রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে সর্বশেষ নিরাপত্তা ঘটনার অংশ হিসেবে লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট গিতানাস নওসেদা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং ন্যাটোর সদস্য—এমন তিন বাল্টিক দেশ লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এসব দেশ নিয়মিতভাবে তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনা জানিয়ে আসছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট নওসেদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, ‘লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আরও বাড়িয়ে দেওয়ায় আমাদের অঞ্চলের জন্য এ ধরনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
লিথুয়ানিয়ার জাতীয় রেডিও এলআরটি, জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (এনকেভিসি)-এর প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ড্রোনটি প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করেছিল এবং পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল।
পরে ড্রোনটি দেশটির মধ্যাঞ্চলে কাউনাস হ্রদের কাছাকাছি একটি গ্রামীণ এলাকায় ভূপাতিত হয় বলে এলআরটি জানিয়েছে।
লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্টুটিস বুদরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের উপস্থিতি লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমা সুরক্ষায় সহায়তা করছে এবং দেশের নিরাপত্তা জোরদার করছে।
তিনি বলেন, ‘মিত্রদের ঐক্য ও দৃঢ়তার এটি একটি চমৎকার উদাহরণ। এর মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ন্যাটো সতর্ক, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজনে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’
আকাশসীমা সুরক্ষায় পোল্যান্ডের পদক্ষেপ
এদিকে পোল্যান্ডও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ‘বিমান চলাচলসংক্রান্ত অভিযান’ শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ডে হামলা চালানো রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোনের তৎপরতার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে।
পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ ‘প্রতিরোধমূলক’ এবং এর লক্ষ্য হলো দেশের আকাশসীমা নিরাপদ রাখা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যেসব এলাকা সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি, সেসব এলাকার আকাশসীমার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
লিথুয়ানিয়ায় ড্রোন প্রবেশের এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে ইউক্রেনও উত্তেজনা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
তবে এর মধ্যেই ইউক্রেনীয় বাহিনী রাতভর রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে দেশটির সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০২টি ড্রোন ছুড়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই ছিল কোনো বাল্টিক দেশের আকাশসীমায় বিদেশি ড্রোনকে ন্যাটোর যুদ্ধবিমানের প্রথম সরাসরি বাধাদান বা গুলি করে নামানোর ঘটনা।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়া ইউক্রেনের যেসব ড্রোন সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের শিল্প স্থাপনা ও তেল টার্মিনালে হামলার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়, সেগুলোর গতিপথ পরিবর্তন করে দিচ্ছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলটি ফিনল্যান্ড উপসাগরের তীরে অবস্থিত।
এদিকে লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট জুলাইয়ের শুরুতে বলেছিলেন, মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থায় তার দেশও অংশ নিতে চায়।
এর পর থেকে লিথুয়ানিয়া নিজেদের ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণের ওপর থাকা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ঢুকে পড়া ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করল ন্যাটো
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ঢুকে পড়া ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করল ন্যাটো
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে সর্বশেষ নিরাপত্তা ঘটনার অংশ হিসেবে লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট গিতানাস নওসেদা এ তথ্য জানিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং ন্যাটোর সদস্য—এমন তিন বাল্টিক দেশ লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এসব দেশ নিয়মিতভাবে তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনা জানিয়ে আসছে। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট নওসেদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, ‘লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আরও বাড়িয়ে দেওয়ায় আমাদের অঞ্চলের জন্য এ ধরনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ লিথুয়ানিয়ার জাতীয় রেডিও এলআরটি, জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (এনকেভিসি)-এর প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ড্রোনটি প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করেছিল এবং পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল। পরে ড্রোনটি দেশটির মধ্যাঞ্চলে কাউনাস হ্রদের কাছাকাছি একটি গ্রামীণ এলাকায় ভূপাতিত হয় বলে এলআরটি জানিয়েছে। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্টুটিস বুদরিস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের উপস্থিতি লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমা সুরক্ষায় সহায়তা করছে এবং দেশের নিরাপত্তা জোরদার করছে। তিনি বলেন, ‘মিত্রদের ঐক্য ও দৃঢ়তার এটি একটি চমৎকার উদাহরণ। এর মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ন্যাটো সতর্ক, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজনে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’ আকাশসীমা সুরক্ষায় পোল্যান্ডের পদক্ষেপ এদিকে পোল্যান্ডও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ‘বিমান চলাচলসংক্রান্ত অভিযান’ শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ডে হামলা চালানো রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোনের তৎপরতার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে। পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ ‘প্রতিরোধমূলক’ এবং এর লক্ষ্য হলো দেশের আকাশসীমা নিরাপদ রাখা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যেসব এলাকা সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি, সেসব এলাকার আকাশসীমার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লিথুয়ানিয়ায় ড্রোন প্রবেশের এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে ইউক্রেনও উত্তেজনা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন,
রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এর মধ্যেই ইউক্রেনীয় বাহিনী রাতভর রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে দেশটির সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০২টি ড্রোন ছুড়েছে। চলতি বছরের মে মাসে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই ছিল কোনো বাল্টিক দেশের আকাশসীমায় বিদেশি ড্রোনকে ন্যাটোর যুদ্ধবিমানের প্রথম সরাসরি বাধাদান বা গুলি করে নামানোর ঘটনা। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়া ইউক্রেনের যেসব ড্রোন সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের শিল্প স্থাপনা ও তেল টার্মিনালে হামলার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়, সেগুলোর গতিপথ পরিবর্তন করে দিচ্ছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলটি ফিনল্যান্ড উপসাগরের তীরে অবস্থিত। এদিকে লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট জুলাইয়ের শুরুতে বলেছিলেন, মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থায় তার দেশও অংশ নিতে চায়। এর পর থেকে লিথুয়ানিয়া নিজেদের ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণের ওপর থাকা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত