ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চিকিৎসক, লেখক, গবেষক :
২৪ জুলাইয়ের
সকালটা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বিষাদের অধ্যায় হয়ে রইল। যেখানে বাতাস ভারী ছিল সন্দেহ, শঙ্কা আর ষড়যন্ত্রের
পূর্বাভাসে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে ঘোষিত হয়েছিল,বাংলাদেশে আন্দোলনের কারণে ইতোমধ্যেই দুজন প্রাণ
হারিয়েছে। অথচ তখনো এমন কোনও ঘটনার খবর আমরা জানতাম না। দুই দিন না যেতেই, সত্যি সত্যিই আমাদের
মাঝে আর থাকলেন না আবু সাঈদ এবং আরও একজন তরুণ। বাস্তবতা যেন পূর্বনির্ধারিত, যেন কেউ আগেভাগেই
জানত কী ঘটতে যাচ্ছে।
এর ঠিক আগেই
একটি “এ্যানোনিমাস” নামের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছিল, বাংলাদেশের কোনও জনবহুল স্থানে (হাসপাতাল বা হোটেল)
বোম্বিং জাতীয় বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করিনি। ভাবিনি ছোট ছোট কোমলমতি
শিশুদের জীবন দিয়ে সত্যতা প্রমাণ করবে সেই কথাগুলো।
রাজধানীর
একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। হঠাৎ বিস্ফোরণ। মুহূর্তেই ধসে পড়ে একাংশ, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে
যায় শিশুকণ্ঠে মুখরিত ক্লাসরুম। প্রায় ৩০ এর বেশি শিশু প্রাণ হারায়, আরও শতাধিক আহত। যাদের অনেকে এখনো হাসপাতালের বার্ন
ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমার দুই সন্তান, ক্লাস ফোরে পড়ে। যখন এই খবর পেলাম, পিতৃত্ব যেন বোবা হয়ে গেল। চোখের সামনে আমারই সন্তানের
মুখ ভেসে উঠলো বারবার। ভোর ৪টা ৪৯ মিনিট। আমি ঘুমাতে পারছি না। কারণ মৃতদেহের মুখ, কষ্টে চিৎকার করা
মায়ের আর্তনাদ, আর সেই ছাত্রটির শেষ কথা আমার হৃদয় বিদীর্ণ করে দেয়। "আমি জানতাম তুমি আসবে বন্ধু…" দুর্ঘটনার সময় এক ছাত্র তার আহত বন্ধুকে ক্লাসরুম থেকে উদ্ধার
করতে চেয়েছিল। ফায়ার ব্রিগেডের অফিসার তাকে বাধা দিয়ে বলেছিল, "এর কোনো মূল্য নেই।
সে মারা গেছে"। কিন্তু সেই ছাত্র কাঁধে ভর করে ফিরিয়ে আনল তার বন্ধুকে। ফায়ার ব্রিগেডের সেই অফিসার হতাশ গলায় বললেন, "দেখেছো? সে তো মরেই গেছে।"কিন্তু
ছাত্রটি থেমে থাকেনি, সে বলল,
"না স্যার, এটা মূল্যহীন ছিল না। যখন আমি তার কাছে পৌঁছাই, তখন সে জীবিত ছিল।
আমার দিকে তাকিয়ে হাসল, আর বলল…

‘আমি জানতাম তুমি আসবে বন্ধু…’”
এই একটি সংলাপ, আজকের বাংলাদেশকে
ব্যাখ্যা করে। আমরা জানি না কোথায় আশ্রয় নেব, কে আসবে আমাদের বাঁচাতে। তবে অন্তত জানি—কেউ একজন আসবেই। ঠিক সময়মতো, হয়তো না–বাঁচাতে পারলেও আমাদের পাশে থাকবে, চোখে চোখ রেখে বলবে, "আমি আছি"।
সকাল ৬টা
৩০ মিনিট থেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আমি দায়িত্ব পালন করছি। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক মা, তাঁর ১৫ বছর বয়সী
মেয়ে গতরাতে মারা গেছে। আর ৯ বছরের ছেলেটি, যাকে নিয়ে তিনি সকাল থেকে একটাই প্রশ্ন করছেন সবার
কাছে"বাচ্চাটার শ্বাস আছে তো?" যখন কেউ হ্যাঁ বলে, তখনই তিনি খুশি হয়ে যান। মাঝে মাঝে বলেন, "ওর হাত-পা ঠান্ডা
হয়ে গেছে, প্লিজ কম্বলটা গায়ে ভালো করে দিন।" এই কথার কোনো উত্তর দেওয়া যায় না। একটা মায়ের এই
মর্মবেদনার মুখোমুখি হয়ে কেউ কি বলতে পারে, “সান্ত্বনা নিন”? আরেকজন মা, মাহতাবের মা—শুধু সন্তানকে একবার দেখতে চেয়েছেন।
