শহিদুল ইসলাম কবির :
গত ১১ আগষ্ট বিআইডিজি (BIGD) একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। এর এক অংশে সংস্থাটি বলার চেষ্টা করেছে, "আগামী নির্বাচনে মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোকে যত শতাংশ ভোট দিবে
গত ১১ আগষ্ট বিআইডিজি (BIGD) একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। এর এক অংশে সংস্থাটি বলার চেষ্টা করেছে, "আগামী নির্বাচনে মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোকে যত শতাংশ ভোট দিবে
ক) বিএনপি ১২.০%
খ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১০.৪%
গ) আওয়ামী লীগ ৭.৩%
ঘ) এনসিপি NCP ২.৮%
উ) সিদ্ধান্ত নেননি ৪৮.৫%
প্রশ্ন হলো দেশে কি শুধু এই রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে?
বাংলাদেশে স্বতন্ত্র ধারায় যুগের পর যুগ হাত পাখা প্রতিক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতি করে আসছে। অথচ এই দলকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কারো বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে জরিপ এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
নবগঠিত রাজনৈতিক দল NCP রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদনে ছয়টি বিষয়ে ত্রুটি বা ঘাটতি পেয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১৯ জুলাই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর পাঠানো চিঠিতে ত্রুটিগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ঠিকানাসহ দলের সব কার্যকর জেলা দপ্তরের তালিকা দেওয়া হয়নি; ঢাকা ও সিলেট জেলা দপ্তরের ভাড়া চুক্তিপত্রে দলের নাম উল্লেখ নেই। ঠিকানাসহ সব উপজেলা ও থানা দপ্তরের তালিকা দেওয়া হয়নি; এর মধ্যে ২৫টি উপজেলা বা থানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটার (ন্যূনতম ২০০ জন) সদস্যের অন্তর্ভুক্তি পাওয়া যায়নি। এমন একটি রাজনৈতিক দলকে রাজনৈতিক দল হিসেবে জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অথচ কেন্তৃদ্র থেকে তৃণমূলে নীতিনৈতিকতার সাথে পরিচিত সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজি ও সিন্ডিকেট মুক্ত রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নাম জরিপে অন্তর্ভুক্ত না করা ইসলাম বিরোধী এনজিও ব্রাক এর হীন উদ্দেশ্যে পরিচালিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে বলে দেশের সাধারণ মানুষ মনে করেছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শেষ সময়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত পেশাজীবী সংগঠন জাতীয় শিক্ষক ফোরাম এর এক সেমিনারে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাব পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম বিরোধী প্রবন্ধ থাকায় জনসম্মুখে তা ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে জনসমর্থন লাভের পরে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষক আসিফ মাহতাবকে চাকুরিচ্যুত করে তাদের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার উদাহরণ জনসম্মুখে স্পষ্ট করে।
পরবর্তীতে আলোচনায় উঠে আসে ইসলাম বিরোধী এনজিও ব্রাক কর্তৃক পরিচালিত ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় হযরত শাহজালাল রহসহ অসংখ্য পীর মাশায়েখ, আলেম ওলামাদের বাংলাদেশে তারা সমকামিতা কে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। তৎকালীন সময়ে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আসিফ মাহতাব কে চাকুরিচ্যুত করা, মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে অভিশপ্ত সমকামীতাকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সে প্রতিবাদের কারণে ব্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আসিফ মাহতাবকে ফিরিয়ে না দিয়ে তার পাওনা পরিশোধ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা চালায়। ইতিমধ্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফলে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এখন যখন দেশব্যাপী সকল রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে রাষ্ট্র গঠনের জন্য ব্যাস্ত সময় অতিক্রম করছে তখন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ইসলাম বিরোধী এনজিও ব্রাক কর্তৃক পরিচালিত ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে কথিত জরিপ ও জরিপ রিপোর্ট পূর্ব শত্রুতার জেরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রথম ধাপ শুরু করা হয়েছে।
ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত ঐ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জা জানা গেলো তা হলো- বিআইডিজি (BIGD) হল ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BRAC Institute of Governance and Development) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, যা সুশাসন এবং উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে।
দেশের মানুষ মনে করে ব্রাক শুরু থেকে গ্রামের মক্তব থেকে শিশুদেরকে সরিয়ে এনেছে। পর্দানশীন নারীদেরকে ঘর ছাড়া করাসহ ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। দেশে ঘৃণিত সমকামিতাকে ব্যাপক হারে প্রচলন করে পরিবার প্রথা ভেঙে দিতে গোপনে ও প্রকাশ্যে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন আবার নীতিনৈতিকতা নিয়ে পরিচালিত দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে রাজনীতির ময়দান থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
শহিদুল ইসলাম কবির, সভাপতি- মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল
শহিদুল ইসলাম কবির, সভাপতি- মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল