গণমাধ্যম ডেস্ক: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি ও সংগঠনের স্থায়ী সদস্য রাজীব ঘোষকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সম্প্রতি ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপ কঠোরভাবে প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের প্রতিটি ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর তারা জোর দেন। অবিলম্বে রাজীব ঘোষের বর্তমান অবস্থান তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে পরিষ্কার করার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানান নেতারা।
এর আগে রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও টেলিভিশন স্টেশনটির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। সেই সময় টেলিভিশন চ্যানেলটির প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও পুলিশ নিজেদের সাথে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তাকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের ডিসি আকতার হোসেনও একই কথা জানিয়ে উল্লেখ করেন যে একটি বিশেষ খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল।
ডিবিসির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদীর অনিক সংবাদমাধ্যমকে জানান যে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে রাস্তা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের ধারণা জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার কোনো মামলাকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে সাংবাদিক রাজীব ঘোষের বিষয়ে তিনি বলেন যে ক্রাইম বিট করার সুবাদে পুলিশের সাথে সুসম্পর্কের কারণে তাকে চা খাওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এদিকে রাজীব ঘোষ একই সাথে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) বর্তমান সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনায় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব পৃথক এক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এটিজেএফবি নেতারা তাদের বিবৃতিতে বলেন যে কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আইনি প্রক্রিয়া স্পষ্ট না করে একজন পেশাদার সাংবাদিককে অফিস থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক অধিকারের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার থাকলেও তা অবশ্যই প্রচলিত আইনি কাঠামোর ভেতর থেকে সম্পন্ন করতে হবে বলে তারা মনে করেন। কাউকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট অবস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। আইন প্রয়োগের নামে কোনো সাধারণ নাগরিকের মৌলিক আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই বলে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ায় ডিআরইউর উদ্বেগ
সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ায় ডিআরইউর উদ্বেগ
গণমাধ্যম ডেস্ক: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি ও সংগঠনের স্থায়ী সদস্য রাজীব ঘোষকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সম্প্রতি ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপ কঠোরভাবে প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের প্রতিটি ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর তারা জোর দেন। অবিলম্বে রাজীব ঘোষের বর্তমান অবস্থান তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে পরিষ্কার করার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানান নেতারা।এর আগে রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও টেলিভিশন স্টেশনটির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে
পুলিশ। সেই সময় টেলিভিশন চ্যানেলটির প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও পুলিশ নিজেদের সাথে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তাকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের ডিসি আকতার হোসেনও একই কথা জানিয়ে উল্লেখ করেন যে একটি বিশেষ খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল।ডিবিসির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদীর অনিক সংবাদমাধ্যমকে জানান যে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে রাস্তা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের ধারণা জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার কোনো মামলাকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে সাংবাদিক রাজীব ঘোষের বিষয়ে তিনি বলেন যে ক্রাইম বিট করার সুবাদে পুলিশের সাথে সুসম্পর্কের কারণে তাকে চা খাওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল
এবং তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এদিকে রাজীব ঘোষ একই সাথে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) বর্তমান সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনায় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব পৃথক এক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন।এটিজেএফবি নেতারা তাদের বিবৃতিতে বলেন যে কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আইনি প্রক্রিয়া স্পষ্ট না করে একজন পেশাদার সাংবাদিককে অফিস থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক অধিকারের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার থাকলেও তা অবশ্যই প্রচলিত আইনি কাঠামোর ভেতর থেকে সম্পন্ন করতে হবে বলে তারা মনে করেন। কাউকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট অবস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। আইন প্রয়োগের নামে কোনো সাধারণ নাগরিকের মৌলিক আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই বলে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত