শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত কংগ্রেস, সিনেট, প্রেসিডেন্সি –একসঙ্গে তিন জায়গায় ট্রাম্পের দল জয়ী হয়েছে

কংগ্রেস, সিনেট, প্রেসিডেন্সি –একসঙ্গে তিন জায়গায় ট্রাম্পের দল জয়ী হয়েছে

পুলক ঘটক, সিনিয়র সাংবাদিক :

অন্য সময় যাই হোক, এবারে আমেরিকার এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ। “আমেরিকায় সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হয় না” -এমন গল্প এখন বাসি হয়ে গেছে। যেখানে আমেরিকার স্থায়ী মিত্র ইউরোপ তথা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আগে থেকেই নতুন সম্পর্কের অংক কষছে. সেখানে শুধু বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের মৈত্রী পুরাতন সমীকরণে ঝুলে থাকবে, এমন কল্পনা নির্বোধের স্বপ্ন মাত্র। 

গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ বিষয়ে ট্রাম্পের দেয়া যে সিরিয়াস বিবৃতি বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলো ভেতরের পাতায় লুকিয়ে রেখেছিল সেটিকেই আজ দেশবাসীর জন্য লিড ভাবনা হিসেবে মানতে হবে –তা কেউ মুখে স্বীকার করুক বা না করুক। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের কথাগুলো শুধু আলঙ্করিক রাজনৈতিক বচন নয়, এর প্রতিটি শব্দ আগামী দিনের সম্পর্কের দিক নির্দেশক হবে –আমার এ ভবিষ্যৎবাণী আপনারা লিখে রাখতে পারেন। 

অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত, ভিত্তিহীন বা আজগুবি কোনো সরকার টিকে থাকতে হলে কোনো না কোনো শক্তির উপর ভর করতে হয়। বাইরের কোনো বড় শক্তির সমর্থন লাগে। সেই জায়গাটা এখন নড়বড়ে হয়ে গেল। পরবর্তী অবস্থার গতিমুখ কোন দিকে আমরা কেউ জানি না। তবে সংস্কারের সব গল্প গুটিয়ে খুব দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সাংবিধানিক পন্থায় বিএনপি’র কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অভ্যুত্থানকারীরা বিদায় নেওয়ার সুযোগ পেলে তাদের ভাগ্যবান বলব। তাতে হয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও শান্তির সম্ভাবনা থাকবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনীতি আবার সেই পুরোনো আওয়ামীলীগ ও এর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মিত্রশক্তি বনাম বিএনপি ও তার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মিত্রশক্তির মাঠের লড়াইয়ে ফিরে যাবে। তবে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি এবং সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি এখনো যথানিয়মে বহাল আছেন –একথা ভুলে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই। ‘এ’ না হলে ‘ঐ’ হবে- এমন সম্ভাবনা অনেক। 

খারাপ কিছু অনুমান করতে চাই না। পৃথিবীতে যুদ্ধ ও রক্তক্ষয় বন্ধ হোক। অভিনন্দন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রপতি ও দেশটির জনগণের জন্য শুভকামনা। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মানুষের জন্য শুভকামনা। জয় বাংলা, জয় মানুষ।

খুঁজুন