বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রেকর্ড ২০ বছরের পথচলার ইতি টানছেন কোচ শ্মিট • আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা: ড. কামাল হোসেন • যুক্তরাজ্যের এইচপিআই ভিসা তালিকা প্রকাশ, নেই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় • আসছে ৬ শৈত্যপ্রবাহ • সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ায় ডিআরইউর উদ্বেগ • চীনের বিপক্ষে হেরে ষষ্ঠ হলো বাংলাদেশ • লিহাই গোর্জ-এর রঙিন শরৎ • রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষের অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণ • সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন • শ্রমিক আন্দোলনে পাশের দেশ থেকে ‘মাফিয়ারা’ অপচেষ্টা চালাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পর্যটন লিহাই গোর্জ-এর রঙিন শরৎ

লিহাই গোর্জ-এর রঙিন শরৎ

পর্যটন ডেস্ক: প্রকৃতির সবচেয়ে বর্ণিল রূপ দেখা যায় শরতের পাতা ঝরার মৌসুমে, যখন গাছপালা লাল ও সোনালী রঙে সেজে ওঠে। শীতের আগমনে পেনসিলভানিয়ার জিম থর্প শহরটি আক্ষরিক অর্থেই রূপকথার ক্যানভাসে পরিণত হয়। আমেরিকা প্রবাসী পুরনো বন্ধু আনোয়ার শামীমের সাথে এই ঐতিহাসিক শহরে এক দিনের এক চমৎকার ট্রিপের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক থেকে ভোরে রওনা হয়ে পাহাড়ি হাইওয়ে ধরে জিম থর্পের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়।

নিউ জার্সির সীমানা পেরিয়ে ডেলাওয়্যার ওয়াটার গ্যাপের বুক চিরে গাড়ি ছোটার সময় রাস্তার দু'পাশের পাহাড়গুলো গাঢ় কমলা ও সোনালী পাতায় মোড়া ছিল। সকাল দশটা নাগাদ জিম থর্প শহরে পৌঁছানো গেলেও পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ের কারণে ট্রাফিক এবং পার্কিং পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। তবে কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করার ফলে ভিক্টোরিয়ান শৈলীর এই ঐতিহাসিক শহরটিকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে। উনবিংশ শতাব্দীতে এই শহরের নাম মাউচ চাঙ্ক ছিল এবং এটি কয়লা উত্তোলনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।

১৯৫৪ সালে অলিম্পিক অ্যাথলেট জিম থর্পের সম্মানার্থে শহরটির নামকরণ করা হয় এবং বর্তমানে এখানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট কাটা থাকায় লিহাই গোর্জ সিনিক রেল স্টেশনে পৌঁছানোর পর ট্রেন যাত্রা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। শতবর্ষী পুরোনো লাল-হলুদ ভিনটেজ কোচ এবং পাহাড়ি আবহে স্টেশনটি এক ঐতিহাসিক পরিবেশ তৈরি করেছিল। স্টেশনে কাকতালীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত মুখ নাহিদ ও তার স্বামীর সাথেও দেখা হয়ে যায়।

কন্ডাক্টরের হুইসেলে লিহাই গোর্জ সিনিক রেলওয়ের যাত্রা শুরু হয় এবং ট্রেনটি লিহাই স্টেট পার্কের গহীন অরণ্যের দিকে এগিয়ে চলে। খরস্রোতা নদীর পাশ দিয়ে চলা এই ট্রেন যাত্রায় জানালার কাঁচ নামাতেই শরতের শীতল বাতাস এবং ওক ও ম্যাপল গাছের রঙিন পাতার রূপ পুরো গিরিখাতকে মোহময় করে তোলে। ট্রেনের স্পিকারে উনবিংশ শতাব্দীর কাঠুরে ও কয়লা খনি শ্রমিকদের নানান ইতিহাস প্রচার করা হচ্ছিল। প্রকৃতির এই বর্ণিল রূপ ও ঐতিহাসিক পটভূমি পর্যটকদের মনে এক দারুণ অনুভূতির সৃষ্টি করে।

খুঁজুন