিডিও শুটিং। দেখা গেল, শিশুদের আনন্দের সীমা নেই। কাশের ঝোপের মধ্যে ছুটে বেড়াচ্ছে তারা। বাবা-মায়ের হাত ধরে কখনো ফুল ছুঁয়ে দেখছে, কখনো আবার ফুল হাতে নিয়ে ছবি তুলছে।

নগরীর চকবাজার এলাকা থেকে বেড়াতে যাওয়া শিল্পী রাণী বাসসকে বলেন, ‘শহরে তো এখন চারদিকে শুধু ভবন আর গাড়ি। বাচ্চাদের নিয়ে একটু প্রকৃতির কাছে যাওয়ার জায়গাও কমে গেছে। এখানে এসে কাশফুল দেখে ওরা খুব আনন্দ করছে। তাই সময় পেলেই তাদের নিয়ে চলে আসি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে কাশবনের জনপ্রিয়তা যেন আরও বেড়েছে। এক সময় কাশফুল ছিল কেবলই গ্রামবাংলার পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এখন শহরের অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে সেটিই হয়ে উঠছে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড। 

কাশবনে ছবি তোলার জন্য কেউ শাড়ি পরে আসছেন, কেউ পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরে। হাতে ক্যামেরা, মোবাইল ফোন কিংবা ছোট ভিডিও ক্যামেরা। বন্ধুরা মিলে কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। তাদের লক্ষ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা।

জামালখান থেকে বেড়াতে আসা তানজিলা হোসেন বাসসকে বলেন,  ‘এখানে এসে মনে হয় শহরের মধ্যে নেই। কাশফুলের সামনে দাঁড়ালে ছবিটাও অন্যরকম আসে। তাই বান্ধবীদের নিয়ে এখানে ফটোশুট করতে এসেছি। এটা তো একটা জীবন্ত প্রাকৃতিক ব্রাকগ্রাউন্ড। বিকেলের আলোতে কাশফুলের সঙ্গে ছবি অনেক সুন্দর হয়।’

বিকেলের দিকে এখানে বয়সের বৈচিত্র্যও চোখে পড়ে। প্রবীণ থেকে শিশু—সব বয়সী মানুষই কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসছেন। কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে বাতাসে দুলতে থাকা কাশ দেখছেন। কেউ আবার পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে করছেন। গ্রামের মাঠে, নদীর চরে কিংবা মেঠোপথের পাশে কাশফুল দেখার অভিজ্ঞতা ছিল যাদের, শহরের মাঝখানে হঠাৎ সেই দৃশ্য তাদের কাছে ফিরিয়ে আনছে শৈশবের দিনগুলো।

একজন মধ্যবয়সী দর্শনার্থী বলেন, ‘ছোটবেলায় গ্রামে শরৎ এলে কাশবন দেখতে বের হতাম। এখন শহরে থাকি, সেই দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ে না। এখানে এসে মনে হলো ছোটবেলার সেই দিনগুলো আবার ফিরে এসেছে।’

প্রসঙ্গত, কাশফুলের বৈজ্ঞানিক নাম স্যাকারাম স্পন্টেনিয়াম। এটি ঘাসজাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। বাংলাদেশের বিভিন্ন পতিত জমিতে স্বাভাবিকভাবে জন্মে। 
চট্টগ্রামে এর স্থানীয় নাম ‘কৈছা’ বা ‘কৈচ্ছা’।

খুঁজুন