দীর্ঘদিন ধরে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাচ্ছি, আজ নিজ চোখের সামনে ঘটল এক হৃদয় বিদারক ঘটনা।
একটি নিউজের কাজে সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার কাকা-সহ আমি গোপালনগর যাই। সেখান থেকে ফেরার পথে কোম্পানিগঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করার পর হঠাৎ দেখলাম একটি সিএনজি'তে কান্নাকাটি ও চিল্লাচিল্লির আওয়াজ। খুব দ্রুত গতিতে দেবিদ্বারের দিকে যাচ্ছে। প্রথম ভাবছি হয়তো দূর্ঘটনার রোগী নিয়ে দেবিদ্বার যাচ্ছে।
ঘটনা জানতে সিএনজিটিকে ফলো করলাম। পথেই সাংবাদিক বাসার কাকাকে বললাম জরুরী রোগী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে, আমরা পিছনে পিছনে যাবো তবে দেখবেন ডাক্তার থাকবে না, নয়তো দ্রুত চিকিৎসা দেবে না। তখন তিনি বললো কি বল চল তাদের সাথে, আমি বললাম আমরা একটু পর যাবো।
এবার গন্তব্য দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতাল, রোগী জরুরী বিভাগ নেয়া হল। আমরা সাথেই ছিলাম।
গিয়ে দেখি সেকমো চেয়ারে বসা, ডাক্তার নেই, রোগীর মা বাবা কান্না করছে। আমাকে দেখে রোগীর পেশার মাপা শুরু করলেন স্টাফ। আমি একটু জোর গলায় বললাম দ্রুত চিকিৎসা দিন। স্টাফ একজনকে বললো সিস্টারকে ডাকেন। ততক্ষণে কমপক্ষে ৬-৭ মিনিট অতিক্রম হয়ে যায়।
রোগীর মেয়ের সাথে কথা বললাম কি সমস্যা বললো গর্ভবতী, ডেলিভারি হবে। আবারো জোর দিয়ে বললাম ডাক্তার কই। এদিকে রোগীর মা বাবার কান্নায় আকাশ পাতাল ভারি হয়ে ওঠে।
১০-১২ মিনিট পর ডাক্তার আসল।
বাসার কাকা আমাকে বললো লাইভ করতে, তিনি লাইভে গেলেন। ডাক্তার রেগে বাইরে এসে বললো ভিডিও কেন করছেন, আমি বললাম আপনার সমস্যা কি রোগীর চিকিৎসা করান, সাংবাদিকের কাজ ভিডিও করা। এবার ডাক্তার চুপ হয়ে গেলেন, ঘোষণা দিলেন রোগী আগেই মারা গেছে।
এ হল দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান। একটি সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার দুপুর ২:৪৫ মিনিটের সময় কোথায় গেলেন। জরুরি বিভাগের ডাক্তার তো সবসময় উপস্থিত থাকার কথা।
নিহত প্রসূতির নাম বিলকিস, স্বামী প্রবাসি নাম আবু হানিফ। সে মুরাদনগর উপজেলা রাজা চাপিতলা গ্রামের আজিজ মিয়ার মেয়ে।
আরেকটি অভিযোগ হল, এত দুর থেকে প্রসূতিটিকে দেবিদ্বারে নিয়ে আসা হয়। সড়কের যে বেহাল দশা। কোন সুস্থ মানুষ চলাচল করার মত না। কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে কুমিল্লা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল করাই যেন অভিশাপ।
খানাখন্দ ও গর্ত গাড়ি কোন রকম চলে। তারা বৃষ্টি হলে সামান্য দুই নম্বর ইট দিয়ে একটু একটু মেরামত করে। মেরামতের পর একদিন পার না হতেই আবার আগের মত হয়ে যায়।
আজকে বিলকিসের মৃত্যুর জন্য কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা দায়ী।
কিন্তু আজ গরীর বলে বিলকিস'রা বিচার পাবে না।
এ মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী
এ মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী
