শিশির ভট্টাচার্য :
গ্রামের রাস্তায় হাঁটার সময় মাথা ঘুড়ে এক ব্যক্তি পাশে নালায় পড়ে গিয়েছিল। কোনোমতে স্থির হয়ে নালার জল থেকে উঠবে, এমন সময় ধাতব কিছু তার পায়ে ঠেকলো। হাতড়ে দেখে মাঝারি সাইজের মুখবন্ধ একটা কলস।
বন্ধ মুখটা খুলে দেখলো, সোনার মোহরে কলস ভর্তি। নোংরা পানিতে ডুবে থাকা কলসখানা সাফসুতরো করার জন্য লোকটা গেলো পাশের নদীতে। ধুতে গিয়ে সমোহর কলসটা হাত ফসকে নদীর অতলে কোথায় যে গড়িয়ে গেলো, আর খুঁজেই পেলো না লোকটা।
হঠাৎ পাওয়া বিপুল সম্পদ হাতছাড়া হলে কার না মাথা খারাপ হয়? দুঃখভারাক্রান্ত মনে লোকটা বার বার বলতে লাগলো: ‘পাইয়া কি লাভ অইল, না পাইলেইতো ভালো ছিল!’ এই কথা বলতে বলতেই সে বাড়ি ফিরলো এবং বাড়ি ফিরেও বার বার সে ঐ এক কথাই বলতে লাগলো: ‘পাইয়া কি লাভ অইল’ ইত্যাদি।
লোকটির স্ত্রী তার স্বামীর কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারে না। বার বার জিগ্যেস করে: ‘এই কথার মানে কী?’ লোকটির মাথা তখন পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে। ঐ এক কথাই সে বলে গেলো: ‘পাইয়া কি, ইত্যাদি’। কাঁহাতক আর এই এক কথা সহ্য করা যায়? এক সময় মহা রেগে গিয়ে স্ত্রী বললো ‘কী পাইছ, কী পাও নাই, অহনি কও! নইলে রাতে কিন্তু খবর আছে!’
সদ্য মোহরভর্তি কলস হারানো লোকটি পাগল হলেও অতটা পাগল তখনও হয়নি যে প্রেমভর্তি স্ত্রীরত্নটুকুও সে হারাতে চাইবে। আদ্যোপান্ত শুনে স্ত্রী বললো: ‘শুইনা কী লাভ অইল, না শুনলেইতো ভালো ছিল!
তার পর থেকে একটানা বিলাপের সুরে স্বামী আর স্ত্রীর একজন ‘পাইয়া কি লাভ অইল?’ এবং অন্যজন ‘শুইনা কি লাভ অইল?’ বলতে থাকলো।দিনরাত একটানা এই কাঁদুনি শুনে যুগপৎ বিরক্ত এবং অনুসন্ধিৎসু হয়ে প্রতিবেশিরা ছুটে আসলো অনেকটাই বাধ্য হলো। ‘কী পাইয়া, কী শুইনা?’ প্রশ্ন করতে থাকলো তারা। একটানা প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে পাগল স্বামী-স্ত্রী দুই জন দুই রাম দা নিয়ে প্রতিবেশিদের তাড়া করলো।
‘আইসা কি লাভ অইল, না আসলেইতো ভালো ছিল!’ বলে প্রাণপণে চিৎকার করে প্রাণভয়ে উর্ধ্বশ্বাসে দিগি¦দিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালাতে লাগলো প্রতিবেশিরা, যে যেদিকে পারে। গ্রামবাসীদের পুনরাবৃত্তির এই মনোবৈকল্য নিরাময় হতে বহু দিন লেগেছিল।
জুলাই পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশে কেউ বলছে: ‘ইউনুস আইসা কি লাভ অইল, না আসলেইতো ভালো ছিল।’ কিংবা ‘জেঞ্জি এইডা কী করলো, না করলেইতো ভালো ছিল!’, ‘জুলাইয়ে কি লাভ অইল, সবইতো ঝুইল্যা গেলো!’ কেউ কেউ আবার বলছে: ‘কুন্তল যে বাতাসে পাকছে, আগেতো বুঝি নাই!’ অচিরেই ইউনুস বলবে: ‘ক্ষমতা পাইয়া কি লাভ অইল, না পাইলেইতো ভালো ছিল।’
আমার মতো আকলমন্দ যারা জুলাই মাসেই ‘তুই ক্যাডা, মুই ক্যাডা’ শ্লোগানের ইশারায় শুনে বুঝে গিয়েছিল প্রকৃত ঘটনা কী, বন্ধুদের বোকামির সরল স্বীকারোক্তি শুনে আমাদের মনে হচ্ছে: ‘শুইনা কী লাভ অইল, না শুনলেইতো ভালো ছিল!’
সরকার নিশ্চয়ই পরিবর্তন হবে কোনো এক দিন, কিন্তু বাঙালি জাতির এই হিস্টিরিয়া নিরাময় হতে বহুকাল লাগবে, ঐ গ্রামবাসীদের মতো।
জুলাইয়ে কী লাভ অইল? সবইতো ঝুইল্যা গেল!
জুলাইয়ে কী লাভ অইল? সবইতো ঝুইল্যা গেল!
শিশির ভট্টাচার্য :গ্রামের রাস্তায় হাঁটার সময় মাথা ঘুড়ে এক ব্যক্তি পাশে নালায় পড়ে গিয়েছিল। কোনোমতে স্থির হয়ে নালার জল থেকে উঠবে, এমন সময় ধাতব কিছু তার পায়ে ঠেকলো। হাতড়ে দেখে মাঝারি সাইজের মুখবন্ধ একটা কলস। বন্ধ মুখটা খুলে দেখলো, সোনার মোহরে কলস ভর্তি। নোংরা পানিতে ডুবে থাকা কলসখানা সাফসুতরো করার জন্য লোকটা গেলো পাশের নদীতে। ধুতে গিয়ে সমোহর কলসটা হাত ফসকে নদীর অতলে কোথায় যে গড়িয়ে গেলো, আর খুঁজেই পেলো না লোকটা। হঠাৎ পাওয়া বিপুল সম্পদ হাতছাড়া হলে কার না মাথা খারাপ হয়? দুঃখভারাক্রান্ত মনে লোকটা বার বার বলতে লাগলো: ‘পাইয়া কি লাভ অইল, না পাইলেইতো ভালো ছিল!’ এই কথা বলতে বলতেই সে বাড়ি ফিরলো এবং বাড়ি ফিরেও বার বার সে ঐ এক কথাই বলতে লাগলো: ‘পাইয়া কি লাভ অইল’ ইত্যাদি। লোকটির স্ত্রী তার স্বামীর কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারে না। বার বার জিগ্যেস করে: ‘এই কথার মানে কী?’
লোকটির মাথা তখন পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে। ঐ এক কথাই সে বলে গেলো: ‘পাইয়া কি, ইত্যাদি’। কাঁহাতক আর এই এক কথা সহ্য করা যায়? এক সময় মহা রেগে গিয়ে স্ত্রী বললো ‘কী পাইছ, কী পাও নাই, অহনি কও! নইলে রাতে কিন্তু খবর আছে!’ সদ্য মোহরভর্তি কলস হারানো লোকটি পাগল হলেও অতটা পাগল তখনও হয়নি যে প্রেমভর্তি স্ত্রীরত্নটুকুও সে হারাতে চাইবে। আদ্যোপান্ত শুনে স্ত্রী বললো: ‘শুইনা কী লাভ অইল, না শুনলেইতো ভালো ছিল!তার পর থেকে একটানা বিলাপের সুরে স্বামী আর স্ত্রীর একজন ‘পাইয়া কি লাভ অইল?’ এবং অন্যজন ‘শুইনা কি লাভ অইল?’ বলতে থাকলো।দিনরাত একটানা এই কাঁদুনি শুনে যুগপৎ বিরক্ত এবং অনুসন্ধিৎসু হয়ে প্রতিবেশিরা ছুটে আসলো অনেকটাই বাধ্য হলো। ‘কী পাইয়া, কী শুইনা?’ প্রশ্ন করতে থাকলো তারা। একটানা প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে পাগল স্বামী-স্ত্রী দুই জন দুই রাম দা নিয়ে প্রতিবেশিদের তাড়া করলো। ‘আইসা কি লাভ অইল, না আসলেইতো ভালো
ছিল!’ বলে প্রাণপণে চিৎকার করে প্রাণভয়ে উর্ধ্বশ্বাসে দিগি¦দিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালাতে লাগলো প্রতিবেশিরা, যে যেদিকে পারে। গ্রামবাসীদের পুনরাবৃত্তির এই মনোবৈকল্য নিরাময় হতে বহু দিন লেগেছিল। জুলাই পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশে কেউ বলছে: ‘ইউনুস আইসা কি লাভ অইল, না আসলেইতো ভালো ছিল।’ কিংবা ‘জেঞ্জি এইডা কী করলো, না করলেইতো ভালো ছিল!’, ‘জুলাইয়ে কি লাভ অইল, সবইতো ঝুইল্যা গেলো!’ কেউ কেউ আবার বলছে: ‘কুন্তল যে বাতাসে পাকছে, আগেতো বুঝি নাই!’ অচিরেই ইউনুস বলবে: ‘ক্ষমতা পাইয়া কি লাভ অইল, না পাইলেইতো ভালো ছিল।’ আমার মতো আকলমন্দ যারা জুলাই মাসেই ‘তুই ক্যাডা, মুই ক্যাডা’ শ্লোগানের ইশারায় শুনে বুঝে গিয়েছিল প্রকৃত ঘটনা কী, বন্ধুদের বোকামির সরল স্বীকারোক্তি শুনে আমাদের মনে হচ্ছে: ‘শুইনা কী লাভ অইল, না শুনলেইতো ভালো ছিল!’ সরকার নিশ্চয়ই পরিবর্তন হবে কোনো এক দিন, কিন্তু বাঙালি জাতির এই হিস্টিরিয়া নিরাময় হতে বহুকাল লাগবে, ঐ গ্রামবাসীদের মতো।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত