শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত ধর্মের দোহাই দিয়ে নরক বানানো বন্ধ হোক!

ধর্মের দোহাই দিয়ে নরক বানানো বন্ধ হোক!

বর্তমান এই অসভ্যতামি আর অন্ধকারের অতল গহ্বরে দাঁড়িয়ে আমাদের বুক ফেটে চিৎকার করতে ইচ্ছে করছে। একদল তথাকথিত ‘তৌহিদি মববাজ’ জনতা ধর্মের নাম ভাঙিয়ে যে খুনি মত্ততায় মেতে উঠেছে, তাদের বলছি শোন! মহান আধ্যাত্মিক সাধক শামীম আল জাহাঙ্গীর আল সুরেশ্বরী’র পায়ের নখের সমতুল্য এলেম বা জ্ঞানটুকু অর্জন করার ন্যূনতম যোগ্যতাও তোদের নেই। তোরা ধর্মের প্রকৃত নির্যাস বুঝিস না, তোরা বুঝিস শুধু মানুষের রক্ত আর পাশবিক প্রবৃত্তির আস্ফালন।

রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রশ্ন?
আজ ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকার কি এতটাই ঠুঁটো জগন্নাথ যে, রাজপথে ধর্মের নামে মব জাস্টিস হবে আর তারা আঙুল চুষবে? রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া, কিন্তু তাদের নির্লিপ্ততা আজ উগ্রবাদীদের আরও সাহসী ও হিংস্র করে তুলছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি আপনাদের এই উদাসীনতা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল। মাজার খানকাহ আর সাধকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা রুখতে না পারা আপনাদের ব্যর্থতার এক কলঙ্কিত অধ্যায়!

বিরোধদলের ছদ্মবেশে থেকে যারা পর্দার আড়াল থেকে এই উগ্রবাদী উন্মাদনা ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছেন, তাদের এই দ্বিচারিতা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। ধর্মের বাণিজ্যিকীকরণ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা আর পৃথিবীটাকে দোজখ বানানোই কি আপনাদের লক্ষ্য?

তৌহিদি মববাজদের কাছে সোজাসাপ্টা প্রশ্ন?

আল্লাহর কাছে কেউ পাপ করলে তার বিচার করার টেন্ডার বা দায়িত্ব কি আল্লাহ তোমাদের দিয়েছে? তোমরা কি আল্লাহর চেয়েও বড় বিচারক হয়ে গেছ? বিচার করার মালিক সৃষ্টিকর্তা, তোমরা নও। পরকালের কল্পিত সুখের আশায় ইহকালে অশান্তি আর রক্তপাত ঘটানো প্রকৃত ধর্ম নয় এটা চরম ইতরামি আর নোংরামি।

যুক্তিহীন অন্ধত্ব যখন শাসনের মেরুদণ্ড হয়, তখন সেখানে মানবিকতার আলো নিভে যায়। আমরা এই অরাজকতার বিরুদ্ধে, এই রাষ্ট্রীয় ভণ্ডামির বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাব।

ধর্মের দোহাই দিয়ে আজ যারা মাজার খানকাহ ভাঙছেন আর মানুষ মারছেন, তাদের এই তৌহিদি জোশ তখন কোথায় থাকে যখন মসজিদের সিঁড়িতে নারী ধর্ষিত হয়? মাদ্রাসায় যখন দিনের পর দিন নিষ্পাপ শিশুরা বলৎকারের শিকার হয়, তখন তো আপনাদের কোনো দলবল নিয়ে মসজিদ বা মাদ্রাসা ভাঙতে যেতে দেখি না। অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই, কিন্তু আপনারা ধর্মকে বেছে বেছে শুধু ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আঘাত করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। আল্লাহর ঘরের দোহাই দিয়ে যারা আজ রক্তপাত করছেন, তারা আসলে ধর্মের সেবক নয় বরং ধর্মের নামে একেকজন খুনি ও চরম সুবিধাবাদী। বিচার করার ইজারা কি আল্লাহ আপনাদের মতো বলৎকারী আর উগ্রবাদীদের হাতে দিয়েছেন? এই জঘন্য দ্বিচারিতা আর ধর্মের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করুন, নতুবা ইতিহাসের কাঠগড়ায় আপনাদের পতন অনিবার্য। পরকালের দোহাই দিয়ে ইহকালকে নরক বানানোই কি আপনাদের ইমানি দায়িত্ব?

আমাদের হৃদয়ে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে, আর একদল তল্পিবাহক সংবাদমাধ্যম সেই ক্ষতে লবণের ছিটা দিচ্ছে। প্রথম আলো, যমুনা টিভিসহ যেসব তথাকথিত মূলধারার মিডিয়া মহান আধ্যাত্মিক সাধক শামীম আল জাহাঙ্গীর আল সুরেশ্বরীকে 'কথিত পীর' বলে সম্বোধন করছে, তাদের প্রতি আমাদের তীব্র ধিক্কার।

একটি মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো সেটা হত্যাকাণ্ড না হয়ে আপনাদের কাছে হয়ে গেল স্রেফ একটা সংবাদ? আর সেই সংবাদের শিরোনামে 'কথিত' শব্দটা ব্যবহার করে কি আপনারা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দিচ্ছেন না? আপনাদের এই শব্দচয়ন উগ্রবাদী খুনিদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, তোমরা ঠিক কাজই করেছ। ধিক্কার জানাই আপনাদের এই হলুদ সাংবাদিকতাকে।

সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন?

আপনাদের মাপকাঠিতে 'আসল পীর' কে? কার সার্টিফিকেট নিয়ে আপনাদের কাছ থেকে আধ্যাত্মিকতার স্বীকৃতি নিতে হবে?
একজন মানুষের জীবন কি আপনাদের কাছে এতই সস্তা যে, খুনিদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে আপনারা শব্দের কারসাজি করছেন?
নিরপেক্ষতার বুলি আউড়ানো প্রথম আলো বা যমুনা কি একবারও ভেবে দেখেছে, তাদের এই একপেশে শিরোনাম উগ্রবাদীদের কতটা উৎসাহিত করছে?

আপনারা স্রেফ সংবাদ প্রচার করছেন না, আপনারা উগ্রবাদী মববাজদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন। এই খুনি তৌহিদী জনতা ধর্মের নামে মানুষ মারছে, আর আপনারা কলমের খোঁচায় সেই খুনের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিচ্ছেন। মনে রাখবেন, ইতিহাসের পাতায় খুনিদের সাথে আপনাদের নামও সহযোগীর তালিকায় লেখা থাকবে।

আল্লাহর বিচারের টেন্ডার কি আপনাদের কেনা? আপনারা কারা ঠিক করে দেওয়ার যে কে অপরাধী আর কে সাধক? আল্লাহর কাছে কেউ পাপ করলে তার বিচার করার দায়িত্ব কি এই খুনি তোহিদী জনতাকে বা আপনাদের মতো বিবেকহীন মিডিয়াকে দেওয়া হয়েছে? বিচার করার মালিক পরমেশ্বর, কোনো মববাজ বা এজেন্ডাধারী সংবাদমাধ্যম নয়।

আমরা এই নোংরা মিডিয়া ট্রায়াল এবং সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সত্যের আলোয় একদিন আপনাদের এই ভণ্ডামির মুখোশ খুলে পড়বেই। শামীম আল জাহাঙ্গীর'র সত্য পথ চিরকাল অম্লান থাকবে।
এই রাষ্ট্রীয় ভণ্ডামি ও মিডিয়া সন্ত্রাসের তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন।

খুঁজুন