বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত সীমান্ত থেকে অভ্যন্তরে দেশে উগ্রবাদের ছায়া
জঙ্গিবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সীমান্ত থেকে অভ্যন্তরে দেশে উগ্রবাদের ছায়া

বাংলাদেশের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন খুমি পিপলস ফোর্স (কেপিএফ)-এর তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও আলোচনা চলছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ সম্পর্কিত নানা ঘটনা ও অভিযোগও জনমনে শঙ্কা সৃষ্টি করছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে জাতীয় স্থিতিশীলতা পর্যন্ত নানা প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।

বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, কেপিএফ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এবং বান্দরবানের রুমা ও থানচি, রাঙামাটির বিলাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির কিছু দুর্গম এলাকায় তাদের তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এমনকি সীমান্ত এলাকায় অবাধ চলাচলের অনুমতি চেয়ে বিজিবির কাছে বার্তা পাঠানোর দাবিও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলে অতীতেও কুকি-চিন, ইউপিডিএফ, জেএসএস ও আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, গুম এবং পর্যটকদের জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে কেপিএফকে ঘিরে নতুন আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষত বর্ষাকালে রুমা ও থানচির পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে।


একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে আইএস, হিজবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম বিভিন্ন সময়ে সংবাদ ও জনআলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশকে ঘিরে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদসংক্রান্ত নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, উগ্রবাদী মতাদর্শের বিস্তার সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুরস্ক, ইরাক, ইয়েমেন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতি সন্দেহের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও মাঝে মাঝে উঠে আসছে।

 এর পেছনে কারা জড়িত বা কোন সংগঠন জড়িত, সেদিকে নজর না দেওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর এজেন্টরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ কোনো দেশ, সমাজ বা ধর্মের জন্যই কল্যাণকর নয়। ইউনুসের আমল থেকে এখন পর্যন্ত সেগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে সমালোচকরা দাবি করেন। উগ্রবাদ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদপ্রবণ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাধীনতাবিরোধী উত্থান এবং জঙ্গিবাদে মদদদাতা বলে সমালোচিত দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, স্বাধীনতার পক্ষের দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি সংসদে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাচ্ছিল্যের অভিযোগ এবং জুলাই-আগস্টের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় বা সামাজিকভাবে সম্মানিত করার সমালোচনাও বিভিন্ন মহলে দেখা যাচ্ছে। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে সীমান্তে কার্যকর নজরদারি, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কারণ সীমান্তে যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি যদি সময়মতো মোকাবিলা না করা যায়, তবে তার প্রভাব দেশের অভ্যন্তরেও বিস্তৃত হতে পারে। তাই নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে রাষ্ট্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

খুঁজুন