চোখে বিস্ময়, শঙ্কা আর স্বপ্নভঙ্গের ভয়। অনেক মায়ের মতো তারও একমাত্র সন্তান,যার জন্য তিনি শ্বাস নিচ্ছেন। এখানে যারা আছেন, তাদের কাছে এখন সবচেয়ে
বড় প্রশ্ন, “জীবিত আছে তো?” একটা দেশে যখন মানুষ শুধু জীবিত থাকার প্রমাণ চায়, তখন বুঝতে হবে সেই
রাষ্ট্র এক গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি। এগুলো দুর্ঘটনা নয়, এগুলো একটা দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
যেখানে শিশুরা প্রথম শিকার। প্রশ্ন উঠতেই পারে,কেন মাইলস্টোন? কেন এই স্কুল? কেনইবা আগে থেকেই ফেসবুকে ভবিষ্যদ্বাণী?
আমরা এখন
এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাস করছি, যেখানে জনগণের নয়, বরং ক্ষমতালোভী একটি গোষ্ঠীর ইচ্ছা বাস্তবায়ন হয়। রাষ্ট্রের
ক্ষমতা যিনি এখন দখলে রেখেছেন, সেই ড. ইউনুস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল কি এই ট্র্যাজেডির দায় এড়াতে
পারেন?যদি আগে থেকে জানাজানি ছিল, কেন সতর্কতা নেওয়া হয়নি? কেন শিশুরা নিহত হলো? কেন এই রক্ত, এই কান্না, এই স্বপ্নের অপমৃত্যু? এসব প্রশ্নের উত্তর আমরা জানি না। কিন্তু আমরা
জানি—এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। ইনশাআল্লাহ এই রাষ্ট্র আবার জাগবে, আবার বলবে, “আমরা পরাজিত হবো না।”বন্ধু শুধু পাশে থাকলে নয়, বিপদে ছুটে এলে তা
বন্ধুত্ব হয়। আজ যারা ক্ষমতায় আছে, তারা কি আমাদের বন্ধু? যারা রাস্তায় রক্ত ফেললো, যারা স্কুলে আগুন
ধরালো, যারা হাসপাতালে প্রবেশাধিকার বন্ধ করলো,তারা কারা?এরা বন্ধুর মুখোশ পরে শত্রুতা করছে।
জাতির এই
শোকের সময়েও রাজনৈতিক প্রশ্ন এড়ানো যায় না। আজ যারা রাষ্ট্রক্ষমতায়, যারা নিজেদের গণতন্ত্রের
রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করেন—তাদের আচরণই প্রশ্নের জন্ম দেয়।
ড. মুহাম্মদ
ইউনুস বর্তমানে বাংলাদেশের
অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে,তিনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল রাষ্ট্রের
ভেতর রাষ্ট্র তৈরি করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের অপপ্রয়াসে লিপ্ত। আসলে এটা কতটুকু সত্য নাকি এদের পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি মহলের গভীর ষড়যন্ত্র। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও সেই
পরিকল্পনারই অংশ কি না, এ নিয়ে চলছে আলোচনা, গবেষণা, তদন্ত ফেসবুক থেকে শুরু করে সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে।
এই ট্র্যাজেডি
শুধু শোক নয়, এটি প্রতিবাদের একটি ডাক। আমাদের করণীয়: একটি নিরপেক্ষ তদন্ত – কারা দায়ী, কারা পরিকল্পনা করেছে, কারা এই রক্ত চায়,তা উদঘাটন করতে হবে। নিরাপত্তা সংস্কার – প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের
নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা – শিশুদের জন্য, জাতির জন্য একটি
আনুষ্ঠানিক স্মরণ। সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা – জনগণের একতা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ,এসবই আমাদের মূল শক্তি। আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল আর কিছু বলার সুযোগ থাকবে না।
বন্ধু তখনও পাশে থাকবে না, কেউ তখন বলবে না, "আমি জানতাম তুমি আসবে…"আজ সেই সময়, যখন সবাইকে বন্ধু
হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের রক্ষা করতে, রাষ্ট্রকে বাঁচাতে, মানুষকে বাঁচাতে।
আমি জানতাম তুমি আসবে বন্ধু
আমি জানতাম তুমি আসবে বন্ধু
ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চিকিৎসক, লেখক, গবেষক :২৪ জুলাইয়ের সকালটা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বিষাদের অধ্যায় হয়ে রইল। যেখানে বাতাস ভারী ছিল সন্দেহ, শঙ্কা আর ষড়যন্ত্রের পূর্বাভাসে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে ঘোষিত হয়েছিল,বাংলাদেশে আন্দোলনের কারণে ইতোমধ্যেই দুজন প্রাণ হারিয়েছে। অথচ তখনো এমন কোনও ঘটনার খবর আমরা জানতাম না। দুই দিন না যেতেই, সত্যি সত্যিই আমাদের মাঝে আর থাকলেন না আবু সাঈদ এবং আরও একজন তরুণ। বাস্তবতা যেন পূর্বনির্ধারিত, যেন কেউ আগেভাগেই জানত কী ঘটতে যাচ্ছে।এর ঠিক আগেই একটি “এ্যানোনিমাস” নামের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছিল, বাংলাদেশের কোনও জনবহুল স্থানে (হাসপাতাল বা হোটেল) বোম্বিং জাতীয় বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করিনি। ভাবিনি ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের জীবন দিয়ে সত্যতা প্রমাণ করবে সেই কথাগুলো।রাজধানীর একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। হঠাৎ বিস্ফোরণ। মুহূর্তেই ধসে পড়ে একাংশ, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় শিশুকণ্ঠে মুখরিত ক্লাসরুম। প্রায় ৩০ এর বেশি শিশু প্রাণ হারায়, আরও শতাধিক আহত। যাদের অনেকে এখনো হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমার দুই সন্তান, ক্লাস ফোরে পড়ে। যখন এই খবর পেলাম, পিতৃত্ব যেন বোবা হয়ে গেল। চোখের সামনে আমারই সন্তানের মুখ ভেসে উঠলো বারবার। ভোর ৪টা ৪৯ মিনিট। আমি ঘুমাতে পারছি না। কারণ মৃতদেহের মুখ, কষ্টে চিৎকার করা মায়ের আর্তনাদ, আর সেই ছাত্রটির শেষ কথা আমার হৃদয় বিদীর্ণ করে দেয়। "আমি জানতাম তুমি আসবে বন্ধু…" দুর্ঘটনার সময় এক ছাত্র তার আহত বন্ধুকে ক্লাসরুম থেকে উদ্ধার করতে চেয়েছিল। ফায়ার ব্রিগেডের অফিসার তাকে বাধা দিয়ে বলেছিল, "এর কোনো মূল্য নেই। সে মারা গেছে"। কিন্তু সেই ছাত্র কাঁধে ভর করে ফিরিয়ে আনল তার বন্ধুকে। ফায়ার ব্রিগেডের সেই অফিসার হতাশ গলায় বললেন, "দেখেছো? সে তো মরেই গেছে।"কিন্তু ছাত্রটি থেমে থাকেনি, সে বলল, "না স্যার, এটা মূল্যহীন ছিল না। যখন
আমি তার কাছে পৌঁছাই, তখন সে জীবিত ছিল। আমার দিকে তাকিয়ে হাসল, আর বলল… ‘আমি জানতাম তুমি আসবে বন্ধু…’”এই একটি সংলাপ, আজকের বাংলাদেশকে ব্যাখ্যা করে। আমরা জানি না কোথায় আশ্রয় নেব, কে আসবে আমাদের বাঁচাতে। তবে অন্তত জানি—কেউ একজন আসবেই। ঠিক সময়মতো, হয়তো না–বাঁচাতে পারলেও আমাদের পাশে থাকবে, চোখে চোখ রেখে বলবে, "আমি আছি"।সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আমি দায়িত্ব পালন করছি। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক মা, তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে গতরাতে মারা গেছে। আর ৯ বছরের ছেলেটি, যাকে নিয়ে তিনি সকাল থেকে একটাই প্রশ্ন করছেন সবার কাছে"বাচ্চাটার শ্বাস আছে তো?" যখন কেউ হ্যাঁ বলে, তখনই তিনি খুশি হয়ে যান। মাঝে মাঝে বলেন, "ওর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে, প্লিজ কম্বলটা গায়ে ভালো করে দিন।" এই কথার কোনো উত্তর দেওয়া যায় না। একটা মায়ের এই মর্মবেদনার মুখোমুখি হয়ে কেউ কি বলতে পারে, “সান্ত্বনা নিন”? আরেকজন মা, মাহতাবের মা—শুধু সন্তানকে একবার দেখতে