সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আইন আদালত শিক্ষক নিয়োগ: রায় জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি, রায় ঘোষণা ২৬ নভেম্বর

শিক্ষক নিয়োগ: রায় জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি, রায় ঘোষণা ২৬ নভেম্বর

আইন-আদালত ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের রায় জালিয়াতির অভিযোগের পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপক্ষের করা একটি আপিল শুনানির সময় মামলার নথিপত্র ও কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এরপর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চের বিচারকরা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সমস্ত নথি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন। গত সপ্তাহে শুনানি শেষে অভিযুক্ত আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই মামলার রায় নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক আদালতকে জানান, ২০২৩ সালের একটি মামলায় নতুন আবেদনকারীদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে এবং রায় ঘোষণার আগের কার্যক্রমে গুরুতর প্রক্রিয়াগত ব্যত্যয় ঘটেছে। সেকশনের নিয়মনীতি অনুসরণ না করে এবং সরকারের নোটিশ বা জবাব নেওয়ার সুযোগ না রেখেই তড়িঘড়ি করে রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া দাবি করেন, এটি কোনো রায় জালিয়াতির ঘটনা নয়, বরং পক্ষভুক্ত করার আবেদনসংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়াগত বিষয় মাত্র। সময়ের স্বল্পতার কারণে কিছু আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত আইনজীবীর পক্ষে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা প্রায় ১৮টি মামলার নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলার নথিতে ঠিক কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও আদেশ দেবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

খুঁজুন