মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী হতে বেশির ভাগের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে • পাচার করা অর্থ ফেরাতে হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তির খসড়ায় সায় • সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি • প্রাক-অর্থায়ন তহবিল: বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএফআইসির চুক্তি • বায়ার্ন ম্যাচের আগে ‘অবিশ্বাস্য’ কেইনকে অভিনন্দন জানালেন সিমেওনে • বাদাম বিক্রির জীবন থেকে স্কুলের আঙিনায় ৮ বছরের হাসান • গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ • রাজধানীতে বসছে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা • কানাডায় যাচ্ছেন শিবলী-নিপা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক মঞ্চে পরিবেশনা • পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের সংশোধনে চূড়ান্ত অনুমোদন
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী হতে বেশির ভাগের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে

যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী হতে বেশির ভাগের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর পাওয়ার অপেক্ষার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে অভিবাসন নিয়ে এই নতুন চূড়ান্ত নীতিমালা উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম এবং শরণার্থী আইনসহ অভিবাসন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট ভিসায় টানা পাঁচ বছর অবস্থান করলে প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা যেত। কিন্তু নতুন নিয়মে স্থায়ী বসবাসকে সাধারণ অধিকারের বদলে যোগ্যতা ও অবদান দিয়ে অর্জনের বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় বৈধ অভিবাসীদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বছরে এক লাখ পঁচিশ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা উচ্চ দক্ষ অভিবাসীরা তিন বছরেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া বছরে পঞ্চাশ হাজার দুইশ একাত্তর পাউন্ডের বেশি আয় করা কর্মী, ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষকরা পাঁচ বছরে স্থায়ী হতে পারবেন। তবে এর চেয়ে কম আয় করা বাকি সব সাধারণ বৈধ অভিবাসীকে দশ বছর অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে বা নির্দিষ্ট সরকারি ভাতা দাবি করলে এই অপেক্ষার সময়সীমা বেড়ে বিশ বছর হতে পারে।

প্রাথমিক প্রস্তাবে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনের মেয়াদ ১৫ বছর করার পরিকল্পনা থাকলেও তীব্র বিরোধিতার মুখে সরকার তা থেকে সরে আসে। যারা নির্দিষ্ট সময়ের আগে কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন, তারা শর্ত সাপেক্ষে পূর্বের নিয়মে পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই আবেদন করতে পারবেন। মহামারীর সময়ে স্বাস্থ্য খাতে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের অবদানের কথা বিবেচনা করেই তাদেরকে এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় বিশ থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সাবেক কনজারভেটিভ সরকারের আমলে রেকর্ড অভিবাসনের পর বিপুলসংখ্যক বৈধ অভিবাসী আইএলআরের যোগ্যতার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এই কড়াকড়ির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, এসব অভিবাসীদের আজীবন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের করদাতাদের প্রায় দশ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হতে পারে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জনস্রোত আসায় আগামী পাঁচ বছরে হেলথ অ্যান্ড সোশাল কেয়ার ভিসায় ঢোকা বহু কর্মী স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করবেন। প্রস্তাবিত সংস্কারের ওপর সরকারের বছরব্যাপী গণপরামর্শে দুই লাখেরও বেশি মতামত জমা পড়ে। তবে নীতি ঘোষণার আগে লেবার পার্টির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিরোধী দলগুলো সরকারের এই নীতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানালেও শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে নীতিমালাটি উপস্থাপন করা হয়।

খুঁজুন