মার্কিন সামরিক বাহিনীর রক্ষী দল মহড়া দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাডও প্রস্তুত। তবে আগামী সপ্তাহে শীর্ষ বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কতটা অগ্রগতি হবে, সেটিই এখন প্রশ্ন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সর্বনাশা পরিস্থিতির আশঙ্কা চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম হোয়াইট হাউস বৈঠকে বড় হয়ে উঠছে। এ প্রযুক্তিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় দুই দেশই প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধও আলোচনায় বড় ছায়া ফেলছে। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চায় চীন। তবে এমন খবরও রয়েছে যে, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য বেইজিং তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে।
বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্কের প্রভাব কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আশঙ্কাও রয়েছে।
সবকিছুর পেছনে রয়েছে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। একদিকে, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব নেতৃত্বে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে দ্রুত উত্থানশীল চীন ২১ শতককে চীনের শতকে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে প্রায় সবকিছু নিয়েই আলোচনা করব।’
‘বেশি কিছু প্রত্যাশা করবেন না’-
তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দুই নেতা কোনো সুনির্দিষ্ট ফল অর্জনের চেয়ে আপেক্ষিক বিরতি আরও কিছুটা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছিল চার মাস আগে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের সময়।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জোনাথন সিন এএফপিকে বলেন, ‘এ বৈঠক থেকে খুব বেশি কিছু অর্জিত হবে বলে আমি মনে করি না।’
তিনি বলেন, ‘অনেক দিক থেকেই এটি মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। সেখানে মূলত দুই নেতার কথিত সৌহার্দ্যের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।’
এআই নিয়ে উদ্বেগ যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার শীর্ষে, তখন এ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা কিংবা এর উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে সমঝোতা ট্রাম্প ও সির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
তবে বড় কোনো চুক্তি এখন ‘রাজনৈতিকভাবে সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াং দং। এআইয়ে আধিপত্যের দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা বেইজিং ও ওয়াশিংটন—উভয়েরই রয়েছে।
ইরান নিয়েও আলোচনা হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ সপ্তাহের শেষে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লাইফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শীর্ষ বৈঠকের আগে তারা আলোচনা করবেন।
তবে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানকে স্যাটেলাইটের ছবি সরবরাহ করেছে—এমন খবরকে ট্রাম্প গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। তিনি বলেছেন, সি ‘যথেষ্ট যুক্তিসংগত আচরণ করেছেন।’
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ইউ সু এএফপিকে জানান, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘শুল্ক, কৃষিপণ্য ক্রয় এবং নির্দিষ্ট কিছু রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে।’
-‘দৃশ্যমান আয়োজন’-
তবে আগের অনেক বৈঠকের মতো এবারও ট্রাম্প শক্তিশালী কোনো বিদেশি নেতার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তুর চেয়ে এর দৃশ্যমান আয়োজনেই বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমানে এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান কার্ট ক্যাম্পবেল বলেন, ‘এটি শীর্ষ বৈঠকের চেয়ে বেশি একটি দৃশ্যমান আয়োজন। এটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তৈরি।’
সি’র সফরের সময়ের মধ্যে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন গ্রানাইটের হেলিকপ্টার অবতরণস্থল প্রস্তুত করার জন্য ট্রাম্প তাগিদ দিয়েছেন। সফরে একটি জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজও থাকবে। স্বাগত অনুষ্ঠানের আগে এ সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের সড়কে ঝলমলে পোশাক পরা সেনারা মহড়া দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের একমাত্র হতাশা হলো, নির্মাণাধীন ৪০ কোটি ডলারের বলরুমটি প্রস্তুত হচ্ছে না। তবে তিনি বলেছেন, নির্মাণ শেষ হলে এটি বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলকেও ‘ছাড়িয়ে যাবে’। মে মাসে বেইজিং সফরের সময় সি সেখানে তাকে আপ্যায়ন করেন।
নভেম্বরে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) ফোরামে ট্রাম্প ও সি’র বৈঠকের কথা রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে নিয়ে তিন দেশের নেতাদের বৈঠকের প্রস্তাবও দিয়েছে ক্রেমলিন।
এদিকে ডিসেম্বরে মিয়ামিতে নিজের ডোরাল রিসোর্টে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে সি-কে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন ট্রাম্প।