সৈয়দ বোরহান কবীর, সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক :
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর পিছনে শুধু বিদেশী শক্তির ষড়যন্ত্র এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত ছিল না, এর পেছনে ছিল আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা। এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে এবং তথ্য অনুসন্ধানে এনিয়ে বেরিয়ে আসছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আওয়ামী লীগ কে কখনও তাদের বিরুদ্ধ শক্তি পরাজিত করতে পারে না। আওয়ামী লীগ পরাজিত হয় ঘরের ষড়যন্ত্রে। ১৯৭৫ এ জাতির পিতা কে নৃশংস ভাবে হত্যার পিছনে ছিল আওয়ামী লীগের একটি চক্র। খুনি মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুররা যুক্ত ছিল এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডে সংগে। খুনি ডালিম ছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ।
৭৫ এর মতোই ২৪ সালেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আওয়ামী লীগ এবং গণভবনের একটি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ ছিলেন জামায়াত ও হেফাজতের সাথে ঘনিষ্ঠ। শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব প্রয়াত জয়নাল আবেদীন এবং হাছান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত ও হেফাজতকে পূনর্বাসন করার কাজ করেছেন। হাছান মাহমুদের কারণেই হেফাজতের বিচার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জামায়াত পূনর্বাসনে সক্রিয় ছিল এই গুপ্ত ঘাতক।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ওবায়দুল কাদেরকে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতার কারণেই ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ ঘটে গুপ্ত ছাত্র শিবিরের। জাকির ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হবার পর ছাত্রলীগ হয়ে যায় ছাত্র শিবিরের গুপ্তদের নিরাপদ আশ্রয়। জাকির নিজেই ছাত্র শিবির ছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। জাকির সাধারণ সম্পাদক হবার পর ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা ছাত্রলীগে ঢুকে পরিকল্পিত ভাবে ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির ইমেজ নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরাই হলো হেলমেট বাহিনী, এরাই ছাত্রলীগ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়। এভাবে ভেতরে ঢুকে ছাত্রলীগকে অকার্যকর করে ছাত্র শিবির।
টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের ভেতর ঢুকে পড়ে অনেক মতলববাজ ও ষড়যন্ত্রকারী। শেখ হাসিনার প্রেস উইং ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সবচেয়ে বড় গুপ্ত বাহিনী। শেখ হাসিনার স্পীচ রাইটার নজরুল ইসলাম ছিলো ঘরের ভেতরে থাকা সবচেয়ে বড় ঘাতক। প্রধানমন্ত্রীর সংগে ঘনিষ্ঠ হয়ে নজরুল ইসলাম অনেক স্পর্শকাতর গোপন তথ্য পাচার করতেন। পাঁচ আগস্টের পর নজরুল আছে বহাল তবিয়তে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিম হেলাল মারা যাওয়ার পর রাজাকার পুত্র নাঈমুল ইসলাম খানকে নাটকীয়ভাবে প্রেস সচিব করা হয়। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেন যারা নাঈমুল ইসলামের অতীত সম্পর্কে অবগত। কিন্তু শেখ রেহানা এই নিয়োগের ব্যাপারে অনড় ছিলেন। দুর্নীতিবাজ নাঈমুল প্রেস সচিব হবার পরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব তথ্য চলে যেতে থাকে জামায়াতের কাছে। বিশেষ করে জুলাই থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে নাঈমুল ইসলাম খানই ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসূত্র। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ তারা আগে থেকেই জানতে পারেন। এটাই সরকারকে দ্রুত বিপদের দিকে নিয়ে যায়। নাঈমুল ইসলাম খান, জিল্লুর রহমান, আসিফ নজরুলরা আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর দিন পর্যন্ত নিয়মিত তথ্য আদান প্রদান করতো। মাঝে মধ্যেই আলী রিয়াজের সাথেও যুক্ত হতো নাঈমুল ইসলাম খান। পাঁচ আগস্টের পর নাঈমুল ইসলাম জামায়াতের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার আশ্রয়ে আছেন।
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন বিপ্লব বড়ুয়া। শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে যোগ দিয়ে বিপ্লব দলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সাথে শেখ হাসিনার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। চাটুকার এবং মতলববাজরা দখল করে গনভবন।
আহমেদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব হবার পর আওয়ামী লীগ সরকারে তার কর্তৃত্ব হারায়। সরকার পরিচলনা করতে থাকে আমলারা। এখানেই চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় আওয়ামী লীগ সংগঠন।
ওবায়দুল কাদেরের মতো অথর্ব ও অসৎ একজনকে টানা তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক করে দলটিকে চুড়ান্ত ভাবে নিস্ক্রিয় করে ফেলা হয়। সংগঠনের পদ বিক্রি শুরু হয় আলু পটলের মতো। টাকা আছে যার, পদ তার এই নীতিতে আওয়ামী লীগের দুর্দিনের নেতা কর্মীদের ছুঁড়ে ফেলা হয়। শেখ হাসিনা হয়ে যান একলা। তার চারপাশে থাকে শুধু সুবিধাভোগী গোষ্ঠী।
এরাই আওয়ামী লীগের সর্বনাশ করেছে। এরাই শেখ হাসিনার ক্ষতি করেছে সবচেয়ে বেশি।