চেয়েছেন। চোখে বিস্ময়, শঙ্কা আর স্বপ্নভঙ্গের ভয়। অনেক মায়ের মতো তারও একমাত্র সন্তান,যার জন্য তিনি শ্বাস নিচ্ছেন। এখানে যারা আছেন, তাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, “জীবিত আছে তো?” একটা দেশে যখন মানুষ শুধু জীবিত থাকার প্রমাণ চায়, তখন বুঝতে হবে সেই রাষ্ট্র এক গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি। এগুলো দুর্ঘটনা নয়, এগুলো একটা দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যেখানে শিশুরা প্রথম শিকার। প্রশ্ন উঠতেই পারে,কেন মাইলস্টোন? কেন এই স্কুল? কেনইবা আগে থেকেই ফেসবুকে ভবিষ্যদ্বাণী?আমরা এখন এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাস করছি, যেখানে জনগণের নয়, বরং ক্ষমতালোভী একটি গোষ্ঠীর ইচ্ছা বাস্তবায়ন হয়। রাষ্ট্রের ক্ষমতা যিনি এখন দখলে রেখেছেন, সেই ড. ইউনুস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল কি এই ট্র্যাজেডির দায় এড়াতে পারেন?যদি আগে থেকে জানাজানি ছিল, কেন সতর্কতা নেওয়া হয়নি? কেন শিশুরা নিহত হলো? কেন এই রক্ত,
এই কান্না, এই স্বপ্নের অপমৃত্যু? এসব প্রশ্নের উত্তর আমরা জানি না। কিন্তু আমরা জানি—এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। ইনশাআল্লাহ এই রাষ্ট্র আবার জাগবে, আবার বলবে, “আমরা পরাজিত হবো না।”বন্ধু শুধু পাশে থাকলে নয়, বিপদে ছুটে এলে তা বন্ধুত্ব হয়। আজ যারা ক্ষমতায় আছে, তারা কি আমাদের বন্ধু? যারা রাস্তায় রক্ত ফেললো, যারা স্কুলে আগুন ধরালো, যারা হাসপাতালে প্রবেশাধিকার বন্ধ করলো,তারা কারা?এরা বন্ধুর মুখোশ পরে শত্রুতা করছে।জাতির এই শোকের সময়েও রাজনৈতিক প্রশ্ন এড়ানো যায় না। আজ যারা রাষ্ট্রক্ষমতায়, যারা নিজেদের গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করেন—তাদের আচরণই প্রশ্নের জন্ম দেয়।ড. মুহাম্মদ ইউনুস বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে,তিনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র তৈরি করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের অপপ্রয়াসে লিপ্ত। আসলে এটা কতটুকু সত্য নাকি এদের পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি মহলের গভীর ষড়যন্ত্র। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও সেই পরিকল্পনারই অংশ কি না, এ নিয়ে চলছে আলোচনা, গবেষণা, তদন্ত ফেসবুক থেকে শুরু করে সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে।এই ট্র্যাজেডি শুধু শোক নয়, এটি প্রতিবাদের একটি ডাক। আমাদের করণীয়: একটি নিরপেক্ষ তদন্ত – কারা দায়ী, কারা পরিকল্পনা করেছে, কারা এই রক্ত চায়,তা উদঘাটন করতে হবে। নিরাপত্তা সংস্কার – প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা – শিশুদের জন্য, জাতির জন্য একটি আনুষ্ঠানিক স্মরণ। সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা – জনগণের একতা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ,এসবই আমাদের মূল শক্তি। আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল আর কিছু বলার সুযোগ থাকবে না। বন্ধু তখনও পাশে থাকবে না, কেউ তখন বলবে না, "আমি জানতাম তুমি আসবে…"আজ সেই সময়, যখন সবাইকে বন্ধু হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের রক্ষা করতে, রাষ্ট্রকে বাঁচাতে, মানুষকে বাঁচাতে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত