ছয়দফা: স্বাধীনতার বাতিঘর শীর্ষক প্রবন্ধে লেখক ইতিহাস থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনে ‘ছয় দফা’র ভূমিকা প্রসঙ্গে বিশ্লেষণ করেছেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন পরবর্তী যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালিরা জয়লাভ করলেও গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়। তারপর সামরিক বাহিনীর ১০ বছরের জন্য ক্ষমতা দখল করে বাঙালিদের গোলাম করে রাখে। ইতিহাসের এই পালাবদলে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে বাঙালি জাতির “মুক্তির সনদ” নামে পরিচিত ‘ছয় দফা’ দাবি উত্থাপন করেন। ‘ছয় দফা’ দাবির মধ্যে মূলত আলাদা রাষ্ট্র গঠন তথা স্বাধিকারের রূপরেখা অঙ্কিত হয়। ১৯৬৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছয় দফা দাবি প্রচারের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। এ দেশকে বঙ্গবন্ধু প্রাণাধিক ভালোবাসতেন
তাই কি করে দেশের মানুষ অত্যাচার-নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে, সেই ভাবনা তাকে অস্থির করে তুলত। তাঁর মধ্যে ছিল কঠিন প্রতিজ্ঞা, অমিও দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা। তিনি তার বিশাল হৃদয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবেসে ছিলেন। প্রতিদানে ভালোবাসাও পেয়েছিলেন। পাকিস্তানের কারাগারে অবহেলা, নির্যাতন চরমে উঠলেও তিনি তাদের সাথে কোনোদিন আপোষ করেননি। জেল-জুলুম, মৃত্যুর ভয় তাঁকে টলাতে পারেনি। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক বাঙালির জাতির মুক্তির দিশারী।
তাই কি করে দেশের মানুষ অত্যাচার-নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে, সেই ভাবনা তাকে অস্থির করে তুলত। তাঁর মধ্যে ছিল কঠিন প্রতিজ্ঞা, অমিও দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা। তিনি তার বিশাল হৃদয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবেসে ছিলেন। প্রতিদানে ভালোবাসাও পেয়েছিলেন। পাকিস্তানের কারাগারে অবহেলা, নির্যাতন চরমে উঠলেও তিনি তাদের সাথে কোনোদিন আপোষ করেননি। জেল-জুলুম, মৃত্যুর ভয় তাঁকে টলাতে পারেনি। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক বাঙালির জাতির মুক্তির দিশারী।
“আগরতলা ষড়যন্ত্র: বাঙালির স্বাধীনতার জন্য দ্রোহ” শীর্ষক প্রবন্ধে লেখক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। ছয় দফা দাবির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু যখন বাঙালির আস্থা অর্জন করতে সচেষ্ট হয়েছেন- ঠিক সেই সময় বাঙালিকে দাবিয়ে রাখার জন্য বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভারতের আগরতলায় বসে দেশদ্রোহীতার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করা হয় যা ইতিহাসে “আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা” নামে খ্যাত। প্রহসনমূলক মামলা দায়ের করে ১৯৭১ সালের ২১শে এপ্রিল এ মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। কুর্মিটোলা অবস্থিত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিশেষ আদালত কার্যক্রম স্থাপন করে ১৯শে জুন বিচারকার্য শুরু হয়। কিন্তু বাঙালির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি মানুষের ভালোবাসার কারণে সেই প্রহসনের মামলার বিচারের রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। প্রবল বিক্ষোভ ও জনরোষে পড়ে অবশেষে শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দিতে সরকার বাধ্য হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হতে শিক্ষা দেয়। পৃথিবীতে যতদিন আলো-বাতাস থাকবে, যতদিন বাঙালির ইচ্ছা থাকবে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব থাকবে, ততদিন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাঙালির জাতীয় চেতনায় সাহসের স্মারক হয়ে থাকবে।
“বঙ্গবন্ধুর বাংলা ভাষাপ্রেম, আন্দোলন ও বিশ্বসভায় বাংলা” শীর্ষক প্রবন্ধে লেখক খান চমন-ই-এলাহি ভাষা আন্দোলন এবং বিশ্বসভায় বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে তুলে ধরেছেন। বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক করার ক্ষেত্রে প্রথম অবদান রাখেন নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে তিনি বিশ্ব দরবারে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রফিক, সালাম, জব্বার, বরকত প্রমুখ ছাত্রজনতার প্রাণের বিনিময়ে আমরা বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করি। বঙ্গবন্ধু আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলায় প্রথম ১৯৭৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাভাষাকে আবার নতুন করে পরিচয় করে দেন। ফলে বাঙালি, বাংলা ভাষা ও বাংলা দেশের অখণ্ডতা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। যা বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। পৃথিবীর ১৯২টি দেশে একুশে ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদায় মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়- যা বাঙালির এক অনন্য গৌরব
“বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের পূর্বপর” শীর্ষক প্রবন্ধটি আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে কিছু ক্ষমতালোভী সশস্ত্রচক্র বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে আটকে সপরিবারে হত্যা করে। যা জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং স্বাধীন-সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি। বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে দেশে একদলীয়, সাম্প্রদায়িক এবং মৌলবাদী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার কায়েম করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় থাকবে। বন্ধুকে হত্যা করা হলে দেশের মধ্যে শুরু হয় অরাজকতা। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদ মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরু হয় অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে গলা টিপে হত্যা করার হীনকৌশল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরদিন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা এবং বিশ্বগণমাধ্যমের তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
সারাদেশ এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে পড়ে যায়। নেতৃত্ব শূন্য হয়। বঙ্গবন্ধুকে টুঙ্গিপাড়ায় কবরস্থ করার মাধ্যমে এক মহান নেতার জীবনের ইতি ঘটে। এই হত্যার প্রতিবাদে ১৯৭৫ সালে প্রায় ১০০ জন সাধারণ মানুষ শহীদ হন। এর মধ্যে ২৫ জন আদিবাসীও শহীদ হয়েছিলেন। তৎকালীন সরকার সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রতিরোধ করার জন্য সামরিক শাসন জারি এবং একটি কুখ্যাত আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকে স্তিমিত করে দিয়েছিল। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করেন। এই মামলার মোট ১৯ জন আসামির মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মুক্তি দিয়ে বাকি ১৫ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। আসামীদের অধিকাংশই ছিলেন বিগত সরকারের মদদপুষ্ট ও বিদেশ পলাতক। রায় বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করা হয় যা এখনো চলমান আছে।