দেশটা দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। ভারতে আমরা হিন্দু চরমপন্থীদের উত্থান দেখেছি। আমরা নিজেদের দেশ নিয়ে অহঙ্কার করতাম। এখন দেখছি বাংলাদেশেও ধর্মীয় চরমপন্থার উত্থান ঘটছে। নবাবগঞ্জে কন্টেন্ট ক্রিয়েটার আমিনূর শাহকে মবের হুমকির মুখে গ্রেফতার করা হয় এবং ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। আমিনূর শাহ মন্তব্য করেছিলেন, রসূলের (সা.) লাশ দাফনের চেয়ে কি খিলাফত গ্রহণ জরুরি ছিল? এ কথায় অপরাধ কোথায়? বহু লেখক এ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তাহলে কি সবাই মবের শিকার হবেন?
এ দেশে কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রহিত করা হয়েছে? ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মানিকগঞ্জে বাউল আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। পালাগানে তিনি একটি চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জন্য আপাতদৃষ্টিতে বিতর্কিত উক্তি করেছিলেন। এ নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় করা হয়। ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট রাজবাড়ির গোয়ালন্দে নূরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ দেশে কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রহিত করা হয়েছে? ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মানিকগঞ্জে বাউল আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। পালাগানে তিনি একটি চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জন্য আপাতদৃষ্টিতে বিতর্কিত উক্তি করেছিলেন। এ নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় করা হয়। ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট রাজবাড়ির গোয়ালন্দে নূরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
সব মানুষ এক রকম হবে না। হাজার মানুষ হাজার রকম চিন্তা করবে। হাজার কথা বলবে। কিন্তু একটি ধর্মীয় উগ্র শ্রেণি একটু বেশ কম হলেই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে কুিপয়ে মেরে ফেলতে উদ্যত হয়। ইসলাম সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। ইসলাম মহান, সহনশীল এবং শান্তির ধর্ম। সমাজে সন্ত্রাস এবং অশান্তি কায়েম করার নাম ইসলাম কায়েম করা নয়। এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে না। অবশ্যই সহিংসতা পরিহার করতে হবে। অন্যের মতপ্রকাশের প্রতি সহনশীল হতে হবে। দেশে আইন আছে। আপত্তি থাকলে আদালতের দারস্থ হতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থায় অন্যের জীবনহানি এবং সম্পত্তি ধ্বংস করা যাবে না। আমাদের সমাজ সস্তা আবেগে ভেসে যায়। কিছু অসাধু লোক সব সময় ধর্মকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। তৌহিদী জনতার ব্যানারে ভিন্নমতের মানুষের উপর হামলা চালানো হয়। এ ধরনের সহিংসতায় বন্য আনন্দ পাওয়া যায়। সমাজে তাদের সংখ্যাই বেশি। কথিত তৌহিদী জনতা ভেবে দেখে না যে, তারা যাদের উপর সংঘবদ্ধ আক্রমণ চালায় তাদেরও ধর্ম আছে। তাদেরও ধর্মীয় অনুভূতি আছে। উগ্রপন্থীরা এক ধরনের ধর্মীয় সুরসুরিতে পরিচালিত। আমাদের সমাজ জীবনে ধর্মীয় ত্রাস এই মাত্রায় পৌঁছেছে যে, ভিক্টিমদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী দাঁড়ায় না।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় শামিম বাবার দরবার শরীফে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। কেউ আইনের তোয়াক্কা করেনি। নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনে পীর শামিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ নৃশংস ঘটনা নিয়ে দৈনিক প্রথম আলো ও বিবিসি পৃথক পৃথক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ভাঙ্গচুর ও হত্যার ঘটনায় অংশগ্রহণকারী অন্তত ১৯ জনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের নাম-ঠিকানাসহ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টাও নিশ্চিত করা হয়। দরবারে হামলার ঘটনা নিয়ে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও কয়েকটি ফেসবুক আইডি দুদিন ধরে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, হামলায় আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ছিল।
হামলাকারীদের কেউ কেউ মুখ ঢেকে রেখেছিল। তাদের সবার বাড়ি ফিলিপনগরসহ আশপাশের চরসাদীপুর ও ইসলামপুরে। ঘটনার পর অনেকেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেয়। জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের একজনকে প্রত্যক্ষদর্শীর মতে ঘটনাস্থলেও দেখা গেছে। পীরের ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে বের করে আঘাতকারী একজনকে শনাক্ত করা হয়। তার নাম রাজিব দফাদার। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। বাবার নাম গাজী দফাদার। রাজিব জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটার পর থেকে তিনি এলাকা ছাড়া।
হামলাকারীদের কেউ কেউ মুখ ঢেকে রেখেছিল। তাদের সবার বাড়ি ফিলিপনগরসহ আশপাশের চরসাদীপুর ও ইসলামপুরে। ঘটনার পর অনেকেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেয়। জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের একজনকে প্রত্যক্ষদর্শীর মতে ঘটনাস্থলেও দেখা গেছে। পীরের ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে বের করে আঘাতকারী একজনকে শনাক্ত করা হয়। তার নাম রাজিব দফাদার। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। বাবার নাম গাজী দফাদার। রাজিব জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটার পর থেকে তিনি এলাকা ছাড়া।
এ ঘটনায় নিহত আবদুর রহমান শামিমের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন। এতে রাজিব দফাদারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। ১১ এপ্রিলের পর থেকে রাজিব উধাও। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রচার প্রচারণায় ছিলেন। এলাকার জামায়াত নেতা খাজা আহমদের সঙ্গে থাকে। এ ব্যাপারে জানতে ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য (জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি) খাজা আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে ফোন দিলে তিনি একটি অনুষ্ঠানে আছেন জানিয়ে বলেন, পরে কথা বলবেন। যোগাযোগ করা হলে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘যতটুকু শুনেছি দরবারে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছে। তারা এলাকার সব রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। জামায়াতের কেউ আছে কিনা জানা নেই।’