দীর্ঘদিন ধরে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাচ্ছি, আজ নিজ চোখের সামনে ঘটল এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। একটি নিউজের কাজে সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার কাকা-সহ আমি গোপালনগর যাই। সেখান থেকে ফেরার পথে কোম্পানিগঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করার পর হঠাৎ দেখলাম একটি সিএনজি'তে কান্নাকাটি ও চিল্লাচিল্লির আওয়াজ। খুব দ্রুত গতিতে দেবিদ্বারের দিকে যাচ্ছে। প্রথম ভাবছি হয়তো দূর্ঘটনার রোগী নিয়ে দেবিদ্বার যাচ্ছে। ঘটনা জানতে সিএনজিটিকে ফলো করলাম। পথেই সাংবাদিক বাসার কাকাকে বললাম জরুরী রোগী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে, আমরা পিছনে পিছনে যাবো তবে দেখবেন ডাক্তার থাকবে না, নয়তো দ্রুত চিকিৎসা দেবে না। তখন তিনি বললো কি বল চল তাদের সাথে, আমি বললাম আমরা একটু পর যাবো।এবার গন্তব্য দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতাল, রোগী জরুরী বিভাগ নেয়া হল। আমরা সাথেই ছিলাম। গিয়ে দেখি সেকমো চেয়ারে বসা, ডাক্তার
নেই, রোগীর মা বাবা কান্না করছে। আমাকে দেখে রোগীর পেশার মাপা শুরু করলেন স্টাফ। আমি একটু জোর গলায় বললাম দ্রুত চিকিৎসা দিন। স্টাফ একজনকে বললো সিস্টারকে ডাকেন। ততক্ষণে কমপক্ষে ৬-৭ মিনিট অতিক্রম হয়ে যায়। রোগীর মেয়ের সাথে কথা বললাম কি সমস্যা বললো গর্ভবতী, ডেলিভারি হবে। আবারো জোর দিয়ে বললাম ডাক্তার কই। এদিকে রোগীর মা বাবার কান্নায় আকাশ পাতাল ভারি হয়ে ওঠে। ১০-১২ মিনিট পর ডাক্তার আসল। বাসার কাকা আমাকে বললো লাইভ করতে, তিনি লাইভে গেলেন। ডাক্তার রেগে বাইরে এসে বললো ভিডিও কেন করছেন, আমি বললাম আপনার সমস্যা কি রোগীর চিকিৎসা করান, সাংবাদিকের কাজ ভিডিও করা। এবার ডাক্তার চুপ হয়ে গেলেন, ঘোষণা দিলেন রোগী আগেই মারা গেছে। এ হল দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান। একটি সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার দুপুর ২:৪৫ মিনিটের সময় কোথায়
গেলেন। জরুরি বিভাগের ডাক্তার তো সবসময় উপস্থিত থাকার কথা। নিহত প্রসূতির নাম বিলকিস, স্বামী প্রবাসি নাম আবু হানিফ। সে মুরাদনগর উপজেলা রাজা চাপিতলা গ্রামের আজিজ মিয়ার মেয়ে। আরেকটি অভিযোগ হল, এত দুর থেকে প্রসূতিটিকে দেবিদ্বারে নিয়ে আসা হয়। সড়কের যে বেহাল দশা। কোন সুস্থ মানুষ চলাচল করার মত না। কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে কুমিল্লা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল করাই যেন অভিশাপ।খানাখন্দ ও গর্ত গাড়ি কোন রকম চলে। তারা বৃষ্টি হলে সামান্য দুই নম্বর ইট দিয়ে একটু একটু মেরামত করে। মেরামতের পর একদিন পার না হতেই আবার আগের মত হয়ে যায়। আজকে বিলকিসের মৃত্যুর জন্য কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা দায়ী। কিন্তু আজ গরীর বলে বিলকিস'রা বিচার পাবে না।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত