মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণের ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে অভিযোগ: চসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষা শিখে বিনা খরচে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম-অযোগ্য ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ক্রিমার মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ শুরু মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ : ডি ভিলিয়ার্স রদ্রিকে না পেলেও স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট মরিনহো
জাতীয় নিরাপত্তা ফিরলে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার

নিরাপত্তা ফিরলে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার

রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হওয়া সাপেক্ষে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে থেকে ৩ লাখের বেশি মানুষকে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন এবং বাস্তুচ্যুতদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকা পর্যালোচনা করেছে নেপিডো। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

তালিকা যাচাই ও মিয়ানমারের অবস্থান

অনুমোদিত তালিকা: ৩,০৮,৭৯৭ জন (রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত)।

অনুমোদনহীন ও আটকে থাকা আবেদন: ১,১৩,৫০৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ: ৪,২৪১ জনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এই যাচাইকৃত সাবেক বাসিন্দাদের দফায় দফায় ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ চালানো হবে। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত’ হওয়ার তথ্য অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। তাদের দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে পাড়ি দিয়েছিল।

বাস্তবতার মুখোমুখি প্রত্যাবাসন চুক্তি

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে দুই বছর মেয়াদি একটি প্রত্যাবাসন কাঠামো চুক্তি হলেও তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে।

২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'আরাকান আর্মি'র (AA) মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে রাখাইনের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় এই প্রত্যাবাসন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

মানবিক বিপর্যয় ও আঞ্চলিক প্রভাব

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। জীবনযাত্রার অবনতি ও নিজ দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

যদিও মিয়ানমার কেবল এই যাচাইকৃত তালিকার ওপর ভিত্তি করেই এগোতে চায়, কিন্তু রাখাইনে স্থায়ী শান্তি ও নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা ছাড়া এই প্রত্যাবাসন বাস্তবে কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

খুঁজুন