প্রথম দফায় হামলাকারীদের মধ্যে ৫ থেকে ৭ জনের একটি দল সরাসরি একটি ভবনের দোতলায় উঠে পীরের কক্ষের সামনে যায়। পীরের দরজা ভাঙ্গে রাজিব দফাদার। তারপর পীরকে টেনে বের করে হাতে থাকা শক্ত কিছু দিয়ে তাকে আঘাত করে। তখন কয়েকজন কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙ্গচুর ও লুটপাট চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে থেকে পাওয়া তথ্যে পুলিশ জানতে পেরেছে, মিছিল নিয়ে দরবারে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুল ইসলাম। তার বাড়ি ফিলিপনগর গ্রামে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পীর আবদুর রহমান ওরফে শামিম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন কয়েক বছর আগে।
৩০ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও ১০ এপ্রিল সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল শনিবার সকালে শামিমের দরবার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। তারপর দুপুরের পর তারা দরবারে হামলা চালায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে শামিমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ১৩ এপ্রিল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে নিহত পীর আবদুর রহমানের দরবার শরীফে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশবাগানে ঘেরা দরবার শরীফে সুনসান নীরবতা। দরবারের সঙ্গে বাঁশবাগানে অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে বসে থাকতে দেখা গেছে। দরবারের ভেতর কোনো ভক্ত ও লোকজনকে পাওয়া যায়নি। ভাঙ্গচুর হওয়া সবকিছু এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। দুপুরেও একটি আধা পাকা ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। গ্রামের মানুষেরা ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। হামলায় আরো দুজন আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, তিন বছর আগের একটি ভিডিওর সূত্র ধরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে দুপুরের দিকে স্থানীয় একদল লোক একত্রিত হয়ে হামলা, ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পরে আহত অবস্থায় তিনজনকে দৌলতপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শামিম। হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনার কিছু ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, হাতে লাঠিসোটা নিয়ে কয়েক শো লোক প্রথমে হামলা ও ভাঙ্গচুর চালায়। পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ রাজু। ঘটনাস্থল থেকে তিনি জানান, হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দুপুর থেকে এই হামলা ও ভাঙ্গচুরের পর বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩০ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও ১০ এপ্রিল সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল শনিবার সকালে শামিমের দরবার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। তারপর দুপুরের পর তারা দরবারে হামলা চালায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে শামিমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ১৩ এপ্রিল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে নিহত পীর আবদুর রহমানের দরবার শরীফে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশবাগানে ঘেরা দরবার শরীফে সুনসান নীরবতা। দরবারের সঙ্গে বাঁশবাগানে অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে বসে থাকতে দেখা গেছে। দরবারের ভেতর কোনো ভক্ত ও লোকজনকে পাওয়া যায়নি। ভাঙ্গচুর হওয়া সবকিছু এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। দুপুরেও একটি আধা পাকা ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। গ্রামের মানুষেরা ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। হামলায় আরো দুজন আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, তিন বছর আগের একটি ভিডিওর সূত্র ধরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে দুপুরের দিকে স্থানীয় একদল লোক একত্রিত হয়ে হামলা, ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পরে আহত অবস্থায় তিনজনকে দৌলতপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শামিম। হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনার কিছু ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, হাতে লাঠিসোটা নিয়ে কয়েক শো লোক প্রথমে হামলা ও ভাঙ্গচুর চালায়। পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ রাজু। ঘটনাস্থল থেকে তিনি জানান, হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দুপুর থেকে এই হামলা ও ভাঙ্গচুরের পর বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত আবদুর রহমান শামীম ২০২১ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিন মাস কারাগারে ছিলেন। সাংবাদিক আহমেদ রাজু জানান, ভিডিওতে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়। শামিমের এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়। পরে ১১ এপ্রিল শনিবার দুপুর একটার দিকে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ফিলিপনগরে শামিমের দরবার শরীফ ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙ্গচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ জানায়, যেই ভিডিওটি ঘিরে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে সেই ভিডিওটি অন্তত তিন বছর আগের ২০২৩ সালের। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত দরবার এলাকায় শত শত মানুষ দরবার শরীফ এলাকায় অবস্থান করছিল। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিগত অন্তর্বতীকালীন সরকারের আমলে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মাজারে হামলা, ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এখন আবারো এই ধরনের হামলার ঘটনা কেন পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সেই প্রশ্নও উঠেছে। মাজারে হামলার আতঙ্ক এখনো কাটেনি। কেবল মাজারে নয়, ধর্ম অবমাননা কিংবা রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে ঢাকা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি দলবদ্ধ হামলার বা বিশৃঙ্খলার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মবের বিরুদ্ধে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করছেন কেউ কেউ।
(লেখাটি আমার ‘সমকালীন বিশ্ব’ থেকে নেয়া।)