আওয়ামী লীগকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে এসব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। দলের সত্যিকারের ত্যাগী, আদর্শবান নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে নতুন নেতৃত্ব।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করে আদর্শের লড়াই করতে হবে। তাহলেই জিতবে আওয়ামী লীগ। কারণ মুক্তিযুদ্ধ কখনও হারে না।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর পিছনে শুধু বিদেশী শক্তির ষড়যন্ত্র এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত ছিল না, এর পেছনে ছিল আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা। এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে এবং তথ্য অনুসন্ধানে এনিয়ে বেরিয়ে আসছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আওয়ামী লীগ কে কখনও তাদের বিরুদ্ধ শক্তি পরাজিত করতে পারে না। আওয়ামী লীগ পরাজিত হয় ঘরের ষড়যন্ত্রে। ১৯৭৫ এ জাতির পিতা কে নৃশংস ভাবে হত্যার পিছনে ছিল আওয়ামী লীগের একটি চক্র। খুনি মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুররা যুক্ত ছিল এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডে সংগে। খুনি ডালিম ছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ।
৭৫ এর মতোই ২৪ সালেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আওয়ামী লীগ এবং গণভবনের একটি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ ছিলেন জামায়াত ও হেফাজতের সাথে ঘনিষ্ঠ। শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব প্রয়াত জয়নাল আবেদীন এবং হাছান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত ও হেফাজতকে পূনর্বাসন করার কাজ করেছেন। হাছান মাহমুদের কারণেই হেফাজতের বিচার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জামায়াত পূনর্বাসনে সক্রিয় ছিল এই গুপ্ত ঘাতক।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ওবায়দুল কাদেরকে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতার কারণেই ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ ঘটে গুপ্ত ছাত্র শিবিরের। জাকির ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হবার পর ছাত্রলীগ হয়ে যায় ছাত্র শিবিরের গুপ্তদের নিরাপদ আশ্রয়। জাকির নিজেই ছাত্র শিবির ছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। জাকির সাধারণ সম্পাদক হবার পর ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা ছাত্রলীগে ঢুকে পরিকল্পিত ভাবে ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির ইমেজ নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরাই হলো হেলমেট বাহিনী, এরাই ছাত্রলীগ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়। এভাবে ভেতরে ঢুকে ছাত্রলীগকে অকার্যকর করে ছাত্র শিবির।
টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের ভেতর ঢুকে পড়ে অনেক মতলববাজ ও ষড়যন্ত্রকারী। শেখ হাসিনার প্রেস উইং ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সবচেয়ে বড় গুপ্ত বাহিনী। শেখ হাসিনার স্পীচ রাইটার নজরুল ইসলাম ছিলো ঘরের ভেতরে থাকা সবচেয়ে বড় ঘাতক। প্রধানমন্ত্রীর সংগে ঘনিষ্ঠ হয়ে নজরুল ইসলাম অনেক স্পর্শকাতর গোপন তথ্য পাচার করতেন। পাঁচ আগস্টের পর নজরুল আছে বহাল তবিয়তে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিম হেলাল মারা যাওয়ার পর রাজাকার পুত্র নাঈমুল ইসলাম খানকে নাটকীয়ভাবে প্রেস সচিব করা হয়। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেন যারা নাঈমুল ইসলামের অতীত সম্পর্কে অবগত। কিন্তু শেখ রেহানা এই নিয়োগের ব্যাপারে অনড় ছিলেন। দুর্নীতিবাজ নাঈমুল প্রেস সচিব হবার পরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব তথ্য চলে যেতে থাকে জামায়াতের কাছে। বিশেষ করে জুলাই থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে নাঈমুল ইসলাম খানই ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসূত্র। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ তারা আগে থেকেই জানতে পারেন। এটাই সরকারকে দ্রুত বিপদের দিকে নিয়ে যায়। নাঈমুল ইসলাম খান, জিল্লুর রহমান, আসিফ নজরুলরা আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর দিন পর্যন্ত নিয়মিত তথ্য আদান প্রদান করতো। মাঝে মধ্যেই আলী রিয়াজের সাথেও যুক্ত হতো নাঈমুল ইসলাম খান। পাঁচ আগস্টের পর নাঈমুল ইসলাম জামায়াতের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার আশ্রয়ে আছেন।
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন বিপ্লব বড়ুয়া। শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে যোগ দিয়ে বিপ্লব দলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সাথে শেখ হাসিনার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। চাটুকার এবং মতলববাজরা দখল করে গনভবন।
আহমেদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব হবার পর আওয়ামী লীগ সরকারে তার কর্তৃত্ব হারায়। সরকার পরিচলনা করতে থাকে আমলারা। এখানেই চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় আওয়ামী লীগ সংগঠন।
ওবায়দুল কাদেরের মতো অথর্ব ও অসৎ একজনকে টানা তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক করে দলটিকে চুড়ান্ত ভাবে নিস্ক্রিয় করে ফেলা হয়। সংগঠনের পদ বিক্রি শুরু হয় আলু পটলের মতো। টাকা আছে যার, পদ তার এই নীতিতে আওয়ামী লীগের দুর্দিনের নেতা কর্মীদের ছুঁড়ে ফেলা হয়। শেখ হাসিনা হয়ে যান একলা। তার চারপাশে থাকে শুধু সুবিধাভোগী গোষ্ঠী।
এরাই আওয়ামী লীগের সর্বনাশ করেছে। এরাই শেখ হাসিনার ক্ষতি করেছে সবচেয়ে বেশি।
আওয়ামী লীগকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে এসব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। দলের সত্যিকারের ত্যাগী, আদর্শবান নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে নতুন নেতৃত্ব।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করে আদর্শের লড়াই করতে হবে। তাহলেই জিতবে আওয়ামী লীগ। কারণ মুক্তিযুদ্ধ কখনও হারে না।