মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় শুভ জন্মদিন বঙ্গকণ্যা শেখ হাসিনা

শুভ জন্মদিন বঙ্গকণ্যা শেখ হাসিনা

আপনার মস্তিস্কপ্রসূত সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য স্যালুট

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। আজকের এই দিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি কিছু কথা তথ্য শেয়ার করতে চাই ফেসবুক বন্ধুদের জন্য। 
 
শেখ হাসিনাকে নিয়ে কমবেশী আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক আছে। একজন রাজনীতিবিদ ও একজন মানুষ হিসেবে সেটাই স্বাভাবিক। একেকজন তাঁকে একেকভাবে চিত্রায়ন করার চেষ্টা করেছেন এবং করছেন। আওয়ামী লীগের বাইরে অনেকেই তাঁকে নেতিবাচকভাবে দেখে অভ্যস্ত। কোটি কোটি মানুষ তাঁর ইতিবাচক রূপটি সম্পর্কে জানেন না। আমি প্রায় ৩০ বছর নানাভাবে তাঁকে দেখেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি। তাঁর অনেক মানবিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে আছি আমি। সেই মানবিক গুণাবলীর একটি আজকের দিনে তুলে ধরতে চাই। 

সাংবাদিকতা ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বের সুবাদে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। কখনো আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে, কখনো ধানমণ্ডিতে দলটির সভাপতির কার্যালয়ে, কখনো সুধাসদনে, কখনো গণভবনে, কখনোবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা বা কথা হতো। আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক সফরের সঙ্গী হয়েছি। অসংখ্য স্মৃতি আছে তাঁর সঙ্গে। অসংখ্য কথোপকথন হয়েছে। 

মত-দ্বিমতের ঘটনাও আছে বেশকিছু। আমি তাঁকে যখন যা বলেছি খুব ষ্পষ্টভাবে বলেছি। কখনো কখনো তাঁর কথার সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছি সামনাসামনি। একাধিক রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে অভিযোগও করেছি কখনো কখনো। তিনি তাঁর কথা বলেছেন। আমার ভিন্নমতের সঙ্গে কখনো কখনো একমত হননি। কখনো কখনো আমি তাঁর ধমকও খেয়েছি। তবে সেই ধমকের মধ্যে মাতৃত্বের রূপ খুঁজে পেয়েছি।  

আজকের এই বিশেষ দিনে আমি তাঁকে একটু ভিন্নভাবে স্মরণ করছি। আপনারা জানেন, অসহায়-অসচ্ছল-অসুস্থ সাংবাদিকদের জন্য বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি মূলতঃ শেখ হাসিনার মস্তিস্ক প্রসূত এবং তাঁরই, শুধু তাঁরই একান্ত উদ্যোগ। একসময়কার সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলকে তিনি ট্রাস্টে রূপান্তর করেছেন। ‘সাংবাদিক সহায়তা ভাতা ও অনুদান নীতি-২০১২’ এবং ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৪’- সাংবাদিক সমাজকে নিয়ে তাঁর নিবিড় চিন্তার ফসল। যে কারণে দেশের হাজার হাজার সাংবাদিক বিভিন্ন সমস্যা-সঙ্কটে উপকৃত হয়েছেন, হচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও হবেন।  

আমি তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে। একদিন তাঁর সঙ্গে ঢাকার সাংবাদিক নেতাদের মিটিং। সেই মিটিংয়ে আমিও ছিলাম। নেতারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের নানা সমস্যা-সঙ্কটের কথা অবহিত করছেন। তিনি মন দিয়ে সব শুনছেন। এক পর্যাযে তিনি বললেন, ‘এই কল্যাণ তহবিল দিয়ে সাংবাদিকদের খুব একটা উপকার হবে না। তার চেয়ে একটা ট্রাস্ট গঠন করে দেই। আমি ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি, সেই ট্রাস্ট থাকবে এবং সাংবাদিকরা দীর্ঘমেয়াদে উপকারভোগী হবে।’ 

শুধু তাই নয়, তিনি এই ট্রাস্টে সিড মানি দিয়েছেন। ২০১৪ সালে ৫ কোটি টাকার প্রাথমিক তহবিল দিয়ে এই ট্রাস্ট ফান্ড চালু করেন শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে ২০ কোটি টাকা অনুদান দেন। করোনাকালসহ আরও বিভিন্ন সময়ে দিযেছেন মোটা অংকের অনুদান। এই ট্রাস্টের জন্য প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা-ই। মিডিয়া মালিকদের কাছ থেকে ট্রাস্টের জন্য সিড মানি সংগ্রহ করে দিয়েছেন। তাঁর আহ্বানে সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও মাছরাঙা টিভির মালিক অঞ্জন চৌধুরীসহ কয়েকজন এই ট্রাস্টে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিলেন।  

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হওয়ার পর কোনো একটি মিটিংয়ে সাংবাদিকদের অনুদান প্রদান নিয়ে কোনো একজন কর্তাব্যক্তি একটি মত রাখলেন। ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আদর্শিক দিক থেকে ইউনিয়ন দু’টি। একটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা আওয়ামী লীগ সমর্থিত, অন্যটি বিএনপি-জামাত সমর্থিত। ওই ইউনিয়নের সাংবাদিকদের অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়া আমাদের ঘরানার ইউনিয়নের সাংবাদিকদের মতো হবে কিনা’- এমনটি বলে ব্যক্তিটি শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাধন্য হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। 

কিন্তু বিধিবাম! তৎকালীন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, ‘এসব বাজে চিন্তা ছাড়ো। যারা সাংবাদিক তারা সবাই প্রয়োজন হলে এই ট্রাস্ট থেকে সহযোগিতা পাবে। কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। এখানে কে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বা আমাকে পছন্দ করে অথবা কে বিএনপি-জামাতকে সমর্থন করে সেটা বিবেচনা করা যাবে না। দেখতে হবে আবেদনকারী সাংবাদিক কিনা বা তার প্রয়োজন আছে কিনা?’ এরপর তিনি বললেন, ‘দুই ইউনিয়নে থাকা সাংবাদিকদের অনুদান প্রদানের মানদণ্ড একই রকম থাকতে হবে। কাউকে ডিপ্রাইভ করা যাবে না।’ সেইসঙ্গে তিনি তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকেও নির্দেশ দিলেন দল-মতের উর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকদের আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা তার তদারকি করতে। আমাদের নেতাদেরও বিষয়টি খেয়াল রাখার নির্দেশ দিলেন।  

এ দু’টি ঘটনার সাক্ষী হিসেবে আমি মুগ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার কথা শুনছিলাম। একজন মানুষ সুনির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের জন্য কতটা উদার হলে প্রকাশ্যে এমনভাবে বলতে পারেন সেটাই ভাবছিলাম। এরকম একজন মানুষের জন্য আজকের এই বিশেষ দিনে অবিরাম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। জন্মদিনে আপনাকে স্যালুট শেখ হাসিনা। 

ছবি: বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণের কোনো একটি অনুষ্ঠানে প্রয়াত এক সাংবাদিকের সন্তানের কাছ থেকে তার বাবার মৃত্যুর ঘটনা, ছেলেটির লেখাপড়ার বিস্তারিত এবং পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে খবর নিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

খুঁজুন