জুলাই জাতীয় সনদে ২৪টি দল স্বাক্ষর করলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই সনদে যোগ দিতে রাজি আছে। রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে চলতি সপ্তাহে সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঐকমত্য কমিশন। সনদকে বৈধ ও কার্যকর করার জন্য কমিশন আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সুপারিশ দেবে। আর সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি এনসিপিসহ অন্য দলগুলোর সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কমিশন মনে করে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেবে কমিশন। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠাবে এবং সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে কমিশন আশাবাদী।
গত ১৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিক আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জুলাই জাতীয় সনদে সই করে ২৪টি রাজনৈতিক দল। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীদার এনসিপি এই অনুষ্ঠানে যায়নি। এ প্রসঙ্গে আলী রিয়াজ বলেন, জুলাই আন্দোলন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী সংস্কার ও রাজনৈতিক সনদ প্রণয়নে এনসিপির অবদান আছে। তাই কমিশন আশা করছে, এনসিপি জুলাই সনদ স্বাক্ষর করবে।
এদিকে জুলাই সনদে সই না করলেও আইনি জটিলতা নিরসনে এবং এই সনদকে একটি যথাযথ আইনি ভিত্তি দিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আগের মতো আলোচনা চালিয়ে যাবে এনসিপি। আইনি ভিত্তি ও বৈধতা-সংক্রান্ত বিষয়াবলি সম্পর্কে সুনিশ্চিত হলেই তারা সনদে সই করবে। জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের একদিন পর গতকাল শনিবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ব্যাখ্যায় বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদের কোনো আইনি ভিত্তি প্রদান না করা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া প্রকাশ না করা এবং সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জাতির সামনে উন্মোচন না করায় শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর থেকে বিরত থেকেছে এনসিপি।
এদিকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের তফসিলে রাখার প্রস্তাবে সম্মত হওয়ায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে গণফোরাম। গত শুক্রবার সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও স্বাক্ষর করেনি তারা। ঐকমত্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী জানান, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ স্বাক্ষর করবে গণফোরাম।
এদিকে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নিলেও সংবিধানের চার মূলনীতি বহাল রাখাসহ ৭ দফা দাবিতে সনদে স্বাক্ষর করেনি বামপন্থি চার দল- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ।
এ বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, যেসব প্রস্তাবে সব দল যেটাই একমত হবে সেটাই হবে ঐকমত্য। কিন্তু ঐকমত্য কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত, মানে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্য করল, যা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আন্দোলনের ইতিহাস সনদে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। আমরা কয়েকবার সংশোধনী দিলেও সেটা সংশোধন করা হয়নি। রাষ্ট্রের মূলনীতি আমরা বলছিলাম, আপনারা যেটা যুক্ত করতে চান-‘সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক ন্যায়বিচার ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্প্রীতি’, এগুলো যুক্ত করেন, আমাদের আপত্তি নাই, কিন্তু আগেরটা বহাল রেখে করতে হবে।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপত্তির বিষয় হলো অঙ্গীকার নামায় যে সাত দফা দিছে, সেখানে প্রথম দফা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। তাইলে নোট অব ডিসেন্টসহ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কেমনে করবে? এটা সংবিধানের তফসিলে বা যথোপযুক্ত জায়গায় স্থান দেবে। এটা নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবে না, এটা কি ব্যাপার? যেটা মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার, সে অধিকারের পরিবর্তিত হয়? সে জন্য আমরা বলছি, ঐকমত্য কমিশন সনদ বাস্তবায়নের নামে বিভক্তি, অনৈক্য তৈরির প্রয়াস চালিয়েছে। এরা মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দিতে চায়। অনেকে এটাকে ৪৭ সালে নিয়ে যেতে চায়, সেই পাকিস্তানের ধারায়। তাই এখন আন্দোলনে নামার বিকল্প নেই। আমরা আমাদের কথাগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাব, জনগণের কাছে প্রচার করব। জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
চলতি সপ্তাহে চূড়ান্ত হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি
চলতি সপ্তাহে চূড়ান্ত হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি
জুলাই জাতীয় সনদে ২৪টি দল স্বাক্ষর করলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই সনদে যোগ দিতে রাজি আছে। রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে চলতি সপ্তাহে সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঐকমত্য কমিশন। সনদকে বৈধ ও কার্যকর করার জন্য কমিশন আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সুপারিশ দেবে। আর সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি এনসিপিসহ অন্য দলগুলোর সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কমিশন মনে করে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেবে কমিশন। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠাবে এবং সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে কমিশন আশাবাদী।গত ১৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিক আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জুলাই জাতীয় সনদে সই করে ২৪টি রাজনৈতিক দল। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীদার এনসিপি এই অনুষ্ঠানে যায়নি। এ প্রসঙ্গে আলী রিয়াজ বলেন, জুলাই আন্দোলন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী সংস্কার ও রাজনৈতিক সনদ প্রণয়নে এনসিপির অবদান আছে। তাই কমিশন আশা করছে, এনসিপি জুলাই সনদ স্বাক্ষর করবে।এদিকে জুলাই সনদে সই না করলেও আইনি জটিলতা নিরসনে এবং
এই সনদকে একটি যথাযথ আইনি ভিত্তি দিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আগের মতো আলোচনা চালিয়ে যাবে এনসিপি। আইনি ভিত্তি ও বৈধতা-সংক্রান্ত বিষয়াবলি সম্পর্কে সুনিশ্চিত হলেই তারা সনদে সই করবে। জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের একদিন পর গতকাল শনিবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ব্যাখ্যায় বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদের কোনো আইনি ভিত্তি প্রদান না করা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া প্রকাশ না করা এবং সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জাতির সামনে উন্মোচন না করায় শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর থেকে বিরত থেকেছে এনসিপি।এদিকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের তফসিলে রাখার প্রস্তাবে সম্মত হওয়ায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে গণফোরাম। গত শুক্রবার সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও স্বাক্ষর করেনি তারা। ঐকমত্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী জানান, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ স্বাক্ষর করবে গণফোরাম।এদিকে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নিলেও সংবিধানের চার মূলনীতি বহাল রাখাসহ ৭ দফা দাবিতে সনদে স্বাক্ষর করেনি বামপন্থি চার দল- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ।এ বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, যেসব প্রস্তাবে সব দল যেটাই
একমত হবে সেটাই হবে ঐকমত্য। কিন্তু ঐকমত্য কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত, মানে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্য করল, যা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আন্দোলনের ইতিহাস সনদে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। আমরা কয়েকবার সংশোধনী দিলেও সেটা সংশোধন করা হয়নি। রাষ্ট্রের মূলনীতি আমরা বলছিলাম, আপনারা যেটা যুক্ত করতে চান-‘সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক ন্যায়বিচার ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্প্রীতি’, এগুলো যুক্ত করেন, আমাদের আপত্তি নাই, কিন্তু আগেরটা বহাল রেখে করতে হবে।বাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপত্তির বিষয় হলো অঙ্গীকার নামায় যে সাত দফা দিছে, সেখানে প্রথম দফা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। তাইলে নোট অব ডিসেন্টসহ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কেমনে করবে? এটা সংবিধানের তফসিলে বা যথোপযুক্ত জায়গায় স্থান দেবে। এটা নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবে না, এটা কি ব্যাপার? যেটা মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার, সে অধিকারের পরিবর্তিত হয়? সে জন্য আমরা বলছি, ঐকমত্য কমিশন সনদ বাস্তবায়নের নামে বিভক্তি, অনৈক্য তৈরির প্রয়াস চালিয়েছে। এরা মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দিতে চায়। অনেকে এটাকে ৪৭ সালে নিয়ে যেতে চায়, সেই পাকিস্তানের ধারায়। তাই এখন আন্দোলনে নামার বিকল্প নেই। আমরা আমাদের কথাগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাব, জনগণের কাছে প্রচার করব। জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত