রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
অর্থ ও বাণিজ্য পোশাক খাতে কর্মহীন হতে পারে ৬০% নারী

পোশাক খাতে কর্মহীন হতে পারে ৬০% নারী

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর এই গবেষণাটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের (RMG) ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি সতর্কবার্তা।

আপনি যে তথ্যবহুল প্রতিবেদনটি শেয়ার করেছেন, তা বিশ্লেষণ করলে দেশের শ্রমবাজারের আসন্ন সংকট এবং এর থেকে উত্তরণের উপায়গুলো খুব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। প্রতিবেদনটির মূল সারসংক্ষেপ এবং এর তাৎপর্য নিচে কয়েকটি প্রধান ভাগে আলোচনা করা হলো:

১. প্রধান সংকটসমূহ: ঝুঁকিতে কর্মসংস্থান ও নারী শ্রমিক

  • নারী কর্মীদের ওপর চরম আঘাত: তৈরি পোশাক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রায় ৬০% নারী কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে যে ১৩ লাখ কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে, তার ৯০%-ই ছিল নারী শ্রমিকদের।

  • ব্যাপক কর্মহীনতার আশঙ্কা: অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) আগ্রাসনে তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার সাধারণ শ্রমিকের চাকরি হুমকির মুখে পড়বে।

  • উৎপাদন বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমছে: দেশে উৎপাদন খাতের আকার বাড়লেও কর্মসংস্থান প্রায় ৮১ লাখে স্থবির হয়ে আছে। অর্থাৎ, শিল্পমালিকেরা শ্রমের চেয়ে যন্ত্রের ওপর বেশি নির্ভর করছেন (Jobless Growth)।

  • অনানুষ্ঠানিক সেবা খাত: সেবা খাতে আড়াই কোটি মানুষ কাজ করলেও তাদের কর্মসংস্থানগুলো অনিরাপদ ও কম উৎপাদনশীল, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

২. সংকটের মূল কারণসমূহ (The Core Failures)

সিপিডি-র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এই আসন্ন প্রযুক্তিগত বিপ্লব বা 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লব' মোকাবিলায় এখনো প্রস্তুত নয়। এর পেছনে ৪টি বড় কারণ রয়েছে:

  • দক্ষতার অমিল (Skills Mismatch): প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা যে দক্ষতা তৈরি করছে, তার সাথে আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদার কোনো মিল নেই। মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ এখনো ২০%-এর নিচে।

  • বাজেটে অবহেলা: শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে জিডিপির মাত্র ১.৩% ব্যয় করা হয়, যা এই বিশাল রূপান্তরের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

  • নীতিমালার অভাব: গিগ বা প্ল্যাটফর্মভিত্তিক (যেমন: রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি, ফ্রিল্যান্সিং) কর্মীদের জন্য কোনো সমন্বিত নীতিমালা নেই।

  • বাস্তবায়নহীন পরিকল্পনা: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও শ্রম নীতিগুলোতে অটোমেশনের প্রভাব এবং তা মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুপস্থিত।

৩. ভবিষ্যতের ৫টি নিশ্চিত প্রবণতা (Unavoidable Realities)

সিপিডি-র ২৭টি উপাদান বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ৫টি বিষয় নিশ্চিতভাবে ঘটবে: ১. ডিজিটালাইজেশন কোনোভাবেই থামানো যাবে না। ২. কর্মসংস্থান ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে ধীরে ধীরে উচ্চ প্রযুক্তির সেবা খাতের দিকে চলে যাবে। 3. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা বাজারের গতির চেয়ে পিছিয়েই থাকবে (যদি না এখনই জরুরি সংস্কার করা হয়)। ৪. বৈশ্বিক বাণিজ্য মন্দা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা অব্যাহত থাকবে। ৫. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশ এই সংকটের সুফল নেবে নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

৪. সংকট উত্তরণে করণীয় (সুপারিশসমূহ)

এই বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সিপিডি বেশ কিছু চমৎকার ও বাস্তবমুখী প্রস্তাবনা দিয়েছে:

  • শিল্প-চাহিদাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া এবং বর্তমান কর্মীদের রি-স্কিলিং (Re-skilling) বা নতুন প্রযুক্তির কাজ শেখানো।

  • বাজেট বৃদ্ধি: শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সরকারি বরাদ্দ জিডিপির অনুপাতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো।

  • শ্রমবান্ধব শিল্প প্রণোদনা: শিল্পমালিকদের এমনভাবে প্রণোদনা দেওয়া যাতে তারা প্রযুক্তির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখতে উৎসাহিত হন।

  • সামাজিক সুরক্ষা: গিগ অর্থনীতির কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এবং নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

পরিশেষে: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, "প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঠেকানো সম্ভব নয়।" রোবট বা এআই তৈরি পোশাক খাতে আসবেই। এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি এই প্রযুক্তিকে মেনে নিয়ে তার জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলবে, নাকি ধীরগতির নীতিনির্ধারণের কারণে কোটি মানুষকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দেবে?

খুঁজুন